ভাওয়াইয়া সম্রাট আব্বাস উদ্দিন আহমদ

একজন কণ্ঠশিল্পী হিসেবে আব্বাস উদ্দীন আহমেদের পরিচিতি দেশজোড়া। আধুনিক গান, স্বদেশী গান, ইসলামি গান, পল্লীগীতি, উর্দুগান সবই তিনি গেয়েছেন। তবে পল্লীগীতিতে তার মৌলিকতা ও সাফল্য সবচেয়ে বেশি। তিনি প্রথমে ছিলেন পল্লীগায়ের একজন গায়ক। কোন প্রকার তালিম ছাড়াই নিজ চেষ্টায় গান গাওয়া রপ্ত করেন। রংপুর ও কুচবিহার অঞ্চলের ভাওয়াইয়া, ক্ষীরোল চটকা গেয়ে আব্বাস উদ্দীন প্রথমে সুনাম অর্জন করেন। তারপর জারি, সারি, ভাটিয়ালি , মুর্শিদি, বিচ্ছেদি, দেহতত্ত্ব, মর্সিয়া, পালা গান ইত্যাদি গান গেয়ে জনপ্রিয় হন। তিনি তার দরদভরা সুরেলা কণ্ঠে পল্লি গানের সুর যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন তা আজও অদ্বিতীয়। তিনিই গ্রাম বাংলার পল্লীগীতিকে শহুরে মানুষের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। বৃহত্তর রংপুর, দিনাজপুর, পশ্চিম বাংলার কুচবিহার, জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর, আসামের ধুবরি, কোঁকড়া ঝাড়সহ বিস্তৃন্ন অঞ্চলের নদী অববাহিকার মানুষের প্রাণের গান ভাওয়াইয়া। ভাওয়াইয়া এ অঞ্চলের মানুষের সংস্কৃতিকে করেছে সমৃদ্ধ। দু:খ-বেদনা, সুখ-সমৃদ্ধি সর্বোপরি যাপিত জীবন উঠে এসেছে ভাওয়াইয়া গানের কথায়-সুরে। অতি প্রাচীন গান ভাওয়াইয়াকে যিনি আরও আলোকিত করেছেন তিনি হচ্ছেন ভাওয়াইয়া সম্রাট আব্বাস উদ্দিন আহমদ।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত গান ‘ও মন রমজানেরই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’ গানটি প্রথম গেয়েছিলেন আব্বাস উদ্দিন আহমদ। এই গানটি এমন একটি গান যে গান না শুনলে আমাদের সংস্কৃতিতে রোজার ঈদকে ঈদই মনে হয় না। সেই ঐতিহ্যবাহী গানের সঙ্গীত শিল্পী আমাদের দেশজ গানের সুশীল মনের মানুষ আব্বাস উদ্দীন আহমদ ১৯০১ সালের ২৭ অক্টোবর তৎকালীন ভারতের কুচবিহার জেলার তুফানগঞ্জ মহকুমার বলরামপুরে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা জাফর আলী আহমেদ ছিলেন জজ আদালতের আইনজীবী। একজন আইনজীবী হিসেবে সন্তানকেও গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন আইনজীবী হিসেবে। কিন্তু শৈশব থেকেই গানে গানে তানে তানে পথ চলতেন আব্বাস উদ্দিন আহমদ। প্রচণ্ড এক ভালোবাসা ছিল তাঁর গানের প্রতি। গানের সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্ক। এসব দেখে দেখে পিতা জাফর আলী আহমদও রাজি হন। সন্তানের গানের সুরে মুগ্ধ হন তিনি। আব্বাস উদ্দিন তুফানগঞ্জ স্কুল থেকে এন্ট্রান্স এবং পরে কুচবিহার কলেজ থেকে আইএ পাস করেন। এরপর সংগীত চর্চাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। এক পর্যায়ে তার সাথে পরিচয় হয় কাজী নজরুল ইসলাম, ইন্দু বালা,জগত ঘটক,কাজী মোতাহার হোসেন, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, আঙ্গুর বালাসহ অসংখ্য শিল্পীর সাথে। কাজী নজরুল ইসলামের অনুপ্রেরণায় বেশ কিছু গান(ঠুমরী,গজল) রচনা করেছিলেন। কাজী নজরুল ইসলাম রচিত “ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশীর ঈদ’’ গানটি আব্বাস উদ্দিনের কণ্ঠে মারাত্মক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। আইনজীবী পিতার সঙ্গীত শিল্পী পুত্র আব্বাস উদ্দিন আহমদ প্রথম জনসম্মুখে গান করেন তার শিক্ষাঙ্গনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে।

