বামপন্থী মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধের বামপন্থী চেতনা – ১

অনলাইন গনমাধ্যম ইতিহাস চর্চার জন্যে অত্যন্ত বিপদজনক একটি জায়গা। ইতিহাসের বদলে প্রোপাগান্ডা চর্চা অনলাইন গনমাধ্যমে অনেক সহজ। অনলাইন আওয়ামীলীগ এই বিষয়টায় এতটাই দক্ষতা অর্জন করেছে যে তা মোটামুটি শিল্পের পর্যায়ে উন্নিত হয়েছে। বাংলাদেশের অনলাইন গনমাধ্যমগুলোতে সবচেয়ে বড় ইতিহাসবীদ যিনি তিনিই আবার অনলাইন বাঙলার সবচেয় বড় প্রোপাগান্ডা বিশারদদের একজন। এইটা অত্যন্ত চমৎকার কিন্তু ভয়ঙ্কর একটা সত্য। একটা মিথ্যা কথা বারবার বলতে বলতে কিভাবে সত্যে পরিনত করা যায় তার একটা উদাহরন বলি। ইদানিং প্রায়ই অপেক্ষাকৃত কম বয়সী অনেককে ব্লগে অথবা ফেসবুকে মন্তব্য করতে অথবা চ্যাটবক্সে বলতে শুনেছি বাংলাদেশের বামপন্থীরা নাকি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছে। এর মধ্যে যারা একটু পন্ডিত তারা জানে যে মস্কোপন্থীরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে এবং চীনপন্থীরা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে ছিল। মাওবাদী তথা চীনপন্থী বামপন্থীরা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছে এই কথাটা এখন অনলাইনে মোটামুটি সত্যের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। চীনা বাম, চীনা বাদাম অথবা চিঙ্কু এজাতীয় কিছু শব্দ ব্যবহার করা হয় এবং বোঝানো হয়যে এরা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি। এখন, মাওবাদী ভাষা সৈনিক আবদুল মতিনকেও তারা স্বাধীনতা বিরোধী বলার সাহস দেখাবে কিনা সেই প্রশ্ন তোলা যেতে পারে। কিংবা, শহীদ হাসান ইমাম রুমী, যাকে বিক্রি করে অনলাইন আওয়ামীলীগের অনেকে বড় ইতিহাসবীদ হয়েছেন, তার সাথে মাওবাদীদের সম্পর্কের তারা কি জবাব দেবেন? এখানে উল্লেখ্য যে মুক্তিযুদ্ধের এই মহান গেরিলা যোদ্ধার সাথে যে রাজনৈতিক সংগঠনটির সম্পর্ক পাওয়া যায় তা হলো পিকিংপন্থী ছাত্র ইউনিয়ন। মুক্তিযুদ্ধের সময়টাতে রুমী এই সংগঠনটিকে তার গাড়ি দান করেন, যেই গাড়িটি পুরো একাত্তর সালেই শিবপুরের মাওবাদী মুক্তিযোদ্ধাদের বাহন হিশাবে ব্যবহার হয়েছে। রুমীর ক্র্যাক প্লাটুনের সহযোদ্ধা এবং ২ নম্বর সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকেই ছিলেন মাওবাদী। অনলাইন আওয়ামীলীগ এদের স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি বলবে কিনা সেটা একটা প্রশ্ন। শাহবাগ আন্দোলনে শহীদ রুমী স্কোয়াডকে নেহাত আওয়ামী নিয়ন্ত্রনের রাজনীতির বিপক্ষে অবস্থান নেয়ায় চিঙ্কু ও স্বাধীনতা বিরোধী ট্যাগ খেতে হয়েছে। কবে খোদ রুমী এই ট্যাগ খাবেন তা এখন দেখার বিষয়।

অবশ্য চিঙ্কু অথবা চিনাবাদাম শব্দের ব্যবহারে অনলাইন আওয়ামীলীগ বিশেষ বাছবিচার করে তা না। আমি বিভিন্ন সময়ে তাদের কাছে চীনাবাদাম, মাওবাদী অথবা চিঙ্কু ট্যাগিং পেয়েছি। অথচ চীনপন্থা দূরে থাক, মস্কোপন্থার সাথেও আমার সম্পর্ক নাই। আমাকে বড়জোর একজন লেফট উইং ন্যাশনালিস্ট বলা যায়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ছাত্রলীগের ভেতরে লেফট উইং ন্যাশনালিজম বিশেষ প্রভাব বিস্তার করেছিল। মাওবাদের সাথে আমার দুরতম সম্পর্ক হতে পারেযে বামপন্থী চিন্তা ভাবনার ক্যাটাগোরিতে আমি কম বেশি থার্ড ওয়ার্ল্ডিস্ট, আর মাওবাদও থার্ড ওয়ার্ল্ডিজমের ক্যাটাগোরিতে পরে। এইসব বিষয়ে তাদের জানাশোনা নাই, থাকার কথা না। তাদের কাছে চিঙ্কু বাম হলো সেই বাম যে আওয়ামীলীগের বিরোধীতা করে। এবং আওয়ামীলীগের বিরোধীতা করে বলেই তাদের কাছে সে স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি। স্বাধীনতার পক্ষ ও বিপক্ষ শক্তির এই সংজ্ঞা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইতিহাসের উপর আওয়ামীলীগের একাধিপত্যের ফলাফল। অথচ এমন হওয়ার কথা ছিলনা। কিন্তু হয়েছে। ফলে দেখা যাচ্ছে তারা সিপিবি ছাত্র ইউনিয়নের কর্মীদের চিঙ্কু বলে গালি দিচ্ছে, যে সিপিবি ছাত্র ইউনিয়নের কর্মীদের সারা জীবন মাওবাদীদের কাছে আওয়ামী দালাল গালি খেতে হয়েছে। তারা বাসদের কর্মীদের চিঙ্কু বলে গালি দিচ্ছে, যেই বাসদের জন্ম জাসদ থেকে। যে জাসদ মূলত ছিল আওয়ামীলীগ থেকে বের হয়ে আসা বামপন্থীদের সংগঠন।

