গণতন্ত্রের বীর সেনানী শহীদ ময়েজ উদ্দিন

স্বৈরাচার সামরিক শাসক বিরোধী আন্দোলনে অন্যতম শহীদ গণতন্ত্রের বীর সেনানী শহীদ ময়েজ উদ্দিন। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের একমাত্র শহীদ যিনি ছিলেন সাবেক সাংসদ। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সেনা প্রধান লে. জে. এইচ এম এরশাদ বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে ক্ষমতা কায়েম করেন। জেনারেল এরশাদ সামরিক আইন জারির মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের সাথে সাথে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। অন্তত এক বছরের জন্য কোন রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে তাদের কোন তৎপরতা শুরু করতে পারেনি। ১৯৮৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ছাত্র আন্দোলনের সূত্রপাতের মধ্য দিয়ে এরশাদের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলোতে আন্দোলন দানা বাঁধতে শুরু করে এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ শুরু হয়। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫ দলীয় জোট, বিএনপির নেতৃত্বে ৭ দলীয় জোট, বামপন্থী দলগুলোর ৫ দলীয় জোট সম্মিলিত কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার করে। বিরোধী দলগুলোর দাবির মুখে সামরিক সরকার ১৯৮৩ সালের এপ্রিল থেকে ঘরোয়া রাজনীতির অনুমতি দেয় এবং ঐ বছরই নবেম্বর থেকে প্রকাশ্য রাজনৈতিক তৎপরতার অনুমতি দেয়া হয়। বিরোধী দলগুলোকে অগ্রাহ্য করে জেনারেল এরশাদ ১৯৮৫ সালের ২১ মার্চ গণভোট এবং ১৬ ও ২০ মে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেন।

অপরদিকে এই নির্বাচনের বিরোধিতা করতে থাকে রাজনৈতিক দল ও জোটগুলো। ফলে স্বৈরাচার সামরিক শাসক বিরোধী আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। তেমনি এক উত্তাল সময়ে ১৯৮৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতি বার সারাদেশে আহুত হরতাল চলাকালে নিজ নির্বাচনী এলাকা গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জের মাটিতে সকাল ৯.১৫ মিনিটের সময় রাজপথে মিছিলের নেতৃত্বে থাকাকালীন অবস্থায় থানার অতি নিকটে পুলিশের সহযোগিতায় এরশাদের গুণ্ডা বাহিনী আজম খানের নেতৃত্বে একজন দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন নেতাকে প্রকাশ্যে দিবালোকে নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। এই সেই আজম খান যাকে লেজেহোমো এরশাদ ছোট ভাই হিসাবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল কালীগঞ্জেরই এক জনসভায়। শহীদ ময়েজ উদ্দিন হত্যাকাণ্ড এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে। গতিশীল হয় আন্দোলন। যার ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালে অবসান ঘটে স্বৈরশাসক এরশাদের আট বছরের স্বৈরশাসনের।

দেশে স্বৈর শাসনের অবসান হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু বিচার হয়নি শহীদ ময়েজ উদ্দিনের হত্যার। বিচার দাবীও করেন না ক্ষমতার রাজনীতিতে লিপ্ত আওয়ামী। এমনকি এই বীর সেনানীর কন্যা গাজীপুর-৫ কালীগঞ্জ আসন থেকে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী মেহের আফরোজ চুমকি এমপিকেও খুব একটা উচ্চবাচ্য করতে দেখা যায় না এই পিতার খুনের বিচারের দাবীতে। শুধুই কি তাই! খুনী এরশাদের বিচার চাওয়াতো দূরের কথা তাকে জামাই আদরে রেখেছে আওয়ামী লীগ। এভাবেই ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে মেধাবী এবং সৎ এই রাজনীতিকের আত্মত্যাগের ইতিহাস। তবে যারা এরশাদের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন, জেল জুলুমের স্বীকার হয়েছেন তাঁদের কাছে গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠার অকুতোভয় বীর সেনানী শহীদ ময়েজ উদ্দিন চিরদিন থাকবেন অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে।

এক নজরে শহীদ ময়েজ উদ্দিন :

