বন দখলের লড়াই!

যারা দেশ, দেশের স্বার্থ, এখানকার গণমানুষের স্বার্থের কথা কমবেশি এখনও চিন্তা করেন, তাদের মধ্যে এখন একটাই প্রশ্ন- কি হবে সুন্দরবনের। সরকার কিছুতেই থামল না। অনেক বিরোধিতা করেছে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক দলগুলো। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, পরিবেশবিদসহ অনেকেই দিয়েছেন প্রাজ্ঞ মতামত। সবাই বলেছেন, এ বিদুৎ কেন্দ্র হলে বনের অনেক ক্ষতি হবে। ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাবে সুন্দরবন। তবু সরকার তার সিদ্ধান্তে অটল। সুন্দরবনের কোলের ভেতরই তাদের একটা কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র চাই।

অনেক দাবি করা হয়েছে সরকারের কাছে। বনের ক্ষয় ক্ষতির হিসাব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সরকার সেগুলো আমলে নেয়ার প্রয়োজন বোধ করেনি। সরকার নিজের কাজটা ঠিকঠাক করে যাচ্ছে। যারা সুন্দরবনে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র করার বিরোধিতা করছেন, সরকার তাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিরোধী হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা চালাচ্ছে। সরকারের ভাষায়, এরা উন্নয়ন চায় না। তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্রর বিরোধিতা করে। সরকার কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ হলে খরচ কম হওয়ার আশা দেখাচ্ছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রর মতো ভারী শিল্প গড়ে উঠলে প্রস্তাবিত রামপাল এলাকার মানুষের জীবন মান পরিবর্তনের কল্পগল্প শোনাচ্ছে। কিন্তু বনের কি হবে তা একবারও বলছে না।

খুব অল্প কথায় একবার পেছনটা ঘুরে আসি। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে কি হতে পারে তার দিকে ছোট্ট করে চোখ বুলিয়ে নেই। প্রথমত কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে একটা মারাত্মক দূষণপ্রবণ লাল ক্যাটাগরির শিল্প। এটা বনভূমি বা জনবসতির আশেপাশে থাকার কোনো নিয়ম নেই। এটা হতে হবে শিল্প অঞ্চলে। তবে কয়লা আনা নেয়ার সুবিধার্থে সাধারণত এ ধরনের বিদ্যুৎ কেন্দ্র নদীর আশেপাশে করা হয়। সরকার বাগেরহাটের রামপালের পশুর নদীকে বেছে নিয়েছে। যার খুব কাছেই সুন্দরবন। ৩০ আগস্ট ১৯৯৯ জারি হওয়া এক সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে এমন কিছু করা যাবে না যাতে প্রাণী ও উদ্ভিদের আবাসস্থলের ক্ষতি হতে পারে, ভূমি এবং পানির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য নষ্ট বা পরিবর্তন করতে পারে। মাছ এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর ক্ষতিকারক যে কোনো কাজ এখানে নিষিদ্ধ।

সরকার বলছে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বনের ১০ কিলোমিটারের বাইরে। যে পরিবেশ বিজ্ঞানীরা ওখানে অনুসন্ধান চালাতে গিয়েছিলেন, তারা ফিরে এসে বলেছিলেন এটা ৯.৫ কিলোমিটারের মধ্যে পড়ে। যেহেতু দুই পক্ষ একত্রে দাঁড়িয়ে দূরত্বটা মাপা যায়নি তাই এ প্রশ্নের সমাধান হচ্ছে না। কিন্তু কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে এ থেকে যে ছাই বা স্লারি উৎপন্ন হবে তা উঁড়ে অনেক দূর পর্যন্ত যাবে। ১০ কিলোমিটারের ভেতর তো বটেই একেবারে বনের ভেতরে এই ছাই পৌঁছে যাবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ছাই সুন্দরবনের মাটির গুণগত মান নষ্ট, প্রাণীদের হরমোনজাতীয় সমস্যা, প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস, নদী দূষণ, মাটির ঊর্বরতা হ্রাস এবং উদ্ভিদের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করবে। যা কিনা সরকারের ওই প্রজ্ঞাপনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

এটা সরকার বোঝেনি। কিন্তু বন বিভাগ ঠিকই বুঝেছে। ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১১ বন অধিদপ্তর একটি চিঠি পাঠায় পরিবেশ ও বন মন্ত্রনালয়ের কাছে। বন অধিদপ্তর তাদের লিখিত আপত্তিতে সরকারকে জানায়, ‘কয়লাভিত্তিক পাওয়ার প্লান্ট স্থাপন করা হলে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার তথা সমগ্র জীববৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হবে।’ নিয়মানুযায়ী সুন্দরবনের মালিক বন অধিদপ্তর। এ বিষয়ে তাদের মতামতই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পাওয়ার কথা। কিন্তু তা ঘটেনি।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এমনিতেই পরিবেশের জন্য এক মারাত্মক হুমকি। তারপরও সারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র আছে। উন্নয়নের স্বার্থে বাংলাদেশেও এখন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প দরকার। কিন্তু বিশ্ব ঐতিহ্যের ধারক সুন্দরবনের মতো আমাদের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ ম্যানগ্রোভ বনের ভেতর এটা কিভাবে করা যায়। এক্ষেত্রে আইনি লড়াইয়েরও খুব একটা সুযোগ নেই। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে সরকার যা খুশি করার জন্য দায়মুক্তি আইন করে রেখেছে। তাই এ খাতের সরকারি সিদ্ধান্তকে আইনগতভাবেও চ্যালেঞ্জ করা যায় না।

এই প্রকল্পে বাংলাদেশের চেয়ে ভারতের আগ্রহ এবং লাভ দুটোই বেশি। প্রকল্পটিতে সমান অংশীদার ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কোম্পানি। ঠিক এই মাপেরই, ১৩২০ মেগাওয়াটের একটি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র তারা মধ্যপ্রদেশের নরসিংহপুর জেলার ঝিকলি-তুমরা গ্রামে করতে চেয়েছিল। কিন্তু পরিবেশের ক্ষতি বিবেচনায় তারা প্রকল্পটি সেখানে করতে পারেনি। পরে যৌথভাবে করার কথা বলে তারা প্রকল্পটি সুন্দরবনের কাঁধে চাপিয়ে দেয়।

ভারতের এতে অনেক লাভ। ক্ষয়ক্ষতি সব আমাদের। কিন্তু লাভের ভাগ তাদের। এত বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র করতে হলে প্রতিদিন ১৩ হাজার মেট্রিক টন কয়লা পোড়াতে হবে। এজন্য সুন্দরবনের ভেতরে হিরণ পয়েন্ট থেকে আকরাম পয়েন্ট পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার নদীপথে বড় জাহাজ বছরে ৫৯ দিন এবং আকরাম পয়েন্ট থেকে মংলা বন্দর পর্যন্ত প্রায় ৬৭ কিলোমিটার পথ, ছোট লাইটারেজ জাহাজে করে বছরে ২৩৬ দিন হাজার হাজার টন কয়লা পরিবহন করতে হবে।

এভাবে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে কয়লা পরিবহনকারী জাহাজ চলাচল করার ফলে এসব জাহাজ থেকে কয়লার গুঁড়া, ভাঙা বা টুকরো কয়লা, তেল, ময়লা-আবর্জনা, জাহাজের দূষিত পানিসহ বিপুল পরিমাণ বর্জ্য নিঃসৃত হয়ে নদী-খাল-মাটিসহ গোটা সুন্দরবন দূষিত করে ফেলবে। কয়লা লোড-আনলোড করার যন্ত্রপাতি থেকে দিনরাত ব্যাপক শব্দদূষণ হবে। রাতে জাহাজ চলাচলের সময় জাহাজের সার্চ লাইটের আলো নিশাচর প্রাণীসহ সুন্দরবনের পশুপাখির জীবনচক্রের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে। এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে বনের আশেপাশে মানুষের আনাগোনা বাড়বে। সব মিলিয়ে অধিকাংশ বণ্যপ্রাণী ধীরে ধীরে ভারত অংশের সুন্দরবনের দিকে সরে যাবে।

সরাসরি অর্থনৈতিক লাভটাও ভারতেরই। তারা যা আয় করবে তার জন্য কোনো কর পরিশোধ করবে না। আইন ভেঙেই সরকার তাদের এ সুযোগটা দিয়েছে। সরকার দেশিয় কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যেসব কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র করার চুক্তি করেছে তা থেকে বিদ্যুৎ কিনতে লাগবে তিন টাকা ৭৯ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ চার টাকা সাড়ে নয় পয়সা। বর্তমানে দেশের একমাত্র কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বড়পুকুরিয়ায় উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম পড়ছে সাড়ে পাঁচ টাকার মতো। আর সুন্দরবনের এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ কিনতে হবে আট টাকা ৮৫ পয়সা দামে। স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, ভারতীয় কোম্পানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের চেয়ে দেশীয় একক উদ্যোগ অনেক বেশি সাশ্রয়ী।

