তুমি অধম তাই বলে আমি উত্তম হবো না কেন?

ছাত্র জীবনে একটা বাম ধারার ছাত্র সংগঠনের সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করেছি। যদিও আমার প্রাণ প্রিয় সেই ছাত্র সংগঠন আজ কতোটা বামপন্থা ধারণ করে তা নিয়ে আমার নিজের মধ্যেই অনেক সংশয় আছে। সে যাই হোক, দীর্ঘ দিন ছাত্র রাজনীতির সাথে সক্রিয় থাকলেও বাম রাজনীতি সম্পর্কে আমার ধারণা খুব একটা ভালো নয়। এই বিষয়ের উপরে লেখাপড়ারও ঘাটতি রয়েছে বিস্তর। তাই এই বিষয়ে যে কোন আলোচনাতেই আমাকে চুপচাপ দর্শক শ্রোতার ভূমিকা পালন করতে হয়। কেননা যা জানিনা তা নিয়ে আলোচনায় যোগ দিয়ে নিজের মূর্খতা বা অজ্ঞতা সবার সামনে তুলে ধরা মোটেই বুদ্ধিমানের কাজ নয় বলেই মনে করি।

এবারে মূল প্রসঙ্গে আসি। তার আগেই বলে রাখছি আমাকে বাম রাজনীতির সমর্থক ভাবার কোন কারণ নাই। আবার বাম বিদ্বেষীও না। তবে হ্যাঁ, এটা নির্দ্বিধায় বলতে পারি যে, বাম ছাত্র সংগঠনগুলো বরাবরই বিভিন্ন প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে অতীতে এবং এখনও তাদের সেই চেষ্টা অব্যাহত আছে। যেমন, ফুলবাড়ি কয়লা খনি, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র এই সব জাতীয় স্বার্থ পরিপন্থী ইস্যুতে দুই প্রধান দলের ছাত্র সংগঠনগুলোর কোন ভূমিকা না থাকলেও বাম সংগঠনগুলো বিশেষ করে ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফ্রন্ট, ছাত্র ফেডারেশন কিছু ক্ষেত্রে ছাত্র মৈত্রীও নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করছে। তাই তাদের প্রতি রাজনীতি সচেতন একজন নাগরিক হিসেবে কিছুটা সহানুভূতি অবশ্যই আছে আমার। তাছাড়া রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে আমি নিজে যে এই মুভমেন্টে তাদের সাথে মার্চ করতে পারছি না এটাও আমাকে ব্যথিত করে। মনে পরে ২০১০ সালে ঢাকা-ফুলবাড়ি লং মার্চের সময়ের কথা, সেদিন খুবই খারাপ লেগেছিল যখন আমার শহরে লালের বন্যা বইয়ে দিয়ে লংমার্চটা এগিয়ে গেলো ফুলবাড়ির দিকে। সেদিন ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম যার স্ক্রিন শট দিলাম।

অনলাইনে নিয়মিত হওয়ার পর থেকেই অবাক হয়ে লক্ষ্য করছি এই সব ইস্যুতে কাজ করে যাওয়া বাম সংগঠনগুলোর প্রতি এক ধরণের তাচ্ছিল্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটে সরকার সমর্থকদের বিভিন্ন আচরণে। এবং কখনও কখনও তা মাত্রাতিরিক্ত পর্যায়ে চলে যায়। তারপরেও সব ঠিক ঠাক ছিল। এর মধ্যেই গত ৫ ফেব্রুয়ারী কাদের মোল্লার রায়কে কেন্দ্র করে শাহবাগ ভিত্তিক গণজাগরণের সৃষ্টির হলো। দল মত নির্বিশেষে সবাই একই পতাকা তোলে ঐক্যবদ্ধ হলাম আমরা, যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই এই দাবীতে। আন্দোলন শুরুর প্রথম আট দশ দিন সব ঠিক ঠাক চললেও পরে মঞ্চের নেতৃত্ব চলে যায় সরকারী দলের নিয়ন্ত্রণে। সরকার একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মঞ্চকে আগলে রাখলো আবার সময় বুঝে ছুঁড়ে ফেলে দিলো। এক দিকে মঞ্চের উপদেষ্টা অনলাইন জগতের রথী মহারথীদের বাচ্চা মানুষের মতো আচরণ এবং বিভেদ সৃষ্টিতে ইন্ধন দিয়ে যাওয়া অন্য দিকে সরকারের নেক নজর থেকে বঞ্চিত হওয়া, সব মিলিয়ে মঞ্চ হারাতে থাকে হাজারো তরুণের আস্থা।