১৯৩০ সালের ১৭ মার্চ তার জন্ম। ঠিক ১০ বছর আগের এই একই দিনে জন্মে ছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সে কারণেই দুজনের রক্তে একই ধারা প্রবাহিত ছিল। গণতন্ত্র রক্ষায় নিজের জীবন উৎসর্গ করে ময়েজ উদ্দিন এখনো মানুষের মনের মণিকোঠায় ঠাই করে নিয়ে ছিলেন। সে স্থানটি এখনো সেই আগের মতোই রয়েছে। আজ ১৭ মার্চ একজন সমাজ সেবক ও আইনজীবী শহীদ মোঃ ময়েজ উদ্দিনের ৮৩তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৩০ সালের এই দিনে গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার মোক্তারপুর ইউনিয়নের বড়হরা গ্রামের মোঃ ছুরত আলী ও মোসাম্মৎ শহর বানুর ঘর আলো করে পৃথিবীতে এসেছিলেন ময়েজ উদ্দিন। দেশ প্রেমিক রাজনীতিবিদ ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন সমাজ সেবক হিসেবে শহীদ মোঃ ময়েজ উদ্দিন জনতার হৃদয়ে চিরদিন বেঁচে থাকবেন।

পড়া লেখার শুরুতেই নিজের মেধার পরিচয় দিতে থাকেন ময়েজ উদ্দিন। ৪র্থ শ্রেণীর প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ১ম স্থান অধিকার করে মেধাবী ছাত্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৪৮ সালে কালীগঞ্জ রাজা রাজেন্দ্র নারায়ণ পাইলট সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১ম বিভাগে প্রবেশিকা, ১৯৫০ সালে ঢাকা কলেজ হইতে ১ম বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক, ১৯৫৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হইতে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে বি.এ (অনার্স) এবং ১৯৫৫ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় হইতে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে এম.এ পাশ করেন। ১৯৫৬ সালে সি.এস.পি-তে (বর্তমানে বি.সি.এস) কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হইয়াও স্বাধীনচেতা ময়েজ উদ্দিন সরকারী চাকুরীতে যোগদান না করিয়া ১৯৬০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হইতে এল.এল.বি পাশ করেন। পাশাপাশি পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করে নজরে আসেন।

কলেজে পড়ার সময়ই ময়েজ উদ্দিন রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৫২’র ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪’র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২’র কুখ্যাত হামিদুর রহমান কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন, ১৯৬৬’র ছয় দফা আন্দোলন ও ১৯৬৯’র গণআন্দোলনে সক্রিয় ভাবে অংশ গ্রহণ ও নেতৃত্ব দেন। এর পর ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন পরিচালনায় অগ্রণী ভূমিকা রাখার পাশা পাশি ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। আওয়ামীলীগের জন্মলগ্ন থেকেই বঙ্গবন্ধুর খুব কাছের একজন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। বঙ্গবন্ধুও তাকে খুব ভাল বাসতেন। এছাড়া বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে তার ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। স্বৈরশাসক পাকিস্তানী গোষ্ঠীর রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা পরিচালনায় সাহসিকতার সহিত গুরু দায়িত্ব পালন করেন। ময়েজ উদ্দিন ছিলেন দায়িত্ব প্রাপ্ত ’মুজিব তহবিল’ গঠনের আহবায়ক। আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ১৯৭০ সালে কালীগঞ্জ নির্বাচনী এলাকা থেকে ’প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য’ ও ১৯৭৩ সালে ’জাতীয় সংসদ সদস্য’ নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর খন্দকার মোশতাক কর্তৃক আহুত সংসদ অধিবেশনে বিশ্বাসঘাতক স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি খুনী মোশতাকের বিরুদ্ধে সর্ব প্রথম বক্তব্য রেখে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার কৈফিয়ত চেয়ে তীব্র প্রতিবাদী ভূমিকা পালন করে অধিবেশনের সকলকে হতবাক করে দেন।

