কসাই কাদেরের জন্য দেওয়া এই রায় মানিনা।

কিভাবে শুরু করব মাথাতেই আসছে না ইচ্ছে করছে সব ভেঙ্গে চুরমার করে ফেলি।নিজের মাঝে এই মুহুর্তে নিজেই নাই হয়ে বসে আছি।কি যে হচ্ছে নিজের মাঝে তা কাউকেই বোঝাতে পারছি না।কি প্রতিক্রিয়া চলছে নিজের ভিতর তা কাউকে কিভাবে বোঝাবো সেটি বুঝতে পারছি না।মাথায় শুধু ঘুরছে গত একটি বছরের আমার অনলাইন কর্মকান্ডগুলো,শুধু আমার একার না সাথে ঘুরছে যাদের আমি অনুসরন করে চলেছি তাদের সকলের কর্মকান্ড।হতবাক কিনবা বাকরুদ্ধ এর কোনটাই হতে পারছি না,নিজের সাথে আবোল তাবোল বলা শুরু করে দিয়েছি।মনে হচ্ছে কেউ প্রলোভন দেখিয়ে আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে সেটিকে এখন দূর্বলতায় ফুটিয়ে তুলেছে।গত এক বছর ধরে অনলাইনে একটি বিষয়কেই মূখ্য করে কাজ করে গিয়েছি।অনেকেই করেছেন সেটিও দেখেছি।নিজের জীবনকে জুয়া খেলার আসরে তুলে দিয়েছি,অনেকবার হুমকি পেয়েছি।এইতো সেদিনও তারা আমাকে মারতে চেয়েছিল।গত একটা বছর নিজের সবকিছু পিছনে রেখে শুধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে কথা বলেছি,ঘর-বাড়ী,আত্মীয়-স্বজন,বন্ধু-বান্ধব সবকিছুর উর্দ্ধে রেখেছি এই বিষয়টাকে,কিন্তু তার ফলে আজ কি পেয়েছি? এই রায় দেখার জন্যই করেছিলাম এতো কিছু? এই রায় পাওয়ার জন্যই কি জীবনটাকে জুয়ার আসরে তুলে দিয়েছি? এই মুহুর্তে মনে হচ্ছে যাদের অনুসরন করে এগিয়ে গিয়েছি তাদের সকলই আমার মতোই আজ বেকুব হয়ে গিয়েছেন।রায় ঘোষণা হবনার পর থেকেই কেমন যেন হয়ে গিয়েছি,কখনো হাসছি কখনো বাচ্চার মতো কাঁদছি কখনো বা কোথাও হারিয়ে গিয়ে পাগলের মত ভাবছি।এই রায় পাওয়ার জন্য এতো কিছু করার কি খুব দরকার ছিলো?মাথায় কিছুই আসছে না শুধু আসছে একটাই কথা এই রায় পেতে এতোদিন সংগ্রাম করি নাই,এই রায় মানিনা।সাড়ে তিনশ লোক প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা করে,আদালতে মিথ্যাচার করে,সংবিধান অবমাননা করার পরে যদি রায় হয় শুধুমাত্র যাবজ্জীবন তাহলে আমি বলব দরকার নেই এসব বিচার করার,দরকার নেই কোন আই ওয়াশ করার।আর যদি করতেই হয় তাহলে থামিয়ে দাও সকল রাজনৈতিক নোংরামি,সেরকম করেই বিচার করো যেরকম করে তারা তান্ডব চালিয়েছে,রায় সেটাই দাও যেভাবে তারা বলে হত্যার বদলে হত্যা।আমি এখনো বুঝতে পারছি না কি করে এইরকম অতি গুরুত্বপূর্ণ একটা বিচারের রায় হয় শুধুমাত্র যাবনজ্জীবন।
মনে আরো অনেক আবোলতাবোল কথা উঠে আসছে কিন্তু সেসকল এখন লেখার চাইতে আমি শুধু তাদেরই কথাগুলো তুলে ধরবো যাদেরকে আমি গত একটি বছর ধরে অনুসরন করে আসছি।

ফেসবুক এক্টিভিস্ট রাসেল রহমান বলেছেনঃ- রায়ের পরে কাদির খানকির পুতের এই প্রতিক্রিয়া দেইখা আমি লজ্জিত…
আমার আর কিছুই বলার নাই…
ক্ষমা চাই আমার পুর্ব পুরুষের কাছে
ক্ষমা করো মা শহীদ জননী জাহানারা ইমাম

ফেসবুক এক্টিভিস্ট তাপস সরকার বলেছেনঃ- সাব্বাশ রাজাকার কাদের মোল্লা। বিচারকের মা-বোন, বাবা-ভাইকে তুমি হত্যা করো নাই, ধর্ষন করো নাই। সম্ভবত এজন্যই তিনি তোমার বিরুদ্ধে তিনি ফাঁসির রায় দেয় নাই। আজা আদালতে তুমি যা বলেছে ভবিষ্যতে সেটা সত্যি প্রমান করবে, এটাই আশা করি। নিশ্চই সেদিন তোমার বিরুদ্ধে প্রমানিত অপরাধের শাস্তি যাবজ্জীবন দিয়ে শেষ করা বিচারক সাহেব অন্যভাবে চিন্তা করবেন। আজ বুঝলাম, ন্যায় বিচার পেতে হলে ভবিষ্যতে হয়তো নিজেকেই বিচারপতি হতে হবে!!!!!!!

