ছাত্রদল সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত দৃঢ়চেতা এক তরুণ শহীদ হাবিবের মৃত্যু দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি

আজ ২৫ সেপ্টেম্বর, আমার খুব কাছের বন্ধু, শহীদ হাবিবুজ্জামান হাবিবের ২২ তম মৃত্যু বার্ষিকী। ১৯৯১ সালের আজকের দিনে রংপুর মেডিকেল কলেজের ডাঃ পিন্নু ছাত্রাবাসের ৬৪ নং কক্ষে অবস্থানরত শহীদ হাবিবকে গুলি করে হত্যা করে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা। মূলত এরশাদ পতনের পরে গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় এসে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দখলের যে নীল নকশা প্রণয়ন করে তাঁর অংশ হিসেবেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করা হয়।

আর এই হত্যার মধ্য দিয়ে রমেক প্রতিষ্ঠার পর থেকে ঐ ক্যাম্পাসে জাসদ ছাত্রলীগের একক আধিপত্যের ধ্বস নামে। যা ধীরে ধীরে আজ দেশের সকল মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চলছে। মানে, ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের দাপট। যাই হোক, আমার প্রাণ প্রিয় বন্ধু (আসলে হাবিব আমার থেকে চার বছরের বড় হলেও একই এলাকায় বাসা হওয়ার কারণে আমরা বন্ধুই ছিল) হাবিবের সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে কিছু বলতে গেলে একটু পিছনে ফিরে দেখতে হবে।

এরশাদ বিরোধী আট বছরের রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে রংপুর মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীনতার পর থেকে দেশের প্রথম সারীর এই মেডিকেল কলেজে একটা দীর্ঘ সময় জাসদ ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসের একক সংগঠন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। পাশাপাশি ছাত্র ইউনিয়নেও সাংগঠনিক অবস্থান বরাবরই ভালো ছিল রমেকে। অন্যান্য সংগঠনের কার্যক্রম থাকলেও তাদের সদস্য সংখ্যা ছিল খুবই কম। শুধু রংপুর মেডিকেল কলেজই নয় আশি ও নব্বইয়ের দশকেও রংপুরের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাসদ ছাত্রলীগের অবস্থান ছিল অত্যন্ত সুসংহত। একটা উদাহরণ দিলেই কিছুটা অনুধাবন করা যাবে সেই সময় রংপুরের ছাত্র রাজনীতির হাল হকিকত। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের শেষ সময়ে স্বৈর শাসক ছাত্র আন্দোলনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্যই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করে। ১৯৮৯-৯১ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত রংপুরের প্রধান প্রধান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জাসদ ছাত্রলীগ সমর্থিত প্যানেল বিপুল বিজয় অর্জন করেছিল। সেই সময়ে অনুষ্ঠিত পাঁচটি কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে শিবিরের নিয়ন্ত্রণে থাকা উত্তরবঙ্গের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কারমাইকেল কলেজে জাসদ ছাত্রলীগ ভিপি সহ ৩ টি পদ, মেডিকেল কলেজের ভিপিসহ ৭০ ভাগ পদে বিজয়ী হয়। এছাড়া রংপুর সরকারী কলেজ, রংপুর কমার্স কলেজ ও রংপুর ভোকেশনাল ইন্সটিটিউটে জাসদ ছাত্রলীগ পূর্ণ প্যানেলে বিজয়ী হয়।


(ছবি- মৃত্যুর চার মাস আগে শহীদ হাবিবুজ্জামান হাবিবের মৃত্যুর পর ”শোক বইতে” লেখা রাবিতে ১৯৯২ সালের ১৭ মার্চ শিবিরের গুলিতে নিহত শহীদ ইয়াসীর আরাফাত পিটুর শোকবাণী)