মঞ্চের যখন এমন একটা অবস্থা তখন তার সম্পূর্ণ দায়ভার চাপিয়ে দেয়া হলো চীনপন্থি বাম রাজনীতির সমর্থকদের উপরে। এবং এর পর থেকেই শুরু হলো অনলাইনে তাদের হেনস্থা করা। প্রথম দিকে চীনা পন্থি বামদের অভিযুক্ত করা হলেও পরবর্তীতে ঢালাওভাবে দায়ী করা হলো বাম রাজনীতির সমর্থকদের।

আসলেই কি তাই? পাবলিক কি দুদু খায় যে, কোন অনলাইন পীর আউলিয়া বয়ান দিলো আর সেটাই চুড়ান্ত সত্য বলে মেনে নিবে?

এই প্রজন্মের তরুণদের একটা বড় অংশ ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া ও তাতে লাইক দেওয়ার কাজটাই জানে শুধু। আর জানে অন্ধের মতো অন্যকে অনুসরণ করতে। নিজের মেধা-বুদ্ধি খাটিয়ে কোন কিছু খতিয়ে দেখার দরকার মনে করে না অনলাইন এক্টিভিস্ট তরুণদের একটা বড় অংশ। কোন কোন ফেসবুক সেলিব্রেটি ফতোয়া দিলেন এই বামরাই সকল নষ্টের গোঁড়া, অমনি শুরু হয়ে গেলো বাম বিদ্বেষ। এমনকি একটা পর্যায়ে এসে যেখানে কথা ছিল কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এই বাংলাকে রাজাকার যুদ্ধাপরাধী মুক্ত করার, সেখানে আমরা উদয় অস্ত নিজেদের ব্যস্ত রাখলাম বিবাদে, বিতর্কে। একটু মতপার্থক্য হলেই কেউ রাতারাতি হয়ে যাচ্ছি জামাতের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী, কেউ আওয়ামীলীগের দালাল, কেউ নাস্তিক, মুক্তমনা বা মৌলবাদী। তুচ্ছ ইস্যু নিয়ে অকারণে বিতর্ক করে আমরা নিজেদের মধ্যে একটা পরিষ্কার বিভাজন সৃষ্টি করলাম।

এরই ধারাবাহিকতায় বা সাইড ইফেক্ট হিসেবে দীর্ঘ সময় অনশনকারী রুমী স্কোয়াডের তরুণরা হয়ে গেলো প্রতিবিপ্লবী, আন্দোলনের পিঠে ছুঁড়ি বসানো রাজাকারের এজেন্ট। বিভিন্ন বাম ছাত্র সংগঠনের সমর্থকরা, বাম দলের নেতা কর্মীরা, বাম ঘরানার সাংস্কৃতিক কর্মীরা, দিনের পর দিন অনলাইনে জামাত শিবিরের বিরুদ্ধে লেখালেখি করে আসা ব্লগার বা অনলাইন এক্টিভিস্টরা হয়ে গেলো চিংকু বাম, চাইনিজ বাম, ঝান্ডু বাম এবং সর্বোপরি রাজাকারের দালাল, রিভার্স খেলা এজেন্ট।

