ইতিহাস বিকৃতি রোধে আইন পাস করা দরকার

ইতিহাস বিকৃতি হচ্ছে এক ধরণের স্লো পয়জনিং।

৭৫-এর পর থেকেই এদেশে ইতিহাস বিকৃতির মাধ্যমে জাতীকে তার মূল ধারা থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা হয়েছে খুব ধীরে ধীরে। বিকৃত করা হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে। প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা হয়ছে মহানায়কদের ভূমিকাকে। তাদের ভূমিকার বদলে নামমাত্র ব্যক্তিদের ভূমিকাকে করা হয়ছে মহিমান্নিত। জাতীর সামনে একজন পাঠককে তোলে ধরার চেষ্টা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধের ঘোষক হিসেবে।

সাথে সাথে,
মুক্তিযুদ্ধের সময় ঘটে যাওয়া যুদ্ধপরাধ ও মানবতা বিরুধী অপরাধগুলো এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়েছে সবার অলক্ষ্যে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে পাক হানাদার বাহীনির সাথে প্যারা-মিলিটারি হিসেবে কাজ করা এদেশীয় রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস বাহিনী। মূলত এই বাহিনীর লোকজনই লোটপাট, অগ্নিসংযোগ, খুন হত্যা ও ধর্ষনের মত অপরাধগুলোতে জড়িত ছিলো বেশি। কিন্তু ইতিহাস রচয়িতারা বিশেষ গোষ্ঠীর ক্রীড়ানক হিসেবে রাজাকার-আলবদর, আল-শামস প্রভৃতি শব্দগুলো এড়ীয়ে গেছে সবার অলক্ষ্যে। যার ফলশ্রুতিতে দেশের ও তরুণ প্রজন্মের একটা অংশ মুক্তযুদ্ধকালীন মানবতা বিরুধী কর্মকান্ডগুলোকে ৪২ বছর আগের ঘটনা বলে গুরুত্বহীন ভাবে মূল্যায়ন করছে। তাদের কাছে দেশ-বিরুধী, যারা দেশের স্বাধীনতটাই চায়নি, যুদ্ধাপরাধী সংগঠনের রাজনৈতিক অধিকার থাকাটা যৌক্তিক বলে মনে হয়, তারা দেশ-বিরোধী দলের রাজনীতি করাকে গণতন্ত্র বলে।

শুধু কি তাই?
আজকাল ইতিহাস বিকৃতিকারীরা মহান মুক্তিযুদ্ধের তিরিশ লক্ষ শহীদদের আত্মদানকে ছোট করার জন্য এই সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর মত ন্যক্কারজনক ও ঘৃণ্য কাজ করতেও পিছপা হয় না। তাদের কাছে ইতিহাসের এমন বিকৃত করাটা এক ধরণের পৈশাচিক আনন্দ হিসেবে ধরা দেয়। তারা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির সামনে এমন বিকৃত ভাবধারা প্রকাশ করে একটা ক্রুর হাসি দেয়। যেনো বলতে চায়, তোমরা যতই মুক্তিযুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধ করে চিৎকার করো না কেন, জাতীর তাতে কিছু যায় আসে না, জাতীর কাছে লাখো শহীদের আত্মদান এখন আর গুরুত্ব বহন করে না, তাদের কাছে শহীদ তিরিশ লক্ষ কিংবা তিন লক্ষ্য কোন ব্যপার না, দেখো আমরাই জিতে গেলাম।

তাই,
ইতিহাস বিকৃতি রোধে প্রয়োজন কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেয়া। উপযুক্ত প্রমানাদি ছাড়া যে বা যারাই ইতিহাস নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ তথ্য উপস্থাপন কিংবা প্রকাশ করবে তাকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির বিধান জরুরী বলে মনে করছি।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৯ thoughts on “ইতিহাস বিকৃতি রোধে আইন পাস করা দরকার

    1. সহমত। নইলে জিয়ারে স্বাধীনতার
      সহমত। নইলে জিয়ারে স্বাধীনতার ঘোষক বলার পর তো ইতিহাস বিকৃতি না হোক, আদালত অবমাননার মামলা করা যায়।

      যখন নেত্রী বলেন, সংবিধানকে ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলার কথা – তখন তো সংবিধান অবমাননার মামলা করা যায়।

  1. এটার জন্য প্রয়োজন মানসিকতার
    এটার জন্য প্রয়োজন মানসিকতার পরিবর্তন। আইন করে কি ইতিহাস বিকৃতি বন্ধ করা যাবে? মনে হয় না। আপনি নতুন আইন করবেন, সেটারও ফাক ফোঁকর দিয়া ঠিকই ইতিহাস বিকৃতকারীরা বেড়িয়ে যাবে।

  2. একটা চিন্তা মাথায় আসল। ধরেন,
    একটা চিন্তা মাথায় আসল। ধরেন, এখন বিম্পির শাসনামল। আমি কইলাম, “বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষক।” আমারে ইতিহাস বিকৃতির দায়ে শশুর বাড়িতে ঢুকায় দিল। আমার কি হপে গো???

      1. আর এক কোটি টাকা জরিমানা কি
        আর এক কোটি টাকা জরিমানা কি আপনে দিবেন??? ৫৭ ধারার কথা মনে নাই??? আমার চৌদ্দ গুষ্ঠিরে বেচলেও এক কোটি টাকা হবে না।

  3. মানবিক কিংবা বাস্তবিক,রাজনীতি
    মানবিক কিংবা বাস্তবিক,রাজনীতি এখন কোন দিক নিয়ে মাথা ঘামায় না। ক্ষমতা যার,দুনিয়া তার,দেশ ও তার। জনগণ? -ননীর পুতুল।

  4. সহমত ।
    মুক্তিযুদ্ধের

    সহমত ।

    মুক্তিযুদ্ধের দলিল-দস্তাবেজ সংরক্ষনের দাবী জানিয়ে বেশ কয়েকদিন আগে আমি একটি পোস্ট লিখেছিলাম ।লিংক দিলাম চাইলে দেখতে পারেন ।পাশাপাশি এই দাবীটির পক্ষে অবস্থান নিয়ে যার যার পক্ষ থেকে জোরালো পদক্ষেপ নিতে সকল ব্লগারদের প্রতি অনুরোধ জানাইলাম ।
    http://www.istishon.com/node/2300

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

69 − = 65