কুলাঙ্গারকুল শিরোমণি আসলে কে? নাকি বিএনপি দলটাই কুলাঙ্গারদের দল?

২০১০ সালের ২৩ আগস্ট কর্নেল তাহেরের স্ত্রী লুৎফা তাহের, ভাই ফ্লাইট সার্জেন্ট আবু ইউসুফ খানের (বীর বিক্রম) স্ত্রী ফাতেমা ইউসুফ ও অপর ভাই ড. আনোয়ার হোসেন গোপন বিচার চ্যালেঞ্জ করে প্রথম রিট করেন। এই রিটের প্রেক্ষিতে দীর্ঘ শুনানি শেষে শহীদ কর্নেল আবু তাহের (বীর উত্তম) সহ অন্যদের গোপন বিচার, সাজা কার্যকর এবং বিচারের জন্য ১৯৭৬ সালের ১৬ নম্বর সামরিক আইন আদেশের মাধ্যমে সামরিক ট্রাইব্যুনাল গঠনকে অবৈধ ঘোষণা করে ২০১১ সালের ২২ মে রায় দেন হাইকোর্ট। এবছরের ২০ মে প্রকাশিত হয় হাইকোর্টের পুর্ণাঙ্গ রায়।

রায়ে তাহের হত্যাকাণ্ডের ‘একমাত্র পরিকল্পনাকারী’ হিসেবে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউর রহমানকে উল্লেখ করে আদালত বলেন,

“এটা ছিলো একটি ঠাণ্ডা মাথায় খুন। নিষ্ঠুর পরিহাস, একটি ভুয়া ট্রাইব্যুনাল গঠন করে প্রতারণামূলক ভাবে তাহেরকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং তা কার্যকর করা হয়। এ খুনের একমাত্র পরিকল্পনাকারী জিয়াউর রহমান। দুর্ভাগ্যক্রমে খুনের অপরাধে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার জন্য তিনি এখন আর বেঁচে নেই। তবে তার সহযোগী (গোপন ট্রাইব্যুনালের বিচারক) আবদুল আলী এখনো বেঁচে আছেন।”

তাই তাহেরকে হত্যার অভিযোগে আবদুল আলীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এছাড়াও রায়ে আরও অনেক কথা বলা হয়, অনেক বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারকে নির্দেশ প্রদান করা হয় রায়ে। এই রায় ঘোষণায় যে কয়েকটি বিষয় আদালত আমলে এনেছেন সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বর্তমানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ রচিত Democracy and the Challege of Development – A Stydt of Politics and Military Interventions in Bangladesh গ্রন্থটি। যদিও এই রায় ঘোষণার পর পরই ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন তাঁর বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করা হয়েছে। সে যাই হোক, আমাদের অনেকেই হয়তো দুষ্প্রাপ্য এই বইটি পড়ার সুযোগ হয়নি। তাই জানাও হয়নি আসলেই কি বলেছেন মওদুদ তাঁর বইয়ে। তাই আসুন দেখে নেয়া যাক জিয়া এবং কর্নেল তাহেরের ফাঁসী প্রসঙ্গে Democracy and the Challege of Development – A Stydt of Politics and Military Interventions in Bangladesh গ্রন্থে লেখক কি বলেছেন –

জিয়া সম্পর্কে বলতে গিয়ে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ মাত্র কয়েকটি লাইনের এক প্যারায় গুরুত্বপূর্ণ একটা তথ্য দিয়েছেন। লেখকের বক্তব্য অনুযায়ী বাঙ্গালী কালচার সম্পর্কে জিয়ার খুব ভালো ধারণা ছিলনা। কেননা, সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার পরে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পোস্টিং পাওয়ার আগে পর্যন্ত কখনই উল্লেখ করার মতো সময় জিয়া বাংলাদেশে থাকেননি। তিনি বলেছেন –