আমি বাম রাজনীতির সমর্থক নই, কিন্তু এটা খুব ভালো ভাবেই বুঝি দেশের বাম সংগঠনগুলোর বড় অংশই সত্যিকার অর্থেই দেশের সার্বিক মঙ্গলের জন্যই কাজ করে। এতে যদি কেউ দ্বিমত করেন তাহলে আমার কিছু বলার নাই। কারণ সেটা হবে সত্যকে অস্বীকার করা। অনলাইনে সরকারী দলের লেবাস ধারী একদল গোঁয়ার এবং দলকানা এক্টিভিস্টের কারণে অবস্থা এমন দাঁড়ালো যে দিনের পর দিন বাম রাজনীতির সমর্থকদের অনলাইনে হেনস্থা করাই নয়, ব্যক্তি পর্যায়ে শুরু হল আক্রমণ। পাশাপাশি শুরু হলো চরম অশ্লীলতা। যখন এসব ঘটছে, যখন চোখের সামনেই দেখতে পারছি দীর্ঘ দিন ধরে প্রগতিশীল আন্দোলন সংগ্রামে সামনের কাতারে থাকা আমার বাম সমর্থক বন্ধুটাকে বা বন্ধুদেরকে ঢালাওভাবে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী এবং মুক্তিযুদ্ধকে দুই কুকুরের কামড়া কামড়ি বলে অভিহিত করা দালাল বানিয়ে ফেলা হচ্ছে তখন স্বাভাবিক কারণেই আর চুপ থাকা সম্ভব হয়নি। নিজের ভিতর থেকেই তাগিদ অনুভব করি এদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর। কারণ বামদের যেভাবে হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে তাতে করে চুপ করে থাকাটা আমার পক্ষে অন্তত সম্ভব ছিল না। যদি বামদের অতীত ইতিহাস, বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে তাদের ভূমিকার কথা না জানতাম তাহলে হয়তো কোন সমস্যা ছিল না। লক্ষ্য করেন আমি নিজে বামপন্থার সমর্থক না হয়েও বামদের পক্ষে বাকযুদ্ধে নেমেছি ত্যক্ত বিরক্ত হয়ে।

যেখানে আমি বাম নাহয়েও ত্যক্ত বিরক্ত হয়ে এই সব ফেসবুক খলিফাদের বিরুদ্ধে কথা বলছি তখন যারা প্রকৃত বাম রাজনীতির ধারক তারা তো আরও বেশী করেই ঐ সব গোঁয়ার খলিফাদের বিরোধিতা করবেন এটাই স্বাভাবিক। হয়েছেও তাই। যদিও বাম পন্থীরা বাধ্য হয়েই নিজ পক্ষের অর্থাৎ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রত্যাশী বন্ধুদের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, তারপরেও আমি মনে করি আমার বাম বন্ধুদের বিরোধিতার ধরণটা সঠিক ছিল না। বাম ধারায় বিশ্বাসী বন্ধুদের মনে রাখা উচিৎ ছিল এই সব অনলাইন পাণ্ডারা আসলে কারা? কি তাদের রেপুটেশন? কি তাদের অতীত? অনলাইনে গলাবাজি করা বাদে অন্য কিছু করার যোগ্যতা এদের আছে কি নেই? কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য আমার বাম বন্ধুরা সেটা চিন্তা না করে সরাসরি বাকযুদ্ধে নেমে গেলেন। এটা তাদের কাছে আশা করিনি কখনই। বাম বন্ধুরা ভুলে গেলেন “তুমি অধম হলে আমি উত্তম হবো না কেন?” এই প্রবাদ বাক্যটা। ফলাফল কি দাঁড়ালো তা তো দেখতেই পারছেন সবাই।

