আমাদের জয় হবেই

প্যান্ট খুলে যাবার দশা হায়েনা রাজাকার ও তাদের দোসর জামাত শিবিরের। প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলন ওদের এত দিনের স্বস্তির ঘরে আগুন জ্বেলে দিয়েছে। কাঁপিয়ে দিয়েছে ওদের ভীত, জঙ্গিবাদে দাবিয়ে রাখতে চেয়েছে দেশের মানুষ কে। খুন, রগ কাটা ধর্মের নামে নোংরামি করে বিভ্রান্ত করে রাখতে চেয়েছে সব সময়, শান্তি প্রিয় মানুষরা এতো দিন চুপ চাপ সহ্য করেছে। ওরা মনে করেছিল আমরা মেরুদণ্ডহীন জাতি। ধর্মের নামে গোঁড়ামি, কু সংস্কার,বানোয়াট হাদিস আর ফতোয়া দিয়ে দেশের মানুষ কে জিম্মি করতে চেয়েছিল। নিজেদের পাপ আর কু-কর্ম ঢাকার জন্য চালিয়েছে ধর্মের নামে অত্যতাচা, যার সাথে ইসলাম ধর্মের নেই এতো টুকু সম্পৃক্তা। স্বাধীনতার শত্রুরা বেড়ে উঠেছে নিরাপদে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায়। পৌছে গেছে এরা রাষ্ট্র যন্ত্রে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে। আর এই কারনে ধরা কে সরা জ্ঞান করে মুক্তিযুদ্ধের পাপীরা দেশের সাধারন মানুষ কে দমন পীড়ন শুরু করেছিল, ট্রাইবুন্যাল কে বাতিলের দাবিতে।।
আজ যখন আন্দোলন শাহবাগ থেকে সারা দেশে ছড়িয়ে পরেছে রাজাকার, হানাদার, পাকিস্থানপন্থীদের বিচারের দাবিতে, হায়েনারা মরিয়া হয়ে উঠেছে, নিচ্ছে আক্রমণের প্রস্তুতি, বাধা দিচ্ছে প্রজন্ম চত্বরে আগত মানুষ কে, মিছিল কে। প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলন কে নিয়ে শুরু করেছে ব্যাপক মিথ্যাচার। আমাদের বোনদের কে অসম্মান করে কথা বলছে, আমাদের আন্দোলনরত ভাইদের কে উপহাস করছে। ওদের আজকের ভাষাতেই বোঝা যায়, ১৯৭১ এ আমাদের মা বোন কে কি ভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল।
জামাত শিবিরকারী ও সমর্থকদের কিভাবে জন্ম হল ভাবতে হচ্ছে নতুন করে। নারী কে যারা এত অসম্মান করে তারা নিশ্চয় নারীর গর্ভে জন্ম নেয়নি, ওরা হয় শুয়োরের পেটে ছিল, না হয় গোলাম আজমের পায়ুপথে জন্ম নিয়েছে। কারন ইসলামে মায়ের সম্মান অনেক উপরে। মায়ের পায়ের নীচে সন্তানের বেহেশত। জামাত শিবির যদি নারীকে কন্যা-ভগ্নী-জায়া-জননী বলে মানে, তাহলে তো অন্যের-মেয়ে-বোন-বউ-মাকে নিচু করে কথা বলা শিখত না।
১৯৭১ এ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে, আমাদের মা-খালা-বোনদের কি নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও হত্যা করেছে তার বিবরণ আজো মানুষ কে কাঁদায়। ওদের হাত থেকে কন্যা শিশু, বালিকা, তরুণী, গর্ভবতী নারী, বয়স্কা নারী কেউ রেহায় পাইনি। তিলে তিলে দিনের পর দিন বন্দি করে নরপশু গুলো ওদের পাকিস্থানী দোসরদের সাথে ধর্ষণ করেছে, হত্যা করেছে, আনুমানিক হিসাবে ৪ লাখ নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন সেই রক্তঝরা নয় মাসে আর আর তাদের গর্ভে জন্ম নেয় এক প্রজন্ম, নষ্ট রক্তবীজ। মুক্তিযুদ্ধ বিরোধিরা এবং এদের উত্তরসূরিরা সেই নষ্ট রক্তবীজই আজ জামাত শিবির।
এ কারনে জামাত শিবিরের কাছে থেকে ভাল কিছু আশা দূরে থাক, সব ভালো কে নষ্ট করতে ওরা বদ্ধ পরিকর। ৪১ বছর ধরে ওরা নিরাপদে আমাদের সোনার বাংলায় অবাধ বিচরণ করেছে। নষ্ট রক্তের চারা ছড়িয়ে দিয়ে সারা দেশে, কোন বাধা বিপ্ততি ছাড়া। আজ ওদের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে আমাদের যুব সমাজ। খুনি কসাই কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে কয়েক জন যুবক যাদের বয়স ২৪ থেকে ২৮সের মধ্য, ওরা ডাক দেয় প্রতিবাদের, সেই ডাকে দলে দলে যুবরা এসে জড়ো হয় শাহবাগে। আর এই শাহবাগ তার কয়েক ঘণ্টা পরে রুপ নেয় জন সমুদ্রে। কে আসেনি সেখানে, সব বয়সের নারী পুরুষ, এমনকি ছোট ছোট শিশুরা ওদের মা-বাবা সাথে। বাসে রিকশায়, পায়ে হেঁটে, গাড়িতে, সাইকেলে, যে যেভাবে পেরেছে ছুটে এসেছে কাজ ফেলে, সংসার ফেলে, পড়া ফেলে, অফিস ছেড়ে। শাহবাগে যে আসতেই হবে, কেন না এই আসা প্রানের টানে, মায়ের টানে, রক্তের টানে, মাতৃভূমির প্রতি ঋণ শোধের টানে। এই টান অস্বীকার করার যে উপায় নাই। আর এই টানকেই ভ্য় পাচ্ছে রাজাকার পশুগুলো। জানে এই টানই এক সুত্রে গেঁথেছে, ধনী দরিদ্র, উচু-নীচু, জাত ভেদ, ধর্ম ভেদে মানুষ আজ এক কাতারে দাঁড়িয়েছে, স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এই প্রথম সব শ্রেনীর মানুষের মিলন ঘটেছে। তৈরি হয়েছে একতার শক্তি।
