কাদের মোল্লার রায়, তা নিয়ে আন্দোলন এবং আমার প্রতিক্রিয়া

বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের অন্যতম নির্বাচনী ইশতেহার দিয়েছিলো চিহ্নিত যুধাপরাধীদের বিচার করা এবং এটির উপরে ভিত্তি করে চল্লিশ বছর ধরে অপেক্ষমান বাঙালি জাতি এবং এই প্রজন্মের তরুন সমাজ ভোটের মাধ্যমে তাদের রায় দেয়।

মহাজোট ক্ষমতায় এসে প্রথম সংসদ অধিবেশনে যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিল প্রস্তাব করে এবং সেটি পাশ হয়।এরপর শুরু হয় ট্রাইব্যুনাল গঠন প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে অন্যান্য কাজ।
কিন্তু আমরা সহজেই কথার ছলে মন্তব্য ছুড়ে দেই এই সরকার এই বিষয়টি নিয়ে সময় পার করে দিয়েছে,কিন্তু ভালো করে এই নিয়ে জানতে গেলে বেরিয়ে আসে অনেক কিছুই।বিচারপতি নিয়োগ থেকে শুরু করে প্রত্যেক পদে পদেই ছড়িয়ে ছিলো যুদ্ধাপরাধীদের দোসরেরা এবং এখনো আছে।এছাড়াও পর্যাপ্ত পরিমানে স্বাক্ষী পাওয়া একটা বিরাট সমস্যা এক্ষেত্রে।আর এই ট্রাইব্যুনাল সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবেই তার কাজ পরিচালনা করছে যাতে করে আগামীতে কোন কুচক্রী মহল এই ট্রাইব্যুনালের উপর কোনরকম কালিমা লেপন করতে না পারে।

অনেক প্রতিকুলতার পরেও আমরা দেখেছি এই যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির রায় ঘোষণা করেন আর তাতে পুরো জাতির মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাপ্রেমী জনগণ আনন্দে উচ্ছসিত হয়েছিল কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয় সেই একই ট্রাইব্যুনাল থেকে একাত্তরের ঘৃণ্য যুদ্ধাপরাধী মিরপুরের কসাই কাদেরের রায় হয় যাবজ্জীবন।এতে পুরো জাতি রীতিমতো স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।অনেকের মুখে একটি কথা উঠে আসছে বাচ্চু রাজাকারের যদি ফাঁসির রায় হয় তাহলে কসাই কাদেরের কেন যাবজ্জীবন? এরকম আরো অনেক কথা উঠে আসে।কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাপ্রেমী এই প্রজন্ম থেমে থাকেনি।আমরা নেমে পড়েছি রাস্তায়,আমাদের দাবী একটাই এই রায় মানিনা।আব্দুল কাদের মোল্লার দ্বারা শুধু ঐ মিরপুরই ক্ষতিগ্রস্থ হয়নি প্রকারান্তে পুরো বাংলাদেশ এই বিচারের ভিকটিম।তাই এই বাঙালি জাতি এবং তার নতুন প্রজন্ম এই রায়ের বিপক্ষে গিয়ে আওয়াজ তুলেছে আর তাতে এই বাংলার আপামর জনসাধারন সমর্থন দিয়েছে।

প্রথমে শুরু হয়েছিলো ঢাকাতে ব্লগারস এন্ড অনলাইন এক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের উদ্যোগে এরপর চট্টগ্রামে সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী তরুণ উদ্যোগ এবং চট্টগ্রাম অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরামের উদ্যোগে।হয়ত এখানে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে অনলাইন এক্টিভিস্টরা কেন এভাবে তৎপর এই বিষয় নিয়ে? তার সহজ উত্তর হলো আজ এই গণ জাগরন কিন্তু মোটেও একদিনের ফসল নয় সুদীর্ঘ দিন ধরেই এক্টিভিস্টগণ অনলাইনে এইসকল বিষয় নিয়ে লড়াই করে চলেছে।কী-বোর্ড দিয়ে প্রচুর সংগ্রামের পর এখন রাস্তায় নেমেছে এক্টিভিস্টগন।আমাদের দাবী এই রায় মানিনা আমরা আর যতদিন পর্যন্ত এই রায় বাতিল করা হবে না ততদিন আমরা রাজপথ ছাড়বো না এবং এও সুস্পষ্ট করেই জানিয়ে দিতে চাই আমরা মোটেও কোনভাবেই এই ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে নই কেউ যদি বলে আমাদের এই আন্দোলন ট্রাইব্যুনাল বাতিলের জন্য তবে সেটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন আর আমাদের এই আন্দোলন শুধুমাত্র প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতাপ্রেমীদের নিয়েই এখানে কোন প্রচলিত রাজনৈতিক দল নেই আমরা সেসকল দলের বিরুদ্ধে যারা রাজাকারদের সমর্থন করে বা দেয়।