সামনে নির্বাচন, বর্তমান সময়টা বাংলাদেশের রাজনীতিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা সময়। আগামী কালের বাংলাদেশ কেমন হবে তাও নির্ভর করছে বর্তমান সময়ে যা চলছে তার ফলাফলের উপরে। তাই সময়টা এখন সব কিছু ভুলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যুদ্ধাপরাধী মুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করে যাওয়ার, নিজেদের মধ্যে বিভেদের নয়। আর এই ক্ষেত্রে মূল ভূমিকাটা গ্রহণ করতে হবে আমার বাম বন্ধুদেরকেই। কারণ, তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে অনলাইনে যারা আবির্ভূত হয়েছেন তাদের কাছে খুব বেশী কিছু কি প্রত্যাশা করা যায়? যারা সকালে এক কথা বলেন আবার বিকালে বলেন অন্য কথা তাদের উপরে কি ভরসা করা যায়? কিন্তু আমার বাম বন্ধুরা তো সবাই মাঠে ময়দানের রাজনীতির লোক, তাই তাদের কাছেই আমাদের সব প্রত্যাশা। ফেসবুক বা অনলাইনের বঙ্গবন্ধু প্রেমিক বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার হোল সেল এজেন্সি নিয়ে বসা গোঁয়ারদের কাছে আমি অন্তত ভালো কিছু আশা করি না। ভালো কিছু আউটপুট তাদের মাধ্যমে অর্জিত হবে এটাও বিশ্বাস করি না। কিন্তু বাম বন্ধুরা আপনাদের উপরে অনেক প্রত্যাশা, শুধু আমার নয়, আমার মতো আরও অনেক অনেকের। তাই সরকারের শেষ সময়ে যখন আরও একটা নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে সেই সময়ে আপনাদেরকে আরও কৌশলী হতে অনুরোধ করছি। বিশেষ করে বেশ কয়েকদিন পরে ইষ্টিশন ব্লগে এসে দেখলাম আনিস রায়হান ভাইয়ের আওয়ামী সন্ত্রাস তুঙ্গে পোস্টটা নিয়ে অনেক আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি পোস্টটার শিরোনামটা মোটেই যুক্তিযুক্ত নয়। তৃণমূল পর্যায়ের কিছু ঘটনা দিয়ে পুরো আওয়ামীলীগকে অভিযুক্ত করা যায় না। আমি যা বলতে চাইতেছি আমার বাম ঘরানার বন্ধুদের কাছে তা হচ্ছে, এই মুহূর্তে এমন পোস্ট বিভ্রান্তিই সৃষ্টি করতে পারে। না আপনাদের বা আওয়ামীলীগের, কারোই কোন রাজনৈতিক উপকারে আসবে না। বাম রাজনীতির সমর্থক বন্ধুরা, আমরা জানি আপনাদের মূল লক্ষ্য উদ্দেশ্য শুধু ক্ষমতা দখলের রাজনীতি নয়। কিন্তু তারপরেও রাজকারমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শেষে এবং ঘোষিত রায় বাস্তবায়নের স্বার্থেই আমাদেরকে কৌশলী হতে হবে। রাজনীতিতে স্ট্রাটেজি একটা বড় ফ্যাক্টর। আমার মনে হয় এই মুহূর্তে আপনাদের সঠিক স্ট্রাটেজি গ্রহণ করা উচিৎ জাতীয় স্বার্থের কথা ভেবে এবং দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আওয়ামীলীগের বিকল্প কোন অর্থেই বিএনপি জামাত হতে পারে না। আবার আমরা যারা আওয়ামীলীগ বা বিএনপি কাউকেই সমর্থন করি না তাদের কাছে তৃতীয় কোন অপশনও নাই। তাই ভবিষ্যতে নিজেদের আদর্শিক রাজনীতি চর্চা করার প্লাটফর্মটা তৈরির জন্য হলেও যে কোন মূল্যে আগামী নির্বাচনে আওয়ামীলীগ নামের এই “কানা মামাটাকেই” জয়ী করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন। কেননা, নাই মামার চেয়ে কানা মামাই ভালো।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৮ thoughts on “তুমি অধম তাই বলে আমি উত্তম হবো না কেন?