১৯৭৫’র বিয়োগান্তক ঘটনার পর ময়েজ উদ্দিন তিনি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগকে সু-সংগঠিত করার কাজে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেন। পরবর্তীতে উল্লেখ যোগ্য সময় তিনি বৃহত্তম ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগের প্রথমে সাধারণ সম্পাদক ও পরে সভাপতির দায়িত্ব বেশ বিশ্বস্ততার সহিত পালন করেন। একই সময়ে তিনি ঢাকা মহানগর ও কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের নেতৃত্বেও ছিলেন। রাজনীতি করার ফাকেই কর্ম জীবনে প্রবেশ তার। প্রথমে ঢাকাস্থ সিদ্ধেশ্বরী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। পরবর্তীতে আইনজীবী হিসেবে ঢাকা বার ও সুপ্রিমকোর্ট বারে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। কুখ্যাত আইয়ুব-মোনায়েম খানের পেটোয়া বাহিনীর প্রবল বিরোধিতার মুখেও কমলাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ’চেয়ারম্যান’ নির্বাচিত হন। এছাড়া ঢাকা মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বও ময়েজ উদ্দিন পালন করেন। রাজনীতি ও পেশাগত দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি একজন সমাজ সেবক হিসেবে নিজেকে পরিচিত করে তোলেন। ১৯৭৭ সাল হইতে মৃত্যুর সময় পর্যন্ত বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির নির্বাচিত সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতির অবৈতনিক সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া ইন্টারন্যাশনাল প্ল্যান প্যারেনহুড ফেডারেশন-আই.পি.পি.এফসহ আই.ও.আর-এর সদস্য ছিলেন।

পারিবারিক জীবনও বেশ সমৃদ্ধ ও সফল ময়েজ উদ্দিনের। ১৯৫৭ সালে ঢাকা শহরের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের মেয়ে বিলকিস বেগমের সহিত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তার স্ত্রী ব্যক্তিগত জীবনে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও মহিলা সমিতিসহ নানা সমাজ সেবা মূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তিনি এক পুত্র ও পাঁচ কন্যা সন্তানের গর্বিত পিতা ছিলেন। জ্যৈষ্ঠা কন্যা কুইন মেহজাবিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হইতে মাষ্টার ডিগ্রি অর্জন করে বর্তমানে স্বামীসহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। দ্বিতীয় কন্যা মেহের আফরোজ চুমকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হইতে এম.এস.সি পাশ করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ, গাজীপুর-৫ কালীগঞ্জ আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তৃতীয়া কন্যা মেহের নিগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হইতে মাষ্টার ডিগ্রি পাশ করেন। চতুর্থ কন্যা মুশরাত জাবিন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েট হইতে আর্কিটেক্ট ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে বর্তমানে স্বামীসহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। কনিষ্ঠা কন্যা মেহেরবা ফেরদৌস জয়া ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। একমাত্র পুত্র ইকবাল ইউসুফ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েট হইতে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রকৌশল বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে সেখানকার খ্যাতনামা একটি প্রতিষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৭ thoughts on “গণতন্ত্রের বীর সেনানী শহীদ ময়েজ উদ্দিন

  1. খুব আওয়ামিলীগের দালালী করতে
    খুব আওয়ামিলীগের দালালী করতে মনে চায় তাই না। কেন এমন মিথ্যাচার করেন বলেন তো। কেন ইতিহাস হারিয়ে যাচ্ছে জানেন না। আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের কোন্দলে মারা পড়েছেন ময়েজ উদ্দিন। স্বীকার করতে চান না কেন? ফাকে ফাসিয়ে দেয়া হয়েছে আজম খানকে।

    রাজনীতির জন্য নিজের বাপ ভাইকে খুন করতেও হাত কাপেনা………

    1. সারা দেশ শহীদ ময়েজ উদ্দিনকে
      সারা দেশ শহীদ ময়েজ উদ্দিনকে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের শহীদ হিসেবেই জানে। আর আপনি এখানে দালালী খুঁজে পাচ্ছেন!! আজব তো। তা ভাই সাহেবে,কেমন করে কি হলো তা একটু বলবেন কি? কেমন করে আজম খানের মতো কুখ্যাত সন্ত্রাসীর পক্ষে কথা বলে অন্যদের দালাল বলছেন তাও একটু বলেন। কে যে কার দালালী করছে তা তো পরিস্কার আপনার কমেন্টেই।