এতেই বোঝা যায় সেই সময়ে রংপুরে জাসদ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক অবস্থান। ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে পতন ঘটে এরশাদের। ’৯১ এর ২৭ ফেব্রুয়ারীর জাতীয় নির্বাচনে বি.এন.পি বিজয়ী হয়ে জামাতের সমর্থনে সরকার গঠন করে। সকলেই নিশ্চয়ই মনে আছে ঐ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর থেকেই কিভাবে প্রশাসনের পূর্ণ সহযোগিতায় দেশের প্রধান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠায় নামে সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল।

অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছিল যে ঐ বছরের মে’ থেকে নভেম্বরের মধ্যে দেশের একশোরও বেশী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করতে হয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। সেই ছয় মাসের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিআইটি (এখন রুয়েট), বরিশাল শেবাচিম, সিলেট মেডিকেল, রাজশাহী মেডিকেল, চট্টগ্রাম মেডিকেলের মতো শীর্ষ বিদ্যাপীঠ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ছাত্রদলের দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠায় বেপরোয়ারা সন্ত্রাসের কারণে।

সে সময় অর্থাৎ ১৯৯১ সালের ২২ জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেখলো নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের আসল রূপ, যখন পুলিশ ভ্যানের আড়াল নিয়ে পুলিশের চোখের সামনেই অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি বর্ষণ করতে শুরু করলো বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী ও জাসদ ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের উপর। আসলে এটা একটা উদাহারন মাত্র।

পুলিশ যে সে সময় সারা দেশেই ছাত্রদল সন্ত্রাসীদের সমর্থনে কতোটা উদার ছিল তার নজির হতে পারে

অর্ধ শতাধিক মোটর সাইকেল ও গাড়ির বহর নিয়ে পুলিশি প্রহরায় মুহুর্মুহু গুলি করতে করতে ছাত্রদল ক্যাডারদের ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ এবং দখলের ঘটনাটা। বাকৃবি থেকে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ও ছাত্রলীগ উৎখাত এবং ক্যাম্পাস দখলের ঘটনা সেসময় বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। কথিত আছে সেদিনের সেই ঘটনায় প্রত্যক্ষ অংশ গ্রহণ ছিল জনৈক মন্ত্রীর যিনি চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতা।

সারা দেশেই যখন এমন অবস্থা বিরাজ করছিল তখন রংপুরেও ছাত্রদল ক্যাডারদের টার্গেটে পরিণত হলো রংপুরের ছাত্র রাজনীতিতে সেসময়ের প্রধান সংগঠন জাসদ ছাত্রলীগ। হটাৎ করেই রংপুর মেডিকেল কলেজ ও সরকারী রংপুর কলেজে ছাত্রদলের ক্যাডাররা প্রশাসনিক সহায়তায় প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে এক ভীতিকর অবস্থার সৃষ্টি করে। এমনই এক ঘটনায় উভয় পক্ষের সংঘর্ষে বন্ধ হয়ে যায় সরকারী রংপুর কলেজ।

’৯১ বি.এন.পি সরকার গঠনের পরে সারা দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দখলের যে পায়তারা শুরু করে তার ঢেউ রংপুর মেডিকেল কলেজে এসেও লাগে। মেডিকেল কলেজের ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের কাছে জেলা ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের কাছে খবর আসতে থাকে যে,

তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মতিনের বোনের ছেলে মেডিকেল ৩য় বর্ষের ছাত্র ও ছাত্রদল কর্মী তান্না এবং তার কিছু সহযোগী ছাত্রাবাসে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র মজুদ করেছে এবং প্রায় রাতেই তারা গোলাগুলির মহড়া করছে। জানা যায় ঢাকার ছেলে তান্না সেই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের প্রভাবশালী নেতা কামরুজ্জামান রতনের কাছে থেকে এসব অস্ত্র সংগ্রহ করে।

