**///প্রিয়-অপ্রিয় সত্য ,সাথে কিছু অর্থহীন দুর্বা ঘাস///**

ব্যস্ত রাজপথ । দুপুরের সূর্য মাথার উপর উত্তাপের অভিশাপ বর্ষন করছে ।

”শাহবাগ যাবেন চাচা???”

মাথার উভমূখী দুলুনিতে সম্মতির আভাস পেলাম । উঠে পড়লাম । কিছু সংখক ছিদ্র ওয়ালা একটা জামা পরনে চাচার। বয়স আনুমানিক পন্ঞ্চাশোর্ধ।
অতি স্বাভাবিক দৃশ্য । অবাক হওয়ার কিছু নাই । হঠাৎ ভারি ভাঙ্গা কন্ঠস্বরে চাচা বলে উঠল ”বাবা আফনে কি লিখাপড়া করেন?” উত্তর দিলুম ”জী চাচা পড়াশুনা করতাছি” ।
”তা বাবা শাহবাগ এ কি আন্দোলনে যাইতাছেন?”‘ প্রত্যুত্তরে শুধু ‘হ্যা’ বল্লাম ।
গন্তব্যস্থলে পৌছে ভাড়া মিটানোর জন্য মানিবাগ হাতড়ালাম । টাকা গুনে দিতে যেয়ে দেখি চাচা ইতোমধ্যে চলে গেছেন রিক্সা ঘুরিয়ে ।

ব্যস্ত রাজপথ । দুপুরের সূর্য মাথার উপর উত্তাপের অভিশাপ বর্ষন করছে ।

”শাহবাগ যাবেন চাচা???”

মাথার উভমূখী দুলুনিতে সম্মতির আভাস পেলাম । উঠে পড়লাম । কিছু সংখক ছিদ্র ওয়ালা একটা জামা পরনে চাচার। বয়স আনুমানিক পন্ঞ্চাশোর্ধ।
অতি স্বাভাবিক দৃশ্য । অবাক হওয়ার কিছু নাই । হঠাৎ ভারি ভাঙ্গা কন্ঠস্বরে চাচা বলে উঠল ”বাবা আফনে কি লিখাপড়া করেন?” উত্তর দিলুম ”জী চাচা পড়াশুনা করতাছি” ।
”তা বাবা শাহবাগ এ কি আন্দোলনে যাইতাছেন?”‘ প্রত্যুত্তরে শুধু ‘হ্যা’ বল্লাম ।
গন্তব্যস্থলে পৌছে ভাড়া মিটানোর জন্য মানিবাগ হাতড়ালাম । টাকা গুনে দিতে যেয়ে দেখি চাচা ইতোমধ্যে চলে গেছেন রিক্সা ঘুরিয়ে ।
অবাক লাগল , কেন জানি মনে হল গনআন্দোলনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে উনি আমার কাছ থেকে ভাড়া না নিয়ে চলে গেলেন ।
ভাল লাগল, একটু হলেও গর্ব বোধ হল এমন একটা মহৎ সমাবেশের অংশগ্রহণকারী হিসাবে।

শাহবাগ এর গনজাগরন যখন শুরু হয়েছিল কেউ ভাবতে পারেনি যে এটা এমন মহাজাগরনে রূপ নিবে ।
সকল শ্রেনীপেশার মানুষ, নারী পুরূষ নির্বিশেষে যখন পিচ ঢালা পথের ধুলাতে একক কন্ঠে হুন্কার দেয় ”জয় বাংলা, জয় বাংলা” বলে তখন মনে প্রাণে বিশ্বাস করতে ভাল লাগে যে ”আমরা বাঙালি, আমরাই সেরা” ।
যখন দেখি স্কুলের বাচ্চারা সমস্বরে চিৎকার দেয় ”৭১ এর হাতিয়ার গর্জে উঠুক আর একবার তখন আকস্মাৎ বিবেকের সুপ্ত অংশ কয়েক ধাপ সামনে এগিয়ে আসে । মাঝে মাঝে মনে হয় বাঙালির চেতনা আর ঘুমাবে না । সদা জাগ্রত চেতনা এবার সৈনিকরূপে বলীয়ান হবে অন্যায়/দূর্ণীতির বিরুদ্ধে ।