এইসব প্রোপাগান্ডার শুরুটা আমরা নিজেদের চোখের সামনে দেখেছি। ঠিক যখন থেকে অনলাইন বামপন্থীরা ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকারের নানান সমালোচনা ও বিরোধীতা করতে শুরু করে তখন থেকেই এই ‘চিঙ্কু’ প্রোপাগান্ডার শুরু। অনলাইন আওয়ামী পন্ডিত ও ইতিহাসবীদরা ফতোয়া দিল যে যারা এইসব বিরোধীতা করছে তারা হলো চীনপন্থী বাম, এরা মুক্তিযুদ্ধের সময়ও আওয়ামীলীগ এবং মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছে, এখনো করছে। মোটকথা, ডানপন্থী ছাগুর পাশাপাশি, বামপন্থীদের স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি হিশাবে ট্যাগ দেয়ার উদ্দেশ্যেই এই ফতোয়া জারি করা হয়। সমস্যা হলোযে বাংলাদেশে চীনপন্থী বাম রাজনীতি অনেকদিন আগেই তার গুরুত্ব হাড়িয়েছে। হার্ডকোর মাওবাদীদের এখন খুঁজে পাওয়াও দুস্কর। তাই দেখা গেলোযে সিপিবির বাকী বিল্লাহকে তারা চিঙ্কু ট্যাগ দিচ্ছে, একি ট্যাগ দিচ্ছে একেবারেই নন পার্টিজান নেহায়েত বামঘেসা মুক্তমনা আসিফ মহিউদ্দীনকে, একি ট্যাগ দিচ্ছে বাসদের রাজনীতি করে আসা নিলয়দের। অথচ বাংলাদেশের চীনপন্থী বামদের সবচেয়ে বড় সংগঠন সাম্যবাদী দল হলো আওয়ামীলীগের মহাজোটের পার্টনার, যে দলটির নেতাকে তারা নিজেদের মন্ত্রী পর্যন্ত বানিয়ে রেখেছে। অনলাইন আওয়ামীলীগের কাছে মহাজোটের বাইরে যারা বাম, যারা আওয়ামীলীগ সরকারের সমালোচনা ও বিরোধীতা করে তারা সকলেই চিঙ্কু। দিনশেষে যা দাঁড়ায় তা হলোযে বাম মাত্রেই চিঙ্কু, এবং সকল বামপন্থীই মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি। এটাকে সত্যের বিকৃতি বলার উপায় নাই, এটা হলো দিনে দুপুরে ডাহা মিথ্যাচার।
সত্য হলো যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বামপন্থীদের বড় অংশই সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছে। সত্য হলোযে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সাথে বামপন্থী রাজনীতি ও চিন্তা ভাবনা ছিল ওতপ্রতভাবে জড়িত। সত্য হলোযে বামপন্থাকে উহ্য রাখলে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পূর্ণ হবেনা। সত্য হলোযে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চরিত্রগত ভাবেই ছিল বামঘেসা, এবং এই মুক্তিযুদ্ধের একটি বামপন্থী চেতনাও ছিল। আজকে আমরা প্রায় ভুলতে বসেছিযে মুক্তিযুদ্ধের এই বামপন্থী চেতনা এমনকি একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের মূলধারার চেতনায় পরিনত হয়েছিল, যার প্রমাণ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানের প্রধান চার নীতির একটি ছিল ‘সমাজতন্ত্র’। হয়তো শুদ্ধ কোন সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পথ ধরে তা হয় নাই, হয়তো তা ছিল মূলত সিপিবির কূটনীতির ফসল, কিন্তু বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে সেসময় যারা একটা সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব হিশাবে দেখেছে বা সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবে পরিনত করার যারা চেষ্টা করেছে তাদের মধ্যে মস্কোপন্থী, পিকিংপন্থী এবং সেইকালের বামঘেসা আওয়ামীলীগও ছিল। নাইলে জগতের কোন কুটনীতিই একটা স্বাধীন দেশের সংবিধানের মূলনীতিতে সমাজতন্ত্রের হাজিরা করতে পারেনা।