      1. শুনেন, আমার বাড়ী কালিগঞ্জে,
        শুনেন, আমার বাড়ী কালিগঞ্জে, খোজ খবর না নিয়ে কথা বলছি না।

        আহসান উল্লাহ মাষ্টারকে কে খুন করেছে বলেন তো?
        ১, জামাত শিবির।
        ২, হেফাজতে ইসলাম।
        ৩, বি এন পি।
        ৪, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি।

        এদের এক জনও না, কৃষক/শ্রমীক লীগের সভায় সভাপতির নাম ঘোষনার সাথে সাথে বুকে গুলি লাগে। আসলে যে গ্রুপ সভাপতি হতে পারে নাই তারাই গুলি করেছে। হেফাজত, জামাত, বিএন পি কেউ গুলি করতে যায় নাই। ধরে নিলাম জামাত গুলি করে মেরেছে। তো ক্ষমতায় থেকে কি চুল কেটেছেন। খুনিকে ফাসি দিতে পারলেন না কেন। আসছেন ২১ এ আগস্টের খুনি বের করতে যখন আপনেরা ক্ষমতায় ছিলেন না।

        মেয়র লোকমান হোসেনকে কে খুন করেছে? উপরের চার জনের কেউ না। আসেন খুনিদের ফাসি দেই।

        চাইলে আরো ফিরিস্তি দিতে পারি, এটা হল রাজনৈতিক চাল। যেই চাল নারায়ন গঞ্জের নেতারা চেলেছেন। গনজাগরন মঞ্চের আন্দোলন তুংগে তখন ত্বকী মারা যায়।যাতে সবাই বলতে পারে জামাত শিবির এ কাজ করেছে। এখনো কি এগুলা বলে বেড়ান নাকি?

        1. ভাই, রাজনীতি কমবেশী আমরাও করি
          ভাই, রাজনীতি কমবেশী আমরাও করি এবং বুঝি। তাই রাজনৈতিক চালটাও ধরা কঠিন কাজ না। যেমন আপনার চালটা খুব সহজেই বুঝতে পারছি। কালিগঞ্জের মানুষ তো খোজ নেন না, আজম খান কেন অসতর্ক মুহূর্তে নিজে এই হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন? এখন বলবেন আমি এই তথ্য কই পাইলাম, তাই তো? ………… উত্তর হচ্ছে বাড়ি আমার উত্তর বাংলায় হলেও জায়গাটা দেশের বাহিরে নয়। যেখানে পেপার পত্রিকা, বই পত্র সবই পাওয়া যায়। একটু পড়াশুনা করেন পেয়ে যাবেন কোথায় পাইলাম।

  2. চমৎকার অনুসন্ধানী পোস্টের
    চমৎকার অনুসন্ধানী পোস্টের জন্য উত্তর বাঙলাকে ধন্যবাদসহ একরাশ ফুলেল শুভেচ্ছা :গোলাপ: :গোলাপ: :ফুল: :ফুল: :ধইন্যাপাতা: … আপনার পোস্টগুলো থেকে আরও অনেক কিছু জানতে পারার আশা রাখি… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :জলদিকর: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি:

  3. আচ্ছা ভালো কথা আপনার এই
    আচ্ছা ভালো কথা আপনার এই পোস্টে শহীদ ময়েজ উদ্দিনকে অপবাদ আর কুখ্যাত সন্ত্রাসী আজম খানের চামচামি করতেছে কে ? জানেন নাকি উত্তর বাঙলা ভাই… :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি:

    ছড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা তো আমার

    আর আপ্নের কিবোর্ডটা দেখতে খুব মুঞ্চায় :মাথাঠুকি: :আমারকুনোদোষনাই:

  4. না চিনি না। কে যে।
    না চিনি না। কে যে। ……………… কোন এক অজানা কারণে আপনার সাথে কমেন্টেই আমার কেন জানি উল্টা পাল্টা হয়ে যায়!!! মূল লেখা থেকে এমন মিসটেক খুব বেশী একটা বের করা যাবে না হয়তো। যাই হোক, আপনি মানেটা বুঝলেই হইলো। এটাকে বলে ডিফেন্সিভ মুড!! 😀 😀 😀

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 1