আব্বাসউদ্দিনই প্রথম ভাওয়াইয়াকে রেকর্ড করে সকলের সামনে উপস্থাপন করেন। তার প্রথম রেকর্ডকৃত গান হলো-‘ওকি গাড়িয়াল ভাই কত রব আমি পন্থের দিকে চায়া রে…’ এবং ‘ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে…’। তবে এর আগে আর একটি ভাওয়াইয়া তিনি রেকর্ড করেছিলেন। কিন্তু গ্রামোফোন কোম্পানীর চাওয়ায় গানের বাণীর পরিবর্তন আনতে হয়েছিল। মুল গান ছিল –

‘তোরষা নদীর ধারে ধারে ও
দিদিলো মানসাই নদীর পারে
ওকি সোনার বঁধু গান করি যায় ও
দিদি তোরে কি মোরে
কি শোনেক দিদিও’।।

পরিবর্তন করে সে গান গাওয়া হলো-

‘তোরষা নদীর পারে পারে ও
দিদিলো মানসাই নদীর পারে
ওকি সোনার বঁধু গান গেয়ে যায় ও
দিদি তোর তরে কি মো তরে
কি শোনেক দিদিও’।।

এর পরে চরম মর্মবেদনায় পরেন আব্বাস উদ্দিন, বিশেষ করে এই গান রেকর্ড করে । তিনি তার লেখা ‘আমার শিল্পী জীবনের কথা’ বইতে এ বিষয়ে লেখেন- “খরস্রোতা ছোট্ট পাহাড়ি নদী তোরষা-কুচবিহারের পাদমূল ধৌত করে তরতর বেগে চলেছে। তারি তীরে তীরে গান গেয়ে চলেছে মোষের পিঠে করে দোতারা বাজিয়ে মেষ-চালক মৈশালের দল। তাদের কণ্ঠের সুর ছেলেবেলার আমার কণ্ঠে বেঁধেছিল বাসা। তাদের মুখের ভাষাই আমার মাতৃভাষা। মাতৃভাষাকে অবিকৃত রেখে গান দিতে পারলাম না। মনে জেগে আছে ক্ষোভ ।’’

তবে আব্বাস উদ্দিন পরের রেকর্ড ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই’ ও ‘ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে’ গান দু’টি অবিকৃত রেখেই করতে সমর্থ হন। ‘ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে…’ যখন রেকর্ড আকারে বের হয় তখন সে সময়কার হিজ মাস্টার্স ভয়েস প্রচার-পুস্তিকায় লেখা হয়-

“উত্তরবঙ্গ অঞ্চলের ভাওয়াইয়া গানের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছ এর কারণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই শ্রেণীর গানের বিশিষ্ট সুর ছাড়াও রচনাও অন্যতম আকর্ষণ। শিতি কবির কাব্যে যখন পড়ি, এ-পারে চক্রবাক ওপারে চক্রবাকী,‘মাঝেতে বহে বিরহ-বাহিনী!’ তখন মনের আগে বুদ্ধি দিয়ে আমরা রস উপলব্ধি করি। কিন্তু অশীতি কবির গানে যখন দেখি- ‘ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে’, আর বিরহনী বগীর মর্মব্যথায় সারা আকাশ ছলছল! তখন আর বুদ্ধি প্রয়োগের প্রয়োজন হয় না। বিরহের এই অতি সহজ প্রকাশ ভঙ্গী তীরের মত সোজা এসে মানুষের মর্মে বেঁধে। আমাদের মনে হয়, নিরলঙ্কার এই বস্তুতান্ত্রিক প্রকাশভঙ্গীই গ্রাম্য গানের বিশেষতঃ ভাওয়াইয়া গানের চাহিদার প্রথম কারণ।”