এতে করে মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা কিছুটা ভীত হয়ে উঠলে জেলা ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে ’৯১ সালের ২৫ নভেম্বর রাত ৯ টায় মেডিকেল কলেজের শহীদ ডাঃ পিন্নু ছাত্রাবাসে গিয়ে এক কর্মীসভা করে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন। পরবর্তী দিন ডাঃ মুক্তা ছাত্রাবাসে কর্মীসভা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে রাত এগারোটার দিকে জেলা নেতৃবৃন্দ ক্যাম্পাস ত্যাগ করে। নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন মেডিকেল কলেজের ভিপি সৈয়দ মামুনুর রহমান, তৎকালীন জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি গৌতম রায় (পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক), আখতারুজ্জামান মওলা, ইউসুফুজ্জামান তপন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন প্রমুখ। প্রথম দলে একটি মটর সাইকেলে করে গৌতম রায়, মামুন রহমান, মওলা বিদায় নিলেও বাকীদের সবার বাসায় মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন হওয়ায় তারা আরও কিছুক্ষণ সময় কাটানোর জন্য থেকে যায় ডাঃ পিন্নু ছাত্রাবাসের ৬৪ নং কক্ষে।

রাত্রি যখন ঠিক পৌনে ১২টা তখন হটাৎ করে কে বা কারা বাহিরের দিক থেকে ঐ রুমের দরজায় তালা লাগিয়ে দেয়। রুমে তখন অবস্থান করছিলেন হাবিব, মাহমুদ, মুকুল, তৌফিকুর রহমান রিপন, আনোয়ার, তপন। তারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই জানালার কাঁচ ভেঙ্গে এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে ছাত্রদলের অস্ত্রধারীরা।

তখন ভিতরে অবস্থানরত সবাই লাইট নিভিয়ে দিয়ে বিছানার নীচে লুকিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করে। পাশাপাশি তারা তাৎক্ষনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, এখানে চুপচাপ বসে থাকলে জীবন দিতে হবে । তাই রুম থেকে বের হতে হবে । কথা মতো তারা খাটের স্ট্যান্ড, চেয়ারের পায়া যে যা হাতের কাছে পেয়েছে তাই নিয়ে দরজা ভাঙ্গার চেষ্টা করে। ইতোমধ্যে প্রথম দফা গুলি বর্ষণের পর অস্ত্রধারীরা আবারও ফিরে আসে এবং দরজার তালা খুলে রুমে প্রবেশের চেষ্টা চালায় । দরজা খোলার সাথে সাথেই হাবিব সর্বপ্রথম রুম থেকে বেরিয়ে আসেন এবং করিডোরে গুলিবিদ্ধ হন। একটি গুলি তার বুকে লাগার পর তার কপালে অস্ত্র ঠেকিয়ে দ্বিতীয় গুলি করা হয়। লুটিয়ে পড়ে হাবিব। হাবিবের পিছনে থাকা আনোয়ারকে দুই গজ দুর থেকে গুলি করলে গুলি তার হাতের তালু ভেদ করে বুকে বিদ্ধ হয়। নাকে গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়ে রিপন, হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে পালিয়ে যেতে পারে মাহমুদ, কোনক্রমে ভাগ্য জোরে বেঁচে যান ইউসুফুজ্জামান তপন। ঘটনা স্থলেই হাবিব মৃত্যুবরণ করেন।

অস্ত্রধারীরা তখন রুমে রুমে গিয়ে জাসদ ছাত্রলীগের অন্যান্য নেতা কর্মীদের উপর হামলা করে। কিছুক্ষণ পর যথারীতি পুলিশ এসে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে এবং হাবিবের লাশ কোতোয়ালী থানায় নিয়ে আসে । এভাবেই শেষ হয়ে যায় হাবিবুজ্জামান হাবিব নামের মেধাবী, প্রতিভাবান একজন তরুণ ।

পুলিশ যে সে সময় সারা দেশেই ছাত্রদল সন্ত্রাসীদের সমর্থনে কতোটা উদার ছিল তার নজির হিসেবে বলেছিলাম বাকৃবির কথা।