বামপন্থীদের কেউ কেউ মুজিবনগর সরকারের পক্ষে ছিল, এরা মুক্তিবাহিনীতে থেকে যুদ্ধ করেছে। যারা মুজিবনগর সরকারের পক্ষে ছিলনা তারা আলাদা যুদ্ধ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে কট্টর আওয়ামীলীগারদের যে মুজিব বাহিনী তৈরি হয়েছিল তাদের বড় অংশও বামপন্থীই ছিল। এই ধারাবাহিক লেখার মধ্য দিয়া এসব ইতিহাসের কিছু অংশ তুলে আনার ইচ্ছা রাখি। সেই সাথে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইতিহাসের মূলধারা থেকে বামপন্থীদের বিচ্যুতিতে নেহায়েতই তাদের বিরোধীদের প্রোপাগান্ডা মেশিনই দায়ী নাকি এদেশের বামপন্থীদেরও বড় ধরণের দায় আছে তা নিয়াও কিঞ্চিত আলোচনা করার ইচ্ছা রাখি।

(চলবে)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪৮ thoughts on “বামপন্থী মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধের বামপন্থী চেতনা – ১

  1. চমৎকার লিখেছেন পারভেজ ভাই।
    চমৎকার লিখেছেন পারভেজ ভাই। চেতনা ব্যবসায়ীদের এইসব প্রোপাগান্ডার জবাব আরো আগেই দেওয়া উচিত ছিল। দেরীতে হলেও আপনার এই উদ্যোগের জন্য আপনাকে স্যালুট। আশাকরি এই সিরিজে আপনি আওয়ামী অনলাইন ধর্ষকদের চরিত্র উন্মোচন করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমগ্র বাঙালী জাতির অর্জন হিসাবে প্রমাণ করতে পারবেন।

    অশিক্ষিত আওয়ামী ঘরনার এই গালিবাজ অনলাইন এক্টিভিস্টরা এটাও জানেনা তাদের দলীয় শ্লোগানটিও বামদের থেকে ধার করা। অথচ জয়বাংলা শ্লোগান ছিল বাঙালীর চেতনার শ্লোগান, জাগরণের শ্লোগান। গণজাগরণ ‘জয়বাংলা’ শ্লোগানকে মুক্তি দিয়েছে। একদিন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মুক্তি ঘটবে আওয়ামীলীগের দলীয় ব্যানার থেকে।

    1. আসলে বাঙলা ব্লগেই এধরনের কিছু
      আসলে বাঙলা ব্লগেই এধরনের কিছু কাজ আগেও হয়েছে। ভালো কিছু লেখাও আছে। আমি এই লেখায় সেগুলার রেফারেন্স দেয়ার আশা রাখি পরবর্তি পর্বগুলাতে। তাদের দলীয় স্লোগানটি আওয়ামীলীগের ভেতরকার বামপন্থীদের তৈরি করা স্লোগান, ধার করা বলাটা ঠিক হবেনা। ছাত্রলীগের বামপন্থী অংশটি এই স্লোগানটি চালু করে। ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগের এই বামপন্থী অংশটিই বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে সবচেয়ে প্রগ্রসর অংশ ছিল। আর ছিল ছাত্র ইউনিয়ন।

    2. ‘অশিক্ষিত আওয়ামী ঘরনার এই
      ‘অশিক্ষিত আওয়ামী ঘরনার এই গালিবাজ অনলাইন এক্টিভিস্টরা এটাও জানেনা তাদের দলীয় শ্লোগানটিও বামদের থেকে ধার করা’!
      এক্তু খেয়াল কইরা…
      অল্প বিদ্দা……

    3. অশিক্ষিত আওয়ামী ঘরনার এই

      অশিক্ষিত আওয়ামী ঘরনার এই গালিবাজ
      অনলাইন এক্টিভিস্টরা এটাও জানেনা তাদের
      দলীয় শ্লোগানটিও বামদের থেকে ধার করা।
      অথচ জয়বাংলা শ্লোগান ছিল বাঙালীর
      চেতনার শ্লোগান, জাগরণের শ্লোগান

      আওমিলীগ কে কখনও দেখিনি তারা বলেছে জয় বাংলা শুধু আওয়ামিলীগের স্লোগান, বরং বরাবরি বলতে শোনা যায় জয়বাংলা বাঙ্গালির স্লোগান……

    1. ধন্যবাদ দুলাল ভাই। আমি
      ধন্যবাদ দুলাল ভাই। আমি সিরিজটা তারাতারি শেষ করার আশা রাখি। আশা করি আপনাদের উৎসাহ ও সহযোগিতা পাবো।

  2. দারুন একটা উদ্যোগ। আশা করি এই
    দারুন একটা উদ্যোগ। আশা করি এই সিরিজ বাম এলার্জিতে ভোগা আওয়ামী নামধারী কিছু ধান্দাবাজের জন্য মলমের কাজ দেবে। পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