‘‘Zia came from a middle class family of Bogra district. His father has started a carrier as an Assistant in the government secretariat. For a brief period Zia’s father was posted in Calcutta before partition before moving to Karachi in West Pakistan. As such Zia had little opportunity to know the nuances of Bengali society or the people. He grew up with a non Bengali affinity but married a Bengali girl from a town close to his ancestral home and consciously maintained a Bengali Identity for his family. It was not until he joined the army that Zia lived for any length of time in Bangladesh (then East Pakistan) when he was posted there. Having been brought up in an alien environment, he had no childhood or college friend in Bangladesh. He was knows as a valiant freedom fighter who had declared the country’s independence on the radio, otherwise little was known about him and he was not personally known to many people. As by nature he was quiet and elusive, people became curious to see him after the November uprising.’’ (Page 45-46)

বইয়ের ‘দা ট্রায়াল অফ কর্নেল তাহের’ অংশে লেখক জিয়া কর্তৃক কর্নেল তাহেরের ফাঁসীর ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছেন –

‘‘The questions remains : Why did Zia allow Taher tob be hanged, the person who freed him from captivity and installed him in power? During the war the fought in the same sector and were known to be very close friends for a long time.* In the difficult situation after independence, Zia had to strike a balance with the repatriated officers to strengthen his own position within the army. The officers who had not taken part in the war, had found a new ally in Zia after the killing of Mujib and removal of Mushtaque. They needed each other in order to survive both as a class and a force in the civil-military structure of country. When it came to the sentencing of Taher, the repatriated officers wanted him hanged – out of 46 senior army officers summoned by Zia to discuss the issue, all were in favour of the ultimate and final form of punishment.** (Page 29-30.)’’

* At a much latter stage when the author had questioned Zia about it, he replied, “I had no other alternative, the pressure from the army was too heavy.”

** This was disclosed to the author by Zia himself.

এখানে মওদুদ বলেছেন কর্নেল তাহেরের ফাঁসীর সিদ্ধান্তটা অনেক আগেই নেয়া, এমনকি ট্রাইব্যুনাল গঠনেরও পূর্বে এবং এই তথ্য তাঁকে দিয়েছেন খোদ জিয়াউর রহমানই। মানেটা তাহলে এই দাঁড়ালো যে, কর্নেল তাহেরকে ফাঁসীতে ঝুলিয়ে হত্যার সাথে জিয়া সরাসরি জড়িত এবং তা আমাদেরকে জানাচ্ছেন জিয়ার ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত মওদুদ। বইটা প্রকাশিত হয় নব্বই এর দশকে। তখন মওদুদ ছিলেন জাতীয় পার্টির নেতা। অথচ, এই গ্রন্থ প্রকাশিত হওয়ার পরই বাংলার রাজনৈতিক অঙ্গনের শ্রেষ্ঠ কুলাঙ্গার মওদুদকে ১৯৯৬ এর জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগে বিএনপিতে নিয়ে নমিনেশন দিয়েছেন বেগম জিয়া! শুধুই কি তাই? এখনও ম্যাডামের কাছে এই কুলাঙ্গার এতোই গুরুত্বপূর্ণ যে, নিজ এলাকায় পরাজিত মওদুদকে বগুড়া থেকে বাই ইলেকশনে জিতিয়ে এনে তাকে সংসদে বসিয়েছেন! তাহলে কুলাঙ্গারকুল শিরোমণি কে? নাকি ডান, বাম, মধ্যপন্থি, সেকুলার, উগ্র মৌলবাদী এমন বিভিন্ন মতাদর্শিক ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত বিএনপি নামক রাজনৈতিক দলটাই কুলাঙ্গারদের একটা দল?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২০ thoughts on “কুলাঙ্গারকুল শিরোমণি আসলে কে? নাকি বিএনপি দলটাই কুলাঙ্গারদের দল?

  1. কুলাঙ্গারকুল শিরোমণি আসলে কে?

    কুলাঙ্গারকুল শিরোমণি আসলে কে? নাকি বিএনপি দলটাই কুলাঙ্গারদের দল?

