পত্রালাপ:০২

অনিন্দিতা,
আজ বাসায় ফিরতে ফিরতে বৃষ্টিতে ভিজলাম। এমন নয় যে ছাতা ছিলো না। কিন্তু, ছাতাটা বগল দাবা করে খুব ধীর গতিতে হাটতে হাটতে রাস্তার ল্যাম্প-পোস্টগুলো পার হচ্ছিলাম। চারপাশের আটকে পরা মানুষগুলা আমাকে দেখছিলো। কেউ কেউ বলাবলি করছিলো, পাগলটা আবার বৃষ্টির দেখা পেয়েছে। ছাতা রেখে বৃষ্টিতে ভেজার মানে কি? কেউ বলছিলো বেটার সখ দেখেছো! আবার কেউ কেউ বলছিলো বেটার মনে সুখ নাই নির্ঘাত। আজগুবী কাণ্ড করে সুখ খুজে। কিন্তু তুমিই বলো দেখি, বৃষ্টিতে ভেজার মত কোন কিছু কি আর আছে পৃথিবীতে? লোকে সেই অপার্থীব সুখের সন্ধান পাবে কেন !!

ভিজছিলাম আর তোমাকে মনে পড়োছিলো খুব। মনে আছে? সেদিন বৃষ্টিতে ভেজার স্বপ্ন নিয়ে একটা কবিতার মত কিছু লিখেছিলাম। সেই স্বপ্নে ছিলো কোন এক নারীর সঙ্গ পাওয়ার আকুতি। তা দেখে টেক্সট করেছিলে তোমাকে রেখে যে কোন নারী কেন? এর সাথে সাথে আমার ভেতরটা ধক করে উঠেছিলো। নিজেকে কেমন স্বার্থক ও পূর্ন মনে হচ্ছিলো। একটা নারী আমার সাথে বৃষ্টিতে ভিজতে চাইছে!! ঠিক আমি যেমন করে তাকে চাইছি, তেমন করেই আমার বৃষ্টি স্নানের সঙ্গি হতে চাইছে!! শুধু তাই না, আমি ঠিক তাকে চাইনি বলে কষ্ট পেয়ছে!! এই প্রাপ্তির কথা আসলে কাউকে বুঝানো যাবে না।

অনিন্দিতা,
তুমিও বৃষ্টিতে ভিজতে চাইতে খুব। টের পেতাম, আমারই মত করে বৃষ্টির প্রতিটি ফোটাকে অনুভব করার এক অদ্ভুত অনুভূতি ছিলো তোমার। বৃষ্টির প্রতিটি ফোটা যখন মাথায়, শরীরে এসে আঘাত করে, মনে হয় এই ফোটাটি আকাশ থেকে আমারা জন্যই পড়েছে, আর কোথাও না পড়ে শুধু আমার উপরই পড়েছে! গাল গাল বেয়ে বেয়ে জলের ফোটাগুলো যখন নিচের দিকে নামে মনে হয়, মনে হয় শরীর মনের সকল পঙ্কিলতা, ক্লেদ ধীরে ধীরে পরিষ্কার হচ্ছে, নিজেকে কেমন সাধু পুরুষ মনে হয়। আমি জানি তুমিও ঠিক আমার মতই অনুভব করো।

অনিন্দিতা,
তুমি বলতে, আমি তোমার ম্যান এ লাইক। আমি এর মানে বুঝতাম না। একদিন বুঝিয়েছিলে, যে তুমি যেমন আমিও তেমন কিংবা যেমন চাও তেমন একটা বালক আমি। আমার সকল কর্মকাণ্ডই তোমার কাছে কোন প্রশ্ন ও অভিযোগ ছাড়া ভাল লাগতো। বলতে ঐদ্ধত্যই তোমাকে আমার কাছে টেনেছে। কি মজা দেখো, সেই ঐদ্ধত্যই আজ কিন্তু সুন্দর একটা দেয়াল তুলে দিয়েছে। ম্যান এ লাইক হওয়াতে আরো দেখো কি হয়েছে, দুজনেই দেয়াল ডিঙ্গাবো না, ডিঙ্গানোর জন্য এপোলজির দরজাও মাড়বো না। এ এক দারুন বাঘবন্দি খেলা!! কি বলো?

অনিন্দিতা,
তোমার কাছে অনেক কিছু চাওয়া ছিলো, কথাও ছিলো অনেক কিছুর। তুমি বলতে সব চাওয়াই পূরন হবে, আমি বলতাম হবার নয়। হাসতে তুমি। এখনও কি এগুলো ভেবে হাসো?

যাই হোক,
পত্রালাপ আর বাড়ানো ঠিক হচ্ছে না মনে হয়। পড়তে পড়তে তোমার ক্লান্তি এসে পড়েছে বোধ কর। অন্য আরকেটি পত্রে বাকী বিরক্তিটুকু তোলা থাকলো। আরেকদিন বিরক্ত করার দাবী নিয়ে শেশ করছি। ভাল থেকো, থাকো।

ইতি
উদ্ধত অর্বাচীন বালক।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১০ thoughts on “পত্রালাপ:০২

  1. পত্রালাপ আর বাড়ানো ঠিক হচ্ছে

    পত্রালাপ আর বাড়ানো ঠিক হচ্ছে না মনে হয়। পড়তে পড়তে তোমার ক্লান্তি এসে পড়েছে বোধ কর। অন্য আরকেটি পত্রে বাকী বিরক্তিটুকু তোলা থাকলো। আরেকদিন বিরক্ত করার দাবী নিয়ে শেশ করছি। ভাল থেকো, থাকো।

    মনের কথা বললেন…।
    চিঠি আবারো ভালো লেগেছে…

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

8 + 1 =