  1. আনিস ভাইয়ের লেখাটা আমি
    আনিস ভাইয়ের লেখাটা আমি পড়েছি। বিব্রান্তিকর কিছু পাই নাই। উত্তলনের ব্যাপাঅরটা কিছুটা অস্পষ্ট। বাট কোনো গাবলা দেখি নি।

    এখন ব্যাপাঅরটা হচ্ছে যুদ্ধপর্ধাঈ মুক্ত দেশটা কখন পাবো তা নিয়ে আমি সংকিত। কাঅরণ সরকারী এই বিশাল দলটার মধ্যে কি আপনি একটা রাজাকার নাই বলে আপনি মনে করেন??

    অতঃপর বাম দলের চিন্তা ভাবনা কতটা আদর্শিক তা নিয়েও আমার গাবলা, তারা যদি নিজেদের স্বাধীন চেতা একটা দেশীয় দলের অন্তর্ভুক্ত ও করে যায়, তবুও দলটার কিছু উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা কিন্তু মাশাআল্লাহ প্রতিনিয়ত সরকারের কথায় উঠছে আর বসছে।

    1. ধন্যবাদ ভাই। আমি আনিস ভাইয়ের
      ধন্যবাদ ভাই। আমি আনিস ভাইয়ের পোস্টেও কমেন্টে বলেছি মূল লেখার সাথে আমার কোন দ্বিমত নাই, কিন্তু দ্বিমতটা শুধু টাইটেলটা নিয়ে। আর বিভ্রান্তিকর বলাটা হয়তো ভাষাগত ভুল হয়েছে আমার। যদি তাই হয় তাহলে সরি। কিন্তু বুঝাতে চেয়েছি এই মুহূর্তে ঐ পোস্টটা আমাদের বিপক্ষে যাবে। আমাদের বলতে দল মত নির্বিশেষে যারাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রত্যাশী, তারা।

      হ্যাঁ, আসলেই কবে যুদ্ধাপরাধীমুক্ত বাংলাদেশ আমরা পাবো বা আদৌ পাবো কি না, এই প্রশ্নটা শুধু আপনারই নয় আপনার আমার মতো আরও অনেকেরই। আর সরকারী দলে রাজাকার আছে কি নেই সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলার নাই। তবে এটুকু তো হচ্ছে যে স্বীকৃত শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী তাদের অন্তত বিচার চলমান। কয়েকজনের রায়ও হয়েছে। দেখেন ছোট থেকে রাজাকার বলতে যে চেহারাটা মানস পটে ভেসে উঠে তা হচ্ছে গোলাম আজমের। তো সেই গোলাম আযম নিজামী সাইদী গংদের বিচার তো হচ্ছে। এটাকেই আপাত প্রাপ্তি ধরে নিতে হচ্ছে এবং আগামীতে ভালো কিছু পাওয়ার জন্য এই সরকারকে সুযোগ দেয়াটাই মনে হয় বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এটা আমার একান্ত ব্যক্তিগত মতামত। ভিন্নমত থাকতেই পারে।

      আর বাম ঘরানার দলগুলো সম্পর্কে আমার মূল্যায়ন তো বলেছি, আমি তাদের কর্মকাণ্ড পছন্দ করি। কিন্তু আজ পর্যন্ত তারা একটা সংগঠিত শক্তি হয়ে উঠতে পারেনি এটাই তাদের প্রধান ব্যর্থতা। যদি এই দিক দিয়ে তারা সফল হতো তাহলে তৃতীয় অপশন খুঁজতে এতো বেগ পেতে হতো না। আবারও ধন্যবাদ। :ধইন্যাপাতা:

  2. আপনার এই পোস্টটা আপনার
    আপনার এই পোস্টটা আপনার পূর্বের পোস্টগুলার সাথে মিলাতে পারছি না। কেন জানি মনে হচ্ছে আপনি দুই নৌকায় পা দেয়া যাত্রী। সরি যা মনে হয়েছে তাই লিখলাম। ইনিয়ে বিনিয়ে আপনি বামদের পক্ষেই বলেছেন। এটা হতে পারে। তবে সেটা সরাসরিই বলা যেতো। আর আসলেই কি আপনি যে ঐক্যের কথা বলতে চাইছেন তা সম্ভব? আমার কাছে উত্তর না। বাম ধারার রাজনীতি করা কি এই দেশে অপরাধ নাকি? বারবার বামদেরকেই কেন ত্যাগ স্বীকার করতে হবে? কেন আপনি অনলাইনে যাকে তাঁকে ট্যাগ দেয়াদের কাছে কোন আহ্বান জানালেন না? ঠ্যাকাটা কি শুধু বামদের?

