সাগর রুনি ও লাভজনক আন্দোলন।

কাছের কিছু মানুষ, তারা কেউ বন্ধু, কেউ সহকর্মী , এদের কিছু কাজ, আচরণ ও কথা মনের গভীরে নিদারুণ আঘাত হানে। এই আঘাতের কারনে বন্ধ করে দেয় সাগর রুনি কে নিয়ে লেখা, ওদের নিয়ে শুরু হওয়া খেলাটা আঘাত তাকে আর দগদগে করে তুলেছে। আঘাতের ক্ষত আজো শুকাইনি। এই ক্ষতের কারনে লিখে উঠতে পারছিলাম না। কিন্ত কয়েকদিন ধরে মনে হচ্ছিল আমার সেই বন্ধু আর সহকর্মীরা দৃশ্যত রুনি আর সাগরের আরো অনেক কাছের ছিল। ওরা যদি হেসে খেলে সাগর আর রুনির মৃত্যুকে ভুলে যায়, তাহলে আমি কেন হেসে খেলে ওই ক্ষত কে ভুলব না। অকৃতজ্ঞ বন্ধু ও সহক্রমিদের দেয়া কষ্ট কেন ভুলব না। তাই বেদনা ভুলে আবার কলম তুলে নিলাম।


কাছের কিছু মানুষ, তারা কেউ বন্ধু, কেউ সহকর্মী , এদের কিছু কাজ, আচরণ ও কথা মনের গভীরে নিদারুণ আঘাত হানে। এই আঘাতের কারনে বন্ধ করে দেয় সাগর রুনি কে নিয়ে লেখা, ওদের নিয়ে শুরু হওয়া খেলাটা আঘাত তাকে আর দগদগে করে তুলেছে। আঘাতের ক্ষত আজো শুকাইনি। এই ক্ষতের কারনে লিখে উঠতে পারছিলাম না। কিন্ত কয়েকদিন ধরে মনে হচ্ছিল আমার সেই বন্ধু আর সহকর্মীরা দৃশ্যত রুনি আর সাগরের আরো অনেক কাছের ছিল। ওরা যদি হেসে খেলে সাগর আর রুনির মৃত্যুকে ভুলে যায়, তাহলে আমি কেন হেসে খেলে ওই ক্ষত কে ভুলব না। অকৃতজ্ঞ বন্ধু ও সহক্রমিদের দেয়া কষ্ট কেন ভুলব না। তাই বেদনা ভুলে আবার কলম তুলে নিলাম।