ক্ষয় ক্ষতির আরো অনেক কিছু আছে। সেদিকে আর না যাই। সরকার এতই মরিয়া যে, কোনো আইনের তোয়াক্কা করছে না তারা। এ বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সরকারকে জলাশয় ভরাট, কার্বন নির্গমন, বন ক্ষতিগ্রস্তকরণ, বিশ্ব ঐতিহ্যের ধারক বনাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্তকরণ, বিদেশি কোম্পানির করপ্রদান সংক্রান্ত আইনসহ দেশি-বিদেশি মোট ছয়টি আইন বা কনভেনশন লঙ্ঘন করতে হচ্ছে।

বিপরীতে সরকারকে কে না বুঝিয়েছে! ড. আব্দুস সাত্তার মন্ডল। ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান। বিজ্ঞানীদের একটি দল নিয়ে তিনি নিজে ছুটে গেছেন সুন্দরবনে। ফিরে এসে তারা বলেছেন, এতে সুন্দরবনের স্বাভাবিক চরিত্র বিনষ্ট হবে। তৈরি হবে অসংখ্য কয়লা ডিপো। শুরু হবে গাছ কাটা, বনে আগুন লাগানো, বাঘ, হরিণ, কুমির ধরা। কয়লা পোড়া সালফার ডাই অক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইড, কার্বন মনো অক্সাইড, কার্বন ডাই অক্সাইড, ক্লোরোফ্লোরো কার্বন ইত্যাদি সুন্দরবনের জৈবিক পরিবেশ ও বায়ুমন্ডলকে বিঘ্নিত করবে। ওই অঞ্চলের এবং আশপাশের কৃষি জমিতে উৎপাদিত কৃষিপণ্য খেলে মানবদেহে ছড়িয়ে পড়বে অ্যাজমা, ফুসফুসবাহিত নানা রোগ, এমনকি ক্যান্সারের সম্ভাবনাও রয়েছ। সুন্দরবনের ঐতিহ্য মূল্য ব্যাপকভাবে হ্রাস পাবে। সবশেষে তারা মূল্যায়ন টেনেছেন, বনটা ধ্বংসই হয়ে যাবে।

ড. এমএ মতিন। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। তার মতে, চাইলেই সরকার এ প্রকল্পটি বিকল্প প্রস্তাবিত এলাকা লবণচরায় করতে পারত। লবণচরায় করলে সুন্দরবন রক্ষা পেত। সরকারের সমীক্ষায় সব ক্ষতির হিসেব আছে। কিন্তু সুন্দরবনের ক্ষতির কোনো হিসেব নেই। এটা খুবই হতাশার যে, সরকার তো বটেই, পরিবেশ সম্পর্কিত সরকারি প্রতিষ্ঠানও অন্ধ হয়ে গেছে। তারাও সুন্দরবনের মূল্য বুঝতে পারছে না। আমরা নিজেরা গিয়ে দেখেছি, এ প্রকল্প সুন্দরবন থেকে ৯.৫ কিলোমিটার দূরে। অর্থাৎ এটা সংরক্ষিত এলাকা বা বনের মধ্যেই পড়ছে। সরকারের উচিত অবিলম্বে প্রকল্পটি দুরে সরিয়ে নেয়া।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। পরিবেশ আইনবিদ হিসেবে তিনি দুনিয়াজোড়া খ্যাতি কুড়িয়েছেন। কিছুদিন আগে স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন ম্যাগসাসাই অ্যাওয়ার্ড। তার মতে, এ প্রকল্পটি পুরোপুরি গায়ের জোরে আইন ভঙ্গ করে করা হচ্ছে। ভুয়া সমীক্ষা দিয়ে এটা করা হচ্ছে। কর্তার ইচ্ছায় কর্ম হবে। সব কিছুর মালিক সরকার। সরকার নিজে চাচ্ছে এখানে বিদ্যুৎ কেন্দ্র হোক। তাহলে পরিবেশ অধিদপ্তর ছাড়পত্র না দিয়ে কোথায় যাবে। বন কর্তৃপক্ষের মতকে উপেক্ষা করে তারা এটা করছে। এ থেকেই তো বোঝা যায়, সুন্দরবন নিয়ে তাদের কোনো উদ্বেগ নেই। সরকার বলছে, তারা পরিবেশ অধিদপ্তর, এডিবি, বিশ্বব্যাংকের পরামর্শ অনুযায়ী এগুচ্ছে। সুন্দরবনের ক্ষতি তারা হতে দেবে না। কিন্তু এটা আমরা দেখেছি যে, এডিবি ও বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে অনেকের অনেক কিছু একেবারে রসাতলে গেছে। সরকার যদি এটা বুঝত যে, আমাদের দুটি সুন্দরবন নেই, মাত্র একটি। এটা যে করে হোক বাঁচাতে হবে। তাহলে তারা এত কুযুক্তি না দিয়ে প্রকল্পটি দূরে সরিয়ে নিত। এটা খুবই হতাশার যে, সরকার সব কিছু দেরিতে বোঝে।

প্রকোশলী শেখ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। বাংলাদেশের খ্যাতিমান একজন প্রবীণ প্রকৌশলী তিনি। দীর্ঘ দিন ধরে জড়িত আছেন জাতীয় সম্পদ রক্ষার আন্দোলনে। তার মতে, এই প্রকল্পে প্রতি ঘণ্টায় ১৪৪ কিউসেক পানি লাগবে। আমাদের দেশে এ ধরনের বড় প্রকল্পে সাধারণত দুই কিউসেক ক্ষমতাসম্পন্ন গভীর নলকূপ বসানো হয়। এগুলোর প্রতিটির চারপাশে এক হাজার ফুটের মধ্যে আর কোনো নলকূপ বসানো যায় না। ১৪৪ কিউসেক পানি তোলার জন্য রামপালে ৭২টি গভীর নলকূপ বসাতে হবে। এতে অল্প সময়ের মধ্যে বিস্তীর্ণ এলাকার ভূ-উপরিভাগ মরুভূমিতে পরিণত হবে। এতে করে সরাসরি আক্রান্ত হবে সুন্দরবন। উজাড় হবে সুন্দরবনের গাছপালা। এছাড়া প্ল্যান্টে ব্যবহৃত গরম পানি কনডেনসারের মাধ্যমে কিছুটা ঠান্ডা করে ছেড়ে দেয়া হবে নদীতে। এ ধরনের উষ্ণ পানি পুরো পশুর নদীর মাছ ও অন্যান্য জলজীবকে ধ্বংস করবে। শুধু তাই নয়, পানি সংগ্রহ ও পানি প্রক্ষেপণ প্রক্রিয়ার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে চাঁদপাই রেঞ্জের সংরক্ষিত জলাভূমিও। এ প্রকল্প এখানে করাটা আত্মহত্যার শামিল।

বিষয়টা শুধু পরিবেশের নয়। ন্যায্যতার প্রশ্নও বটে। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদও এ নিয়ে মুখ খুলেছেন। এই প্রকল্প নিয়ে তিনিও ক্ষুব্ধ। তার ভাষায়, হুট করে সরকার বনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করল কেন বুঝলাম না। এই প্রকল্পের কারণে জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে, এটা নিশ্চিত। সুতরাং সরকারের উচিত এখনই এই প্রকল্প থেকে পিছু হটা।

ড. ইফতেখারুজ্জামান। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক তিনি। তারও একান্ত দাবি প্রকল্পটা অন্য কোথাও সরিয়ে নেয়ার। তার মতে, এই পুরো প্রকল্পটা নানা কারণে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। সরকার এটাকে বিশেষ মাত্রা দিয়েছে সুন্দরবনে নিয়ে। আমি বুঝি না কি করে তাদের মাথায় এলো, সুন্দরবনের পাশে একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র করা যায়। এটা এ যাবৎ নেয়া সরকারের সবচেয়ে হঠকারি সিদ্ধান্ত। সরকারের উচিত দ্রুত অন্য কোথাও এ প্রকল্প স্থানান্তর করা।