    প্রশ্নবোধক চিহ্ন কেন?

    বিএনপি দলটাই কুলাঙ্গারদের দল

    প্রশ্নের কোন অবকাশই নেই।

  2. হাস্যকর পোস্ট।
    নাকি ডান, বাম,

    হাস্যকর পোস্ট।

    নাকি ডান, বাম, মধ্যপন্থি, সেকুলার, উগ্র মৌলবাদী এমন বিভিন্ন মতাদর্শিক ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত বিএনপি নামক রাজনৈতিক দলটাই কুলাঙ্গারদের একটা দল?

    ঠিক এ কারণেই বিএনপি একটা প্রগতিশীল দল যেখানে সব মতের মানুষই সহজে অ্যাকমডেটেড হতে পারে।

    1. বোল্ট নিজেই বলে দিছেন, উগ্র
      বোল্ট নিজেই বলে দিছেন, উগ্র মৌলবাদীও বিএনপিতে আছে। তাহলে আর প্রশ্নের কি দরকার উত্তর পেয়ে গেলাম। :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য:

  3. কুলাঙ্গার শিরোমনি এমনি এক
    কুলাঙ্গার শিরোমনি এমনি এক উপাধি যার ভাগিদার চিরতরে কেউ এককভাবে হতে পারে না ।যুগে যুগে-সময়ে সময়ে একেকজন একেকবার এই বিশেষনটির মালিক হতে পারে ।যেমন : একসময় ছিল মীরজাফর, ঘসেটি এরপর ইয়াহহিয়া, দেশ স্বাধীনের পর মোশতাক, জিয়া, বর্তমানে এরশাদ, মউদুদ…..

  4. বি.এন.পি. জিয়া হত্যার সঠিক
    বি.এন.পি. জিয়া হত্যার সঠিক তদন্ত পর্যন্ত চায় না। জিয়ার সাথে ম্যাডামের সম্পর্কের বিষয়ে আর কি কিছু বলতে হবে? জানজুয়া ছিল। এখন ফালু আছে। জিয়াকে দিয়ে কোন কাজ নেই। তাই জিয়াকে যারা নিচে নামিয়েছে (প্রকৃতপক্ষে তার যতটা নিচে থাকা দরকার সেখানে তাকে রেখেছে) ম্যাডাম তাদের উপরে উঠিয়েছেন।

    1. আজকেই একটা পুরাতন লেখায়
      আজকেই একটা পুরাতন লেখায় পড়লাম, দেয়ালে শ্লোগান লেখা ছিল

      একাত্তরের পামেলা, আর করিস না ঝামেলা!!

      খালেদা জিয়া শেষ মেস পামেলা।

  5. এই টপিকে একটি প্রাসঙ্গিক
    এই টপিকে একটি প্রাসঙ্গিক বিষয়ের অবতারণা করি।হুমায়ূন আজাদ তার প্রবন্ধ সংকলন “মাতাল তরণী” তে একটি প্রবন্ধে মওদুদকে নিয়ে কিছু কথা লিখেছেন। কথাগুলো হল,

