পত্রালাপঃ ০৩

অনিন্দিতা,
আমার মৃত্যুতে যদি তুমি একটু ভয় পাও তবুও বিশ্বাস কর; এটা স্বাভাবিক ঘটনা, কোন তেলেসমাতি কারবার নয়। বরং পৃথিবীতে মৃত্যুর চেয়ে স্বাভাবিক আর কোন কিছুই নেই।

ভয় পেয়ো না প্রিয়তমা,
আমি নিশ্চিত মৃত্যু জেনেই পথে নেমেছি।

মনে আছে?
একদিন বাবা-মায়ের কথা বলছিলে? পুরাতন কাসুন্দির মত তোমার সাথে কথোপথনগুলোকে জাবর কাটার মত করে দেখছিলাম; সেখানেই কথাটা পেলাম। কি বলছিলাম মনে আছে? মনে করে দেখো, বলছিলাম, তাদের সাথে যোগযোগ নেই, আমি আমার মত গড়ে তুলেছি অন্য আরেকটা পৃথিবী বৃত্তের মত করে। আর তার ভেতরেই আবর্তন করি প্রতিনিয়ত। আমি আমার পৃথিবীর রাজা, প্রজা সব। পরে একদিন বৃত্ত তৈরীর কারন জেনেছিলে তুমি।

সময়ের কি পরিহাস দেখো,
সেই বৃত্তে আমি নিজেই এক অচ্ছুত বন্দীশালার কয়েদি মাত্র। বৃত্তের চারপাশ ঘিরে ধরেছে প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর শকুনেরা। অবিরত ঠুকরে ঠুকরে বৃত্তটাকে ছিন্ন করতে চাইছে দালালের দল। চারপাশে যাকেই দেখি সেই আমার দিকে উচিয়ে আসে ধারালো সব মরনাস্ত্র। এদের কারও হাতে হ্যাণ্ড-গ্রেনেড, কারও হাতে ছোড়া, কারও হাতে চাপাতি।

হয়ত একদিন শুনবে,
বোমা কিংবা চাপাতির আঘাতে আমার লাশ পড়ে আছে কোন এক হসপিটালের মর্গে। খবরের কাগজে ছাপা হতে পারে এই মৃত্যুর কথা। লাশ নিয়ে হত কাড়াকাড়ি হতে পারে, এক পক্ষ দায়ী করবে অন্য পক্ষকে। হয়ত দুএকটা মানববন্ধন কিংবা লাশ ছুয়ে শপথও হতে পারে।

অনিন্দিতা,
আমি আমার মৃত্যু নিয়ে ভীত নই, তুমি ভয় পেয়ো না। নিশ্চিত মৃত্যু জেনেই তো ঝাপ দিয়েছি আগুনে, তাই না? শুদ্ধ চর্চা আর মানুষের কথা বললে তো মৃত্যুকে মেনে নিতে হবে সবার আগে। শুধু এটুকু বলে যেতে চাই, তুমি খেয়াল রেখো, আমার লাশ নিয়ে যেনো কোন ভণ্ডামি না হয়। আমি কোন ধর্ম ধারন করে জন্ম নিইনি পৃথিবীতে, মৃত্যুর পরও যেনো কোন ধর্ম এসে দাবী না করে যে আমি তাদের। আমার মৃত দেহটা কোন মেডিকেল কলেজে দিয়ে দিতে বলো। সেখানে ছাত্র/ছাত্রীরা আমার কংকাল নিয়ে পড়াশোনা করবে, নতুন কিছু দেবে মানব সভ্যতাকে, এটাই আমার জন্য প্রাশান্তির হবে। পচে গলে মাটিতে মিশে যাওয়া কিংবা পুড়ে ছাই হয়ে যাবার চেয়ে মানুষের কাজে লাগাটাই উত্তম নয় কি? জানি এই কাজটা খুব কঠিন হয়ে যাবে তোমার জন্য। তবু আশা করবো একটা কলম লিখো, একটা বাক্য উচ্চারন করো আমার জন্য, আমার মৃত দেহের জন্য।

যত যাই হোক না কেন, তুমি কিন্তু খুব খুব ভাল থেকো।

ইতি
উদ্ধত অর্বাচীন বালক।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “পত্রালাপঃ ০৩

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

45 + = 46