বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়াঃ এ রায় আমি চাইনি, এ রায় আমরা চাইনি (আপডেট)

আমি ভীষণ কষ্ট পেয়েছি। এই রায় আমি চাইনি। এ কথা বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন শহীদ কবি মেহেরুননিসার বন্ধু কবি কাজী রোজী।
রায ঘোষণার পর কেবল কাজী রোজী নন, রাজনীতিক-লেখক-সংস্কৃতিকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের কণ্ঠে হতাশা ও ক্ষোভ লক্ষ করা গেছে। তাঁদের কথা হলো, যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে গণহত্যা ও ধর্ষণসহ অনেকগুলো গুরুতর অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে, তাঁকে এমন লঘু শাস্তি দেওয়ার কী কারণ থাকতে পারে?
আদালত থেকে গাড়িতে ওঠার মুহূর্তে যুদ্ধাপরাধী আবদুল কাদের মোল্লা হাতে ভি চিহ্ন দেখিয়েছেন। জামাত আগামীকাল আরেকটি হরতাল ডেকেছে। তাহলে কি জামাত রায়ে খুশি হয়েই দেশবাসীর ওপর আরেকটি হরতাল চাপিয়ে দিল?

আমি ভীষণ কষ্ট পেয়েছি। এই রায় আমি চাইনি। এ কথা বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন শহীদ কবি মেহেরুননিসার বন্ধু কবি কাজী রোজী।
রায ঘোষণার পর কেবল কাজী রোজী নন, রাজনীতিক-লেখক-সংস্কৃতিকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের কণ্ঠে হতাশা ও ক্ষোভ লক্ষ করা গেছে। তাঁদের কথা হলো, যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে গণহত্যা ও ধর্ষণসহ অনেকগুলো গুরুতর অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে, তাঁকে এমন লঘু শাস্তি দেওয়ার কী কারণ থাকতে পারে?
আদালত থেকে গাড়িতে ওঠার মুহূর্তে যুদ্ধাপরাধী আবদুল কাদের মোল্লা হাতে ভি চিহ্ন দেখিয়েছেন। জামাত আগামীকাল আরেকটি হরতাল ডেকেছে। তাহলে কি জামাত রায়ে খুশি হয়েই দেশবাসীর ওপর আরেকটি হরতাল চাপিয়ে দিল?
এতদিন সরকারি দলের নেতারা দাবি করে আসছিলেন, তাঁরা যুদ্ধাপরাধের বিচার করে জাতিকে দায়মুক্ত করবেন। কিন্তু কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল যে রায় দিয়েছেন, তাতে কি দায়মুক্ত হলো;না দায় যুক্ত হলো।
এ রায় জাতির প্রত্যাশা পূরণ করেনি। এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত প্রতিটি মানুষকেই হতাশ করেছে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ অনেকেই ন্যায় বিচারের দাবিতে মিছিল নিয়ে সেখানে এসেছিল। কিন্তু ফিরে গেছে ব্যানার গুটিয়ে। এমনকি মামলার বাদী নিজেই রায় প্রত্যাখ্যান করেছেন।
কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে আনীত ছয় অভিযোগের পাঁচটি প্রমাণিত হয়েছে। সে ক্ষেত্রে তাঁর আরও কঠিন শাস্তি হওয়ার কথা নয়?

‘আমরা একাত্তরের মানবতা বিরোধী অপরাধীদের বিচার চেয়েছিলাম, বিচার পেয়েছি। এতে আমি সন্তুষ্ট। শাস্তির পরিমাণ প্রধান বিবেচ্য নয়, শাস্তি হয়েছে এটাই গুরুত্বপূর্ণ। বিচারকরা বিজ্ঞ বিবেচনায় রায় দিয়েছেন, এটা নিয়ে আমার কিছু বলার নাই।
অধ্যাপক আনিসুজ্জামান
বিষিষ্ট শিক্ষাবিদ

‘সাধারন মানুষের যে সেন্টিমেন্ট তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা আছে, কিন্তু রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার আগে কিংবা পুরো বিচার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে আইনের লোক হিসেবে এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে পারি না।
ড.কামাল হোসেন
বিষিষ্ট আইনজীবী