“পল্লী-গীতি রাজ্যের দুয়োরানী এই ভাওয়াইয়া গানকে সর্বপ্রথম আব্বাস সাহেবই আদর করে রাজ-অন্তঃপুরে ডেকে আনলেন। তখন আমরা মুগ্ধ হয়ে দেখলাম উপেক্ষিত দুয়োরাণীর রূপ-শ্রী সুয়োরানীর চেয়ে ত’ কম নয়! এবং তার চেয়ে মুগ্ধ হলাম তার নিতান্ত সরল হৃদয়ের মাধুরীতে! এর জন্য সমগ্র রসিকজনের অভিনন্দনের মালা পাওয়া উচিত পল্লী দুলাল আব্বাস সাহেবের। বহু দুর্লভ ভাওয়াইয়া গান তিনি সংগ্রহ করে আপনাদের সামনে উপহার দিয়েছেন।”

সেই যে শুরু, তারপর থেকে আর পেছনে ফেরা নয়। আব্বাস উদ্দিন ভাওয়াইয়াকে নিয়ে গেছেন অনেক দূর। দেশ থেকে দেশান্তরে। সেই সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক সভায় গান গেয়ে বাঙালিদের উদ্বুদ্ধ করতেন। গাইতেন ‘ওঠরে চাষী জগতবাসী, ধর কষে লাঙল’। শুধু ভাওয়াইয়া গানই নয় তিনি বাংলা ইসলামী গানেরও শ্রষ্ঠা । কাজি নজরুল ইসলামকে দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছিলেন বাংলা ইসলামিক গজল। আজও সকলের কণ্ঠে ওঠে ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’। এ ছাড়াও উর্দু, জারি, সারি, ভাটিয়ালি, মুর্শিদি, দেহতত্ব, মার্সিয়া, পালাগান গেয়েছেন।

তিনি কাজী নজরুল ইসলাম, জসীমউদ্দীন, গোলাম মোস্তফা প্রমুখের ইসলামি ভাবধারায় রচিত গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন। আব্বাস উদ্দিন ছিলেন প্রথম মুসলমান গায়ক যিনি আসল নাম ব্যবহার করে এইচ এম ভি থেকে গানের রেকর্ড বের করতেন।রেকর্ড গুলো ছিল বাণিজ্যিক ভাবে ভীষণ সফল।তাই অন্যান্য হিন্দু ধর্মের গায়করা মুসলমান ছদ্মনাম ধারণ করে গান করতে থাকে।

পেশা জীবন : আব্বাস উদ্দীন ১৯৩১ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত কলকাতায় বসবাস করেন। প্রথমে তিনি রাইটার্স বিল্ডিংয়ে ডিপিআই অফিসে অস্থায়ী পদে এবং পরে কৃষি দপ্তরে স্থায়ী পদে কেরানির চাকরি করেন। এ কে ফজলুল হকের মন্ত্রিত্বের সময় তিনি রেকর্ডিং এক্সপার্ট হিসেবে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করেন। চল্লিশের দশকে আব্বাস উদ্দিনের গান পাকিস্তান আন্দোলনের পক্ষে মুসলিম জনতার সমর্থন আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আব্বাস উদ্দিন আহমদ এর পিতা জাফর আলী আহমদ ছিলেন বিপুল ধনসম্পদের অধিকারী। কিন্তু সবকিছু ছেড়ে আব্বাস উদ্দিন ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের দিনই ভারতের কোলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকায় এসে তিনি সরকারের প্রচার দপ্তরে এডিশনাল সং অর্গানাইজার হিসেবে চাকরি করেন।পাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে ১৯৫৫ সালে ম্যানিলায় দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় সংগীত সম্মেলন, ১৯৫৬ সালে জার্মানিতে আন্তর্জাতিক লোকসংগীত সম্মেলন এবং ১৯৫৭ সালে রেঙ্গুনে প্রবাসী বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনে তিনি যোগদান করেন। যিনি স্বপ্ন দেখতেন স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের। যে জন্য তিনি জীবনের সোনালী সময় ব্যয় করেছেন, মানুষকে স্বাধীনভাবে বাঁচতে উদ্বুদ্ধ করেছেন গানে গানে। তিনি চলে আসেন স্বাধীন রাষ্ট্রে-সকল ধনসম্পদ ত্যাগ করে শূণ্যহাতে স্ত্রী, সন্তানদের নিয়ে।

