আমরা মৃত্যুঞ্জয় হয়েই আছি

বাসায় ফেরা সময় এক বড় ভাই সাবধানে থাকার কথা বললো। সারাদেশে গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীদের উপর হামলা হচ্ছে তার প্রেক্ষিতে তিনি আমাকে খুব সাবধানে চলাফেরা করতে বলেছেন।

তাকে বলেছি মৃত্যু অবধারিত জেনেই স্রোতের প্রতিকূলে দাড়িয়েছি। যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, দেশ বিরুধী প্রতিক্রিয়াশীল চক্র জামাত-শিবির স্বাধীনতা যুদ্ধে সরাসরি বিরুধীতা করার পরও এদেশে রাজনীতি করতে পেরেছে আর রাজনীতির অঙ্গনকে যথেষ্ঠ প্রভাবিত করে মন্ত্রী পর্যন্ত হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে দাড়ানোটা চাট্টিখানি কথা নয়। যারা নিষিদ্ধ থাকার পরও রাজনীতি করার অধিকার পেতে পারে তাদের ক্ষমতাকে ছোটা করে ভেবে আমরা গণজাগরণের সাথে একাত্ত হইনি।

বরং আগেই জেনেছি সাপের লেজে পা দিয়ে যখন ফেলেছি সাপের ছোবল খেতেই হবে। ছোবলে ছোবেল নীল বিষে ছেটে গেলেও গণজাগরণের কর্মীরা পিছু হটার নয়। দেশের একটার পর একটা ক্ষেত্র, একটার পর একটা ব্যক্তি, সংগঠন জামাত-শিবিরের কাছে পাছা বিক্রি করে দিলেও গণজাগরণের একজন কর্মীও তাদের দাবী থেকে পেছপা হবে না। সবগুলা যুদ্ধাপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তির আগে আমরা থেমে যাবো না।

মৃত্যু তো একজন ব্যক্তির সমাপ্তি মাত্র, কিন্তু একটা মৃত্যু চেতনার যে বীজ রোপন করে যাবে তা একদিন বিশাল মহীরুহে পরিণত হবে। ধরেন, আমার মৃত্যু হয়েই গেলো। এক্ষেত্রে আমার ছেলেরা জানবে তাদের বাবা দেশ মাতৃকাকে কলংক মুক্ত করার জন্য প্রতিক্রিয়শীলদের বিরুদ্ধে দাড়িয়েছিলেন বলে মারা গেছেন। কি পরিমাণ ঘৃনার সাথে তাদের স্মরণ করবে ভেবেছেন? এটাই আমাদের বিজয়। আমাদের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে জন্ম নেবে একেকটা বারুদ, এই বারুদগুলো একদিন অগ্নিস্ফুলিঙ্গের জন্ম দেবে, দাবানলের মত গ্রাস করে নেবে সকল অপশক্তিকে।

আমরা মৃত্যুর ভয়ে ভীত নই, বরং মৃত্যুর মন্ত্রেই দীক্ষিত। আমাদের প্রেরনা লাখো শহীদ। আমরা মৃত্যুর মধ্য দিয়েই অমরত্ব লাভ করবো।

তিনি আর কি বলবেন? বললেন আপনাদের জয় হোক।
[ তিনি আমার বয়সে বড় হলেও আমাকে আপনি বলেই সম্বোধন করেন[

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৮ thoughts on “আমরা মৃত্যুঞ্জয় হয়েই আছি

  1. মৃত্যু তো একজন ব্যক্তির

    মৃত্যু তো একজন ব্যক্তির সমাপ্তি মাত্র, কিন্তু একটা মৃত্যু চেতনার যে বীজ রোপন করে যাবে তা একদিন বিশাল মহীরুহে পরিণত হবে।”

    যথার্থ বলেছেন পৃথ্যুদা। আমরা এত সহজে ছেড়ে দেবোনা। প্রয়োজনে কাবুলিওয়ালার মত লেগে থাকবো। বাঘের গুহায় যেসব শুয়োররা ঢুকে নিজেদের হিংস্র রাজত্ব তৈরীর চেষ্টা করছে,আমরা তাদের এই হিংস্রতার জবাব অক্ষরে অক্ষরে দেবো। এদেশের ইঞ্চি ইঞ্চি মাটি, সোনার চাইতে খাঁটি;নগদ রক্ত দিয়ে কেনা! এই মাটিতে রাজাকারের ঠাঁই হবেনা।

    আমাদের বুকের রক্ত দিতে হবেনা, স্বজন হারাতে হবেনা, স্টেনগান হাতে নেমে পড়তে হবেনা হায়েনা নিধনে, বুকে মাইন বেঁধে আত্মঘাতী হামলা করতে হবেনা, শুধু চাই এক ফোঁটা জাতীয়তাবোধ আর দেশপ্রেম। আমরা পারবোই। একে একে সব ষড়যন্ত্রের বিষদাঁত আমরা ভেঙে দিয়েছি। প্রমান যা করার তা করেছি, এবার অনুসিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেটা বিশ্বকে দেখিয়ে দেবার পালা।

    লেট’স ব্রিং আউট অ্যা রিভিলিউশ্যন।

  2. অনলাইনে সবাই যদি এভাবে ভাবতে
    অনলাইনে সবাই যদি এভাবে ভাবতে পারতো!! আমি খুবই অবাক হই যখন দেখি আমাদের এক এক জন সহযোদ্ধা শিবিরের হামলার শিকার হচ্ছে, সাথে সাথে একটা আমাদের সহযোদ্ধাদেরই একটা বড় অংশ হা হুতাশ শুরু করে দেয় ফেসবুকে। একটার পর একটা নেগেটিভ পোস্ট দিয়ে যায়। এতে করে যে মাঠে নামার আগেই আমরা অর্ধেক হেরে যাচ্ছি সেটা তাদের মাথায় আসেনা। আমি শুধু এটুকু বুঝি জীবনের মায়া আমাদের থেকে তাদের অনেক অনেক বেশী। একবার প্রতিরোধ গড়ে তুললে দেখা যাবে “মরলে শহীদ বাঁচলে গাজীর নমুনা”। আপনাকে অনক ধন্যবাদ এভাবে নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করার জন্য। আশাকরি ফেসবুকেও নিয়মিত এই টাইপের পোস্ট দিয়ে অন্যদের অনুপ্রাণিত করবেন। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  3. আমরা মৃত্যুর ভয়ে ভীত নই, বরং
    আমরা মৃত্যুর ভয়ে ভীত নই, বরং মৃত্যুর মন্ত্রেই দীক্ষিত। আমাদের প্রেরনা লাখো শহীদ। আমরা মৃত্যুর মধ্য দিয়েই অমরত্ব লাভ করবো।
    – সহমত ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 + = 10