এই একতা ভাঙতে, যে কোন ধরনের আঘাত করতে পারে হায়েনারা। গুপ্ত হামলা, আত্নঘাতি হামলা, টাকার হামলা, দেশে অস্থিরতা বাড়ানোর হামলা। আমাদের তথাকথিত রাজনীতিবিদদের দিয়ে আমাদের বোকা বানানোর হামলা, অপবাদ ছড়ানোর হামলা। মিথ্যা গল্পের হামলা। ওদের অপশক্তি দিয়ে সব ভাবে হামলা করার পথ খুঁজবে। আমার দেশের মানুষ কে তাই সবিনয়ে আবারো বলতে চাই রুখে দিন ওদের। আমাদেরও এক হয়ে থাকার সময় আজ। প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলনের সবাই কে একতার শক্তিতে বলিয়ান হয়ে উঠতে হবে। ওদের সব হামলার জবাব আমাদের দিতে হবে। মহাসমাবেশে এই দেশ থেকে ওদের চিরতরে নির্মূলের শপথ নিতে হবে, জামাত শিবিরের রাজনীতি ক্ষমতা কেড়ে নিতে হবে যা সরকার কে চাপ দিয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে। ব্যক্তিগত রেষারেষি, মতভেদ ভুলে যাবার দিন আজ। প্রজন্ম চত্বর আজ একতার।
জামাত শিবিরের বাইরেও রয়েছে আমাদের শ্ত্রু, যারা ১৯৭১ এ সুবিধাবাদী, সুযোগ সন্ধানী ছিলো, তারা আজো তাই আছে, এরা চাইবে আন্দোলনের মাথায় কাঁঠাল ভেঙ্গে খেতে। এদের সমীকরণ শুরু হয়ে গেছে, এই আন্দোলন দিয়ে কে কি ভাবে লাভবান হবেন। কি ভাবে কি করতে হবে ছক কাটা শুরু হয়ে গেছে।
আবার অনেকই ভাতঘুম (এক বন্ধুর ভাষায়) দিয়ে টিপটপ হয়ে যাচ্ছেন প্রজন্ম চত্বরে। মিডিয়ার সামনে গলা বাজি করে দায় সারছেন। ১০ মিনিট কি ১৫ মিনিট কাটিয়ে ফিরে যাচ্ছেন এসি রুমে, কফি খেতে খেতে টিভির রিমোট টিপছেন, দেখছেন কোন টি ভি চ্যানেল কতক্ষণ দেখালো তাদের মেকাপ চর্চিত খোমা। টিভির পর্দায় মেকাপময় আন্দোলনকারী দেখে আন্দোলনের গতি ও ধারা মাপতে যাওয়া বোকামী। একবার সব কাজ ফেলে দেখে আসুন, রোদে পুড়ে, না খেয়ে, না ঘুমিয়ে হাজারো মানুষ আন্দোলন কে দিন দিন উজ্জীবিত করছে। প্রবাসী বাঙ্গালিরা সব কিছু বাদ দিয়ে পরে আছে টিভির সামনে, কমপিউটারে সামনে। ক্ষনে ক্ষনে খবর দেখছেন দেশের, নেটে সার্চ করে ফিরছেন আন্দোলনের খবর। শাহবাগে জমায়েত বন্ধু, আত্মীয়, পরিজন, বন্ধু কে ফোন করছেন, একাত্ন হয়ে থাকছেন আন্দোলনে। যে যে ভাবে পারছেন আন্দোলন করছেন দেশে দেশে। প্রবাসে থেকেও মন পরে আছে শাহবাগে, মিছিলে, সমাবেশে। স্বাধীনতার পর এই ভাবে আর কেউ এক হয়নি। এইভাবে আর হাজারো মানুষ বিনা স্বার্থে জড়ো হয়নি।
এই নিঃস্বার্থ একতাই আমাদের শক্তি। আমাদের বল। একাত্তরে আমদের পূর্বজনেরা খালি হাতে যুদ্ধ করে স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে এনেছিলো। আজ আবার আমার দেশের মানুষ স্বাধীনতার কলঙ্ক মুছে দেবে। তারুন্যের জয় অনিবার্য। এই তারুন্যের জোয়ারে হাজারো মানুষ সমাবেত আজ। আমাদের জয় হবেই এবার। নাই নাই ভয় হবেই হবেই জয়।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৬ thoughts on “আমাদের জয় হবেই

  1. জনগন এবার মাঠে নেমেছে খালি
    জনগন এবার মাঠে নেমেছে খালি হাতে ফিরবার জন্য নয়।জয় আসবেই,তারূন্যের জয় অবশ্যম্ভাবী।শুধু লক্ষ রাখতে হবে সুযোগসন্ধানী কেউ যেন লাভের গুড় খাইতে না আসে।

    1. লাভের গুড় খাওয়ার লোকগুলারে
      লাভের গুড় খাওয়ার লোকগুলারে নিয়ে চিন্তায় আছি। যাই হোক, আমার এখন পর্যন্ত উপলব্ধি- এত ক্যাচাক্যাচি সত্ত্বেও খারাপ হচ্ছে না

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

8 + 1 =