    1. ধন্যবাদ। আমি তাদের এলার্জির
      ধন্যবাদ। আমি তাদের এলার্জির ঔষধ সর্বরাহ নিয়া চিন্তিত না, আমি চাই মানুষ প্রোপাগান্ডাকে ইতিহাস ভাবা থেকে বিরত থাক, যারা জানেনা তারা জানুক। তবে বোনাস হিশাবে কিছু লোকের এলার্জি সারলে খারাপ হয়না।

  3. প্রথমেই বলে রাখি, পোস্টে আপনি
    প্রথমেই বলে রাখি, পোস্টে আপনি যে অপেক্ষাকৃত কম বয়েসীদের কথা বললেন, আমিও সেই শ্রেণিতেই পড়ি। আমার বয়স কম। জানাশোনা আরও কম। তারপরও নিজের জানাশোনা কিছু বলি।

    আমার অধ্যাপক আনিসুজ্জামান তার “আমার একাত্তর” বইয়ের ১৭ পৃষ্ঠায় বলেছেন –

    ১৯৬৯ সালের আগস্ট মাসে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদের স্বাক্ষরে দলের যে “নীতি ও কর্মসূচির ঘোষণা(ম্যানিফেস্টো)” প্রকাশিত হয় তাতে স্পষ্টই বলা হয় যে, “সমাজতান্ত্রিক সমাজব্যাবস্থা কায়েম করাই আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত লক্ষ্য। “এ সত্ত্বেও এই দুই ধারার রাজনীতিবিদদের পরস্পরের প্রতি সন্দেহ ও অনাস্থা প্রবল ছিল।

    অর্থাৎ লীগ আর বামরা পাশাপাশি অবস্থান করতে পারছিল না কোনভাবেই। তাহলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে তার মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ায় নিশ্চয়ই দ্বিধায় ভুগবে।

    ঐতিহ্য প্রকাশন থেকে পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি(মার্কসবাদী-লেনিনবাদী)-র মুখপত্র হিসেবে প্রকাশিত “মুক্তিযুদ্ধ” নামে একটা পত্রিকা বই হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। তারই চুম্বক অংশ।

    *শেখ মুজিবের আন্দোলন জনগনের মুক্তির আন্দোলন নয়।

    *আর এই মুক্তি তিনি অর্জন করিতে চাহিতেছেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শক্তিশালী সাম্রাজ্যবাদী খুনী দস্যু এবং পূর্ব বাংলার আসল নয়া ঔপনিবেশিক শোষক ও শাসক আমেরিকান দস্যুদের সাহায্যে।

    *পূর্ব বাংলার স্বাধীনতার ধ্বজ্বাধারী বঙ্গবন্ধু এই রক্তচোষা দুশমনদের(আমেরিকা) সাথেই বন্ধুত্ব স্থাপন করিয়াছেন।

    অর্থাৎ স্টান্ডটাই হচ্ছে, মুজিব বাংলাদেশ স্বাধীন করতে চেয়েছিলেন আমেরিকার পদলেহনে ব্লা ব্লা ব্লা। আর সরাসরি বঙ্গবন্ধুর বিরোধীতা করে মুক্তিযুদ্ধে কীভাবে সমর্থন দেয়া যায় আমার ঠিক জানা নেই।

    আর আমি নিজে ভোটটা দেয়ার সময় লীগের বাক্সেই দেব। কিন্তু, তাদের সরাসরি বিরোধীতাও বহুবার করেছি। রামপালি ইস্যুতেই দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দাড়িয়েছি। তাহলে, রুমিও কি পারেন না, মুক্তিযুদ্ধ হিসেবে তার দলের বিরুদ্ধে দাড়াতে?

    আবারও বলছি, আমার চেয়ে আপনার জানাশোনা অনেক অনেক বেশি… আমার এই কমেন্ট মোটেই আপনার সাথে টক্কর দেয়ার জন্য না। বরং সত্যটা জানার ইচ্ছে থেকেই। আশা করি, সত্যটা জানাবেন। 🙂

    1. তাজউদ্দীন আহমেদ ছিলেন আওয়ামী
      তাজউদ্দীন আহমেদ ছিলেন আওয়ামী বামদের সর্বোচ্চ নেতা। তবে নিউক্লিয়াসের বামরা মূলত ছাত্রলীগ থেকে কাজ করতো। আওয়ামীলীগের ভেতরে একটা ডান বনাম বাম দ্বন্দ আগে থেকেই ছিল। এই দ্বন্দের কারনেই প্রথমে মাওলানা ভাসানী সহ অনেক বাম বেরিয়ে এসে ন্যাপ তৈরি করে। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও এই দ্বন্দ ছিল তবে তা স্বাধীনতার পরেই প্রবল হয়েছে যার ফলে বামরা আওয়ামীলীগ ত্যাগ করে জাসদ তৈরি করে। অন্যদিকে দল হিশাবে আওয়ামীলীগের সাথে ন্যাপ ও মাওবাদী অন্যান্য বামদের দ্বন্দ ও বিরোধীতার সম্পর্ক ছিল। মস্কোপন্থীদেরকেও আওয়ামীলীগ ভালো চোখে দেখতোনা কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ ও তার পরের সময়টায় মস্কোপন্থীদের সাথে আওয়ামীলীগের এক ধরনের ঐক্য হয়েছিল।