‘এ রায়ের মাধ্যমে কাদের মোল্লার অপরাধ প্রমাণিত হলো। এর মাধ্যমে তাঁদের অনুশোচনা হোক। তাঁরা জেনে নিন, মানুষ তাঁদের মানবতাবিরোধী অপরাধী হিসেবে ঘৃণাই করে। ‘তবে দেশের সাধারণ মানুষের দাবি ছিল মৃত্যুদণ্ড। তাই এই রায়ে সন্তুষ্ট হতে পারিনি।’
সুলতানা কামাল
মানবাধিকার কর্মী ও আইন ও শালিশ কেন্দের নির্বাহী পরিচালক

‘যেভাবেই বলি, নিজেদের প্রত্যাশা দিয়ে আইনী প্রক্রিয়া চলে না। জনগণের আবেগ আর বিচারের আইনী প্রক্রিয়া এক বিষয় নয়। যুদ্বিধাপরাধীদের বিচার বহু প্রত্যাশিত একটি বিষয়, জনগণের পূর্ণ আবেগ জড়িয়ে আছে এর সঙ্গে। তাদের প্রত্যাশা ছিল অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি হবে। আমর নিজেরও প্রত্যাশা ছিল তাই। কিন্তু এটাও ভুলে গেলে চলবে না, এই বিচার কার্যত্রক্রম নিয়ে শত্র“রা শুরু থেকেই অনেক প্রশু তুলছে, এটাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। এখন যদি এই রায় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় তাহলে শত্রুরা সুযোগ পাবে। আমরা শত্রুদের সেই সুযোগ দিতে পারি না। আমি মনে করি বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হয়েছে, যথাযথ আইনী প্রক্রিয়ার হয়েছে। বিজ্ঞ আদালত সব বিষয় বিবেচনা করে, সব দিক বিশ্লেষন করে রায় দিয়েছেন। তারা আবেগের বশবর্তী না হয়ে আবেগের উর্ধ্বে থেকেছেন। এটাই আইনী প্রক্রিয়া। অতএব অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি না হওয়ার প্রত্যাশা পুরন না হলেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল যে রায় হয়েছে তা আমাদের গ্রহন করতেই হবে।
সৈয়দ শামসুল হক
লেখক

‘এই রায়ে আমি বিষ্মিত । এ মূহূর্তে শুধু এইটুকুই বলবো
ড.জহির
সংবিধান বিমেষজ্ঞ

‘অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুদন্ড যাবজ্জীবন কারাভোগের চেয়ে লঘুদন্ড হতে পারে। বিশেষত, যে ব্যক্তি আরাম-আয়েশে ন্যায়-অন্যায় ভাবে প্রভাবে-প্রতিপত্তিতে অভ্যস্ত জীবন যাপন করেছে তার জন্য যাবজ্জীবন কারাবাস বেশী কষ্টদায়ক শাস্তি। সেই বিবেচনায় কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদন্ড সঠিক শাস্তিø হয়েছে । মৃত্যুদন্ড না হওয়ার কারনে ইউরোপের মৃত্যুদন্ডবিরোধী দেশ এবং তাদের সংস্থাগুলো এ বিচার এ বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারবে না। এ বিবেচনাতেও যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশের রায়টি ভাল হয়েছে।
ড.শাহদীন মালিক
বিশিষ্ট আইনজীবী

‘কাদের মোল্লর বিরুদ্ধে আনা মোট ৬টি অভিযোগের মধ্যে ৫টি অভিযোগই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ার পরও কেন তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির রায় ঘোষণা করা হলো না তা আমাদের বোধগম্য নয়। জামায়াতের সহিংসতার বিপরীতে সরকারের নতজানু নীতির তীব্র প্রতিবাদ জানাই। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি ও জামায়াতসহ ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ সফল করার জন্যও সকলের প্রতি আহ্বান জানাই।
কামাল লোহানী

কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে যত অভিযোগ প্রমানিত হয়েছে
১ম অভিযোগ: তিনি একাত্তরের ৫ এপ্রিল মিরপুর বাঙলা কলেজের ছাত্র পল্লবকে গুলি করে হত্যার নির্দেশ দেন।
২য় অভিযোগ: একাত্তরের ২৭ মার্চ তিনি সহযোগীদের নিয়ে কবি মেহেরুননিসা, তাঁর মা এবং দুই ভাইকে মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনের বাসায় গিয়ে হত্যা করেন।
৩য় অভিযোগ: একাত্তরের ২৯ মার্চ বিকেলে সাংবাদিক খন্দকার আবু তালেবকে আরামবাগ থেকে কাদের মোল্লা ও তাঁর সহযোগীরা জল্লাদখানা পাম্পহাউসে নিয়ে জবাই করে হত্যা করেন। চতুর্থ
৫ম অভিযোগ: একাত্তরের ২৪ এপ্রিল পাকিস্তানি সেনা ও অবাঙালি রাজাকারদের সঙ্গে কাদের মোল্লা মিরপুরের আলোকদী (আলুব্দী) গ্রামে হামলা চালান। ওই ঘটনায় ৩৪৪ জনের বেশি নিহত হন।
৬ষ্ঠ অভিযোগ: একাত্তরের ২৬ মার্চ কাদের মোল্লা, তাঁর সহযোগী এবং পাকিস্তানি সেনারা মিরপুরের ১২ নম্বর সেকশনে হযরত আলী লস্করের বাসায় যান। কাদের মোল্লার নির্দেশে হযরত, তাঁর স্ত্রী, দুই মেয়ে এবং দুই বছরের এক ছেলেকে হত্যা করা হয়, ধর্ষণের শিকার হন এক মেয়ে।

একাত্তরে এই রাজাকার যে নৃশংস গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মতো জঘন্য অপরাধ করেছে, তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে তুলনামূলক কম অভিযোগ ছিল। তাঁর মৃত্যুদণ্ড হলেও কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এটি কি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য?

‘প্রত্যাশা করেছিলাম, কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড হবে। কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে পাঁচ ও ছয় নম্বর অভিযোগ খুবই গুরুতর। সেটি প্রমাণিত হওয়ার পর কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ডই ছিল আমাদের প্রত্যাশা। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ায় আমরা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ও হতাশ।
গোলাম আরিফ
রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি

‘এ রায়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। প্রত্যাশা করেছিলাম পাঁচ ও ছয় নম্বর অভিযোগে কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড হবে। কিন্তু এ রায়ের মাধ্যমে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
মাহবুবে আলম
অটর্নি জেনারেল

‘কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের ৫টিই আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি, তারপরও ট্রাইব্যুনাল কেন তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি দিলো না তা আমার বোধগম্য না। আমরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবো। সেখানে আমাদের যুক্তি তর্ক উপস্থাপন করবো।
মোহাম্মদ আলী
রাষ্ট্র পক্ষের প্রসিকিউটর

‘ট্রাইব্যুনালের রায়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্য ফুটে উঠেছে। সেই চেতনার সঙ্গে মঙ্গলবারের রায় কতোখানি প্রাসঙ্গিক?
.মফিদুল হক
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি

‘এ রায় খুবই হতাশার। মানবতাবিরোধী অপরাধ কর্মকাণ্ডে এই রায় আশানুরূপ হয়নি। জাতির প্রত্যাশাটা ছিল অন্যরকম।
শাহরিয়ার কবির
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সংগঠক

‘ইতিহাসের অন্যতম এ রায় ঘোষণায় আমি ক্ষুব্ধ এবং ব্যাথিত। এ রায়ের মাধ্যমে ত্রিশ লক্ষ শহীদ, ছয় লক্ষ বিরাঙ্গণা এবং সকল মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হয়েছে। এখন মনে হচ্ছে ৭৫এর শক্তি বেশ শক্তিশালী। তবে এ কথা নিশ্চিত ইতিহাসের বিরূদ্ধে কেউ দাঁড়িয়ে থাকতে পারেনি পারবে না। তাদের এ বিজয় সাময়িক।
মুনতাসির মামুন
লেখক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ইতিহাসবিদ

‘আমি এ রায়ে ক্ষুব্ধ। আমি জানিনা তাদের সাথে সরকারের কোন গোপন চুক্তি হয়েছে কিনা? মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তিরা যেহেতু ইতিমধ্যে গ্রহযুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে তাই আর বসে থাকার সময় নেই। যারা স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় হত্যা করেছে, লুট করেছে তাদের সাথে সমঝোতা কাম্য নয়। আমরা আমাদের শরীরের শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত লড়াই করে যাবো।
আক্কু চৌধুরী
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা

‘এরকম অপরাধীর রায় অবশ্যই আমাদের জন্য সস্তিদায়ক। তবে অপরাধ অনুযায়ী এ রায় যথেষ্ট নয়। আমার মনে হচ্ছে, রায়টা একটা নাটক। এখানে সরকার এবং জামায়াতের মধ্যে কিছুটা যোগসাজশ হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। জামায়াত এবং সরকারের আচরণ কিছুটা সন্দেহজনক।
আনু মুহাম্মদ
তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব

‘আমি খুবই দুঃখ পেয়েছি, মর্মাহত হয়েছি যে কাদের মোল্লা ছিল খুনি, যে মানুষের শরীর দ্বিখণ্ডিত করেছে সেই কসাইয়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল ট্রাইব্যুনাল। এখন এ কসাই জামাই আদরে থাকবে কারাগারে, ডিভিশন পাবে। আর সরকার পরিবর্তন হলে সংবর্ধনা নিয়ে বেরিয়ে আসবে। এটা জাতির জন্য দুর্ভাগ্য।
শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী
শহীদ জায়া

‘এ রায়ে খুশি হতে পারিনি। রাষ্ট্রের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা উচিৎ। ছয়টি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটি প্রমাণিত হওয়ার পরও কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন করাদণ্ডের যে রায় দেওয়া হয়েছে , আমি তাতে হতাশ হয়েছি। কাদের মোল্ল‍র বিরুদ্ধে গণহত্যা, ধর্ষণের মতো অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তারপরও তাকে যাবজ্জীবনের এ রায় আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। আমি অনেক আশা ভরসা নিয়ে এসেছিলাম। রায়ে একেবারেই সন্তষ্ট হতে পারিনি। আজকে আমি শুধু ভাবছি, যারা এ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলো, সেইসব নিহতের স্বজনদের কথা। তারা কী গভীর আশা নিয়েই আজকের দিনটির জন্য বসে ছিলো। তারা আজ কী ভাবছে, আমি কেবল তাদের কথাই ভাবছি।
অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

‘এ রায়ে আমি হতাশ। আব্দুল কাদের মোল্লা একজন চিহ্নিত রাজাকার। যুদ্ধ চলাকালে তিনি দেশ ও জাতির সাথে যে বেঈমানী করেছেন তার শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। এটা যথেষ্ট নয়।
…..মামুনুর রশিদ
অভিনেতা ও নাট্য পরিচালক

‘রায় প্রত্যাশিত হয়নি। গণহত্যাকারীর জন্য গোটা জাতি, বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম, মুক্তিযোদ্ধারা যে প্রত্যাশা করেছিলো, এ রায় সে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তবে ট্রাইব্যুনালকে আমরা শিরোধার্য মনে করি। ট্রাইব্যুন‍লের প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু যে অভিযোগে বাচ্চু রাজাকারকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে, আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম, কাদের মোল্লার ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ শাস্তি হবে। রাষ্ট্রের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা উচিৎ। আমি একজন সাংস্কৃতিকর্মী হিসেবে বলতে চাই, এ রায় জনগণের প্রত্যাশিত নয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের আপিল করা উচিৎ। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য আমরা যে আন্দোলন করছিলাম তা চালিয়ে যাবো।
নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু
মুক্তিযোদ্ধা ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি

‘ফাঁসি দিলে আরো বেশি সন্তুষ্ট হতাম। আবুল কালাম আযাদের যে অভিযোগ তার সবগুলোই কাদের মোল্লার অভিযোগে ছিল। ওই রায়ে যদি কালামের ফাঁসি হয়, তাহলে কাদের মোল্লারও ফাঁসি হতে পারে।
মেজর জেনারেল অব. হেলাল মোর্শেদ খান বীরবিক্রম

‘এ রায় আমরা মেনে নিতে পারি না ।কাদের মোল্লার অবশ্যই ফাঁসি হওয়া উচিত ছিল। একই ধরনের অপরাধে বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসি হলে কাদের মোল্লার কেন হলো না? এই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল করা উচিত।