  3. হা হা হা হা ………… কি
    হা হা হা হা ………… কি যে বলি!! ভাই মৃদু ভাষণ, ব্লগ জিনিসটা আসলে কি? আপনি আপনার মনের কথা বলবেন এবং সেটা বলার একটা প্লাটফর্মই তো, তাই না? আমি আমার কাছে যা ভালো মনে হয়েছে বা আমি যেভাবে চিন্তা করি সেটাই বলছি। এতে যদি আপনি মনে করেন আমি দুই নৌকায় পা দিয়ে চলতেছি তাহলে আমার আর কি বলার আছে বলেন? আর কেন ট্যাগ দেয়ার ঠিকাদারী নেয়া অনলাইন গডফাদারদের কাছে আহ্বান বা অনুরোধ করিনি সেটা সম্ভবত আর একবার পোস্টটা পোড়লে বুঝতে পারবেন। তাও বলছি, আহ্বান বা অনুরোধ তাদেরকেই করা যায় যেখানে আপনার আহ্বান বা অনুরোধের মূল্যায়ন না হলেও কটূ কথা শুনতে হবে না। আপনার কি ধারণা তাদেরকে এসব বলে কোন লাভ আছে? নাই। তাই তাদেরকে বলি নাই। ধন্যবাদ সরাসরি মন্তব্য করার জন্য। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  4. অল্প কিছু জায়গায় দ্বিমত
    অল্প কিছু জায়গায় দ্বিমত থাকলেও বেশীর ভাগ কথার সাথে একমত। ভালো বলেছেন। তবে উদ্যোগ কিন্তু সকল পক্ষ থেকেই কমবেশি হতে হবে। সমান না হলেও একেবারে শূন্যও নয়।

    1. তা তো অবশ্যই। এক পাক্ষিকভাবে
      তা তো অবশ্যই। এক পাক্ষিকভাবে কোন কিছুই আশা করা উচিৎ না। তা সম্ভবও না। কিন্তু অনলাইন বঙ্গবন্ধু প্রেমিদেরকে আমি আসলে মেইন স্ট্রীম রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত কেউ মনে করি না। ওরা যা করছে নিজেদের দায়িত্বে করছে, যদিও লসটা লীগেরই হচ্ছে, তাই তাদেরকে আহ্বান জানাই নাই। ধন্যবাদ আতিক ভাই।

  5. রাজনৈতিক বিষয়গুলো আমি কম
    রাজনৈতিক বিষয়গুলো আমি কম বুঝি।তাই বেশির ভাগ রাজনৈতিক পোস্টেই আমি মন্তব্য এড়িয়ে যাই।শুধু পোস্টগুলো পড়ি।কারণ যা জানিনা তা নিয়ে উটকো মন্তব্য করা ঠিক না।তবে আপনার পোস্টে এইটুকু পরিষ্কার বুঝলাম,যে যাই বলুক কানা মামার আমাদের বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রয়োজন আছে।নতুবা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে একটা গন্ডগোল হবে।হয়তো শাস্তি কার্যকরই হবে না।তাই আপনার সাথে পূর্ণ সহমত পোষণ করছি।

    1. আসলে এই মুহূর্তে মানে আগামী
      আসলে এই মুহূর্তে মানে আগামী নির্বাচনের আগে বা নির্বাচনে আমাদের কাছে তো কোন অপশন নাই। তাই দুইটা মন্দের মধ্যে যেটা কম মন্দ সেটাকেই গ্রহণ করা উচিৎ, এটাই বলতে চাইছি।