শাহ্বাগ আন্দোলনের বিপক্ষে শিবির এর কর্মকান্ড নিয়ে আলোচনা করা যাক এবার ।

জামায়াতে ইসলামী ছাত্র শিবির নানা প্রকার অপপ্রচার চালাচ্ছে অনলাইন এ মহাসমাবেশ নিয়ে ।
ছবি এডিট-কাল্পনিক তথ্য সরবরাহ-ধরমের মিথ্যা দোহায় এসবই ওদের বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রধান প্রধান অস্ত্র ।
তারা ক্রমাগত শাহবাগ এর বিপ্লবী জনতাকে মিথ্যা – ষড়যন্ত্রমূলক নোংড়া ভূষনে ভুষিত করছে ।
প্রত্যেক ভুয়া তথ্যের পেছনে তারা ধার্মিক বিশ্লেষন প্রদান করে থাকে । এর ফলস্রুতিতে সাধারন স্বল্পশিক্ষিত ধর্মভীরু মানুষগুলা অন্ধভাবে জামায়াত-শিবিরের প্রতি অনুগত হয় ।

শিবিরের কর্মকান্ডের বিবরন দিব না আর। কিছু প্রশ্ন রাখব তাদের কাছে –

১.আপনারা যখন কোনো নারীকে প্রমান ছাড়া অপমান জনক ভুষণে ভূষিত করেন, সেটা কি ইসলাম সাপোর্ট করে??

২.আপনারা যখন জিহাদের অজুহাতে মানুষ হত্যা-গাড়ি ভাংচুর-পুলিশ নির্যাতন করেন তখন কোথায় থাকে আপনাদের আওড়ানো মানবতার বুলি???
আপনারা যাদেরকে মারছেন হত্যা করছেন ?? তারা কি কাফের?? মনে রাখবেন তারাও নামাজ পড়ে , তাদের মধ্যেও সাচ্চা মুসলমান আছে।আর তাছাড়া ইসলামে কখনোই অরাজকতার কথা/হত্যা /অত্যাচারের কথা বলা হয়নি যদিও সে বিধর্মী আর আল্লাহর বিপক্ষে থাকে । কেন আপনারা ইসলাম এর
সম্মান হানি করছেন ?

এখন আসি ভিন্ন একটা বিষয়ে –

এই প্রজন্ম চত্বরে প্রতিদিন হাজারো মানুষ আন্দোলন করছে / হাজারো মানুষ যোগ দিচ্ছে ।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য কিছু তরুন এখানে আসে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে ।
আমার প্রশ্ন – ”কেন?”
এটা কোনো আড্ডা ক্ষেত্র নয় । এটা কোনো সময় কাটানোর স্থান নয় ।

আবার কিছুসংখক যুবক ”জয় বাংলা” বলে স্লোগান দেয় এবং ফাকে ফাকে সুন্দরী রমনীদের দিকে লোভাতুর দৃষ্টিতে তাকায় / আবার সেটা নিয়ে বন্ধুদের সাথে আলোচনা করে । প্রশ্ন ঔঠে তীব্র ঘৃনায় – ”কেন”?

এটা কিসের আন্দোলন?? ভুললে তো হবে না ।
ক্ষেত্র বিশেষে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্মকান্ড।

কিছু মানুষ আসে এই আন্দোলনে যারা ভিড়ের ধূলায় বসতে নাক কুচকায়/ ঘেন্না বোধ করে ।
আমার আন্তরিক রিকোয়েস্ট এদের কাছে-” ওরে মানুষ আমি তোদের পায়ে ধরি – তোরা আসিস না আর প্রজন্ম চত্তরে ।”

একশ্রেনীর মানুষ আছে, যারা কিছু ভুল ধারনা পোষন করে –
গত শুক্রবার মহাসমাবেশে ঢোকার সময় একটা লোকের মন্তব্য শুনলাম ”জয় বাংলা-ঠিক আছে কিন্তু শেষে জয় বন্গবন্ধু যেন না বলা হয়”
খুব খারাপ লাগল কথাটা শুনে । যোগ্য মানুষকে/নেতাকে সম্মান প্রদর্শন করাটাও কি আওয়ামীলীগ-বি.এন.পি এর পরিচায়ক???
”কেন??”