হেলাল মোর্শেদ
মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি

‘আমি তাৎক্ষণিকভাবে এ রায় নিয়ে কিছু বলতে চাই না। আগে রায়টা দেখি।
ফরহাদ মাজহার
কবি, কলামলেখক

‘কাদের মোল্লা কবি মেহেরুন নেসা হত্যায় জড়িত। সুতরাং এ রায়টি আমাদের জন্য সন্তোষজনক নয়।এ রায়ের বিপক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল করা উচিৎ।
হাসান আরিফ
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক

‘সরকার টাকা খেয়ে এ রায় দিয়েছে। আমরা এ রায় মানি না।
মোশারফ হোসেন
যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা

‘আমরা শুনেছি এখানে নিয়োজিত প্রসিকিউটররা কাদের মোল্লার ফাইলকে অনেকবার লুকিয়ে রেখেছে। খুঁজে খুজে বের করতে হতো। এখানে প্রসিকিউটর ও বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেয়া উচিত ছিলো মুক্তিযোদ্ধাদের। তাহলে আজকে প্রহসনের রায় হতো না।
কুতুব উদ্দীন
মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার

‘এতোদিন যাবৎ জামায়াতে ইসলামীর দেশে-বিদেশে লবিস্ট নিয়োগের যে কথা আমরা শুনে আসছিলাম এই রায়ের মধ্য দিয়ে তা প্রমাণিত হলো।
মোহাম্মদ কুতুবউদ্দীন
মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বরিশাল জেলা ইউনিট কমান্ডের সভাপতি

‘মিরপুরের এ কসাইয়ের হত্যাকাণ্ড যেখানে প্রমাণিত সেখানে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে কখনো যাবজ্জীবন দণ্ড হতে পারে না। যারা মিরপুরে শহীদ হয়েছেন, যারা ভুক্তভোগী; তাদের কাছে এ রায়ে আশার প্রতিফলন হয়নি। এখন ভবিষ্যত রায়গুলোর অপেক্ষায় আছি।
এমএ হাসান
ওয়ার ক্রাইম ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির আহ্বায়ক

‘রায় শুনে আমি বিস্মিত হয়েছি। অবশ্য যুদ্ধাপরাধের যে বিচার হচ্ছে তাতেই আমরা সন্তুষ্ট।
কে এম সফিউল্লাহ
সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সহসভাপতি

‘আমার এ ব্যাপারে বলার কিছু নেই। বিজ্ঞ বিচারকেরা সাক্ষী, প্রমাণ বিবেচনা করে যে রায় দিয়েছেন সেটা অবশ্যই মেনে নিতে হবে।
বদরুদ্দীন উমর
তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক সমালোচক

‘সরকার জামায়াতের ভয়েই এ রায় দিয়েছে। সরকারের এ আচরণ মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার মতোই।
আলবার্ট প্রদীপ
ট্রাইব্যুনালের সামনে অপেক্ষারত নামের এক ব্যক্তি

কেরানীগঞ্জবাসীর প্রশ্ন,গণহত্যা তাহলে সত্যি নয়?
কেরানীগঞ্জের মানুষ এ রায়ে ক্ষোভে ফুসছে। একদিনে তাঁদের গ্রামে যে ৬০ জন মানুষকে মারা হলো, সেটি কি তাহলে সত্যি নয়?

১৯৭১ সালের ২৫ নভেম্বর ভোরে কেরানীগঞ্জের ঘাটারচরে পাকিস্তানি সেনারা ৬০ জনকে গুলি করে হত্যা করে। ওই সময় পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে থাকা কাদের মোল্লা রাইফেল হাতে গুলি করেছিলেন বলে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আবদুল মজিদ (৫৫)।
রায়ের পর আবদুল মজিদ বলেন, ‘আমি নিজে কাদের মোল্লার হাতে বন্দুক দেখেছি। রাজাকারেরা চলে যাওয়ার পর আমি নিজে লাশগুলো তুলে গণকবর দিয়েছি। এক কবরে চার-পাঁচটা করে ৫৬ জনের লাশ দাফন করেছি। সেই গণহত্যা কি তাহলে সত্যি নয়?’