প্রকৌশলী বিডি রহমতউল্লাহ। এই জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এক সময় পাওয়ার সেলের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মতে, নিশ্চিতভাবে এ প্রকল্প বনকে ধ্বংস করবে। কয়লা এমন এক বস্তু, এটা যেখান দিয়ে যাবে, যেখানে থাকবে, এটা দিয়ে যাই করা হোক এটা ক্ষতি ছাড়া আর কিছু করে না। এর কাজ হচ্ছে, বিষ উৎপাদন। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য মানুষ ঝুঁকি নিচ্ছে ঠিকই তবে আমাদের মতো কোথাও এভাবে বনের মধ্যে গিয়ে বিষের কারখানা খোলা হচ্ছে না। সরকার বলছে আধুনিক প্রযুক্তি আনবে। কিন্তু কিসের আধুনিক প্রযুক্তির কথা বলে আমি বুঝি না। ভারতের কাছে তো কোনো আধুনিক প্রযুক্তি নেই। গত কোপেনহেগেন সম্মেলনে তো এই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্যই বিশ্ব নেতৃত্ব তাদের সতর্ক করেছিল। তাছাড়া ভারতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কাজ করলে এ বন তারা এমনিতেই ধ্বংস করে ফেলবে। বন থেকে ভারতীয়দের বের করে আনতে হবে। নইলে প্রযুক্তি আসুক আর যাই আসুক, বন বাঁচবে না।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। বিশিষ্ট এই অর্থনীতিবিদের মতে, সরকার যখন পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষাটা (ইআইএ) না করে আগে চুক্তি করে ফেলে তখন আমরা খুব অবাক হয়েছি। এ ধরনের প্রকল্পে তো আগে চুক্তি করা যায় না। আগে দেখতে হবে পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতি হবে কিনা। তারপর কোনো সমস্যা না থাকলে কাজ এগোবে। কিন্তু সরকার আগেই চুক্তি করেছে। এর অর্থ হচ্ছে পরিবেশগত ক্ষয় ক্ষতির প্রতিবেদন যাই আসুক প্রকল্প তারা করবেই। এটা খুবই উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো বিষয়। সুন্দরবন বাংলাদেশের অস্তিত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত। টাকা দিয়ে এর মূল্য হিসাব করা যাবে না। আর যদি টাকার হিসেবেও যাই, আমাদের লাভ কই! লাভের গুড় তো পুরোটাই ভারত নেবে। চুক্তির সমস্যা হচ্ছে, প্রকল্পের অর্থ আসবে বিদেশি ঋণ থেকে ৭০ ভাগ, ভারত ১৫ ভাগ আর আমরা ১৫ ভাগ। আর ওই বিদেশি ৭০ ভাগ ঋণের সুদ টানা এবং ঋণ পরিশোধ করার দায় দায়িত্বও আমাদের। অর্থাৎ ভারতের বিনিয়োগ মাত্র ১৫ ভাগ। কিন্তু তারা মালিকানা পাচ্ছে ৫০ ভাগ। পুরো অর্ধেক। তাছাড়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পুরো ক্ষয়ক্ষতিটা যাবে আমাদের ওপর দিয়ে। চুক্তি অনুযায়ী কয়লা আমদানির দায়িত্বও আমাদের কাঁধে। কয়লা না এলে কিছুদিন উৎপাদন বন্ধ থাকলে, ভারতকে ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে। এ ধরনের জাতীয় স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড সরকারকে বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি।

শুধু উপরোক্তরা নন, সুন্দরবন থেকে বিদ্যুৎ কেন্দ্র সরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে নানা সময় বক্তব্য বিবৃতিদাতাদের মধ্যে আরো আছেন, বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল, অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধূরী, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি আবু নাসের খান, বিশিষ্ট আইনজীবি ব্যারিস্টার সারা হোসেন, উন্নয়ন সংগঠক খুশী কবির, সুপ্রশাসন আন্দোলনের সংগঠন সুজনের সভাপতি বদিউল আলম মজুমদার, অ্যাকশন এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবীর। এর বাইরেও এ নিয়ে কথা বলছেন অনেকেই। এছাড়া দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দলই এ প্রকল্পের বিরুদ্ধে সোচ্চার।

শুধুমাত্র প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এ বিষয়ে একেবারে নীরব। তারা এ প্রকল্পের বিপক্ষে কখনোই কোনো মতামত দেয়নি। পান থেকে চুন খসলেই সরকারের সমালোচনায় মেতে উঠলেও সুন্দরবন ধ্বংস প্রশ্নে তারা সরকারের পাশেই দাঁড়িয়েছে। সব সময় যে কজন জ্বালানি বিশেষজ্ঞকে এই সরকারের পক্ষে থাকতে দেখা গেছে তাদের মধ্যেও দেখা গেছে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব। অধিকাংশ প্রশ্নে সরকারের জ্বালানি নীতির সমর্থক জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন তিনি। সুন্দরবন প্রশ্নে কথা বলতে গিয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত সরকারের পক্ষে দাঁড়ালেও তার কণ্ঠেও ছিল শঙ্কা। তার ভাষায়, রামপালে কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে যা হচ্ছে তাতে আমি হতাশ। সরকার বলছে, এটা সুন্দরবনের বাইরে। একপক্ষ বলছে ভেতরে। সরকার তার দাবির পক্ষে স্পষ্ট কোনো তথ্য হাজির করেনি। বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে কম বেশি ক্ষতি হবেই। আমাদের দেখতে হবে বড় কোনো ক্ষতির আশঙ্কা আছে কিনা। আমার মনে হয় না, ডাস্ট উড়ে ১০ কিলো গিয়ে সুন্দরবনের ক্ষতি করবে। সব জায়গাতেই নদীর পাড়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র হয়। যারা বিরোধিতা করছে তারা প্রকল্পটি নিয়ে একটা পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবনা দিলে ভালো হতো। তবে সরকার কাজের চেয়ে সময় নষ্ট করতে বেশি পারঙ্গম।

অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন। তিনি এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিবেশগত প্রভাব যাচাই (ইআইএ) কমিটির সদস্য। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের এ অধ্যাপকের মতে, কি প্রযুক্তি ব্যবহার হবে এবং কি ধরনের কয়লা ব্যবহার হবে তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। অনেকেই ঢালাওভাবে বিরোধিতা করছেন। আমি এটা রামপালে করার পক্ষে। আগে পরে এ নিয়ে আমি অনেক কিছুই বলেছি। আমি মনে করি, আমাদের উন্নয়নের জন্য নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র খুবই দরকারি। এখানে কিছু ক্ষতি অবশ্যই আছে। তবে আমার মনে হয় ক্ষতির চেয়ে লাভটাই বেশি।

সরকারের কনসালটেন্সি করে অর্থ আয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকা এই কয়েকজন ছাড়া আর কাউকেই সুন্দরবন ধ্বংসের পক্ষে দাঁড়াতে দেখা যায়নি। সকলেরই এক দাবি- বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন থেকে দুরে কোথাও অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হোক। সরকারের প্রতি এই আহ্বানের বার্তা পাঠানো হচ্ছে দীর্ঘ দুই বছর ধরে। কিন্তু সরকার তার সিদ্ধান্তে অটল। এদিকে এই ইস্যুতে আন্দোলনও দানা বাঁধতে শুরু করেছে। জোর করে, যেভাবে হোক সুন্দরবনে এই প্রকল্প করার সরকারের একগুঁয়ে মনোভাব জনগণের বিরক্তি উৎপাদন করেছে। কেউ কেউ ভাবছেন, এটা আসলে ভারত কর্তৃক সুন্দরবন দখলের লড়াই। যেখানে তাদের সহযোগিতা করছে বর্তমান সরকার।

এসবের মধ্যেই আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সুন্দরবন অভিমুখে লং মার্চের ডাক দিয়েছে তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি। সরকার যদি এই বনের মধ্যে বিদ্যুৎ কেন্দ্র করার চিন্তা থেকে না সরে আসে তাহলে সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠবে। জাতীয় সম্পদ ইস্যুতে তরুণদের সচেতনতা এখন আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি। সরকার সেখানে বিদেশি বন্ধুর সঙ্গী হয়ে বন দখলের লড়াইয়ে মেতে উঠলে তা হয়তো আরেক ফুলবাড়ির জন্ম দেবে। আমরা বর্তমানের দেশপ্রেমিক তরুণেরা কি এই লড়াইয়ে জীবন দিয়ে হলেও দেশের স্বার্থ রক্ষা করতে প্রস্তুত? এটাই এখন আসল প্রশ্ন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪৯ thoughts on “বন দখলের লড়াই!

