আমার বন্ধু।

খুব খারাপ আজ মন। বার বার ভীজে উঠছে চোখ। বার মন ফিরে যাচ্ছে অতীতে, জুয়েল, সাগর আর আমার একসাথে আড্ডা দেবার সময় গুলাতে। মন ফিরে যাচ্ছে হরতালের ভোরগুলিতে, সাত সকালে ডিউটিতে আসা। সকাল সাড়ে ছটায় পল্টন মোড়ের মরণ চাঁদের মিষ্টির দোকান খুলতে না খুলতেই, সাগর, জুয়েল সোহরাব ভাই, আমি ও আরো দুই তিনজন দৌড় লাগাতাম…প্রথম কাস্টমার হবার জন্য। পাল্লা দিয়ে নাস্তা খাওয়া, যে কম খাবে তাকে বিল দিতে হবে নিয়ম চলতো। হাজার চেষ্টা করেও বিল দেয়া থেকে রেহাই পেতাম না।


খুব খারাপ আজ মন। বার বার ভীজে উঠছে চোখ। বার মন ফিরে যাচ্ছে অতীতে, জুয়েল, সাগর আর আমার একসাথে আড্ডা দেবার সময় গুলাতে। মন ফিরে যাচ্ছে হরতালের ভোরগুলিতে, সাত সকালে ডিউটিতে আসা। সকাল সাড়ে ছটায় পল্টন মোড়ের মরণ চাঁদের মিষ্টির দোকান খুলতে না খুলতেই, সাগর, জুয়েল সোহরাব ভাই, আমি ও আরো দুই তিনজন দৌড় লাগাতাম…প্রথম কাস্টমার হবার জন্য। পাল্লা দিয়ে নাস্তা খাওয়া, যে কম খাবে তাকে বিল দিতে হবে নিয়ম চলতো। হাজার চেষ্টা করেও বিল দেয়া থেকে রেহাই পেতাম না।

একসাথে আর কত ইভেন্ট কাভার করা, সেই সময়ের টুকরা টুকরো স্মৃতি…আজ কেবলই স্মৃতি। সাংবাদে থাকতে সাগর প্রায়ই বইমেলা কাভার করত। আর আমি জনকণ্ঠ থেকে যেতাম বইমেলাতে। আরো অনেকে মিলে ঘুরে ঘুরে দেখতাম। স্টলে স্টলে,ইনফরমেশন ডেস্কে, সাংস্কৃতিক মঞ্চে বা বাইরে বসা বইয়ের দোকানে, নতুন পুরনো লেখকদের সাক্ষাতকার, চা,ধুলোময় ফুচকা-চটপটি, পিঁয়াজু, শিঙাড়া। রিক্সা ভাড়া কে দেবে তাই নিয়ে ঝগড়া। কোনদিন অনেকটা পথ একসাথে হাঁটা। নিজেরদের সব কিছু নিয়ে আলোচনা, অফিস, পরিবার, কাজ, বিশেষ মেয়ে বন্ধুকে বা বিশেষ ছেলে বন্ধুকে নিয়ে প্রশংসা বা গীবত কোনটাই বাদ যেত না।

কাজের চাপে দিনে দিনে বন্ধুদের মাঝে দূরত্ব আসলেও হৃদয়ের টান অমলিন ছিল। কাজ, সংসার নিয়ে আমি যেমন ব্যস্ত হয়ে পরি তেমনি সাগর, ফলে যোগাযোগ যোগাযোগ কমে যায়। কিন্তু আবার দেখা হলেই বিরতিহীন বাস সার্ভিসের মত চলে বিরতিহীন আড্ডা। আমার বাইরে চলে আসা। সাগরের জার্মানিতে চলে যাওয়া… বাড়িয়ে দেয় আরো দূরত্ব। ফেসবুকের মাঝে চলে অল্প বিস্তর যোগাযোগ। এত সব কিছুর মধ্যে রুনির সাথে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে, সংবাদে এক সাথে কাজ করার সুবাদে। এরপর কাছের বন্ধুর বউ হবার কারনে আন্তরিকতা আরো বেড়ে ওঠে। এক সময় সাগরের থেকে রুনির সাথে কথা বেশি হতে থাকে। রুনি জার্মানিতে চলে গেলে ফেসবুক আর ফোনের কারনে যোগাযোগ অটুট থাকে। কিন্তু ওরা ঢাকায় ফিরে গেলে ফোনে কথা বলা একেবারেই কমে যায়। ছয় মাসে নয় মাসে কথা হত। কথা হত তাবত দুনিয়ার বিষয় নিয়ে, কথা হত আমাদের বাচ্চাদের নিয়ে। ওদের ভবিষ্যৎ নিয়ে। রুনি খুব উচ্ছাসিত হত মেঘের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে…

রুনি তুমি কি জান তোমার মেঘের ওপর মেঘ জমেছে?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “আমার বন্ধু।

  1. আপনার মানসিক অবস্থা কিছুটা
    আপনার মানসিক অবস্থা কিছুটা অনুধাবন করতে পারছি। প্রিয় মানুষকে হারানোর বেদনা নিয়েই আমাদের পথ চলতে হয়। এটাই জীবনের নিয়ম। তবুও মেনে নেওয়া আসলেই কষ্টকর। সাগর-রুনির আত্মা শান্তিতে থাকুক, আর মেঘের জন্য অনেক অনেক ভালোবাসা। বড় হয়ে সে মা-বাবার নাম উজ্জ্বল করুক এই কামনা করি।

  2. মেঘ দীর্ঘজীবি হোক। মায়ের
    মেঘ দীর্ঘজীবি হোক। মায়ের দ্যুতি দ্বিগুন হয়ে মেঘের উপর ভর করুক। সেই মেঘ আমাদেরকে উড়িয়ে নিয়ে অবাধ তথ্য প্রবাহের বিশ্বে। যেখানে বাঙালীর মুখ থেকে নির্গত প্রতিটা শব্দ মহুর্তেই জ্বলজ্বল করবে বাংলা বর্ণমালায়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

22 − 20 =