ওই গ্রামের ২৫ নভেম্বর স্বজনহারানো আরও অনেক পরিবারের লোকজন একই কথা বলেছেন। এই বিচার তাঁদের সন্তুষ্ট করতে পারেনি। অনেকেই আবার উদ্বিগ্ন—ভবিষ্যতে কাদের মোল্লা না আবার ছাড়া পেয়ে যায়।
২৫ নভেম্বর বাবাকে হারানো আমির হোসেন বলেন, ‘আমার বাবাকে যারা খুন করেছিল, তাদের কি কোনো বিচার হবে না? আর এখন যাঁকে যাবজ্জীবন দেওয়া হলো, পরে তাঁরা ক্ষমতায় এলে তো মুক্তি পেয়ে যাবে? তাহলে এ কেমন বিচার?


রায় প্রত্যাখ্যান করলেন আলুব্দী গ্রামে গণহত্যা মামলার বাদী

ছয় অভিযোগের পঞ্চম অভিযোগ অনুসারে, একাত্তরের ২৪ এপ্রিল পাকিস্তানি সেনা ও অবাঙালি রাজাকারদের সঙ্গে নিয়ে কাদের মোল্লা মিরপুরের আলোকদী (আলুব্দী) গ্রামে হামলা চালান। ওই ঘটনায় ৩৪৪ জনের বেশি নিহত হন।
কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায়ের খবর শুনে আলুব্দী গ্রামের মানুষ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। মিরপুরের আলুব্দী গ্রামের গণহত্যা মামলার বাদী ও সাক্ষী আমির হোসেন মোল্লা বলেন, কাদের মোল্লার নেতৃত্বে আলুব্দী গ্রামে যে গণহত্যা চালানো হয়েছিল, তার অসংখ্য সাক্ষী এই গ্রামে আছেন। কাদের মোল্লা ও পাকিস্তানি সেনাদের হাতে আলুব্দী গ্রামের ৩৫০ জন মারা যান। তাই সঠিক বিচার অবশ্যই ফাঁসি হওয়া উচিত ছিল। ‘আমাদের মনে হচ্ছে, এ রায় প্রভাবিত। আমরা এ রায় মানি না। আমরা উচ্চ আদালতে কাদের মোল্লার ফাঁসি চেয়ে আপিল করব।
আলুব্দী গ্রামের পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে আহত আইয়ুব নবী বলেন, ‘গুলি খাওয়ার পরও বেঁচে গেছি। আশা ছিল, নরঘাতক কাদের মোল্লার ফাঁসি হবে। আমাদের ট্রাইব্যুনাল যে রায় দিলেন, এতে অপরাধের প্রকৃত শাস্তি হয়নি।

এ রায় মানে না শহীদ আবু তালেবের পরিবার
কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ভুয়া বলেছেন মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সাংবাদিক খন্দকার আবু তালেবের ছেলে খন্দকার আবুল আহসান। তিনি বলেন, এই রায় ভুয়া। কাদের মোল্লার অপরাধের পরিপ্রেক্ষিতে এই শাস্তি অতি নগণ্য। এ রায় কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আদালতের প্রতি আস্থা আছে। তাই আশা করছি, সরকার যখন আপিল করবে, তখন যেন কাদের মোল্লার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করা হয়। কাদের মোল্লার কারণে আমার বাবা প্রাণ হারিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পরপরই ২৯ মার্চ আমার বাবাকে হত্যা করা হয়। এরপর আমার মা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। বাকি জীবন তাঁকে এভাবেই কাটাতে হয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম, কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড হবে। তাহলে হয়তো বাবা হারানোর শোক, মায়ের অসুস্থতার ব্যথা কিছুটা কাটাতে পারতাম। কিন্তু এই রায় আমাদের হতাশ করেছে।’ ‘শুধু আমার পরিবার নয়, মিরপুর ও ঢাকার অন্যান্য এলাকায় কাদের মোল্লার নেতৃত্বে বিহারিরা শত শত মানুষকে হত্যা করেছে। কাদের মোল্লা প্রত্যক্ষভাবে এসব হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। এত অপরাধ করার পরও কীভাবে তাঁর এত কম শাস্তি হলো, তা বুঝতে পারছি না।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১০ thoughts on “বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়াঃ এ রায় আমি চাইনি, এ রায় আমরা চাইনি (আপডেট)

  1. ট্রাইব্যুনালের প্রতি আস্থা
    ট্রাইব্যুনালের প্রতি আস্থা রেখেই জিজ্ঞেস করছি- যে রায় বিচারপ্রার্থী একটা মানুষও মানতে পারছেন না, যে বিচারে আসামীর প্রতিটি বড় অপরাধ প্রমাণিত, সেখানে এমন রায় আপনারা কিভাবে লিখলেন? কোন বিবেচনায়?