  1. [কেউ কেউ ভাবছেন, এটা আসলে
    [কেউ কেউ ভাবছেন, এটা আসলে ভারত কর্তৃক সুন্দরবন দখলের লড়াই। যেখানে তাদের সহযোগিতা করছে বর্তমান সরকার।]
    — এই ভিত্তিহীন কথাগুলোই প্রমান করে আপনারা সুন্দরবন রক্ষা নয়, কোন বিশেষ গোষ্টির বিশেষ উদ্দেশ্য হাসিল করতে নেমেছেন।উস্কানি দিয়ে লোক জড়ো করতে পারবেন কিন্তু স্বার্থ হাসিল করতে পারবেন না ।
    আপনাদের আন্দোলন সফল হোক ।শুভকামনা ।

    1. এই প্রকল্পে ভারতের লাভ ক্ষতি,
      এই প্রকল্পে ভারতের লাভ ক্ষতি, বাংলাদেশ অংশের সুন্দরবন ধ্বংস হওয়ার কোনো কাহিনী আপনার নজরে পড়ল না, খালি নজরে পড়ল ভারতের স্বার্থটা।

      কতবড় পা চাটা দালাল আপনারা, চোখ বন্ধ করলেও মানুষ বুঝবে।

        1. আপনি বলেন, এই প্রকল্প দ্বারা
          আপনি বলেন, এই প্রকল্প দ্বারা কে লাভবান হচ্ছে? বড় ক্ষতিটা আমাদের কোথায় হচ্ছে?
          এরকম অন্ধ দালালি এই দেশে থেকেও আপনারা করেন কিভাবে? দেশের পক্ষে দাঁড়ানোর মতো সুবুদ্ধিটুকু আপনাদের নেই কেন? আমি বুঝি না…

          1. আনিস ভাই, , দেশের পক্ষে
            আনিস ভাই, , দেশের পক্ষে দাঁড়ানো মানে হচ্ছে আগে আমি নিজ দেশের খতির কথা চিন্তা করবো। অন্যদেশের লাভের কথা না। তাই না?

          2. অবশ্যই বিদ্যুৎ চাই, কিন্তু
            অবশ্যই বিদ্যুৎ চাই, কিন্তু সুন্দরবনের পরিবেশ নষ্ট করে নয়। আমি তো বুঝিনা ভৌগলিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেশে আর কোন স্থানে কি এই প্রকল্প করা যেতো না। কেন জেনে শুনে একটা বিতর্ক সৃষ্টি করা। আসলে আমরা আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে একটু বেশীই ফেভার করি কোন এক অজানা কারণে। আর এটাই হচ্ছে সুন্দরবন এলাকায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের মূল কারণ। দেশের স্বার্থ, নিজের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে মুরুব্বী রাষ্ট্রের স্বার্থ সংরক্ষণ এতো নির্লজ্জভাবে শুধু এদেশেই করা হয়।

        2. ভারতের বিরুদ্ধে বললে আওয়ামী
          ভারতের বিরুদ্ধে বললে আওয়ামী সমর্থকদের এত গায়ে লাগে কেন? পাকিস্তান আমাদের শোষন করতে চেয়েছিল দেশটা তাদের অংশ করে রেখে। আর ভারত শোষন করছে স্বাধীনতার পর থেকে। বর্তমান সরকারের পাঁচ বছরে ভারতকে আমরা দিয়েছি, বিনিময়ে কচুটাও পাইনি। আওয়ামীলীগের বান্ধবী মমতা গতকালও বাংলাদেশের স্বার্থের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এসব কি চোখে লাগে না আপনাদের? বাংলাদেশের জন্য এখন ভারতই একটা বিশাল চুলকানির বিষয়!

          1. এই পোস্টের মুল বক্তব্য হচ্ছে
            এই পোস্টের মুল বক্তব্য হচ্ছে সুন্দরবন রক্ষা। কিন্তু বিশিষ্ট আওয়ামীলীগাররা মনে করছে সুন্দরবনের পক্ষে কথা বলা মানে ভারতে বিপক্ষে যাওয়া। এজন্য মুল আলোচনাকে অন্যদিকে মোড় নেওয়ার জন্য এখানে ভারত প্রসঙ্গের অবতারনা করা হচ্ছে। একটা পাগলও মনে করছে সুন্দরবনে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র করা মানে সুন্দরবনকে ধ্বংস করা এবং ভারতের স্বার্থ রক্ষা করা। কিন্তু মাথামোটা অন্ধ দলীয় আওয়ামী সমর্থকরা এই আলোচনার উদ্দেশ্যকে মনে করছেন ভারত বিরোধীতা।

  2. ক​য়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র
    ক​য়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবনের কাছে হোক আর দূরে হোক, প​য়েন্টটা হল​- ক​য়লা আসবে সুন্দরবনের অংশের মধ্য দিয়ে। বন যে শুধুই নষ্ট হবে না, অর্থনীতি থেকে শুরু করে সবই নষ্ট হবে। সুন্দরবনের নদীগুলো মা মাছের জন্যও বিখ্যাত। এসবের ফলে অবৈধভাবে মাছ ধরা বেড়ে যাবে তা আমি লিখে দিতে পারি। আর চান্স পেলে কর্মরত ব্যক্তিরা হরিণ ধরবে না বাঘ ধরবে না এটা তো হতেই পারে না। এই সব রাজনৈতিক কথাবার্তা যে সবাই বলছে, তাদের জন্য আমি একটা কথা মার্ক করে বলে দেই, কেউ মনে করবে চুলকানি ভারতের জন্য কেউ বলবে সরকারের জন্য, কিন্তু শেষনাগাদ সুন্দরবনই বিপদে প​ড়বে। সুন্দরবন তো আর জ্যান্ত মানুষ না, জ্যান্ত হলে তার আকুতির কথা এখন আমরা শুনতাম। কিন্তু তার ভাগ্যই খারাপ, সে তার সমগ্র সম্পদ বাংলাদেশের বেঈমান মানুষের জন্য বিলিয়ে দিচ্ছিল​, তার শাস্তি এখন সে পাবে।

  3. আপনি আমাকে যেভাবে মুল্যায়ন
    আপনি আমাকে যেভাবে মুল্যায়ন করতে চাচ্ছেন আমি কিন্তু সে ধাচের ব্যাক্তি কখনোই ছিলাম না এখন ও নেই ।আমি সুন্দরবন রক্ষার পক্ষে ছিলাম এবং এখন ও আছি ।তবে আপনারা যেভাবে ভারতকে টেনে বা ভারত বিরুধীতা করে প্রকল্পের বিরুদ্ধে আন্দোলনের পায়তারা করছেন আমি সেটা সমর্থন করি না ।পাশাপাশি শিল্পের বিকাশ বাধা প্রাপ্ত হোক সেটাও চাই না।আমি চাই উভয়কুল রক্ষা হোক ।বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি তৈরী হোক এবং বনের কোন ক্ষতি যাতে না হয় সেদিকটা বিবেচনায় রেখে পরিবেশ বিজ্ঞানীদের পরামর্শ মত সর্বচ্চো সতর্কতামুলক ব্যবস্থা নেয়া হোক।আমাদের যেমন বন রক্ষা দরকার তেমনি বিদ্যুতের ও অনেক প্রয়োজন।

    আমি আপনার পোস্ট থেকে যে অংশটি কোট করেছি তা যদি সত্য হয় তবে আপনি তথ্য প্রমান দিন প্রয়োজনে নিজের জান বাজি রাখবো ।আর যদি সেটা ভিত্তিহীন হয় তবে এই কথাগুলো কি আপনার পুরো লিখাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেনি? আপনার আন্দোলনের মুল থিমকে প্রশ্নবিদ্ধ করেনি?

    একথা অনায়াসে স্বীকার করি, ভারত আমাদের সাথে ভাল ব্যবহার করছে না(আসলে আমাদের রাজনৈতিক অনৈক্যের কারনে)।আমাদের ন্যাজ্য দাবী মানছে না, কিন্তু তাই বলে ভারতের সাথে যুদ্ধ ঘোষনা করে দিতে হবে? সেই শক্তি সামর্থ আমাদের আছে?আজ যদি ভারতের মত বন্ধু(স্বার্থের) আমরা হারাই কাল কক্সবাজারে মার্কিনীরা ঘাটি স্থাপনে অগ্রসর হলে আমাদের বিরুধীতা করবার শক্তি থাকবে?
    বিশ্ব রাজনীতিতে টিকে থাকার প্রয়োজনে ক্ষেত্রবিশেষে অনেক সময় অন্যায়কেও প্রশ্রয় দিতে হয়, দেবার প্রয়োজনীয়তা আছে।

    1. বিশ্ব রাজনীতিতে টিকে থাকার

      বিশ্ব রাজনীতিতে টিকে থাকার প্রয়োজনে ক্ষেত্রবিশেষে অনেক সময় অন্যায়কেও প্রশ্রয় দিতে হয়, দেবার প্রয়োজনীয়তা আছে।

      কিন্তু কিসের বিনিময়ে? কতখানি ক্ষতি সহ্য করে?