    একবার আমি খালেদাকে একটি গল্প শুনাতে চাই। তখন চারপাশে ভীষণ সাড়া পড়ে যায়। যেন একটা মহাদূর্ঘটনা ঘটতে চলেছে,যা ঘটলে পৃথিবী খান খান হয়ে যাবে, মানুষের ভবিষ্যত থাকবে না, যা বাঙলাদেশে গণতন্ত্রের সমস্ত সম্ভাবনা চিরকালের জন্য নষ্ট করে দিবে। সেই মূহুর্তেই আমি বুঝতে পারি যে আমাদের চারপাশ গণতন্ত্রের জন্য কত অনুপযোক্ত ও অপ্রস্তুত।……… আমি খালেদাকে বলি,”আপনার সাথে আমরা লিছু কথা বলবো। তবে আপনার এই লোকজনরা কিছু দূরে গেলে ভাল হয়।” খালেদা জানতে চায় ‘কেনো’। আমি তাকে জানাই তাকে একটি গল্প শোনাবো তার আশপাশের লোকগুলোকে নিয়ে এবং ঐ গল্পের একটি চরিত্রের নাম জিয়াউর রহমান। আমি সেদিন গল্পটি বলতে পারিনি। কেননা খুব উত্তেজিত হয়ে লাফালাফি করে মওদুদ নামে খালেদার এক প্রহরী, যাকে আমি দূরে গিয়ে দাঁড়াতে বলেছিলাম। গল্পটি সেদিন খালেদা শুনলে মওদুদজাতীয় দের ভার আজ তাকে বইতে হত না। …….. গল্পটি জিয়া ও এক চিকিৎসক-রাজনীতিকের। জিয়া একদিন চিকিৎসককে ডেকে বললেন,”বড়ো ডাক্তার দেখে আপনাকে আনলাম, দলের দায়িত্ব দিলাম, কিন্তু কিছু করতে পারছেন না কেন?” চিকিৎসক বললো,”স্যার, পারবো কিভাবে? আপনি যে আমাকে কোথায় আনলেন!” জিয়া জানতে চাইলো “কেন?” ডাক্তার বললো,”যখন ডাক্তার ছিলাম তখন আমার কাছে যারা আসতো সবাই সত্য কথা বলতো। আর এখন আমার কাছে যারা আসে সঅবাই মিথ্যা কথা বলে। কাজেই পারবো কিভাবে?” গল্পটি সেদিন শুনলে তার ফল হাতেনাতে পেতো খালেদা। ঐ উৎসবের কয়দিন পরই খালেদার পা থেকে এরশাদের অয়ায়ের নিচে চলে যায় মওদুদ। একজনের অয়া থেকে নিজেকে স্থানান্তরিত করে আরেকজনের পায়ে। যারা পদামৃতপায়ী তারা রসালো পা চাটতেই পছন্দ করে, যে পায়ে রস নেই বা রসের সম্ভাবনা নেই, সে পায়ের সেবায় তারা বেশিদিন জিভ ক্ষয় করেনা।

    1. হ ভাই, ভুলে গেছিলাম। মনে করে
      হ ভাই, ভুলে গেছিলাম। মনে করে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
      বইটার এই অংশ যখন পড়েছিলাম ব্যাপক মজা পেয়েছিলাম…।

  6. নাকি ডান, বাম, মধ্যপন্থি,

    নাকি ডান, বাম, মধ্যপন্থি, সেকুলার, উগ্র মৌলবাদী এমন বিভিন্ন মতাদর্শিক ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত বিএনপি নামক রাজনৈতিক দলটাই কুলাঙ্গারদের একটা দল?

    এক লাইনে সুন্দর ব্যাখ্যা ম্যাডামের দল সম্পর্কে। সুপার লাইক। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  7. বিম্পির জন্ম একজন কুলাঙ্গার
    বিম্পির জন্ম একজন কুলাঙ্গার জিয়ার হাতে, নিজের দেশের সাথে যে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল বীরের মুখোশ পরে, পুনর্বাসন করেছিল কিছু পাকিবীর্যে তৈরি কুলাঙ্গারকে, পথ তৈরি করে দিয়েছিল আরেক কুলাঙ্গার এরশাদের ক্ষমতায় আসার, প্লট সাজিয়ে দিয়েছিল খা-লেদা জিয়া নামে আরেক কুলাঙ্গারের ক্ষমতায় আসার, যে বর্তমানে এমন কিছু কুলাঙ্গারকে নিয়ে দলটা চালাচ্ছে, যাদের কৃত্তিকলাপ দেখে কুলাঙ্গারেরাও লজ্জা পায়… :মানেকি: :মানেকি: :মানেকি:

    এই মহাকুলাঙ্গার দলটি কুলাঙ্গারদের জন্য এক শ্রদ্ধেয় আদর্শ… 😀 😀 😀

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

2 + 1 =