ঢাকায় স্থায়ী হয়েই তিনি এ দেশের মানুষকে গানের দিকে উদ্বুদ্ধ করতে থাকেন। প্রত্যন্ত এলাকায় ঘুরে ঘুরে সংগীত চর্চা কেন্দ্র খোলার ব্যবস্থা করেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাংস্কৃতিক সমাবেশসহ নানা অনুষ্ঠানে ভাওয়াইয়াকে পৌঁছে দিয়েছেন ভাওয়াইয়া সম্রাট আব্বাস উদ্দিন।

চলচ্চিত্রে অভিনয় : শুধু গানই নয় আব্বাসউদ্দিন আহমেদ মোট ৪টি বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। সিনেমাগুলো হলো ‘বিষ্ণুমায়া ’ (১৯৩২), ‘মহানিশা’ (১৯৩৬), ‘একটি কথা’ এবং ‘ঠিকাদার’ (১৯৪০)। ঠিকাদার সিনেমাতে আব্বাস উদ্দিন একজন কুলির ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। ধারণা করা হয় যে তিনি এর চেয়ে বেশি সংখ্যক চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেও তা উল্লেখ করেন নি। কারণ সেই চরিত্রগুলো তেমন উল্লেখযোগ্য ছিল না। এসব সিনেমাতে তিনি গানও করেছিলেন। তখনকার দিনে মুসলমান ব্যাক্তির সিনেমা করা ছিল একটা ব্যতিক্রম ঘটনা।

গ্রন্থ ও পুরস্কার : আব্বাস উদ্দীনের রচিত একমাত্র গ্রন্থ ‘আমার শিল্পী জীবনের কথা’ প্রকাশিত হয় ১৯৬০ সালে । সংগীতে অবদানের জন্য তিনি মরণোত্তর প্রাইড অব পারফরমেন্স (১৯৬০), শিল্পকলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৭৯) এবং স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (১৯৮১) ভূষিত হন। এছাড়াও আরও অনেক পুরস্কার ও সম্মাননায় তাঁকে বিভিন্ন সময় ভূষিত করা হয়।

১৯৫৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর বুধবার সকাল ৭ টা ২০ মিনিট বাংলার কোটি হৃদয় ভাসিয়ে তিনি চির বিদায় নেন। তিনি চলে গেছেন কিন্তু তার গাওয়া গান হাজার বছর বাংলার মানুষের হৃদয়ে আলোড়ন তুলবে।

ভাওয়াইয়া সম্রাট আব্বাস উদ্দিনের উত্তরাধিকার : আব্বাস উদ্দিনের উত্তরাধিকার হিসেবে মোস্তাফা জামান আব্বাসী ভাওয়াইয়া-ভাটিয়ালি আর মুর্শিদি গান নিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন দেশের সঙ্গীতাঙ্গনে। নজরুল সঙ্গীতশিল্পী হিসেবেও রয়েছে তার ব্যাপক পরিচিতি। ভাওয়াইয়া সম্রাট আব্বাস উদ্দিনের একমাত্র কন্যা ফেরদৌসী রহমান পল্লীগীতি গাইলেও জোর দিয়েছেন উচ্চাঙ্গসঙ্গীত আর ক্লাসিক গানে। আধুনিক গানেও তিনি রেখেছেন বিশেষ অবদান। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রথম দিকের প্লে-ব্যাকে ফেরদৌসী রহমান ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। এই ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীত পরিবার থেকে বেরিয়ে আসা আরেক শিল্পী হলেন নাশিদ কামাল।

