তথ্য প্রযুক্তি আইন ও সাদামাটা কথা

একটা সময় ছিলো,
সারাদেশে শুদ্ধ স্বরের চর্চাকারী মানুষের সংখ্যা ছিলো হাতে গনা গুটিকয়েক। তারমধ্যেও, প্রুথাবিরুধী সাহসী ব্যক্তির সংখ্যা ছিলো দুএকজন।

এই দুএকজনকে সরকার নামক মেরুদন্ডহীন যন্ত্রটি প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর ভয়ে কিংবা তাদের পা-চাটার জন্য পাঠিয়ে দিতো দেশান্তরে। এর প্রকৃষ্ঠ একটি উদাহরণ হলো দাউদ হায়দার ও তাসলিমা নাসরিন।

অপরদিকে,
হুমায়ুন আজাদের মত পরিস্থিতি থেকে বেচে থাকার জন্য অনেক মুক্তচিন্তকও গা-ঢাকা দিতেন।

কিন্তু,
অনলাইনের সুবাধে, মুক্তচিন্তা ও শুদ্ধচর্চাকারী সমালোচকেরা দেশের যে কোন প্রান্ত থেকেই তাদের সুচিন্তিত মত ও সমালোচনা এবং শুদ্ধ স্বরের চর্চা করতে পারছে। শুধু তাই না, অনেক সময় যে কথাটা জন প্রকাশ্যে বলা খুব কষ্টকর ও বিব্রতকর তা খুব সহজেই অনলাইনে বলা যায়।

মজার বিষয় হলো,
এই ধরনের অনলাইনে মতামত প্রকাশকারী লোকের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। আর এই সংখ্যাটা বাড়ার সাথে সাথে অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিবাদী কর্মসূচীরও আয়োজন করা হচ্ছে খুব সহজেই। আজকাল ছোটখাট প্রোগ্রাম থেকে শুরু করে মোটামোটি বড় যে কোন ধরনের কর্মসূচী ফেসবুক ইভেন্টের মাধ্যমে সেরে নেয়া হচ্ছে হামেশাই। আর এসব কর্মসূচীগুলো কোন ধরনের অফলাইন প্রচারনা যেমন পোস্টারিং, লিফলেট বিলি ও মাইকিং-এর খরচ ব্যতিতই করা যাচ্ছে অনায়াসে। প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর আশংকার আরেক কারন হলো কোন ধরনের ভাড়াটে লোক ব্যতিত প্রোগ্রামগুলো সচেতন লোকেদের দ্বারা সফলভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মোট কথা,
অনলাইন প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী, রাষ্টক্ষমতায় উপবিষ্ট গোষ্ঠী, উপবিষ্ঠ হবার মোহে জিবে জল ঝরানো গোষ্ঠীও পরিচালনার নামে লোটপাটকারী লোকেদের জন্য একটি মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময়ই অনলাইনের আলোচনা, সমালোচনার জন্য আজকাল মহামান্য রাষ্ট্র ও এর গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সঠিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হন। কিছুদিন আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে রমা দিদির স্বাক্ষাতকার এর একটি জলজ্যান্ত উদাহরণ।

মূলত;
এসব কারনেই অনলাইন জগতকে নিষ্ক্রিয় করে রাখতে এবং মানুষের মত প্রকাশের মাধ্যমে সরকার ও তাতে যুক্ত লোকদের সমালোচনা বন্ধ করার জন্য তথ্য ও প্রযুক্তি আইন নামক কালা আইনটি পাস করা হয় সাধারণ লোকচক্ষুর আড়ালে।

হাস্যকর লাগে,
যখন দেখি এই আইনটিতে উস্কানি, অশ্লীলতা নামক বিভিন্ন শব্দের ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু এসব শব্দের কোন নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেয়া নেই। যদি কেউ বলে, ” ধর ধর জামাত ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর” কিংবা বললো, জামাত-শিবিরের আস্তানা, জ্বালিয়ে দাও পুড়িয়ে দাও। ” তাহলে ব্যক্তির এই কথাগুলো কি উস্কানিমূলক হবে? আমরা জামাত-শিবিরকে বয়কট করা ও তাদের বিরুদ্ধে শ্লোগান প্রচার করা একজন নাগরিকের দ্বায়িত্তের মধ্যে পড়ে। আবার যদি যৌনতা ও এর সাথে জড়িত শব্দগুলোকের অশ্লীলতার দায়ে দোষী করে হয়, তাহলে চিকিৎসা বিজ্ঞানের আর যাই হোক, অন্তত প্রজনন বিদ্যাটি রাখা সম্ভব হবার কথা না।

যাই হোক,
কণ্ঠ স্তব্ধ করার ষড়যন্ত্র রুখে দাড়াবার জন্য কালাকানুনটির বিরুদ্ধে জন সমর্থন ও আদায়ের সংগ্রামে এগিয়ে যেতে আমাদেরকেই। আর এ সংগ্রাম চলবেই।

জয় বাংলা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “তথ্য প্রযুক্তি আইন ও সাদামাটা কথা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

35 − 25 =