ব্লগার সুলতান মির্জা বলেছেনঃ- এই রায় মেনে নিতে পারছি না।এটা চুক্তি ভিত্তিক রায়।সরকার ভুল করল।যার জন্য চরম মাশুল দিতে হইবে।

ব্লগার নুরুন্নাহার শিরীন বলেছেনঃ- কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ট্রাইবুনালের এ রায়ে জাতির প্রত্যাশা পূর্ণ হয়নি। এদেশের একাত্তুরের চেতনা ধারণকারী প্রত্যেকেই চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় শোনার অপেক্ষা করেছে —- কিন্তু ট্রাইবুনাল কি কারণে এমন রায় দিয়েছে সেটি বোধগম্য না। অবশ্যই জরুরীভাবে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা উচিত।

তবে এই মুহুর্ত পর্যন্ত আমি ব্লগার অমি রহমান পিয়াল এবং নুর নবী দুলাল হতে ব্যক্তিগতভাবে কোন প্রতিক্রিয়া জানতে পারি নাই,জানি তারা এখন কেমন আছেন এও জানি তারা আমার চাইতেও বেশি ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন কিনবা বাচ্চার মতো গুমরে কেদেই চলেছেন।

শেষে একটা কথা বলতে চাই সকলের উদ্দেশ্যে অনেককেই দেখছি এই রায় নিয়ে কিছু অন্যরকম খেলা খেলছেন।অনলাইন এক্টিভিস্টরা যে ক্ষোভ ব্যক্ত করেছেন সেটিকে নানাভাবে নানাদিকে মোড় দিয়ে ঘুরিয়ে দিচ্ছেন।তাদের উদ্দেশ্যে শুধু এইটুকু বলি জনাব আপনাদের মতো ভার্চুয়াল হাইড নামে কেউ এখানে সংগ্রাম চালাই নাই,আমরা জীবনকে জুয়ার আসরে তুলে দিয়ে খেলছি সুতরাং এই মুহুর্তে যদি ঐ ঘৃণিত রাজাকার এবং তাদের দোসররা সুবিধা করে উঠে তাহলে আমাদের কি হবে সেটা ভেবে দেখুন।আপনাদের কেউই ধরতে পারবে না কিনবা ধরতে যাবে না তবে আমাদের তারা ছাড়বে না এমনও হতে পারে আপনাদের সংগ্রামের দায় তারা আমাদের উপর চাপিয়ে দিয়ে সেসবের প্রতিশোধ নিবে।

***রাগ এবং ক্ষোভের মাথায় আবোল তাবোল প্রতিক্রিয়া লিখে প্রকাশ করলাম।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৮ thoughts on “কসাই কাদেরের জন্য দেওয়া এই রায় মানিনা।

  1. এই রায় মানার প্রশ্নই ওঠে না।
    এই রায় মানার প্রশ্নই ওঠে না। বিচারের ম্যান্ডেট জনগন এই সরকারকে দিয়েছে। সুবিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। আর কোন কথা নাই।

    1. সরকার ট্রাইব্যুনাল গঠন করে
      সরকার ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দিয়েছেন কিন্তু এই বিচার বিভাগতো স্বাধীন আর খোদ আওয়ামীলীগ সরকার এই রায়ে বিব্রত এবং অসন্তুষ্ঠ।

          1. দায় মোছন করার তরিকায় সরকার
            দায় মোছন করার তরিকায় সরকার হাটুক। আমরা যখন বুঝব সরকারের সৎ উপলব্দি হয়েছে ও জনগণের আকাঙ্খার মুল্য দিতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, তখন জনগণই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবে। এখন আইনমন্ত্রীর টকশো’র গলাবাজি বাস্তবে কতটুকু প্রতিফলিত হচ্ছে, সেটা দেখার অপেক্ষায় আছি। আপাতত কি-বোর্ড যুদ্ধ ও রাজপথে অবস্থান নিয়েই আছি।

          2. সুমিত বাবুর কথা হলো। সব ঠিক
            সুমিত বাবুর কথা হলো। সব ঠিক আছে কিন্তু আম্লিগকে কিছু বলা যাবে না। তারাই তো বিচার শুরু করেছে। হা হা হা…….

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 15 = 22