নিজ পরিবারের সঙ্গীত ঐতিহ্য সম্পর্কে ফেরদৌসী রহমান বলেন, ‘সুরের মধ্যে আমাদের জন্ম। সুরের মধ্যেই আছি। আমার বাবা লোকসঙ্গীতের পেছনে জীবনের পুরোটা সময় ব্যয় করেছেন। আমাদের দিয়ে গেছেন শুদ্ধ সঙ্গীতচর্চার শিক্ষা। বাবার আদর্শ নিয়েই আমাদের পথ চলা। বাবা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন বহু বছর আগে। তবু আজও গাইতে বসলে প্রায়ই আমার মনে হয়, বাবা বুঝি সামনে বসে আমার গান শুনছেন।’

ভাওয়াইয়া সম্রাটের সুযোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে সন্তান মোস্তফা জামান আব্বাসী, ফেরদৌসি রহমানসহ লক্ষ ভাওয়াইয়া শিল্পী কণ্ঠে তুলছেন ভাওয়াইয়া গান। এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ভাওয়াইয়া সংস্কৃতিকে।

তথ্যসুত্রঃ
দিনলিপি ও আমার শিল্পী জীবনের কথা – আব্বাস উদ্দিন আহমেদ
বৃহত্তর রংপুর জেলার ইতিহাস – মোস্তফা তোফায়েল
কুড়িগ্রাম ডট নেট

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৭ thoughts on “ভাওয়াইয়া সম্রাট আব্বাস উদ্দিন আহমদ

  1. ছোটবেলায় আমার মা রাতে ঘুমানোর
    ছোটবেলায় আমার মা রাতে ঘুমানোর সময় বুকে কাছে জড়িয়ে ধরে একটা গান শোনাতেন, এখনও কানে বাজে। গানের একটা লাইন মনে পড়ে বেশী- “চল বাজান যাই মাঠে লাঙ্গল বাইতে”। গানটা সম্ভবত আব্বাস উদ্দিনের গাওয়া।
    অসাধারণ লেখা। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  2. চমৎকার ও জ্ঞানগর্ভ তথ্যবহুল
    চমৎকার ও জ্ঞানগর্ভ তথ্যবহুল সব পোস্ট দিয়ে ইতিমধ্যে ইষ্টিশনে একটা অন্যরকম স্থান তৈরি করে ফেলেছেন উত্তর বাঙলা ভাই। :চশমুদ্দিন: :চশমুদ্দিন: চালিয়ে যান জনাব :বুখেআয়বাবুল: … আপনার পোস্টগুলো থেকে অনেক কিছু জানতে পারছি… :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    1. ইতিমধ্যে ইষ্টিশনে একটা

      ইতিমধ্যে ইষ্টিশনে একটা অন্যরকম স্থান তৈরি করে ফেলেছেন উত্তর বাঙলা ভাই।

      এইখানে আমার ছোট খাটো একটু আপত্তি আছে ব্রাদার। কোন রকম স্থানই কাম্য নয়। আমি আপনাদের সবার সাথেই আছি, থাকবো, এই পরিবারের একজন মেম্বার হিসেবে। এটাই আসল পরিচয় যে উত্তর বাংলা ইষ্টিশন পরিবারের একজন সদস্য। ধন্যবাদ আপনাকেও। :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

      1. কি কইছি আর কি বুঝঝে
        কি কইছি আর কি বুঝঝে :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: … মাইরালা কেউ আমারে… :কানতেছি: :কানতেছি: ওহে উত্তর বাঙলা, আমি এইরাম কিছু বুঝাই নাই… :মনখারাপ: এইটা বলছি আপনার পোস্টের বিষয়বস্তু নির্বাচন একটু অন্যরকম কিনা, তাই অনেক অপ্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা যাচ্ছে। :থাম্বসআপ: যা খুবই দরকারি… :আমারকুনোদোষনাই: :আমারকুনোদোষনাই:

  3. উত্তর বাংলা ভাইকে ধন্যবাদ
    উত্তর বাংলা ভাইকে ধন্যবাদ একের জ্ঞানগর্ভ ও তথ্যবহুল পোস্ট উপহার দেয়ার জন্য।

    প্রথমেই বলে নিই কিভাবে ভাওয়াইয়া গানের উৎপত্তি হয়:

    বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে নদীনালা কম থাকায় গরুর গাড়িতে চলাচলের প্রচলন ছিল। আর গরুর গাড়ির গাড়োয়ান রাতে গাড়ি চলা অবস্থায় বিরহ ভাবাবেগে কাতর হয়ে আপন মনে গান ধরত। উঁচু-নিচু রাস্তায় গাড়ির চাকা পড়লে তার গানের সুরে আধো ভাঙা বা ভাঁজ পড়ে। এ রকম সুরে ভাঙা বা ভাঁজ পড়া গান গাওয়ার ধরন ভাওয়াইয়া গানে লক্ষ্য করা যায়।

    ভাওয়াইয়া গানে সুরের ভাঁজ উঁচু স্বর থেকে ক্রমে নিচের দিকে নেমে আসে। সুরে ভাঁজপড়া ভাওয়াইয়া গানের স্বকীয় বৈশিষ্ট্য। দোতারা-সহযোগে দীর্ঘ লয়ে এসব গান গাওয়া হয়। প্রেম বা ভাবই ভাওয়াইয়া গানের মূল উপজীব্য। ভাওয়াইয়া মূলত ভাবপ্রধান গান। ভাব শব্দ থেকে ভাওয়াইয়া গানের উৎপত্তি। আবার ‘ভাওয়া’ শব্দ থেকে ভাওয়াইয়া এসেছে এমনও মনে করা হয়। কাশ বা নলখাগড়ার বিস্তীর্ণ চরকে ‘ভাওয়া’ বলা হয়। ভাওয়াইয়া ধু ধু প্রান্তরের গান। সাধারণত গরুর গাড়ি এবড়োখেবড়ো মাটিতে যাত্রী নিয়ে যাওয়ার সময় মৈশাল এ গান গেয়ে থাকে। মৈশাল, গাড়োয়ান, মাহুত প্রমুখ এই ভাওয়াইয়া গানের নায়ক। ভাওয়াইয়া ভারতের কোচবিহার, জলপাইগুড়ি এবং বাংলাদেশের রংপুর, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট অঞ্চলে ব্যাপক জনপ্রিয় ও প্রচলিত।

    আব্বাস উদ্দিনের আরো কিছু মৌলিক কৃতিত্ত্ব:

    আব্বাস উদ্দিনই প্রথম বাঙালি শিল্পী যিনি ১৯৫৫ সালে ম্যানিলায় এবং ১৯৫৬ সালে জার্মানীতে আন্তর্জাতিক লোকসংগীত কাউন্সিলের অধিবেশনে ভাওয়াইয়াগানসহ বাংলার পল্লীগীতির পরিচয় করে দিয়েছেন। আব্বাস উদ্দিন ভাওয়াইয়া পল্লীগীতিকে কালজয়ী গান হিসেবেই স্বপ্ন দেখতেন। তিনি তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘আমার শিল্পী জীবনের কথা’ গ্রন্থে লেখেন- ‘নানা দিকে পল্লীগীতির সুধা ছড়িয়ে এলেও আমি মনে করি দেশ যত শিল্পায়িত হবে, পল্লীগীতি তত লোপ পেতে থাকবে। বিভিন্ন সভা-সমিতি, পত্র-পত্রিকায় আজ আট দশ বছর ধরে আমি বহুভাবে বলে আসছি, এই পল্লীসংগীত সংরণের ব্যবস্থা হোক, টেপ রেকর্ডে পল্লীর গান, তার কথা ও সুর অবিকৃত রেখে দেওয়া হোক কালজয়ী- লোকজয়ী করে।’ তাঁর সেই আশংকা প্রকাশ খুব একটা অমুলক নয়। এখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে সহজে যেভাবে গানকে ধারণ করে সংরণ করা সম্ভব হচ্ছে। তবে পল্লীর আদি সুর, ঢং অবিকল রেখে নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা কতোটুকু চর্চা করছেন তা প্রশ্ন সাপেক্ষ।
    সাম্প্রতিক পরিচিতি:

    আন্তর্জাতিক লোকসঙ্গীত সম্মেলন ২০১২ আগামী ৭ই এপ্রিল জ্যামাইকা পিএস-১৩১
    অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে সারাদিন ব্যাপি লোকজ মেলা এবং শিশু কিশোর প্রতিযোগিতা সহ ফেরদৌসী রহমান পরিচালিত ভাওয়াইয়া গানের কর্মশালা, প্রবাসী কবিদের কবিতা, পুথিপাঠ সম্পৃক্ত ছিলো। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কন্ঠশিল্পী ফেরদৌসী রহমান, শিল্পী ড. নাশিদ কামাল, কবি সরকার মাহবুব, বিশিষ্ট শিল্পী নিলুফার বানু লিলি ও নীলিমা আক্তার। এবারের সম্মেলন উৎসর্গ করা হয়েছে উপমহাদেশের ভাওয়াইয়া গানের পথিকৃৎ সুর সম্রাট আব্বাস উদ্দীন আহমেদকে।

    এইবার আমার নিজস্ব একটু কথা: আব্বাস উদ্দিন আমাদের লোকসঙ্গিতের পথিকৃৎ। কিন্তু দুঃখের সাথেই বলতে হয়, আমাদের জাতীয় জীবনে লোক সঙ্গিতের প্রসার আজ কমে গেছে বললেই চলে। মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বলেছেন, “ভাওয়াইয়া গান চাষাভুষার গান ফলে আমাদের শিক্ষিত সমাজ এই গানের মর্ম বুঝেনা। ” আসলেই খুব হতাশ হতে হয় মাঝে মাঝে। বাড়িতে গেলে আমার নানুআফুর মুখে ভাওয়াইয়া গান শুনি। কি এক মায়া জড়িয়ে আছে এইধরনের আর্ট সঙ্গীতে। সংস্কৃতি রস আমরা গ্রহণ করবো অন্য সংস্কৃতি থেকে, কিন্তু অবশ্যই আগে নিজের সংস্কৃতি বুকে লালন করতে হবে। এজন্যই হয়তো বলা হয়েছে,

    তোমরা একতারা বাজাইয়ো না, দোতারা বাজাইয়ো না,
    একতারা বাজাইলে মনে পইড়া যায় আমার,
    একদিন বাঙালি ছিলাম রে!!”

    1. তোমরা একতারা বাজাইয়ো না,

      তোমরা একতারা বাজাইয়ো না, দোতারা বাজাইয়ো না,
      একতারা বাজাইলে মনে পইড়া যায় আমার,
      একদিন বাঙালি ছিলাম রে!!”

      :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :গোলাপ: :গোলাপ: :বুখেআয়বাবুল:

    2. অনেক অনেক ধন্যবাদ। অসাধারণ
      অনেক অনেক ধন্যবাদ। অসাধারণ তথ্য সমৃদ্ধ মন্তব্য করেছেন। আমি আপনার মন্তব্য থেকে কয়েকটা লাইন মূল পোস্টে যোগ করে দিতে চাই। তাহলে হয়তো আরও ঋদ্ধ হতে পারে লেখাটা। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  4. বরাবরের মতই ভাল লিখছেন। আপনার
    বরাবরের মতই ভাল লিখছেন। আপনার কারণে অনেক বিষয় সহজে জানতে পারছি। ধন্যবাদ। :bow: :bow: :bow: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া:

    1. এই লেখাটা আসলে ফেসবুকে ছিল
      এই লেখাটা আসলে ফেসবুকে ছিল ২০১০ সালের দিকে লেখা। সেদিন কে যেন ভাওয়াইয়া নিয়ে ইষ্টিশনে একটা পোস্ট দেন, সেটা দেখেই উৎসাহী হলে দিলাম। এই আর কি। ধন্যবাদ আপনাকেও। :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

26 + = 33