খুব সুক্ষ অথচ মর্মস্পর্শী আর একটি বিষয় হচ্ছে কিছু নাস্তিক এবং ইসলাম বিরোধী গুটিকয়েক মানুষ ইসলামি দল নিষিদ্ধের বক্তব্যের বদলে মাঝে মাঝে বসে ধর্ম কে গালি দিয়ে ফেলছেন । এটা নিঃসন্দেহে দুঃখজনক ।

হাতের পাচটা আংগুল কখনোই সমান নয় ।
তবে সমান করতে হবে আংগুল কেটে । একটি চেতনায় উদ্ভুদ্ধ হয়ে । একই কন্ঠে সংগ্রামের ধ্বনি উচ্চারন করে ।

আজ যেমন সমগ্র বাংলা সমস্বরে বলছে ”রাজাকারের ফাসি চায়” তেমনই অদুর ভবিষ্যতেও আমরা বাংলাদেশীরা এমনই সংগ্রাম করব সমস্বরে
”সকল অন্যায়ের আর দুর্নীতির অবসান চাই
সত্যিকারের সোনার বাংলা চাই-জয় বাংলা”

—-সমাপ্ত—-

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১১ thoughts on “**///প্রিয়-অপ্রিয় সত্য ,সাথে কিছু অর্থহীন দুর্বা ঘাস///**

  1. যখন দেখি স্কুলের বাচ্চারা
    যখন দেখি স্কুলের বাচ্চারা সমস্বরে চিৎকার দেয় ”পাকিস্থানি হাতিয়ার গর্জে উঠুক আর একবার তখন আকস্মাৎ বিবেকের সুপ্ত অংশ কয়েক ধাপ সামনে এগিয়ে আসে । মাঝে মাঝে মনে হয় বাঙালির চেতনা আর ঘুমাবে না । সদা জাগ্রত চেতনা এবার সৈনিকরূপে বলীয়ান হবে অন্যায়/দূর্ণীতির বিরুদ্ধে ।
    এই কথা গুলো বুঝলাম না। আমি শাহবাগ যেতে পারছি না ঢাকায় না থাকার সুবাদে।আমরা কিন্তু এই স্লোগান টা বলি একাত্তরের হাতিয়ার,গর্জে উঠুক আরেকবার
    পাকিস্তান এর হাতিয়ার কেন গর্জে উঠবে???????? ভুলটা অনিচ্ছাকৃত হলে ঠিক করে নিন।
    পোস্ট ভাল হয়েছে।

  2. ভালো লিখেছেন। তয় কথা আছে,
    জয়

    ভালো লিখেছেন। তয় কথা আছে,

    জয় বাংলা” বলে স্লোগান দেয় এবং ফাকে ফাকে সুন্দরী রমনীদের দিকে লোভাতুর দৃষ্টিতে তাকায়

    প্রতিটা দিন আমি পই পই করে ঘুরে বেরিয়েছি আমি, কথা বলেছি, শুনেছি। চলতে চলতে আমার গায়ের সাথে লেগে থেকেছে কেউ কিংবা আমি কারো গায়ের সাথে। যেদিক জেতে চেয়েছি, জনস্রোত ভাসিয়ে নিয়েছে অন্যদিকে। দৃষ্টি বিনিময় হয়েছে। হাসি বিনিময়। মনে হয়েছে কত ভালোবাসি আমি ওদের আর ওরা আমাকে

    1. এটার মাধ্যমে আপনি একাত্ব্যতা
      এটার মাধ্যমে আপনি একাত্ব্যতা প্রকাশ করেছেন । কিন্তু সত্যিই কিছু যুবক আছে যারা এই মন্ত্রে যায় যেটা আমি দেখেছি আপনার মত চলতে চলতে এক কাতার থেকে অন্য কাতারে হেটে হেটে । তাই খারাপ লেগেছিল বলে উল্লেখ করেছি @শামীমা মিতু

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 62 = 72