  2. অনেকেই ব্যাপারটা সরকারের ঘাড়ে
    অনেকেই ব্যাপারটা সরকারের ঘাড়ে চাপাতে চাইছে কিন্তু তাদেরকে বলতে চাই এই রায় হাসিনা কিনবা আম্লীগ দেয় নাই।রায় দিসে ওবায়দুল হাসান তারে কেউ কিছুই কইতেছে না।
    তবে এইটুকু তো বলতে পারি এই মুহুর্তে আজকে যেই আশায় বুক বাধছি আমরা যেই স্বপ্ন দেখছি সেইটা এই আম্লীগই করে দিয়েছে অন্যকোন দল সেটা করেওনি করবেও না।

    হুম আমিও মানতে পারছি না,তাই আমাদের এইসকল কী-বোর্ড ছেড়ে রাস্তায় নামার সময় হয়েছে মনে করছি,জামাত-শিবির যদি ভয় দেখিয়ে রায় ঘুরাতে পারে তাহলে এই বাংলার ৫ কোটি মানুষও কি নেই যারা রাস্তায় নেমে ঐ ভীতি প্রদর্শনকারীদের দুমড়ে মুচড়ে দিয়ে ট্রাইব্যুনালকে বলবে “তোমরা ভয় পেয়ো না আমরা জেগে আছি তোমাদের নিরাপত্তা দিতে তোমরা এগিয়ে যাও!”

    জয় বাংলা

    1. ইত্রামি কইরো না, আওয়ামী
      ইত্রামি কইরো না, আওয়ামী বজ্জাতের দল। হাম্বালীগ কিছু কয় নাই? রায় দেয় নাই তো কি হইছে, রায়ে আওয়ামীলীগের কোন প্রভাব নাই বলতে চান আপনি?? আওয়ামীলীগ এতৈ ভালু??? আমারে কেউ কম্বল দে, আমি একটু হাসি দেই

  3. তাহলে এত কিছু করে
    তাহলে এত কিছু করে ট্রাইব্যুনাল করে কি লাভ হলো সামান্য এ সাজা তো সাধারন কোর্ট থেকেই করা যেত। :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

  4. চট্টগ্রামঃ
    আমি একটা মা; আমার

    চট্টগ্রামঃ

    আমি একটা মা; আমার বাবা-মা আমি যুদ্ধের সময় হারাইছি বাবা। আমরা কি এই অভিশাপ নিয়ে চলে যাব দুনিয়া থেকে???
    রাজাকারদের হাত থেকে বাঁচাও, এরা আজকে বুক ফুলাইয়া ঘুরে!!!
    এরা “V” চিহ্ন দেখায়!!!
    এই চুনোপুটিগুলা কিভাবে গাড়ি ভাঙচুর করে???
    তোমরা কেন বসে থাকবে???

  5. কিছু বলার নাই। কাকে দোষ দিবো?
    কিছু বলার নাই। কাকে দোষ দিবো? ট্রাইবুন্যালকে নাকি সরকারকে? সরকারই যেহেতু সবকিছুর নির্ণায়িক তাই ট্রাইবুনালের ঘাড়ে বন্দুকটাই খালি রাখা হইছে,গুল্লিটা অন্য কেউ করেছে…এইটা নিশ্চিত।

    1. এসব কথা বললে আপনাকে জামায়াতের
      এসব কথা বললে আপনাকে জামায়াতের পারপাস সার্ভকারী হিসাবে ট্যাগ দেওয়া হবে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, কাদের মোল্লার রায়ের আগে যারা এসব ট্যাগ দিত, তাদেরকে এখন রিভার্স খেলতে দেখতেছি। তারাই এখন ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে বলছে। তারা এখন কার পারপাস সার্ভ করছে???

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 27 = 30