      1. বিশ্ব রাজনীতিতে টিকে থাকার

        বিশ্ব রাজনীতিতে টিকে থাকার প্রয়োজনে ক্ষেত্রবিশেষে অনেক সময় অন্যায়কেও প্রশ্রয় দিতে হয়, দেবার প্রয়োজনীয়তা আছে।

        আরো কি কি প্রশ্রয় দিতে হবে? প্রশ্রয় দেওয়ার মত এখনো আর কি বাকি আছে? একটু উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দেন।

        1. জানিনা আপনার মতপূত হবে কি না
          জানিনা আপনার মতপূত হবে কি না তবুও বলছি, ১৯৭১ সালে কুটনৈতিক যুদ্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়ের আনা প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছিল রাশিয়া ।আপনার নিশ্চই জানা আছে রাশিয়া ঐ ভেটো দিয়েছিল একমাত্র ভারতের অনুরোধে।

          আমি আপনাকে উল্টো প্রশ্ন করতে পারি, আমরা কি প্রশ্রয় দিচ্ছি? আমাদের ন্যায্য দাবী আদায় করতে ভারতের সাথে বর্তমানে আন্তর্জাতিক আদালতে একটি মামলায় লড়ছি ।আমাদের স্থলসীমান্ত,পানি, বিএসএফ কান্ড ইত্যাদি নিয়ে আমরা তো চুপ থাকছি না, তাদের সাথে সবসময় আলোচনা চলছেই।তাছাড়া প্রতিটা দাবী তারা কখনো নাকচ করেনি।তারা বার সময় নিচ্ছে বা আশ্বাস দিচ্ছে।তাদের আশ্বাসের বাইরে গিয়ে অন্য পন্থা অবলম্বন করলে আমরা কি এক দিনে সব কিছু পেয়ে যাব? আমরা কি ৫পরাশক্তির একটি?

    2. আপনি আমাকে অবাক করলেন। এত
      আপনি আমাকে অবাক করলেন। এত থথ্য দেয়া হলো তবু আপনি বুঝতে পারছেন না ভারতের স্বার্থটা কোথায় রক্ষা হচ্ছে! ভারতের স্বার্থ প্রশ্নে যে লাইনগুলো লেখা আছে, সেগুলো বাদ দিয়ে পড়েছেন নাকি? বিদ্যুতের মূল্যের দিকে তাকান, ভারতের লাভের অংশে কর চাওয়া যাবে না- এই অংশটা দেখেন, এখানে বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে বাংলাদেশ অংশের সুন্দরবনের সব প্রাণী ভারত অংশে চলে যাবে সেটা দেখেন…

    3. শ্রদ্ধেয় জনাব শাহিন ভাই, আপনি
      শ্রদ্ধেয় জনাব শাহিন ভাই, আপনি রম্য রচনা লেখা শুরু করুন| আপনার মন্তব্যগুলোতে ব্যাপক বিনোদনের উপকরণ থাকে| প্রতিভা হেলায় নষ্ট করবেন না প্লিজ, অধমের একান্ত অনুরোধ| :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে:

  4. শুধুমাত্র প্রধান বিরোধী দল

    শুধুমাত্র প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এ বিষয়ে একেবারে নীরব।

    হুম। বিএনপির কাছ থেকে আরেকটু বেশি প্রত্যাশা করেছিলাম। তবে আমি এটাকে স্ট্র্যাটেজিক ভুল বলব না যেহেতু বিষয়টি দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে। দলের লাভের জন্য নয় বরং জাতীয় স্বার্থেই বাংলাদেশের প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের উচিত সম্মিলিতভাবে এই আত্মঘাতী প্রকল্প রুখে দেওয়া। পোস্ট প্রিয়তে।

  5. ভাই ধন্যবাদ আপনার তথ্য বহুল
    ভাই ধন্যবাদ আপনার তথ্য বহুল একটি পোস্টের জন্য। কিন্তু যে প্রশ্ন গুল যা বারে বারেই ঘুরে ফিরে আসে সে ব্যাপারে আপনার কোন বক্তব্য থাকলে ভাল লাগত।

    ১। রামপাল প্রকল্প বাদ দিলাম তাহলে দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের বিদুত্যায়ন এর উপায় কি?
    ২। কোথায় প্রকল্প করলে সব কিছুর জন্য সুবিধা হয়।
    ৩। যদি কয়লা বাদ দেই, আর কি কি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।

    সমস্যা নিয়ে অনেক কথা বলেছেন কিন্তু এর সমাধান কি? বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর উপায় টা কি?

    1. একে একে উত্তর দিচ্ছি। রামপালে
      একে একে উত্তর দিচ্ছি। রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে দক্ষিণাঞ্চলের বিদ্যুতায়নের সমস্যা মিটে যাবে এটা ভুল ধারণা। রামপালের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে যোগ হবে। যা মোট বিদ্যুতের সঙ্গে মিলিত হবে। এটা সরাসরি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাবে। সরকার যে এলাকায় অগ্রাধিকার দেয় সেদিকেই বিদ্যুৎ বেশি যাবে। সুতরাং দক্ষিণাঞ্চলে কতটুকু বিদ্যুৎ দেয়া হবে এটা সরকারের নীতি সংক্রান্ত বিষয়। সিলেটে নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র করা হলেও দক্ষিণাঞ্চল বিদ্যুৎ পেতে পারে। এটা সরকারের নীতির ব্যাপার- দক্ষিণাছলকে সে অগ্রাধিকার দেবে কি দেবে না।

      প্রকল্পটি সুন্দরবন থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে নিয়ম অনুযায়ী যেখানে লাল ক্যাটাগরির শিল্প করা যাবে সেখানেই করতে হবে। কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রই করা যায়। কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এখন আমাদের জন্য দরকারি বটে।
      বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর জন্য প্রথমে উচিত ফেলে রাখা, নষ্ট বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো মেরামত করা। দীর্ঘ পরিকল্পনামাফিক বড় কিছু কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলা।

  6. সুন্দরবন নিয়ে কে লাভবান হচ্ছে
    সুন্দরবন নিয়ে কে লাভবান হচ্ছে এটা গুরুত্বপূর্ণ নাকি কে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এটা গুরুত্বপূর্ণও?!
    বার বার অন্যদেশের লাভের কথা বলে কি হবে?! ভারত মুড়ি খাউক!
    আমাদের ক্ষতি হচ্ছে , কি কি ভাবে কোন কোন দিকে ক্ষতি হচ্ছে সেটা তুলে ধরেন । আরও অনেক লেখা আছে যেখানে আমাদের ক্ষতি তুলে ধরা হয়েছে। কারো লাভ বিবেচনা যোগ্য না।
    কীভাবে একে রক্ষা করা যায় সেটা লিখেন। কীভাবে মানুষকে সচেতন করা যায় সে বিষয়ে উদ্যোগী হওয়া উচিত। অন্যদেশ নিয়ে মাথা পরে ঘামাই?!
    আগে নিজ দেশের ক্ষতি লাঘব করি?

    1. এটা গুরুত্বপূর্ণ এজন্য যে,
      এটা গুরুত্বপূর্ণ এজন্য যে, আপনার শাসকরা কেন আপনার স্বার্থের ক্ষতি করছে! কার স্বার্থকে তারা প্রাধান্য দিচ্ছে। এটা জানাটা অবশ্যই জরুরী

  7. কিরন শেখর ভাইর করা
    কিরন শেখর ভাইর করা প্রশ্নগুলির সাথা আমিও সহমত পোষন করছি ।এরকম একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের যে যায়গায়ই করা হোক না কেন পরিবেশের ক্ষতি হবেই ।সুতরাং বাধা না দিয়ে কিভাবে পরিবেশ রক্ষা করেও বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মান করা যায় সেদিকটিই আলোচনায় আসুক ।

    1. ভাইয়া, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর
      ভাইয়া, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়া যাবে না। কারণ, সবাই বলেই খতম, সমাধানের কোন প্রস্তাবে নাই।
      তার মানে কি দাঁড়ায়???
      জানে না…তাইতো নাকি???
      :মানেকি: :মানেকি: :মানেকি:

  8. আমার কথা হলো, সরকারী হিসেবেই
    আমার কথা হলো, সরকারী হিসেবেই যেখানে ৬০% মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধাধীন…সেখানে বাস্তবে কতটুকু হবে তা আন্দাজ করাই যায়…!!!
    এখন কথা হলো, এই ৪০% বা আনুমানিক ৫০% লোক কি এই দেশের নাগরিক না ???
    এদের কি আপনার আমার মতো বিদ্যুৎ সুবিধা পাওয়ার অধিকার নেই???
    নিশ্চয়ই আছে…
    তাহলে, দক্ষিনাঞ্চলের এই যে বিশাল জনগোষ্ঠী~ এদের জন্য দেশের কোথায় এবং কোন প্রক্রিয়াতে বিদ্যুৎ সুবিধার ব্যবস্থা করা যায় ???
    এখনো পর্যন্ত এই প্রস্তাবের বাইরে এরচেয়ে ভালো কোন যুৎসইতো বাদই দিলাম, একটা প্রস্তাবওতো কাউকে দিতে দেখলাম না…!!!
    অযৌক্তিক বাকোয়াজ কথাবার্তার বিপক্ষে বললেই আওয়ামীলীগার…!!!
    তা আওয়ামীবিরোধীরাইবা কোন যুৎসই প্রস্তাবটা দিয়েছেন ???
    বেশি কিছু বলতে হবে না, কিরন ভাইয়ের করা প্রশ্নগুলোর উত্তর দিলেই বুঝবো…আপনারা কেমন বিষয়টা নিয়ে ভাবছেন…
    ভালো কিছু জানাতে পারলে, সাথে পাবেন… থাকব…

    1. “এখনো পর্যন্ত এই প্রস্তাবের
      “এখনো পর্যন্ত এই প্রস্তাবের বাইরে এরচেয়ে ভালো কোন যুৎসইতো বাদই দিলাম, একটা প্রস্তাবওতো কাউকে দিতে দেখলাম না…!!!
      অযৌক্তিক বাকোয়াজ কথাবার্তার বিপক্ষে বললেই আওয়ামীলীগার…!!!
      তা আওয়ামীবিরোধীরাইবা কোন যুৎসই প্রস্তাবটা দিয়েছেন ???”—
      এর পর আসলে বুদ্ধিজীবী হওয়ার মত কোন কথা হতে পারে না। সবই হয় এই পক্ষ অথবা ঐ পক্ষের দালালি হবে…

  9. একটা ব্যাপার সবাই মিস করছেন
    একটা ব্যাপার সবাই মিস করছেন আজ দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি, জামাত-হেফাজত যেভাবে মধ্যযুগীয় ডাক দিচ্ছে তাতেই জনগনের আগ্রহ বেশী, তারা ইউরোপের মত করে (আজ জার্মানিতে বেকার ভাতা দেয় ২৮০ ইউরো, সন্তান উতপাদন করলে দেয় ২৪০ ইউরো… তুরস্কের মুসলমানেরা এইভাবেই টাকা কামাচ্ছে আর বাড়ি বানাচ্ছে তুরস্কে… এমনটা চীনেও হচ্ছে খোদ লন্ডনেও হচ্ছে… ) নারীকে সন্তান উৎপাদনের মেশিন বানায়তে চাই তাই গার্মেন্টস কর্মীদের বিরদ্ধে এত আক্রোশ! কারণ কর্মক্ষম নারীর সন্তান নেয়ার ক্ষেত্রে আগ্রহ কম থাকে একমাত্র আদর্শ গৃহিণীরাই একের পর জন্ম দেয়… আমরা যদি অনেক গভীরে না গিয়ে উপরের বিষয় নিয়ে এমন ভাসতে থাকি তবে সরকার নয় ২০৫০ সালের ৩০ কোটি মানুষই সুন্দরবনকে ধ্বংস করবে- ভাসিয়ে দিবে তখন এমন বুদ্ধিজীবীরা কি করবে? এখনও সময় আছে পারলে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রনে একটা জুড়াল আন্দোলন গড়ে তুলুন এবং তাই হবে সুন্দর বাংলাদেশ এবং এমন প্রান-প্রাচুর্যে ভরপুর প্রকৃতির জন্য সবচে ভাল… অনেকই আছে আমার মন্তব্যের উত্তর দিতে প্রস্তুত বা কিছু গালি দিতে তাদের জন্য কিছু উদাহরনঃ

    ১) আমার গ্রামের বাড়ি সন্দ্বীপ, ২০০০ সালে এসএসসি পাশের সময় এমন সবুজ দেখি আসছি যেমন ধানি জমিন দেখে আসছি এখন প্রতি বছর যখন যায় আফসোস লাগে সেই সবুজ দ্বীপটিকে দেখে। কীভাবে বনভুমি আর খোলা মাঠ উজাড় হচ্ছে কল্পনা করার মত নয়। বাংলাদেশের প্রধান শত্রু অনিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি… এইটা যতদিন কেউ প্রতিষ্ঠিত করবে না ততদিন বুদ্ধিজীবীরা এমন আন্দোলনই করতে পারবে অনেক মানুষ নিয়ে কিন্তু ঐ গরীব দুস্থদের জীবনও পরিবর্তন হবে না আর আমাদের সকল এন্ডেমিক জীববৈচিত্র্যও রক্ষা করা হবে না…

    ২) একটু দুনিয়ার কিছু গবেষণার দিকে নজর দিন। রেইন ফরেস্ট থেকে সুন্দরবন, আমাজন থেকে বান্দরবন সব কিছুই ধ্বংস হয়েছে অধিক জনসংখ্যার জন্য। পাকিস্থান আমলে আর জেনারেল জিয়া যখন পার্বত্য চট্টগ্রামে মানুষ ডুকাল তখন এইসব বুদ্ধিজীবীরা কই ছিল খুব জানতে ইচ্ছা করে।। তারাতো সবাই তখন টগবগে তরুন! নাকি বান্দরবনের জীব বৈচিত্র্য তেমন কিছু না। আপনারা চোখে পরছে শুধু সুন্দরবন আর রামপাল… কত সন্দ্বীপ কত মহেশখালী আর কত সবুজ উজাড় হচ্ছে চোখের আড়ালে লক্ষ্য রাখবেন!!

    ৩) এইখানে দুএকজন প্রকৌশলে আছে আমি চিনি আবার কয়েকজনকে হয়ত জানি না। আমরা সবাই জানি এমন শিল্প প্রতিষ্ঠান বা অবকাঠামোগত বিশাল শিল্পের নবসুচনা হওয়া উচিৎ লোকারণ্য থেকে দূরে কোথাও।। আজ সব বাঘা বাঘা স্যারেরা কলম ধরেছে খুবই ভাল লাগছে কিন্তু কেউ মুল কারণটা ড্রিল আউট করছে না তাই খুব শঙ্কিত আমি… কি লাভ এমন জ্ঞানী সেজে? কি লাভ কিছু বাহবা কামিয়ে কাজের কাজ কিছুই হবে না এতে। কেননা আমরা যদি বাংলাদেশের জনগন ১২ কোটির মধ্যে না আনতে পারি তবে কখনই উন্নত দেশ হতে পারব না বলেই আমার মনে হচ্ছে, ১৫-১৭ কোটি মানুষ নিয়ে বড়জোর মধ্যম আয়ের দেশ হতে পারব। এইটার একটা নীতিমালা আর বিশাল প্ল্যান সরকারকে দেয়ার অনুরোধ করছি। তা নাহলে সুন্দরবন, পার্বত্য চট্টগ্রাম, হাওর, দ্বীপ বা সবুজ বনানী কিছুই রক্ষা করা সম্ভব হবে না…

    ৪) মাত্র ৫০০ বছর আগেও অর্থাৎ ১৫০০ সালে দুনিয়ার মানুষ ছিল সর্বসাকুল্যে ৪৫ কোটি!! আর শুনে আঁতকে উঠবেন ২০৫০ সালে এই সংখ্যা হতে পারে ৯২০ কোটি! শুধু মাত্র জনসংখ্যায় অর্থাৎ % এ অন্য সকল ধর্মীয় বিশ্বাসীদের থেকে এগিয়ে থাকতে কিছু কিছু ধর্ম অধিক সন্তানের জননী হতে সক্ষম এমন নারীদের অধিক মর্যাদা দেয়। এমন ধর্মীয় বিশ্বাসীদের দেশগুলোতে জনসংখ্যা ব্বৃদ্ধির হার শুধু বেশী না আঁতকে উঠার মত… ২০০০ বছর আগের ২০ কোটির পৃথিবীতে আর ৭১৭ কোটি মানুষ… সময় হয়ে গেছে আসল দায়ীদের খুঁজে বের করতে হবে কারা জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুল কারণ না হয় এমন লংমার্চ বায়বীয়ই থেকে যাবে যা কিছু বুদ্ধিজীবীর ইমেজ বৃদ্ধি ছাড়া কাজের কাজ কিছুই হবে না…

