একজন রাইয়ান এবং মরচে পড়া সিস্টেম

রাস্তা দিয়ে হাঁটছে রাইয়ান। আকাশ মেঘলা। ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। সেই বৃষ্টির বিন্দু গুলো রাইয়ানের চশমার মোটা গ্লাসকে ঘোলা করে দিচ্ছে। সবকিছুই তার কাছে ঝাপসা হয়ে আসছে। বার বার চশমা মুছে ঠিকমত পথ চলবার ব্যর্থ প্রয়াস তার। আজ সে অনুভব করতে পারছে পৃথিবী সূর্যের চারদিকে অবিরত ঘূর্ণায়মান একটি গ্রহ।পৃথিবী যে ঘুরছে তা যেন প্রত্যক্ষ দেখতে পাচ্ছে। একটু পর আবিষ্কার করলো বহু আগেই বৃষ্টি থেমে গিয়েছে, এখন আকাশে ঘন কালো মেঘের আনাগোনা নেই, সূর্য সারা আকাশে আধিপত্য করছে। এখন তো আর বৃষ্টি নেই তবুও ঝাপসা দেখছে সে। অবসর রত বাবার জীবনের শেষ সম্বল, যা তার বাবা বড় বড় বিপদেও হাত দেয় নি। নিজে অন্ধত্বকে আপন করে নিয়েছেন তবুও তার ছেলের জন্য রেখে দিয়েছেন এই অল্প টাকা। অনেকের জন্য অল্প হলেই এই মুহূর্তে রাইয়ানের জন্য সেই টাকা টুকুই অনেক কিছু।

একটা ব্যবসায় করবে রাইয়ান। ব্যাংকে ঋণের জন্য আবেদন করেছিল, ঋণের টাকার ৫ শতাংশ ঘুষ দিতে হবে কর্তব্য রত অফিসার কে। তাই আর ব্যাংক ঋণ নেয়া হল না তার। কোণ উপায় না পেয়ে গত রাতেই বাবার কাছ থকে টাকা নিয়েছে। তার বাবা নিজের কথা রেখেছে, ছেলেকেই দিয়েছে টাকা গুলো। রাইয়ান সেই টাকার সাথে নিজের জমানো কিছু টাকা এবং সুদে নেয়া কিছু টাকা মিলিয়ে একটা ব্যবসায় শুরু করবে।সে নিউ মার্কেটে একটি দোকান নিবে। সেই টাকা নিয়েই দোকানের বুকিং দেবার জন্য যাচ্ছিল। ফোনে কথা বলতে বলতে হাঁটছিল, আকাশ টা মেঘলা ছিল।সূর্য সারা দিন সকলকে দগ্ধ করার পর একটু যেন বিশ্রাম নিচ্ছে। এমন সুন্দর এক পরিবেশে প্রিয় মানুষটির সাথে কথা বলা অন্য রকম এক অনুভূতি। হঠাৎ সিটি কলেজের মোড় থেকে দুই মোটর সাইকেল আরোহী তার পাশ দিয়ে অতি দ্রুত বেগে চলে গেল। প্রাণে বেচে যাবার জন্যে বিধাতাকে ধন্যবাদ দেবার আগেই বুঝতে পারলো তার টাকার ব্যাগ টা নেই। বিধাতাকে আর ধন্যবাদ দেয়া হল না। হতভম্ব হয়ে রাস্তা দিয়ে হাটা শুরু করলো। হাটতে হাটতে সে কখন যে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর পেরিয়ে সংসদ ভবনের সামনে পৌঁছে গিয়েছে কিছুই বুঝতে পারলো না। যানজট পূর্ণ রাস্তার কোলাহল কিছুই তার কান দিয়ে মস্তিষ্কে পৌছালো না।
হঠাৎ সে প্রচণ্ড ধাক্কা অনুভব করলো। কিছু বুঝতে পারলো না সে। কয়েক জন মানুষ তাকে ঘেরাও কারা, জোরে জোরে কি যেন বলছে। পরক্ষনেই তাদের কথা শুনে বুঝতে পারলো যে আরেকটু হলেই সে বাসের নিচে চাপা পরে যেত। অবাক লাগছে তার সে কি করে সিটি কলেজের মোড় থেকে এই পর্যন্ত আসলো! আর সেই সাথে নিজ প্রাণ রক্ষার জন্য ঐ মানুষ গুলোকে মনে মনে বকছে সে। যখন এত গুলো মানুষের সামনে তার টাকা টা নিয়ে সো করে পালিয়ে গেল , কোথায় ছিল এই লোক গুলো। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শুধু দেখছিল। কি করছিল সেই কর্তব্য রত ট্রাফিক পুলিশ। তার সামনেই তো হল এই সব কিছু। ইচ্ছা করলেই তো আটকাতে পারতো। আটকানোর একটু প্রয়াসও তো করলো না সে, যখন রাইয়ান সেই পুলিশকে কিছু করতে বললে তখন তো শুধু শুধু ঝামেলা বলে পাশ কাটিয়ে রাস্তার অন্য পাঁড়ে চলে গেল সে। এটাই কি আমাদের দেশ! এটাই কি আমাদের চরিত্র? কারোও বিপদে কি আমরা এগিয়ে আসতে পারি না? আমরা কি শুধু দুধের মাছি হয়ে থাকতেই পছন্দ করি? আমাদের দেশের লোক কি সারা জীবন এভাবেই নিজের কর্তব্য ফাকি দিয়ে আসছে, আর এভাবেই ফাকি দিতে থাকবে? এইগুলো ভাবতে ভাবতে আবার হাটা শুরু করলো, এবার গন্তব্য নিজ বাসায় ফিরে যাওয়া। কিন্তু বাসায় পৌঁছাতে পারবে কি না জানে না রাইয়ান।