কিন্তু সেই ঘটনার থেকে কোন অংশে কম ছিল রংপুর মেডিকেল কলেজের এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পরে পুলিশের ভূমিকা। সেদিন ভোরের আলো ফোটার আগেই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকা ছাত্রদলের সন্ত্রাসী তান্নাসহ তার সাথীরা মাইক্রোবাসে করে পুলিশি প্রহরায় রংপুর ত্যাগ করে। এই হত্যাকাণ্ডে দায়ের করা মামলায় রচিত হয় আর এক নির্লজ্জ দলীয়করণ। একটা হত্যা মামলার অভিযুক্ত প্রধান আসামী ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে জামিন আবেদন করলে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করে!! শুধু তাই নয়, জামিন লাভের পরে খুনী তান্না গং রংপুর মেডিকেল কলেজে প্রবেশ এবং হলে অবস্থান নিলে পুলিশের একটা দল প্রায় এক মাস ধরে তাদের পাহাড়ায় নিয়োজিত থাকে হলের প্রতিটি ফ্লোরে ফ্লোরে।

হাবির হত্যার মধ্য দিয়েই রমেক ক্যাম্পাসে একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে তান্না গং। ৯১-৯৫ সাল পর্যন্ত এই আধিপত্য বহাল ছিল। এই সময়ের মধ্যে নির্বাচিত হয় রমেকের ভিপি। ভিপি থাকাকালীন সময়েই ফেন্সিডিলে আসক্ত তান্না জড়িয়ে পড়ে মাদকের ব্যবসায়। ১৯৯৫ সালে রংপুর থেকে পালিয়ে যাওয়ার (অবধারিতভাবে পুলিশী পাহাড়ায়) পরে তার কোন খোঁজ খবর পেতাম না। কিন্তু ২০০১ সালের দিকে পত্রিকায় একটা সচিত্র প্রতিবেদন থেকে জানলাম রংপুর মেডিকেলের সাবেক ছাত্রদল নেতা ডাঃ তান্নাকে রাজধানীর এফডিসি গেইট এলাকা থেকে একটা মাইক্রোবাস ও দেড় হাজার বোতল ফেন্সিডিলসহ আটক করেছে পুলিশ।

আরও একটা হত্যাকাণ্ড : ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৯১ হাবিব শহীদ হওয়ার দিন বুকে বুলেট বিদ্ধ আনোয়ার হোসেনের বুক থেকে সেই বুলেট আজ অবধি বের করা সম্ভব হয়নি। নাট্যকর্মী ও রসিকজন হিসাবে পরিচিত আনোয়ার হোসেন প্রায়ই বলেন, “আমি বুলেট হজম করে ফেলেছি”। তিনি ছিলেন হাবিব হত্যা মামলার অন্যতম চোখে দেখা সাক্ষী। তাকে সাক্ষী দেয়া থেকে বিরত রাখার জন্য ’৯৫ সালের ২৮ অক্টোবর তার বাসায় বোমা হামলা চালায় কুখ্যাত সন্ত্রাসী মেডিকেল ছাত্রদল নেতা হাবিব হত্যা মামলার প্রধান আসামী তান্নার নেতৃত্বে সন্ত্রাসী চক্র। এতে আনোয়ার হোসেনের বাসার সামনে দাঁড়ানো তার পিতা মোঃ জমশেদ আলী ঐ বোমার আঘাতে ঘটনা স্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। সেই ঘটনার সাথে সাথে সমগ্র ধাপ এলাকাবাসী মেডিকেল কলেজ ছাত্রাবাসে হামলা চালিয়ে উৎখাত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মতিনের বোনের ছেলে সন্ত্রাসী তান্নার ত্রাসের রাজত্ব। বর্তমানে আনোয়ার হোসেন রংপুরের নাট্য অঙ্গনে এক পরিচিত মুখ। সক্রিয় রয়েছেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ও জাসদের সাথেও।