  6. বেশ কয়েকদিন পরে ইষ্টিশন ব্লগে
    বেশ কয়েকদিন পরে ইষ্টিশন ব্লগে এসে দেখলাম আনিস রায়হান ভাইয়ের আওয়ামী সন্ত্রাস তুঙ্গে পোস্টটা নিয়ে অনেক আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি পোস্টটার শিরোনামটা মোটেই যুক্তিযুক্ত নয়। তৃণমূল পর্যায়ের কিছু ঘটনা দিয়ে পুরো আওয়ামীলীগকে অভিযুক্ত করা যায় না।
    – সহমত ।

  7. আপনার সাথে সহমত ভাই। আমি
    আপনার সাথে সহমত ভাই। আমি জানতাম আপনি এর প্রতিউত্তর দিবেনই । এটারই অপেক্ষায় ছিলাম।

    আপনি আনিস ভাই এর পোস্টেই হয়তো লক্ষ্য করেছেন যে আমি আপনার উত্তরের অপেক্ষায় ছিলাম আজ পেলাম।

    আনিস ভাইকে পোস্টটি পড়ার অনুরোধ রইলো।

    যদিও রাজনীতি কম বুঝি তবে এটা স্পষ্টত বুঝতে পারছি যে এখন আমাদের দরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী নতুন এক দলের অন্যথায় আওয়ামিলীগের বিকল্প নেই।

    1. আমি জানতাম আপনি এর প্রতিউত্তর

      আমি জানতাম আপনি এর প্রতিউত্তর দিবেনই । এটারই অপেক্ষায় ছিলাম।

      উহু, হইলো না। আমি আনিস ভাইয়ের পোষ্টের প্রতি উত্তর দেই না। তাছাড়া আনিস ভাই লেখেন ব্যাপক তথ্য ভিত্তিক, তাই তার পোষ্টের প্রতি উত্তর দিতে গেলে আমাকেও অনেক তথ্য পরিসংখ্যানের আশ্রয় নিতে হবে, যা আমার পক্ষে সম্ভব না। আমি শুধু এই মুহূর্তে আমাদের কি করা উচিৎ তা সম্পর্কে আমার মতামতটা জানাইছি মাত্র। আর শেষ লাইনে যা বলেছেন আমি খুব দৃঢ়ভাবে সেটা বিশ্বাস করি। আসলেই এখনও আমাদের সামনে আওয়ামীলীগের বিকল্প কোন শক্তি নাই। তাই যতো দিন নাই, ততো দিন তো তাদেরকেই আপন ভাবতে হবে, অন্তত বিএনপি জামাতের সাথে তুলনা করলে। ধন্যবাদ দুরন্ত জয়। :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

    2. এক্ষেত্রে তারিক লিংকন ভাই
      এক্ষেত্রে তারিক লিংকন ভাই হয়তো ঐ পোষ্টের প্রতি উত্তর দিতে পারেন। তিনি অবশ্য ঐ পোষ্টের কমেন্টে চেষ্টাও করেছেন বিভিন্ন তথ্য উপস্থান এবং ব্যাখ্যা করে।

  8. বর্তমান প্রেক্ষাপটে

    বর্তমান প্রেক্ষাপটে আওয়ামীলীগের বিকল্প কোন অর্থেই বিএনপি জামাত হতে পারে না। আবার আমরা যারা আওয়ামীলীগ বা বিএনপি কাউকেই সমর্থন করি না তাদের কাছে তৃতীয় কোন অপশনও নাই। তাই ভবিষ্যতে নিজেদের আদর্শিক রাজনীতি চর্চা করার প্লাটফর্মটা তৈরির জন্য হলেও যে কোন মূল্যে আগামী নির্বাচনে আওয়ামীলীগ নামের এই “কানা মামাটাকেই” জয়ী করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন। কেননা, নাই মামার চেয়ে কানা মামাই ভালো।

