দুখু জাগানিয়া পত্রালাপ

অনিন্দিতা,
আজ অনেকদিন পর তোমাকে লিখছি। জানি আজ তুমি ভাল নেই, আমিও না। মনে আছে অনিন্দিতা ঈদের আগের দিন একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম একটা জামাত-শিবির পরিবারের ছেলেকে নিয়ে? মনে না থাকলে আবার কপি করে দিচ্ছি তোমায়।

“ Prithu Sanyal তার অবস্থা হালনাগাদ করেছেন।
গোটা পরিবার জামাত-শিবির হবার পরও
যে ছেলেটা ৫ফেব্রুয়ারীত শাহবাগ ছুটে গেছে,
চিৎকার করেছে ফাসির দাবীতে,
যুদ্ধাপরাধের বিচার চেয়েছে।
ফাসি চেয়েছে সকল জানোয়ারের।

যে ছেলেটা পরিবারের সকল বন্ধন ছিন্ন করে,
জামাত-শিবির নিষিদ্ধের দাবীতে শ্লোগান দিয়েছে।
কাল বাদে পরশু ঈদ,
তার মা এখনো খোজ নেয়নি,
বাবার কথা থাক,
ভাই-বোনেরাও ফোন দেয়নি।

তাকে কি জবাব দেবে তুমি বাংলাদেশ?
বৃহস্পতিবার, আগস্ট 8, 2013 এতে 12:23am UTC+06”

কালের কি নির্মম পরিহাস দেখো, আজও পর্যন্ত সেই ছেলেটি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন তো আছেই, এখন নতুন করে তার সহযোদ্ধাদের থেকেও বিচ্ছিন্ন। তার বিরুদ্ধে জামাত-শিবিরের এজেন্ডা বাস্তবায়নের অভিযোগ এসেছে। কি লাভ হলোও বলো তার? এই কি প্রতিদান? অনিন্দিতা তুমি কি বলতে পারো কতদিন পর্যন্ত মায়ের সাথে কথা না বলতে পারলে একটা ছেলেকে সত্যিকারের দুঃখী মানুষ বলা যায়? আমি তো সবকিছুই ত্যাগ করেছিলাম। আমাদের সকল প্রজন্মযোদ্ধারা যুদ্ধ করেছে, জামাত-শিবির নিষিদ্ধের দাবীতে সোচ্চার হয়েছে। আর আমি! আমি তো বিদ্রোহ করেছি, স্রেফ বিদ্রোহ পরিবার, পরিজন পরিমণ্ডলের সাথে।

বিনিময়ে কি পেয়েছি বলতে পারো অনিন্দিতা?
হ্যা, এটা ঠিক আমি তো কোন প্রতিদান চাইনি। আমি তো বাংলাদেশকে ভালবাসি। ভালবাসার বিনিময় হয় না, তাই বলে বিদ্ধেষী সনদ পাবো, এটা কি আশা করার মত? একটা গানের কথা তোমাকে বলতাম, “হয়ত বা ইতিহাসে তোমাদের নাম লিখা রবে না… … … “ নিজেকে ইতিহাসের ভীড়ে হারিয়ে যাওয়া কোন এক সাধারণ লোকই ভাবতাম সব সময়, এখনও তাই ভাবি।

অনিন্দিতা,
ব্যপারখানা কেমন হলো বলতো, একটা ছোটভাইয়ের কথা তোমাকে বলেছিলাম, ঐ যে ছেলেটা; গণজাগরণ মঞ্চকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা করার জন্য তার সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করেছি। সেই ছেলেটা সেদিন এসে বলছে, “ভাই কেমন আছেন? কাক হয়ে ময়ূরের সভায় যাওয়ার চেষ্টা ভাল না”। আমি এখন তার কাছে কাক হয়ে গেলাম। অথচ এই ছেলেটা আমার কাছ থেকে সবসময় পরামর্শ নিতো, যে কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবার জন্য তার পরিবার আমার কাছ থেকে মতামত নিতো। সেই ছেলেটার সামনে এখন আমি মাথা নত করে রাখি।

আনিন্দিতা,
আজ তোমার বাসারও একটা দুঃসংবাদ পেলাম, তোমাদের সকলেরই মন খুব খারাপ। পরিস্থিতি ও বাস্তবতা মেনে নেয়া ছাড়া আসলে আমাদের কোন উপায় থাকে না। সেদিনও আমি ভেবেছিলাম আত্মহত্তা করে ফেলি, কিন্ত নিজেকে সামলে রেখেছি এই ভেবে যে, এমন প্রমানের কি দরকার, যে প্রমানের পর আমি নিজেই থাকবো না? তাই নিবৃত থেকেছি, আর সর্বোপরি যে কোন বিষয়কে সহজে মেনে নেয়ার একটা প্রবনতা আমার মাঝে কাজ করে, আমি সহজে ভেঙ্গে পড়ি না, এ এক অদ্ভুত গুণ আমার। যাই হোক, তোমাদের পরিবার তাড়াতাড়ি বিষন্নতা কাটিয়ে উঠুক, এই কামনায় আজকে মত রাখছি। তুমি খুব খুব ভাল থেকো।

ইতি,
উদ্ধত অর্বাচীন বালক।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৫ thoughts on “দুখু জাগানিয়া পত্রালাপ

  1. ভালো লাগলো।দুঃখগুলো সত্যি
    ভালো লাগলো।দুঃখগুলো সত্যি কেমন যেন?মায়ের সাথে কথা না বলে থাকার ব্যাপারটা ভাবাই যায়না।আর আপনি তাই করেছেন।দেশ নামের মাকে ভালোবেসে জন্মদাত্রী মাকে হারিয়েছেন।কিন্তু অন্য মা তো আপনার আছেই,থাকবেও আজীবন।আর জন্মদাত্রী মাকে বুঝানোর চেষ্টা করেন।মায়েরা সবকিছু বুঝতে পারে।

  2. যার জন্য করলেন চুরি সেই
    যার জন্য করলেন চুরি সেই বলতেছে চোর!

    আমি নিজেও আপনার ব্যাপারে কিছুটা সন্দিহান ছিলাম ।যাইহোক, আপনার এই লিখাটি পড়ে আমি লজ্জিত ও মর্মাহত ।আশা করবো সব কিছু পেছনে ফেলে দেশের জন্য নুন্যতম ভূমিকা পালনে কখনো পিছপা হবেন না ।এই দেশ শুধু আমার বা আমার মত কয়েকজনের না, এই দেশ আপনারও ।
    জয় হোক সততার ।

  3. আমিও রাসেল না কার একটা ছবিতে
    আমিও রাসেল না কার একটা ছবিতে আপনাকে ছাগু ট্যাগ দেয়ায় মর্মাহত হয়েছিলাম ।একটা কথা জানেন তো,পাছে লোকে কিছু বলে ।অতএব এসব বাদ দিয়ে চলেন দেখি সবাই মিলে দেশটার জন্য কি করতে পারি ।দেশটাতো আমাদের ই তাইনা ?আমরাইতো বাংলাদেশ ।জয় বাংলা

  4. আপনার সাথে আমারা আছি। কিন্তু
    আপনার সাথে আমারা আছি। কিন্তু এরকম ডাবল গেম খেলা পার্থী পাওয়া গেছে বলেই আপনার প্রতি অভিযোগ ওঠানো সহজ হয়েছে যাইহোক সময় তার জবাব দেবে। :অপেক্ষায়আছি:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

72 + = 80