      পূর্ব বাঙলা কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল) ছিল আওয়ামীলীগের প্রধান শত্রু সংগঠনের একটি। আপনি যে সময়ের কোট দিয়েছেন তা খুব সম্ভবত মুক্তিযুদ্ধের সময়কার না। কারন মুক্তিযুদ্ধের সময় বঙ্গবন্ধু জেলখানায় ছিলেন এবং আওয়ামীলীগের মধ্যে মোস্তাক আহমেদ গ্রুপ ছাড়া কেউ মার্কিন লবী মেইনটেইন করতেন না। তাজউদ্দীন থেকে শুরু করে মূলধারার আওয়ামীলীগ সেই সময় সোভিয়েত লবি মেইনটেইন করেছেন। মাঝখানে ভায়া ছিল সিপিবি। আর ছিল ভারত লবি। মাওবাদীদের এই অংশটা মুক্তিযুদ্ধের সময় আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে ভারত-রাশিয়ার তাবেদারির অভিযোগ আনে, মার্কিনীদের সাথে সম্পর্কের অভিযোগ না।

      আর বঙ্গবন্ধুর বিরোধীতা করলেই মুক্তিযুদ্ধ করা যাবেনা তা কিন্তু ঠিক না। মাওবাদীরা যেই ধারার রাজনীতি করতো তার সাথে আওয়ামীলীগের খুবি খারাপ সম্পর্ক ছিল। খুনাখুনি সম্পর্কও অনেক সংগঠনের সাথে। এই অবস্থায় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব তারা মানবেনই এমন আশা করা দুস্কর। তাদের অনেকেই অবশ্য আওয়ামীলীগের সাথে ঐক্য করতে চেয়েছিল, কিন্তু সেটা করতে গিয়ে প্রতারিত হওয়া এবং খুন হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এখন আওয়ামীলীগের সাথে হচ্ছেনা বলে কি মুক্তিযুদ্ধ করতে পারবেনা? আলবত না। তাই তারা নিজেদের মতো মুক্তিযুদ্ধ করেছে। কারো কারো সাথে অবশ্য মুজিব বাহিনী এমন কি মুক্তি বাহিনীরও যুদ্ধ হয়েছে, কারন মাওবাদীদের কেউ কেউ মনে করতো ভারত থেকে আসা মুক্তিযোদ্ধারা ভারতীয় আগ্রাসনের হাতিয়ার। আওয়ামীলীগ একটু চেষ্টা করলে এই দ্বন্দের অবসান হতে পারতো। কিন্তু বড় দল হিশাবে তারা এইক্ষেত্রে কোন উদারতা দেখানোর পক্ষে ছিলেন না। খোদ তাজউদ্দীনই রাশেদ খান মেনন, হায়দার আকবর আলী খান রনোর মতো গণতান্ত্রিক পিকিং পন্থীদেরও মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করতে দিতে নারাজ ছিলেন। এমনকি সিপিবি ছাত্র ইউনিয়নকেও মুক্তিযুদ্ধে নিজেদের জায়গা করে নিতে আওয়ামীলীগের সাথে জোর জবরদস্তি করতে হয়েছে। আওয়ামীলীগের বরাবরি ভয় ছিল যে অস্ত্রধারী বামপন্থীরা বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রন নিয়ে নিতে পারে। মুজিব বাহিনী তৈরি হয়েছিল আওয়ামী বিরোধী বামদের ঠেকাতেই। আবার মুজিব বাহিনী তৈরি হওয়ায় মস্কোপন্থী বামরা সিপিবি-ন্যাপ-ছাত্র ইউনিয়নের নেতা কর্মীদের নিয়ে আলাদা গেরিলা বাহিনী তৈরি করে। তার আগে তারা মূলত বিভিন্ন সেক্টরে মুক্তিবাহিনীর অংশ হিশাবে যুদ্ধ করে। সেই মুক্তিবাহিনীর সাথেও মুজিব বাহিনীর নানারকম বিরোধীতা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের বহু গ্রুপ ছিল, বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গী ছিল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ যদি দীর্ঘায়িত হতো তাইলে আরো অনেক কিছু হওয়ারই সম্ভাবনা তৈরি হতো।

      1. মুজিব বাহিনী তৈরি হয়েছিল

        মুজিব বাহিনী তৈরি হয়েছিল আওয়ামী বিরোধী বামদের ঠেকাতেই।

        এটা ঠিক বুমেরাং হয়েছে আওয়ালীমীগের জন্য। কারণ সেই সময়ের ছাত্রলীগে এবং মুজিব বাহিনীর পূর্ব প্লাটফর্ম বাংলাদেশ লিবারেশন ফ্রন্ট বা বিএলএফ এর সদস্যদের শতকরা আশি ভাগ ছিল বামপন্থার সমর্থক। ১৯৭০ সালে ছাত্রলীগের সম্মেলনের শেষ কমিটি গঠিত হলে দেখা যায় ৬৭ জনের মধ্যে ৬০ জনই বাম সমর্থক অর্থাৎ সিরাজ-আরেফ-রাজ্জাক গ্রুপ।