(ছবি- বন্ধুত্বের এমনই দৃঢ় বন্ধন যে মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে দুই বন্ধুর মৃত্যুও তাদের আলাদা করতে পারেনি। রংপুরের মুন্সিপাড়া কবরস্থানে পাশাপাশি শুয়ে আছে দুই বন্ধু শহীদ হাবিব (বামে) ও শহীদ পিটু।)

আজকের এই দিনে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি বন্ধু শহীদ হাবিবকে। ঘুমাও বন্ধু, আমরা জেগে আছি এবং চেষ্টা করে যাচ্ছি সাধ্যমতো। জানিনা কতোটা কি করা সম্ভব হবে, তবুও এটুকু জেনো আমাদের চেষ্টায় আন্তরিকতার কোন ঘাটতি ছিল না। লাল সালাম শহীদ হাবিব।

কৃতজ্ঞতা :
মোস্তফা জামান রনি, শহীদ হাবিবের বড় ভাই
ডাঃ সৈয়দ মামুনুর রহমান, সাবেক ভিপি রমেকসু, বিএমএ’র কেন্দ্রীয় সদস্য।

শহীদ হাবিব শুধু মেধাবীই নয় একজন দুর্দান্ত এ্যাথলেটও ছিল। তাঁর একটা সংক্ষিপ্ত জীবনী পাওয়া যাবে এখানে

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২৮ thoughts on “ছাত্রদল সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত দৃঢ়চেতা এক তরুণ শহীদ হাবিবের মৃত্যু দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি

  1. ছবি – শহীদ জমশের আলী। ১৯৯৫

    ছবি – শহীদ জমশের আলী। ১৯৯৫ সালের ২৮ অক্টোবর সকাল সাড়ে নয়টায় ধাপ জেল রোডস্থ নিজ বাসভবনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজের ছাত্রদল সন্ত্রাসী, তৎকালীন স্বরাস্ট্রমন্ত্রী মতিনের ভাগিনা ও শহীদ হাবিব হত্যা মামলার প্রধান আসামী তান্না গংদের নিক্ষিপ্ত বোমার বিষ্ফোরনে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তিনি ছিলেন হাবিব হত্যা মামলার আই উইটনেস, ২৫ সেপ্টেম্বর’৯১ রংপুর হাবিবকে হত্যা করার দিন বুলেটবিদ্ধ আনোয়ার হোসেনের পিতা।

  2. দারুণ পোস্ট। তবে সন্ত্রাসী
    দারুণ পোস্ট। তবে সন্ত্রাসী তান্নার ভাগ্যও অনেক ভালো। না হলে আনোয়ার ভাইয়ের বাবা মারা যাওয়ার দিন ওরও একই ঠিকানায় যাওয়ার কথা ছিল। সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে সে যাত্রায় রক্ষা পায়। এখন সে ঢাকায় তেনকুনি পাড়ায় থাকে।

  3. আপনার পোষ্টগুলোর প্রশংসা করে
    আপনার পোষ্টগুলোর প্রশংসা করে আপনাকে ছোট করবো না । তাছাড়া এই ধরনের ইতিহাস প্রধান পোষ্টের প্রশংসা কিভাবে করে তাও আমার জানা নেই । তবে ইতিহাস যেভাবে তুলে ধরছেন তাতে আমাদের মতন ব্যাক্তিদের যে কি পরিমান সুবিধা হচ্ছে তা বলে প্রকাশ করা যাবে না । আপনার পূর্বের পোষ্টটিও পড়েছি । একটা প্রশ্ন তখনই জাগে । ৮১ থেকে ৯১ পর্যন্ত ছাত্র রাজনীতির খুব একটা স্পষ্ট ধারণা নেই । ভালো হয় যদি এই বিষয়ে কোন সিরিজ পোষ্ট পাই । আর জাসদ-ছাত্রলীগ বিষয়েও একটু বলেন ………… প্লীজ ।