{{গল্পটির নাম দিতে পারিনি, দিয়ে দিবেন}}

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩৮ thoughts on “একজন রাইয়ান এবং মরচে পড়া সিস্টেম

  1. “একজন রাইয়ান এবং সমাজের
    “একজন রাইয়ান এবং সমাজের চিরায়ত অরাজকতার গল্প”
    অথবা “একজন রাইয়ান এবং মরচে পড়া সিস্টেম”
    অথবা “জীবনের নির্মম বাস্তবতা এবং একজন রাইয়ান”

    শিরোনাম এর জন্য এই ৩ টি নাম আমার মনে হল । যাই হোক , আমার মনে হয় লেখার রিভিউ আর দেওয়ার প্রয়োজন নাই ।

      1. অবসর রত বাবা জীবনের শেষ

        অবসর রত বাবা জীবনের শেষ সম্বল, যা তার বাবা বড় বড় বিপদেও হাত দেয় নি

        লাইন টা ঠিক করুন । অরথগত দিক থেকে একটু দুর্বোধ্য । এখানে “বাবা” স্থলে “বাবার” হবে । আর কিছু ক্ষেত্রে ব্যাংক বানান টা ভুল হইছে । খুব সামান্য ভুল, এগুলা ভুল হিসাবে ধরা হয় না। তবুও আপনি বললেন বলে বলে দিলুম 🙂

      1. জনাব গল্পকার কেন বলেছি এবার
        জনাব গল্পকার কেন বলেছি এবার শোনেনে।
        গল্প ফাঁদার জন্য খুব ছোট বর্ণনায় শুরু হয়েছে। যেমন সায়েন্স ল্যাব থেকে সংসদ ভবন। কিন্তু কিছু ম্যাসেজ আছে। ছোট ঘটনার মাধ্যমে বড় কিছু তুলে আনার কৌশল এটা খুব ভাল লেগেছে। জেনে করেন বা না জেনে করেন এই যে সৃষ্টি এটা সুন্দর।

        1. ধন্যবাদ ভাই।
          আমার প্রায়

          ধন্যবাদ ভাই।

          আমার প্রায় প্রতি লেখাতেই আপনাকে পাই দেখেনই তো আমি বাস্তবতা নিয়ে লিখতেই পছন্দ করি।

          আর আমি এখানে শুধু অন্যদের দোষ দেখাই নি রাইয়ানের দোষ টাও দেখাবার চেষ্টা করেছি সে এই ক্ষতির জন্য পরক্ষো ভাবে দায়ী। কারণ রাস্তা দিয়ে চলার সময় ফোনে কথা বলছিল।