  4. ভাল লিখছেন ভাই। আশাকরি আপনার
    ভাল লিখছেন ভাই। আশাকরি আপনার লেখার মাধ্যমে অনেক ভ্রান্ত ধারণা দূর হয়ে সঠিক ইতিহাস জানা যাবে। কিন্তু আওয়ামীলীগ বা এর সমর্থক সবাই যে বামদের চিঙ্কু বলে এটা কিন্তু ঠিক না। অনেক ক্ষেত্রে এই বক্তাদের আওয়ামী সমর্থকরাও ভাল ভাবে দেখছেন না। আর বাম রাজনীতি বাংলাদেশে বহু ভাগে বিভক্ত হওয়াই অনেকেই এক কাতারে নেয়ার একটা স্বভাব আছে। আর এই দিকটির সুবিধা নিচ্ছেন অনেক।
    সাধারণ মানুষের কথা বাদ দিলাম বাংলাদেশের বাম রাজনীতি সমন্ধে জানতে চাইলে আমরা যারা ব্লগে টুক টাক লেখা পড়ি তাদের জন্যও কঠিন হয়ে যায়। আবার দেখা যায় বাম রাজনৈতিক দল গুলো একে অপরের সম্পর্কে এমন মন্তব্য করছে তখন বিষয়টা আরও বেশি দুরূহ হয়। সামগ্রিক ভাবে আমরা দেখি বাম দল কিন্তু এত বিভাজন কেন!
    আমাদের মুক্তিযুদ্ধ অবশ্যই বাম চিন্তা দ্বারা প্রভাবিত জন্যই আমরা ‘মুক্তি’ শব্দটা ব্যবহার করেছি। এই মুক্তি শোষণ, বঞ্চনা থেকে মানুষের মুক্তি।

    1. বাংলাদেশের বামদের মধ্যে এতো
      বাংলাদেশের বামদের মধ্যে এতো ভাগ কেনো তা নিয়া পরবর্তি পর্বগুলায় কিছুটা আলোচনা করবো। মূলত এই বিভক্তির কারনেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে বামরা পিছিয়ে পরেছে। ৭৫এর আগে পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতি ছিল বামঘেসা আওয়ামীলীগ বনাম বাম। বামদের ব্যর্থতার কারনেই আওয়ামীলীগ এখন ডান হয়েছে আর বামদের জায়গা দখল করে নিছে অতি ডানরা।

  5. কট্রর লীগ : বামরা সব
    কট্রর লীগ : বামরা সব মুক্তিযুদ্ধ বিরুধী, ধর্মবিদ্বেষী, চিঙ্কু, ঝান্ডু ইত্যাদি ইত্যাদি।
    কট্রর বাম : আম্বালীগরা সব ভারতের দালাল ।এরা দল-অন্ধ, ধর্ষক, চেতনা ব্যবসায়ী ইত্যাদি ইত্যাদি ।

    সাধারণ প্রশ্ন : উভয় গোষ্টির কেউ কাউকে সমালোচনার অধিকার রাখে?
    * এখন আপনি যদি বলেন, ভাইরে আমিতো আগবাড়িয়ে এসব বলতে যাইনি ।আমি আগে আক্রমিত হয়েছি তারপর তাকে আক্রমন করেছি ।
    তবে আপনাকেই বলছি, বলুন তো ডিম আগে না মুরগি আগে?

    1. শাহীণ ভাই আমার নীচের কমেন্টে
      শাহীণ ভাই আমার নীচের কমেন্টে একটা তালিকা আছে। দেখেন। আমার জানা মতে এই তালিকা যিনি করেছেন সেই এম আর আখতার মুকুল সাহেব একজন কট্টর আওয়ামীলীগ সমথক। তো তাঁর তালিকাতেই দেখা যাচ্ছে মাত্র একটা বাম সংগঠন বিরোধিতা করেছে। এতে করে পুরো বাম ধারাকে দোষারোপ করা কোন ভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়।

  6. পারভেজ ভাই, আপনি অমিমাংশিত ও
    পারভেজ ভাই, আপনি অমিমাংশিত ও স্পর্শকাতর একটি বিষয় আলোচনায় এনেছেন ।আশা করবো আপনার সিরিজটি থেকে আসল সত্যটাই বের হয়ে আসবে এবং উভয়পক্ষের বহুদিনের অন্তঃবিরুধীতার কিছুটা হলেও অবসান ঘটবে ।সর্বোপরি বিভিন্ন ইস্যুতে আমাদের মাঝে মতের অমিল ছাড়া মৌলিক কোন বিভাজন আগেও ছিলনা এবং আজও নেই এটাই প্রমাণিত হবে ।
    আরো প্রমাণিত হবে, আমরা দুই পক্ষই স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ছিলাম, আছি এবং থাকবো ।
    ধন্যবাদ ।