তবে এখানেই শেষ নয়,একদিকে যেমন আমরা লড়াই করে চলেছি তেমনি কুচক্রী মহলও সক্রিয় হয়ে উঠছে অনলাইনে।তারা নানা কৌশলে অপপ্রচার ছড়াচ্ছে,কখনো বলছে অমুকে ফাঁসি খেয়েছে,কখনো বলছে এটা লীগের কারসাজি,কখনো বলছে ধর্ষিত হয়েছে কেউ,কখনো বলছে মদপানের উন্মুক্ত আসর এমনকি তারা ধর্মের ফতোয়া দেয়া শুরু করেছে।তবে আমরাও থেমে নেই ধরে ধরে তাদের প্রত্যেকটা মিথ্যাচারের সমুচিত জবাব দিয়ে চলেছি,তারা হয়তো ভেবেছিল সকল এক্টিভিস্টগন এখন রাস্তায় আর অনলাইন মাঠ ফাকা তাই ফাকা মাঠে গোল দিতে সুবিধা হবে কিন্তু আমি তাদের জানিয়ে দিতে চাই আমরা অনলাইন এক্টিভিস্টগণ এতো বোকা নই।

আবার আমাদের গণজাগরন মঞ্চেও কিন্তু চক্রান্তের শেষ নেই,এক সময় যারা অনলাইনে রাজনীতির বিরুদ্ধে ছিলো আজ তারা প্রচার পেতেই মাঠে নেমেছে।আমার নিজের হাতেই যথেষ্ট প্রমাণ আছে যারা এক সময়ে ফাঁসির বদলে অন্য সাজা দাবী করেছিলো তারাই আজ ফাঁসির দাবীতে মাঠে নেমেছে,যারা জামাতের রাজনীতি বন্ধের বিপক্ষে ছিলো তারাই এখন জামায়াতের রাজনীতি বন্ধের শ্লোগান দিচ্ছে আবার কেউ কেউ রাজাকারের লবিস্টদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে আন্দোলনে বিপ্লবী হয়েছে এবং তা শুধু মাত্রই ব্যক্তিস্বার্থের জন্য।এও দেখেছি এককালে শিবিরের সাথে চলাফেরা করা অনেকেই এখন এই দাবীতে রাস্তায়।অনেকে আবার দলীয় স্বার্থ হাসিলে ইতিহাস নিয়েও নোংরামি শুরু করেছে।এই শ্রেণীর সকলের উদ্দেশ্যে বলতে চাই এসব কিছু আমাদের কাছে মোটেও নতুন নয় দিনরাত এইরকম হাজারো নোংরামির বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করে চলেছি এবং প্রতিনিয়ত জয়ী হয়েই ফিরছি আর আগামীতে প্রত্যেক আন্দোলনে জয়ী হবো।

বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত।

জয় বাংলা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “কাদের মোল্লার রায়, তা নিয়ে আন্দোলন এবং আমার প্রতিক্রিয়া

  1. জামাতী প্রতিষ্ঠান বর্জনের
    জামাতী প্রতিষ্ঠান বর্জনের ঘোষনা আরো স্পষ্টভাবে উচ্চারিত হতে হবে।একঘরে করে দেবার এমন সুযোগ হেলায় ছেড়ে দেবার কোন অর্থ হয় না।

  2. সকল ধরনের অপপ্রচার থেকে সবাই
    সকল ধরনের অপপ্রচার থেকে সবাই যেন আমরা সতর্ক থাকি এবং অপপ্রচারের বিরুদ্ধে জবাব দিতে কুণ্ঠাবোধ না করি। আমাদের ঐক্যই আমাদের শক্তি। কারন আমরা ন্যায়ের পক্ষে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 + 4 =