          আর আমাদের পুলিশ ব্যাংক কর্মকর্তারা এমনই করে।

          আপনার ভাল লেগেছে এটাই অনেক 🙂

  2. বেচারা রাইয়ান। হরলিক্স খেলে
    বেচারা রাইয়ান। হরলিক্স খেলে এমন হতো না।
    :হাসি: :হাসি: :হাসি:
    হায়রে হরলিক্স! কত যে মজা দিলি!
    লেখার বর্ণনা ভালো কিন্তু গল্পের প্লট গতানুগতিক হয়েছে।

    1. আজ বর্ণনার উপরেই জোর
      আজ বর্ণনার উপরেই জোর দিয়েছিলাম। এর আগের গুলায় যার দিকে আগে খেয়াল করি নি ।

      গতানুগতিক শব্দের অর্থ কি?? জানি না ।

      আর কিছু ভুল ধরে দেন

      1. লেখার সময় আসলে পাঠকের কথা
        লেখার সময় আসলে পাঠকের কথা একটু চিন্তা করতে হবে।
        যেমন, কেউ একজন পড়ছে…

        “একটু পর আবিষ্কার করলো বহু আগেই বৃষ্টি থেমে গিয়েছে, এখন আকাশে ঘন কালো মেঘের আনাগোনা নেই, সূর্য সারা আকাশে আধিপত্য করছে। এখন তো আর বৃষ্টি নেই তবুও ঝাপসা দেখছে সে।”

        এখানে বোঝানো দরকার ছিল যে রাইয়ান মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত। কিন্তু লেখা পড়ে মনে সেটা বোঝা যাচ্ছে না। এরপর ধুম করে, কথা নাই বার্তা নাই,

        “অবসর রত বাবার জীবনের শেষ সম্বল, যা তার বাবা বড় বড় বিপদেও হাত দেয় নি। নিজে অন্ধত্বকে আপন করে নিয়েছেন তবুও তার ছেলের জন্য রেখে দিয়েছেন এই অল্প টাকা। অনেকের জন্য অল্প হলেই এই মুহূর্তে রাইয়ানের জন্য সেই টাকা টুকুই অনেক কিছু।”

        উপরের লাইনগুলো পড়ে একজন কি বুঝবে?
        ১) রাইয়ানের বাবা অবসর নিয়েছেন। হয়ত সরকারী চাকরী করতেন বলে পেনশনের কিছু টাকা পেয়েছেন। আচ্ছা ভালো কথা।
        ২) ভদ্রলোকের চোখে সমস্যা ছিল। কিন্তু এমন কি সমস্যা ছিল যার জন্য তিনি অন্ধ হয়ে যাচ্ছেন? নাহ! বোঝা গেল না। সমস্যা যদি গুরুতর হয়ে থাকে তাহলে পেনশনের সামান্য টাকায়, তিনি যদি চাইতেনও তাহলেও তো চিকিৎসা করে সুস্থ হতে পারতেন না।
        ৩) রাইয়ানের পরিবারের আর কেউ নাই?

        আচ্ছা বাদ দেই,ঝামেলা করে লাভ নেই। গল্পের সামনে আগানো যাক।
        বাবার শেষ সম্বলটুকু দিয়ে রাইয়ান ব্যাবসা করতে চায়। নিউ মার্কেটে একটা দোকান দিতে চায়। নিউ মার্কেটে একটা দোকান দিতে যথেষ্ট টাকার প্রয়োজন। এতো টাকা সে পেল কোথায়? আর আর্থিক ভাবে অসচ্ছল একটা ছেলে চাকরী না খুঁজে ব্যাবসায় নামবে কেন?
        আচ্ছা ধুর! নামতেই পারে, তাতে সমস্যা কি?
        সমস্যা আছে। যে ছেলে ব্যাবসা করতে নামবে সে অবশ্যই সাবধানী আর হিসেবি হবে। কাঁধের ব্যাগে করে সে টাকা নিয়ে যাবে না। আর যদি যায়ই তাহলে বোঝা যাচ্ছে সে এখনো জগতের অনেক বিষয় বুঝে উঠতে পারেনি।
        যাই হোক, আনফরচুনেটলি তার টাকা ছিনতাই হয়ে গেল। সব টাকা খুইয়ে তার মাথা নষ্ট হয়ে গেল। হতেই পারে, একটা ছেঁড়া দশ টাকা সহ কারো যদি মানিব্যাগ হারিয়ে যায়, তাহলেও সে হায়হুতাস করতে থাকবে যে তার মানিব্যাগটা জেনুইন লেদারের ছিল!