    1. ধন্যবাদ ভাই। আসলে আশির দশকের
      ধন্যবাদ ভাই। আসলে আশির দশকের ছাত্র রাজনীতি মূলত স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের দশক। অনেক মেধাবী ছাত্রর আত্মাহুতির বিনিময়ে অর্জিত হয় নব্বই অভ্যুত্থান। দেখা যাক। আর আমি একটা দীর্ঘ সময় জাসদ ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে খুব সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলাম। তাই এই বিষয়ে আমার লেখা কোনভাবেই নিরপেক্ষা হওয়ার সম্ভাবনা নাই। আমি না চাইলেও নিজের অজান্তে জাসদ ছাত্রলীগকে হাইলাইট করবো। প্রথম প্রেম বলে কথা। তাও আপনার আগ্রহের জন্য ভালো লাগলো। চেষ্টা থাকবে। :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

  4. লাল সালাম শহীদ হাবিব।

    লাল সালাম শহীদ হাবিব।

    :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute:

    পোস্ট সরাসরি প্রিয়তে নিলাম ভাই… খুব সাবলীল ঝরঝরে লেখায় আপনি পুরো বিষয়টা এতো চমৎকারভাবে তুলে এনেছেন যে পুরো ঘটনাটা চোখের সামনে যেন স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। আপনাকে অশেষ ধইন্না সহ গোলাপ… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

    1. ডন ভাই, আমার বড় ভাই একজন
      ডন ভাই, আমার বড় ভাই একজন ট্যাক্স কনসালটেন্ট, মানে আয়কর আইনজীবী আর কি। কিন্তু অসাধারণ তাঁর স্মৃতি শক্তি, এসব পোস্ট লিখতে গিয়ে তাঁর এই গুণ আমাকে অনেক সাহায্য করে। ধন্যবাদ। :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

    1. হাবিব পিটু আর আমাদের বাসা একই
      হাবিব পিটু আর আমাদের বাসা একই পাড়ায়। অনেক কষ্টের। বিশেষ করে পিটুর মৃত্যু ভুলতে অনেক সময় লাগছিল। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে রিক্সায় করে রাবি হেলথ কমপ্লেক্সে নিয়ে যাচ্ছিলাম আমরা কয়েকজন। মাত্র তিন শো গজ হবে দূরত্ব। কিন্তু পৌঁছানো হলো না। রিক্সাতেই সব শেষ। শ্রদ্ধাঞ্জলি দুই কমরেডের জন্য।

  5. উত্তর বাংলা ভাই! আপনি এতসব
    উত্তর বাংলা ভাই! আপনি এতসব তথ্য পান কোথায় ভাই!! আপনি তো ভাই একটা জীবন্ত উইকিপিডিয়া!! প্রিয়তে নিলাম পোস্ট। আর অনেক ধইন্যা!!

    1. জীবন্ত উইকিপিডিয়া!!
      কথা সত্য

      জীবন্ত উইকিপিডিয়া!!

      কথা সত্য :ভেংচি: :চশমুদ্দিন: :চশমুদ্দিন: … কথা খুব সত্য… :গোলাপ: :বুখেআয়বাবুল:

    2. ভাই আমাকে তো ব্লাস্ট করার
      ভাই আমাকে তো ব্লাস্ট করার পরিকল্পনা করছেন প্রায়। আমি উত্তরবাংলা হয়েই থাকতে চাই। আসলে অনেক কিছুই তো আমার সামনেই ঘটেছে তাই মনে থাকে। আমি তো ইঁচড়ে পাকা টাইপের ছেলে ছিলাম, তাই ছোট থেকেই এসবে আগ্রহ। এই আর কি। ধন্যবাদ। 😀 😀 😀

      1. আমি তো ইঁচড়ে পাকা টাইপের ছেলে

        আমি তো ইঁচড়ে পাকা টাইপের ছেলে ছিলাম, তাই ছোট থেকেই এসবে আগ্রহ

        তাই তো কই এতো অভিজ্ঞতা ক্যামনে আইল!! :ভেংচি: 😀 😀 :বুখেআয়বাবুল:

  6. জীবন্ত উইকিপিডিয়া!
    – চরম সত্য

    জীবন্ত উইকিপিডিয়া!
    – চরম সত্য একটি কথা বলেছেন ইলেকট্রন ভাই।আসলেই, উত্তর বাংলা ভাইয়ের কাছ থেকে পাওয়া পোস্টগুলি সময়োপযোগী ও অনেক গুরুত্বপূর্ন ।

    1. সেটাই আতিক ভাই। ওদের কবর
      সেটাই আতিক ভাই। ওদের কবর দুইটা ঠিক রাস্তার পাশেই, কবরস্থানের অয়ালের ভিতরে। এখনও ঐ রাস্তা দিয়ে যাওয়া আসার সময় থমকে যেতে হয়।

  7. ছাত্র রাজনীতির ধারাবাহিক
    ছাত্র রাজনীতির ধারাবাহিক দূষণকাল শুরু হয় মূলত স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের শেষে বিএনপির শাসনামলে ছাত্র দলের হাত ধরে এবং সেই সাথে শিবির হয়ে ওঠে ভয়ংকর কাল কেউটে । আজ কতিপয় বাম সংগঠনের উঠে দাঁড়াবার প্রয়াস বাদ দিলে কোথায় ছাত্রদের সেই গৌরবময় ইতিহাস ?

    আপনাকে ধন্যবাদ এইসব ইতিহাস তুলে ধরার জন্য । জানিনা ডঃ মোহাম্মদ হান্নান এইসব ইতিহাস তার বইতে তুলে এনেছেন কিনা ।

    1. ছাত্র রাজনীতির ধারাবাহিক

      ছাত্র রাজনীতির ধারাবাহিক দূষণকাল শুরু হয় মূলত স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের শেষে বিএনপির শাসনামলে ছাত্র দলের হাত ধরে এবং সেই সাথে শিবির হয়ে ওঠে ভয়ংকর কাল কেউটে ।

      পারফেক্ট রিয়ালাইজেশন রাহাত ভাই। এটাই চূড়ান্ত সত্য। একই সঙ্গে শিবির এবং ছাত্রদলের সন্ত্রাস নির্ভর রাজনীতি ছাত্র সমাজের যে গৌরবের অতীত ইতিহাস ছিল ছাত্র রাজনীতির তা ম্লান করতে মূল অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছে। ধন্যবাদ।

  8. আব্দুল মতিন একটা কুত্তার
    আব্দুল মতিন একটা কুত্তার বাচ্চা। এরাই তো দেশটা কে আরও পিছিয়ে দিয়েছে। গণতন্ত্রের নামে টুটি চেপে ধরেছে প্রগতিশীলতার।
    আমরা ছোট বেলায় জানতাম কলেজে পড়লে সবাই জাসদ করে। কিন্তু দলীয় রাজনীতির উপরের সারির নেতাদের দ্বন্দ্ব, স্বার্থপরতা অসহায় করে দেয় তরুণ ছাত্র নেতা ও সমর্থকদের। বার বার ছাত্র নেতাদের উপর আঘাত আসলেও সেটার কোন প্রতিকার বা কঠিন অবস্থানে যাওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নেতাদের ব্যর্থতা কম নয়।

    1. আশির দশক পর্যন্ত জাসদ
      আশির দশক পর্যন্ত জাসদ রাজনীতির একটা অবস্থান ছিল। কিন্তু এখন দলটা আর আগের অবস্থান ধরে রাখতে পারছে না, বরং নিজেদের আদর্শ থেকে অনেক অনেক দূরে সরে যাচ্ছে। ধন্যবাদ আপনাকে।

  9. আপনার লেখার হাত দারুন।পরার
    আপনার লেখার হাত দারুন।পরার সময় জটিল একটা অনুভূতি হচ্ছিল :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 + 6 =