সাগর আর রুনি নেই। চলে গেছে, কথাটা কি ঠিক বললাম, উঁহু চলে যায় নি, ওদের কে পাঁঠিয়ে দিয়েছে এক দল খুনি-লোভী হিংস্র কিছু মানুষ।কেন পাঁঠিয়ে দেয়া হল ওদের সেই না ফেরার দেশে? কাদের স্বার্থে এই নিষ্ঠুরতা? এই প্রশ্নের উত্তর খুজে ফিরছি গত একটা বছর। আমার থেকেও আর বেশি করে খুঁজছে ওদের পরিবার পরিজন। ওদের নাবালক শিশু সন্তান মেঘ। পরিবারের মানুষের থেকেও যাদের সাথে বেশি সময় কাটত ওদের সেই সহকর্মীরা আজ কি ভাবছে কি করছে সাগর রুনি কে নিয়ে। বছর পূর্তি মিলাদ মাহফিল স্মৃতিচারণ, ফেসবুক স্ট্যাটাস, সাগর রুনির সাথে তোলা আনন্দময় সময়ের ছবি আপলোড। কিন্ত কেন ওদের হত্যা করা হল এটা নিয়ে আর কেউ কেন সোচ্চার হল না। আঁতিপাঁতি করে খুজে ফিরলাম গত ৫টা মাস ওদের নিয়ে লেখা খবর, নেই নেই নেই। ওরা যেন হারিয়ে গেছে কর্পোরেট দুনিয়াতে। লাভ-ক্ষতির হিসেবে ওরা হারিয়ে গেছে। মুছে গেছে ওদের কাজ আর অবদান।
কিঞ্চিত ভুল হল, ওদের নিয়ে আন্দোলন তো হয়েছেই… নিহত সাংবাদিকদের নিয়ে আন্দোলন তো হয়ই। আর সাগর রুনির আন্দোলন তো লাভজনক আন্দোলন। এইআন্দোলন কে কে ঘিরে কত কিছু হয়ে গেল। চা পান থেকে ঘুষ পান সবই হল, কিন্তু সাগর রুনির খুনির বিচার হল না। সাগর রুনির মৃত্যুতে সাগর আর রুনির দুই পরিবার ছাড়া ওদের একমাত্র ছাড়া শিশু মেঘ হয়েছে সবথেকে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন। মেঘ, সাগরের মা সালেহা খালা আর রুনি মায়ের যে ক্ষতি হয়েছে তা কোন দিনই কোন কিছুর বিনিময়ে পূরণ হবার নয়। সাগর আর রুনির পরিবারের ক্ষতিতে কার কি এসে যায়, কারও তো কিছু যায় আসে না।
শুনেছি মরা হাতির মুল্য লাখ টাকা, সাগর আর রুনি কি জানে, জীবিত সাগর রুনির থেকে মৃত সাগর রুনি অনেক বেশি লাভ জনক। তার প্রমাণ ওদের মৃত্যুতে অনেকের অনেক লাভ হল, কার চাকরিতে পদোন্নতি হল। কারও বেতন বাড়ল, কারো নগদ প্রাপ্তি হল, কারো গাড়ী হল, কারো নাম ফাটল। মাঝখান থেকে মেঘ শুধু বাবা-মাকে হারাল, রুনির মা মেয়ে কে হারাল, সালেহা খালা এক মাত্র ছেলে কে হারাল। তাতে কার কি এসে গেল। বিকিকিনির বাজারে লাভ ছাড়া কেউ কিছু বোঝে না, না বোঝে সম্পর্ক, না ভালবাসা, না বোঝে মানুষের মর্যাদা, শুধু মুল্যায়ন টা?
সম্পদের, প্রাপ্তির।

সাগর পারিনি রে তোর কথা রাখতে, তোর কথা তুই না থাকায় আর কি মর্যাদা থাকে রে, কি করে দেব মেঘ কে মা বাবা আর পরিবার? চাইলেই কি সব দেয়া যায়। মেঘের শূন্য বাড়ি কি কক্ষনো পূর্ণ হবে? আমি জানি না। লাভ জনক দুনিয়ার মানুষ কেউ কি জানে? তারা কি জানতে চাই কেমন আছে মেঘ বালক?
দিনের পর দিন চলে যায়, নতুন নতুন জজ মিয়ারা আসে যায়, ডি এন এ টেস্ট হয়, আসামী ধরা হয়, আসামী পলাতক হয়। কোর্ট বলে লিখো না কথা বল না। কোটের দোহাই দিয়ে যে যার দায় ঝেরে ফেলে। কেউ কেউ আবার টাকার কারনে লেখা থেকে বিরত থাকে, কোন কোন প্রতিষ্ঠান আবার এ বিষয়ে বিশেষ ভাবে নিরবতা পালন করে। বিবেক হেরে যায় পকেট আর প্যাকেটের চাপে।

শুধু মেঘ বালক আরও মেঘাছন্ন হয়ে পরে, দিন যায় রাত আসে মেঘ বালকের জীবনে সূর্য ওঠে না।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “সাগর রুনি ও লাভজনক আন্দোলন।

  1. লেখাটা পড়ে আবেগ নিয়ন্ত্রন করা
    লেখাটা পড়ে আবেগ নিয়ন্ত্রন করা কঠিন হয়ে উঠল। খুব ভালো করেই জানি- যার যায় সেই বোঝে। বাকীরা হয়ত তার কোটি ভাগেরও এক ভাগ অনুধাবন করতে পারে না। পৃথিবী বড় নিষ্ঠুর যায়গা আপু, বড় নিষ্ঠুর।

  2. যার চলে যায় সেই বোঝে হায়
    যার চলে যায় সেই বোঝে হায় বিচ্ছেদে কি যন্ত্রনা, অবুঝ শিশুর অবুঝ প্রশ্ন কি দিয়ে দেব শান্তনা। :মনখারাপ: :মনখারাপ: :মনখারাপ: :মনখারাপ:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

7 + 2 =