        নিজের অসাবধানতার জন্য সে পুরো পুলিশ জাতিকে দায়িত্বহীন বলতে পারে না। অনেক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের পুলিশ বাহিনীর
        অবদান এক কথায় অসামান্য। ঘুষ, দুর্নীতির কারণে সেই অবদান কিছুটা ম্লান হতে পারে।
        কিন্তু এভাবে খাটো করে দেখার কোন সুযোগ নেই। ঢালাও ভাবে পুলিশকে দায়ী করাটা আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আর এজন্যই বললাম লেখাটা গতানুগতিক হয়েছে।
        গতানুগতিক মানে যেটা সাধারন ভাবে প্রচলিত।
        অনেক কথা বললাম, হাপায় গেছি!!
        #-o #-o #-o #-o

    2. নাভিদ ভাই লেখাটা গল্প হিসাবে
      নাভিদ ভাই লেখাটা গল্প হিসাবে বিবেচ্য করে প্লট খোঁজাটা নিষ্প্রয়োজন ।কেননা সম্ভবত লেখক এখানে জাস্ট একটা পরিনতি তুলে ধরেছেন । যেটা সচারাচর ঘটছে । এবং এর সাথে ফুটে উঠেছে সমাজ বেবস্থার অনিয়ম অরাজকতা। লেখকের উদ্দেশ্য সম্ভবত গল্পের প্লাটফর্ম তুলে ধরা নাহ এটাই তুলে ধরা । সো এরকম লেখা গতানুগতিক হলে সমস্যা নেই সম্ভবত । 🙂

    1. ভাল্লাগছে ।তবে আমি কখনোই
      ভাল্লাগছে ।তবে আমি কখনোই ব্যবসা করব না ।খুব সুন্দর করে আমাদের সামাজিক অবস্থাটা তুলে ধরেছেন ।বেশ ভাল লেগেছে ব্যাপারটা ।লেখাটা একটা ছন্দের ভিতর ছিল ।রাইয়ান নামটা সাহিত্যেয় সাথে না গেলেও ভাল লেগেছে নিজের নাম দেখে

      1. ধন্যবাদ ভাই
        আর আপনাদের নাম

        ধন্যবাদ ভাই
        আর আপনাদের নাম ব্যবহার করে সবসময় মনে রাখার চেষ্টা আর কি।

        কিরণ ভাই, নাবিদ ভাই, আতিক ভাই, রাহাত ভাই এর টা ব্যবহার হয়ে গেছে।

        মোশাফেক ভাই বাদ আছে

        1. অ্যা অ্যা আমিতো আমার আন্মের
          অ্যা অ্যা আমিতো আমার আন্মের গল্প মিস কইরা গেছি লিঙ্ক দেন ভাই প্লিজ। :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল:

  3. শুরুটা বেশ ভালোই হয়েছে।
    শুরুটা বেশ ভালোই হয়েছে। বর্ননায় পরিপক্কতা আসছে। আগের লেখাগুলর ভাষা এতোটা পরিপক্ক ছিলোনা। তবে শেষে এসে ম্যাসেজ দেওয়ার হুড়াহুড়ি লাগাই দিলেন ক্যা? মনে হচ্ছিলো উপদেশ মূলক কোন লেখা পড়ছি। অভারল ভালো হইছে জয়।

    1. আমি যে কেন এমন একটা ঠিক থাকলে
      আমি যে কেন এমন একটা ঠিক থাকলে আরেকটা ভুল। যাই হোক ভাল লেগেছে যেনে খুশি হলাম।

      তবে আপনকে ধন্যবাদ দিব না রাগ করছি।
      আমাকে “আপনি” বলে সম্বোধন করে পর বানায় দিলেন??

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 39 = 48