    ভালো লাগলো লাইন কয়টা। আমি ফেসবুক স্ট্যাটাস দিলাম। ধন্যবাদ ভাই উত্তর বাংলা।

  9. বাম রাজনীতি নিয়ে দলকানা
    বাম রাজনীতি নিয়ে দলকানা ফেসবুক সেলেব্রেটির নোংরা মতাদর্শ থেকেই বাম রাজনীতির উপর কিছু মানুষের ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হয়েছে। আসলে অধিকাংশ দলকানারা স্বার্থবাদী। গণজাগরণ মঞ্চে প্রথমে লীগই সমর্থন জানায়। কিন্তু একের পর এক বিতর্কিত কর্মকান্ড গণজাগরণ মঞ্চকে নির্বিষ করে দেয়। আমি এখনো গণজাগরণ মঞ্চের অনাকাঙ্খিত পতনের জন্য ইমরান কে দায়ী করি। বিশাল তারুণ্যের দিকহারা গর্জনকে সে বিজ্ঞতা দিয়ে যাচাই করলে এই হাল দেখতে হত না। এভাবে ধীরে ধীরে ইমরান এ-টি ব্লগারদের (ডাক্তার আইজূ,দূর্যোধন ইত্যাদি) ক্ষোভের কারণ হয়ে যায়। অন্ধ অনুসরণকারী প্রায় সব তরুণ সমাজ তাদের নিজস্ব ধ্যান ধারণা বিকিয়ে দিয়ে বাম বিরোধী হয়ে পড়ে। এভাবেই সমস্ত দায় চেপে যায় বামদের কাঁধে। অথচ আন্দোলন যখন স্বতঃস্ফুর্ত ছিল তখন বামদের নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলেনি কেউ। বরং সবাই তখন যেন উদারমনা দার্শনিক। বিশেষ করে ড়াসেল ড়হমান নামে এক ফেসবুকীয় পীরের কিছু পালা কুত্তা বাহিনী আকস্মাৎ বামদের উপর চড়াও হয়। সিপি গ্যাং ও প্রকাশ করে নাস্তিকের লিস্ট! বাহ! এভাবেই দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে আওয়ামী সমর্থকরা। একগানে স্পষ্ট যে বামদের নিজস্ব কিছু সমাজতান্ত্রিক চিন্তা ধারা আছে, কিন্তু ভন্ড দলকানাদের কোনো নিজস্ব মতাদর্শ নাই। ধর্মান্ধ আর দলকানা দুই শ্রেণীই মুলত একই।

    কয়েকদিন আগেই আইজূর একটা স্ট্যাটাস দেখেছি। সেখানে আবাল আইজূ বলেছে গণজাগরণ মঞ্চে বামদের উপস্থিতি লীগের পরাজয়ের মূল কারণ। বাহ!!!! শিবির যুদ্ধপরবর্তী সময়েই লীগকে নাস্তিক সরকার বানিয়ে দিয়েছে। গণজাগরণ মঞ্চ থাকলেও এই অপপ্রচার চলবে না থাকলেও চলবে। আগে চাই, মানুষের উগ্র ধার্মিকতা পরিহার। নয়তো এমন অপপ্রচার স্বাভাবিক। এখানে কারো কোনো হাত নেই। বাম রাজনীতি টিকে থাকুক। ছ্যাঁছড়া লীগ সমর্থকদের আক্রমণ হতে বামদের মুক্তি দিতে সরকারকেই প্রথমে পদক্ষেপ নিতে হবে। ফেসবুক দিয়ে কিচ্ছু হবেনা। ফেসবুকের আবাল জনতা শুধু লাইক দিতে জানে, তাদের পক্ষে মুক্তচিন্তা সম্ভব না। তারা সবাই নির্দিষ্ট পীরের মুরিদ।

    1. আসলে অধিকাংশ দলকানারা

      আসলে অধিকাংশ দলকানারা স্বার্থবাদী।

      এটাই আসল কথা। বামদের মধ্যে কিছু আছে খুবই নাক উঁচু টাইপের। এদের ইগো ফ্যাক্টর এতো বেশী যে এই কারণেই তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় মুলধারার থেকে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 63 = 64