    আর কিছু তেমন বলার নাই… জাতীয় তেল-গ্যাস-জীব বৈচিত্র্য-পরিবেশ রক্ষা কমিটির প্রথম কাজ হওয়া উচিৎ জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কঠোরভাবে মাঠে নামা।। এইসব লোক দেখানো – চায়ের কাপে ঝড় তোলা ইস্যু নিয়ে কাজ করলে এইসব রক্ষা কখনই হবে না…

  10. আনিস রায়হান ভাই আমার কিছু
    আনিস রায়হান ভাই আমার কিছু প্রশ্ন ছিল? এত সুন্দর একটা লেখা লিখেছেন কিন্তু প্রশ্ন গুলো উপেক্ষা করে যাচ্ছেন কেন। যদি আমরা সমস্যা নিয়ে কথা বলি তাহলে তো আমাদের এর সমাধান নিয়েও কথা বলতে হবে।

    1. নানা কাজের চাপে নিয়ম করে
      নানা কাজের চাপে নিয়ম করে ব্লগে ঢোকা হয় না। এজন্য দেরি হওয়ায় দুঃখিত।
      আপনি নিজে এজটি পোস্ট দিয়েও কিছু প্রশ্নের উত্তর চেয়েছেন। সেখানেও উত্তর দিয়ে এলাম।
      এই লেখাটা পড়তে পারেন- আরো খানিকটা পরিষ্কার হবে সমস্যা কোথায় আর সমাধানটাই বা কি!

      http://www.istishon.com/node/3131

  11. বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর
    বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সবচেয়ে বেশি উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছে বিদ্যুৎ খাতে। বিদ্যুৎ খাত নিয়ে সরকারের ছোট, বড়, মাঝারি, ক্ষুদ্র, মহা, অনেক পরিকল্পনার কথা শোনা গেছে। সরকার বার বার ডেটলাইন দিয়েছে ২০১০, ২০১২, ২০১৩। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী, জ্বালানি উপদেষ্টা, পিডিবির চেয়ারম্যান বার বার বলেছেন আগামী এত সালের মধ্যে লোডশেডিংমুক্ত বাংলাদেশ গড়া হবে। ফাস্ট ট্রাক প্রোগ্রাম, বিদেশের মাটিতে রোড শো, পাওয়ার সেক্টর, মাস্টার প্লান, আরো কত বাহারি নামে বিদ্যুতের সব সমস্যা মিটিয়ে দেয়ার বাণী শোনানো হয়েছে। এখন আর সেসব কথা কেউ বলছেন না।

    সরকারের উচিত ছিল সেই পথটা বেছে নেয়া, যে পথে এগুলো সবচেয়ে কম মূল্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ করা যায়। আর এটা করতে হলে অবশ্যই নিজস্ব অর্থায়নে, নিজস্ব কর্তৃত্বে নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রয়োজন ছিল। সরকার তা না করে গেছে রেন্টালের দিকে। সরকার দেখিয়েছে, তারা বিদেশি বিনিয়োগের উপর নির্ভরশীল থাকতে পছন্দ করে। বিদেশিরা বিনিয়োগের সময় বিভিন্ন শর্ত জুড়ে দেয়, যার মাধ্যমে তারা তাদের স্বার্থ হাসিল করতে চায়। তাদের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে সরকার পুরো খাতটিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

    যদি আমরা সমাধানের প্রশ্ন খুঁজি তাহলে অবশ্যই বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করতে হবে। সেটা কয়লাভিত্তিকই করা যায়। কিন্তু কয়লাভিত্তিক এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি করার জন্য প্রস্তাবিত আরেকটি জায়গা ছিল খুলনার লবণচরা এলাকা। পরিবেশবিদদের মতে, লবণচরায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলে সুন্দরবন রক্ষা পেত। সরকারের পক্ষ থেকে এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ‘প্রাথমিক পরিবেশগত সমীক্ষা’ চালায় বাংলাদেশ সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিস (সিইজিআইএস)। ‘প্রাথমিক পরিবেশগত সমীক্ষায় তারা প্রকল্পের স্থান নির্ধারণে সম্ভাব্য দুটি জায়গার (রামপাল ও লবণচরা) একটি তুলনা করে। সেখানে লবণচরায় প্রকল্পটি করার ক্ষেত্রে কয়েকটি বাধার কথা উল্লেখ করা হয়। এগুলো হচ্ছে, সংলগ্ন কাজিবাছা নদীর অগভীরতা, জনসংখ্যা ও ঘরবাড়ির ঘনত্ব এবং জমি পাওয়ার ক্ষেত্রে শঙ্কা। অন্যদিকে রামপালের সমস্যা হিসেবে দেখা হয় পশুর নদীর অগভীরতাকে। তদুপরি কয়লা পরিবহনের সুবিধা থাকায় রামপালকেই তারা অগ্রাধিকার দেয়। কিন্তু সুন্দরবনের ক্ষয়-ক্ষতির প্রশ্নটা তারা একেবারেই এড়িয়ে গেছে।

    একদল লোক প্রায়ই বলছে, আমরা কেন বিকল্প প্রস্তাব দিচ্ছি না! বিকল্প তো সরকারের হাতেই রয়েছে। লবনচরায় এ প্রকল্প করা যায়। সরকার বাকি সব লাভ ক্ষতি বিবেচনা করছে। কিন্তু সুন্দরবনের কথা বলছে না। অন্য এলাকায় করতে গেলে ওখানকার মানুষ বাধা দিতে পারে। কিন্তু বনের মধ্যে করতে গেলে গাছ আর প্রাণীরা বাধা দেবে না… এটাই হচ্ছে তাদের ভাবনা।

    কিন্তু ভেবে দেখুন কফিল ভাইয়ের গানের এই লাইন দুটি-

    সুন্দরবন জুড়ে কাঁটাতার দিলে, চিড়িয়াখানার শিশু বানর কাঁদে, মা হরিণী কাঁদে

  12. এখানে অনেকেই অনেক জ্ঞান
    এখানে অনেকেই অনেক জ্ঞান ঝারতেছেন,কিন্তু এতটুকু বুঝতেছেন না এই রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র করলে আমাদের পরিবেশের কতটুকু ক্ষতি হবে!!!আসমান সমান যুক্তি ঢাইলা বুঝাইতেছেন, সবাই হাদারামের মত বিরধিতা করতেছে।

    কেউ কেউ বলতেছেন সমাধান দিতে।দেখেন ভাই, সমাধান আসলে হিসাব কষলেই পাবে সরকার।এখানে কেউ সরকারের বিদ্যুৎ মন্ত্রি না।মাথা ব্যাথার চিকিৎসার জন্য ডাক্তার আপনার মাথা কাটবে।আপনি তাকে কিছু বলতে পারবেন না।বললে ডাক্তার বলবে তাহলে আপনি ডাক্তারি করেন।এসবের মানে হয় না। রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র না করেও অন্য জায়গায় করা যাবে।এবং তাতে পরিবেশের ক্ষতি অনেক কম হবে।এবং আরও বিকল্প সমাধান বের করা যেতে পারে।মাথা মোটা মানুষদের বোঝা উচিত দেশের সচেতন মানুষ এদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর থেকে দেশের কথা বেশি ভাবে।

    রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র বিরোধিতা কোন দেশের পক্ষে বা বিপক্ষে বলা না, সরকার বিরোধী কোন কথাও না। ।পরিবেশ বাঁচানো।কোন দেশের লাভ হইল এইটা দেইখা আমাদের লাভ নাই।আমাদের কি হচ্ছে সেটাই বড় কথা।

    কোন কিছুর জন্য প্রতিবাদ জানাইলেই যদি সেটা হয়ে যায় বিশেষ গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য হাসিল করা(কেউ কেউ দেখলাম খুব বুদ্ধিমান,সরকার বিরোধী ও দেশ বিরোধী কিছু হয় নাকি তার জন্য এক্কেবারে মাথায় ম্যাটল্যাব সেট কইরা রাখছে কিছু হইলেই অ্যালার্ম মারব), তাহলে তো এতো আলোচনার দরকার নাই।তাইলে দেশ তো ভালই চলতেছে।যে সরকার আসব তার সমর্থন করবেন।নাকে তেল দিয়া ঘুমান।জামাত শিবিরের প্রচারণায় অংশ নেন।ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং পরকাল দুই যায়গায় লাভ পাইবেন।

