গ্রেফতারকৃত জামাত-শিবিরের ছাগুরা কোথায় যায়?

পত্রিকায় দেখি অমুক জায়গায় তমুক জায়গায় জামাত-শিবিরেরের এতজন নেতা-কর্মী গ্রেফতার।

আমার প্রশ্ন হলো,
গ্রেফতারের পর তারা যায় কোথায় সেই খবর কি আমরা পাই ঠিকঠাক?

খুঁজ নিলে দেখা যায়, ৩০ জন গ্রেফতারের মধ্যে পরদিনই ২৮ জন কিংবা কোন কোন স্থানে সবাই জামিনে ছাড়া পেয়ে যায়। একদিনের মধ্যেই যদি এরা জামিনে ছাড়া পেয়ে যায় তাহলে শুধু শুধু গ্রেফতারের কারণ কি ছিলো।

দুএকজন পুলিশ সদস্যের সাথে কথা জানা যায়, পুলিশি গ্রেফতারের পরেই শুরু হয় বিভিন্ন স্থান থেকে টেলিফোন আর টেলফোন। প্রভাবশালী মহলের অধিকাংশ ফোনই আসে ক্ষমতাশীন দলের হোমড়া-চোমড়াদের কাছ থেকে। তারা গ্রেফতারকৃত লোকেদেরকে নিজেদের কর্মী কিংবা আত্মীয় বলে দাবী করেন। ফলে পুলিধ বাধ্য হয়ে গ্রেফতারকৃত লোকেদেরকে ছেড়ে দেয় কিংবা হালকা একটি মামলা দায়ের করে, যেনো জামিন পেতে সহজ হয়। ফলে যা হবার তাই হচ্ছে।

শুধু কি তাই?
এসব মামলা পরিচালনায় দেখা যায় আওয়ামিলীগের আইনজীবিরাই সবার আগে এগিয়ে থাকেন। দেশের অধিকাংশ জামাত-শিবিরের মামলাগুলোতে আওয়ামি লীগের বড় বড় জাদরেল আইনজীবিরা লড়েছেন লড়ছেন। এতে করে মামলা থেকে খারিজ কিংবা জামিন পেতে বেশ সুবিধা হয়ে যায় আসামীদের জন্য। হয়ত, আওয়ামি পন্থি আইনজীবি যদি কোন মামলার শুনানীতে বলেন যে পুলিশ আসলে ভুল লোক ধরে এনেছে, তাহলে মহামান্য আদালত প্রভাবিত হন। অন্যদিকে সরকারী আইনজীবিগনও এসম মামলায় যথেষ্ট নীরব ভূমিকা পালন করেন। আর পুলিশি তদন্ত রিপোর্ট প্রভাবিত করার ঘটনা তো আকসার।

আদতে,
আমরা জামাত-শিবির কর্মী গ্রেফতারের যে কাহিনী দেখছি তা সত্যিকার অর্থেই একটা নাটক ভিন্ন কিছু নয়। আপনি আপনার নিজ জেলায় বা নিজ এলাকায় খুঁজ নিয়ে দেখেন তাহলেই বুঝতে পারবেন প্রকৃত চিত্র। যে হারে জামাত-শিবির দেশদ্রোহীদের গ্রেফতাআর করা হয়, তাতে করে দেশে আদতে আর কোন জামাত-শিবির জেলের বাইরে থাকার কথা না। কিন্তু, আমাদেরকে শুধু গ্রেফতারের খবরগুলো জানানো হয়, জানানো হয় না জামিন বা ছাড়া পাওয়ার খবর।

এ অবস্থা চলতে থাকলে আখেরে কোন লাভ হবে কি?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৮ thoughts on “গ্রেফতারকৃত জামাত-শিবিরের ছাগুরা কোথায় যায়?

  1. খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়
    খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় নিয়ে লিখেছেন।বিভিন্ন দলের আঁতাত নিয়ে খবরগুলো অমূলক নয়।এদের যে আসলে কী করা উচিত!

  2. জামায়াত-শিবির এখনো অস্তিত্ব
    জামায়াত-শিবির এখনো অস্তিত্ব নিয়ে টিকে আছে ক্ষমতাসীন দলের স্বার্থবাজ নেতা-কর্মীদের আতিথিয়েতায়। নাহলে এত গ্রেফতারের পরও তারা সারাদেশে তাণ্ডব চালানোর সাহস পায় ক্যামনে? এদেশ থেকে যদি আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে জামায়াত-শিবির মুক্ত করতে চান, তাহলে আওয়ামীলীগের মধ্যে ঘাপটি মেরে বসে থাকা জামাতী এজেন্টদের আগে সনাক্ত করে দল থেকে বহিঃস্কার করতে হবে। জামায়াত-শিবির এখন কিছু স্বার্থবাজ আওয়ামী নেতা-কর্মীর ধান্ধাবাজির উৎস।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 + 5 =