    তারিক লিংকন ভাই জনসংখ্যার যে ব্যাপারটা বলছে সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।সচেতন সবার উচিৎ এটা নিয়ে সিরিয়াসলি ভাবা।এবং কার্যকর কিছু খুব দ্রুত করা।তাতে দেশটা বাচবে।যেভাবে চলতেছে ভাই,এরে চলা বলে না।অনেক হাদারাম আমরা।সবাই সবার মতকে এভাবে কারো উপর চাপান ঠিক না।রাজনৈতিক দল যদি কেউ সমর্থন করেন ,তবে সেটা আপনি তাকে ভোটে সমর্থন দিবেন।তার মানে এই না যে সেই দল যাই করবে তার প্রতি আপনার একটা ইমশন কাজ করবে।দেশ নিয়ে সবাইকে ভাবতে হবে,এবং সেটা সচেতন ভাবে,জেনে বুঝে।

    ।/।/।/।/।/।/।/।/।/।/।/।/।/।/।/।/।/।/।/।/।/।/।/।/।/।/।/।

  13. ব্লগার কিরন শেখর নিজে একটি
    ব্লগার কিরন শেখর নিজে একটি পোস্ট দিয়ে এই প্রশ্নগুলো তুলেছেন, এবং আমি তার উত্তরও দিয়েছি। এখানে তা প্রাসঙ্গিক ভেবে তুলে দিচ্ছি-

    প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়ার চেষ্টা করছি-

    ১। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অপকারিতা নিয়ে অনেক কথা হয়েছে সেটা কি শুধু মাত্র কয়লা এর জন্য?

    উত্তর- শুধু কয়লা না। তবে কয়লাই প্রধান। রামপালে কয়লা ছাড়া যদি বিদ্যুৎ কেন্দ্র করা হয় তাও বনের ক্ষতি করবে প্রোক্ষভাবে। মানুষ ওখানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে ঘিরে জড়ো হবে। এবং অফিসারদের হরিণ মারার খায়েশও মিটবে কোনো না কোনোভাবে।

    ২। কয়লা সুন্দরবনের ক্ষেত্রে যদি ক্ষতিস্বরূপ হয় তাহলে কি বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করা যায় না?

    উত্তর- বিকল্প জ্বালানী বলতে আছে গ্যাস এবং তেল। তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যয় অনেক বেশি। যা আছে তাতেই আমাদের নাভিশ্বাস। তাই এখন আর তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়া যাচ্ছে না। আমাদের যা গ্যাস আছে তার প্রায় ৯৫ ভাগই যায় বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনে। এছাড়া আরো কিছু বিদ্যুৎ কেন্দ্র আছে নির্মানাধীন। সেগুলোর কয়েকটা গ্যাসভিত্তিক। এখন রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র গ্যাস দিয়ে চালাতে গেলে গ্যাসও আমদানি করা ছাড়া রাস্তা থাকবে না। আমদানি করেও পারা যাবে না। গ্যাসভিত্তিক অনেক ছোট বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করে দিতে হবে। সুতরাং কয়লাভিত্তিকই করা দরকার।

    ৩। যদি বিকল্প জ্বালানি বেশি ব্যয় বহুল হয় সেক্ষেত্রে আমরা বিকল্প কি করতে পারি?

    উত্তর- আমাদের উচিত পুরনো বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো মেরামত করা। এ থেকে আমরা ১৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পেতে পারি। যা রামপালের চেয়েও বেশি। কিন্তু বিশ্বব্যাঙ্ক ও আইএমএফের চাপ আছে সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভর্তুকি না দেয়ার জন্য। তাই সরকার নিজস্ব ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো মেরামত করছে না। কিন্তু আগে ওটা করা দরকার। ওই ১৫০০ মেগাওয়াট যোগ হলে আগামী আরো একবছর আমরা সময় পাব। এর মধ্যে আমরা বেশ কিছু বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তুলতে পারব।

    ৪। সরকারের হিসাবে দেশের ৪০% মানুষ বিদ্যুৎ সেবার বাইরে, দক্ষিণ অঞ্চলে যা আরও বেশি ক্ষেত্র এই জন গোষ্ঠীর বিদুত্যায়েনর উপায় কি?

    উত্তর- এটা একান্তই যে সরকারকে আপনি নির্বাচিত করছেন তার নীতিগত সিদ্ধান্তের ব্যাপার। সে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতেই বিদ্যুৎ দেয়। যেমন সারা ঢাকায় বিদ্যুৎ না থাকলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ নেই এমনটা সাধারণত ঘটে না।

    ৫। কয়লা প্রকল্পই যদি করতে হয় সেক্ষেত্র পরিবেশ দূষণের মাত্রা যাতে কম এর কি কোন গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি আছে?

    উত্তর- উন্নত বিশ্বে অনেক উন্নত প্রযুক্তি আছে, তা আনা যায়। তবে উন্নত প্রযুক্তির কোনোটাই বনের জন্য ডিজাইন করা আছে এমনটা শোনা যায়নি। কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র রেড ক্যাটাগরির শিল্প। এটা যেখানেই করা হোক ক্ষতিকর। তাই যতই ক্ষতি কমান, এটাকে লোকালয় এবং জীব বৈচিত্র্যের আধার এমন জায়গা থেকে দূরে রাখতে হবে। সরকার চাইলে পদ্মার পাড়ে যেখানে ইপিজেড করেছে, সেদিকেও এটা করতে পারে। এতে কয়লা পরিবহনের ব্যয় কিছুটা বাড়বে।

    1. অত্যন্ত যত্ন সহকারে উত্তর
      অত্যন্ত যত্ন সহকারে উত্তর দিয়েছেন এজন্য আপনাকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করতে চাইনা, এবং অবশ্যই প্রাসঙ্গিক ও তথ্য বহুল।
      আপনার লেখা পড়লেই বোঝা যায় আপনি হুট করেই বিদ্যুৎ বিষয়ক পোস্ট লিখেন নাই। এখানে আপনার যথেষ্ট তথ্য সমাবেশ এবং বিশ্লেষণ আছে।
      আমি মনে করি কোন সমস্যা চিহ্নিত করার পাশাপাশি সমাধানে যদি কিছু কথা থাকে তাহলে বিষয় টি আরও ভাল ভাবে বোধগম্য হয়। যদিও এটা নিতান্তই লেখকের বিষয়।

  14. জটিল বাঙালি সহজ কথা বুঝে না।
    জটিল বাঙালি সহজ কথা বুঝে না। ভারত জাহান্নামে যাক। আমার কী? কয়েকটা বিষয়ের জন্য আমরা অবশ্যই ভারতের প্রতি চির কৃতজ্ঞ। কিন্তু তাই বলে আর কত সহ্য করতে হবে? ভারত আমাদের কোথায় কখন কিবভাবে ছাড় দিয়েছে বলেন তো? কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র সুন্দরবনের ক্ষতি করবে এই সহজ বিষয় কেউ না বুঝলে তারে হাবিজাবি গিলতে দেয়া ঠিক না। তার টনসিল আছে তাই গলা দিয়া নামে না, পাইলস আছে তাই রাস্তা দিয়া বাইর হয়না। কী দুঃখ কী দুঃখ!!!

    সুন্দরবন আমাদের জাতীয় সম্পদ। জাতীয় অহংকার। এই অহংকারে কেউ কালি লাগালে আমাদের উচিত তাকে যেভাবেই হোক খেদাইয়া দেয়া। হাবিজাবি সব ব্যাখ্যার ভিড়ে আমি মূল কথা খুঁজে পাইনা। এইখানে একটাই তো কথা! “কয়লা বিদ্যুত কেন্দ্র সুন্দরবনের ক্ষতি করবে।তাই যে শালাই এইখানে এই দাবী নিয়া আসবে তারে থাবড়াইয়া নক আউট করা হবে।”

    এইতো ব্যাস! এক সেন্টেন্সে কথা শেষ!! আর কিছু বলার আছে? আছে?

      1. না ধমকিয়ে উপায় আছে ভাই?
        যে

        না ধমকিয়ে উপায় আছে ভাই?
        যে ঘুমিয়ে থাকে তাকে জাগানো যায়, কিন্তু যে ঘুমের ভান ধরে তাকে কিছুতেই জাগানো যায় না। ঐতিহ্য গুলো একে একে আমরা হারয়েছি পুঁজিবাদীদের কাছে। সংস্কৃতিও বিসর্জন দিয়েছি পাশ্চাত্যের কাছে। এখন সুন্দরবনের ভাগ্য নিজেরাই ঝুলিয়ে দিলাম। মিথ্যা হয়ে গেল সেই অবিনাশী কবিতার লাইন,”হিমালয় হতে সুন্দরবন,হঠাৎ বাংলাদেশ।” ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

3 + 4 =