    1. সত্য হাজির করা আমার উদ্দেশ্য।
      সত্য হাজির করা আমার উদ্দেশ্য। তবে বিরোধীতা মিটবে বলে মনে হয়না। বাংলাদেশের অধিকাংশ বামপন্থীই ইদানিং মনে করে যে আওয়ামীলীগের সাথে তাদের বন্ধুত্ব তাদের জন্যে ক্ষতিকর হয়েছে। আর আওয়ামীলীগ ও আগের মতো বামঘেসা সংগঠনও নাই। এখনকার আওয়ামীলীগের নেতাদের মধ্যে যদিও কেউ কেউ সাবেক ছাত্র ইউনিয়নকর্মী কিন্তু দলটির একটা বড় অংশই বামদের দেখতে পারেনা। রাজনীতির মাঠে বন্ধুত্বের দরকার নাই। বিরোধীতাই ভালো। তবে সৎ ও গঠনমূলক রাজনীতি হতে হবে।

  7. কেন রাখবেনা??
    এই কারনেই

    কেন রাখবেনা??
    এই কারনেই রাখবেনা যে, ওরা উভয় পক্ষই নীতিহীন ।এক নীতিহীন আরেক নীতিহীনের গঠন মুলক সমালোচনা নয়, বড়জোর দোষ খুজতে পারে ।

  8. নিজেদের অদক্ষতা ঢাকতে অন্যের
    নিজেদের অদক্ষতা ঢাকতে অন্যের উপর দোষ দেয়া খুব সহজ। লীগাররা এটাই করছে। যখনই সমালোচনা আসে তখনই ছাগু বলা হয় কিন্তু ছাগু তো আর নাস্তিক পাওয়া যায় না তখন ট্যাগ পরে চিঙ্কু বাম। একটি মজার ব্যপার হচ্ছে এই ট্যাগ ধারীরা ছাগুদের মতো যুক্তিতে না পারলে গালাগাল করে।

    বাকিটা পড়ার অপেক্ষায়।

  9. বামপন্থীদের অবদান নিয়ে কিছু
    বামপন্থীদের অবদান নিয়ে কিছু সত্য কথা বলতে ইচ্ছা করছে।
    প্রথমেই দেখুন পাকিস্তান সৃষ্টির প্রথমভাগে বামদের কিছু অবদান

    পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার প্রথম পর্বে এই যে জাতীয় চেতনার বিকাশ, তার সূত্রপাত আমরা ধরতে পারি ভাষা আন্দোলন থেকে। তারও আগে, ১৯৪৭ সালেই পূর্ব পাকিস্তান আইন পরিষদে মওলানা ভাসানী কেন্দ্রীয় শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ডাক দিলেন। বললেন, ‘‘বৃটিশের শাসন মানি নাই, কেন্দ্রের শাসনও মানিব না।’’মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে প্রথম যে কার্যকরি বিরোধী দল আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়েছিল, তার ঘোষণাপত্রে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি গুরুত্বসহকারে স্থান পেয়েছিল। ১৯৪৮ সালেই জিন্নাহ যখন উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা রূপে ঘোষণা দিলেন, তখন তার সামনে দাঁড়িয়েই প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলা রাষ্ট্র ভাষার পক্ষে স্লোগান দেয়ার ঘটনা নবজাগ্রত জাতীয় চেতনার সাক্ষ্য বহন করে।

    মনন জগতে কতো দ্রুত পাল্টে গেল দৃশ্যপট। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন ছিল আরেক ধাপ অগ্রগতি। ভাষা আন্দোলন এবং পাকিস্তান পর্বের প্রথম যুগে জাতীয় চেতনার বিকাশ ও জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন মওলানা ভাসানী ও আত্মগোপনকারী কমিউনিস্ট পার্টি। ভাষা আন্দোলনের মূল নেতারা – আবদুল মতিন, গাজীউল হক, মহম্মদ তোয়াহা, অলি আহাদ, মহম্মদ সুলতান প্রমুখ সকলেই ছিলেন কমিউনিস্ট অথবা বামপন্থী।

    ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগের ভরাডুবি প্রমাণ করে যে, বাংলার জনগণ চল্লিশের বিভ্রান্তি থেকে খুব দ্রুতই বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিল। ১৯৫৫ সালে তদানীন্তন প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী মুসলিম লীগের নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দেয়ার প্রস্তাব করলেন দলের সভাপতি মওলানা ভাসানী। সমর্থন পেলেন সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমানের। প্রথমদিকে, সোহরাওয়ার্দী আপত্তি করলেও পরে মেনে নিয়েছিলেন। এখানে উল্লেখ্য যে, সোহরাওয়ার্দীর ভূমিকা সব সময়ই ছিল প্রতিক্রিয়াশীল। প্রথমদিকে, তিনি বাংলা রাষ্ট্র ভাষারও বিরোধিতা করেছিলেন। তখন তিনি করাচীতে অবস্থান করছিলেন এবং জিন্নাহ মুসলিম লীগ নামক একটি ক্ষুদ্র দলের নেতা ছিলেন।

    বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও জাতীয় চেতনার বিকাশের ধারা বেশ কিছু বাক এবং মোড় নিয়ে অগ্রসর হয়েছিল। ১৯৫৬ সালে মাত্র ১৩ জন দলীয় সংসদ সদস্যকে নিয়ে প্রেসিডেন্ট ইসকান্দার মির্জার সঙ্গে গোপনে আঁতাত করে সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়ে বসলেন। প্রধানমন্ত্রী হয়েই তিনি আওয়ামী লীগের ঘোষিত কর্মসূচিকে অস্বীকার করে (১) পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবি অস্বীকার করলেন, বললেন, ১৯৫৬-এর শাসনতন্ত্রে ৯৮ শতাংশ স্বায়ত্তশাসন ইতিমধ্যেই অর্জিত হয়েছে এবং (২) পাক-মার্কিন সামরিক চুক্তি, সামরিক জোট সিয়াটো-সেন্টো (তখন নাম ছিল বাগদাদ প্যাক্ট) এর পক্ষে সমর্থন জ্ঞাপন করলেন, বস্তুত পুরোদস্তর মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নির্লজ্জ দালালি শুরু করলেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, তখন সোহরাওয়ার্দীর এই মতের পক্ষে দাঁড়ালেন আওয়ামী লীগের তদানীন্তন সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান।

    একদিকে, সোহরাওয়ার্দী-মুজিব এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিক্রিয়াশীল অবস্থান, অপরদিকে মওলানা ভাসানী ও কমিউনিস্টরা এবং তাদের বাঙালি জাতীয়তাবাদী, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী প্রগতিশীল অবস্থান। সেদিন যদি শেখ মুজিবুর রহমান সোহরাওয়ার্দীর পক্ষ না নিয়ে মওলানা ভাসানীকে সমর্থন করতেন এবং প্রাদেশিক স্বায়ত্ত্বশাসনের পক্ষে থাকতেন (যে অবস্থান তিনি অনেক জোরালোভাবে এক দশক পরে নিয়েছিলেন) তাহলে হয়তো এই দেশের ইতিহাস অন্যরকম হতো এবং প্রগতির ধারা জোরদার হতো।

    সোহরাওয়ার্দী-মুজিবের বিরোধিতার মুখে দাঁড়িয়েই ১৯৫৭ সালে কাগমারী সম্মেলনে মওলানা ভাসানী উচ্চারণ করেছিলেন, তার সেই বিখ্যাত উক্তি, ‘পশ্চিম পাকিস্তানকে আসসালামুওয়ালাইকুম।’ অর্থাৎ বিচ্ছিন্নতার হুমকি। বাংলাদেশের জাতীয় আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ক্ষেত্রে এটি ছিল এক বিরাট মাইলফলক।

    এইবার আরো কিছু ফ্লাশব্যাক:

    যুদ্ধ চলাকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়েছিলেন প্রধানত তাজউদ্দিন আহমদ। কিন্তু বাস্তবে দেশের অভ্যন্তরে মাঠ পর্যায়ে যারা যুদ্ধ করেছিলেন তাদের মধ্যে অগ্রণী ভূমিকা ছিল বাম কমিউনিস্টদের। অনেকগুলো বাম ও কমিউনিস্ট সংগঠন বিচ্ছিন্নভাবে যুদ্ধ করেছিল। তাদের মধ্যে ‘কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের পূর্ব বাংলা সমন্বয় কমিটি’র সবচেয়ে বেশি যুদ্ধ করার রেকর্ড রয়েছে।

    মওলানা ভাসানী নিজ হাতে গড়া দল আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হলেন এবং গঠন করলেন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি বা ন্যাপ। পাকিস্তান আমলের সবচেয়ে প্রগতিশীল, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ও জাতীয়তাবাদী দল (কমিউনিস্ট পার্টি তখন আত্মগোপনে ছিল)। বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা তৈরির ক্ষেত্রে ন্যাপের ছিল বড় ভূমিকা। ন্যাপের নেতৃত্বে ছিলেন মূলত আত্মপরিচয় গোপনকারী কমিউনিস্টরা। মওলানা ভাসানী বিশাল বটবৃক্ষের মতো কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের আশ্রয় দিতেন।

    বামরা কেন অপ্রত্যাশিতভাবে ছিঁটকে পড়লো মুক্তিযুদ্ধ থেকে:
    ১৯৬৮ সালের ৬-৮ ডিসেম্বর মওলানা ভাসানী এক নতুন গণআন্দোলনের উদ্বোধন ঘটালেন – যা ১৯৬৮-৬৯ সালে মহা অভ্যুত্থানে রূপ নিয়েছিল। ১৯৬৯-এর জানুয়ারি মাসে ছাত্ররা ১১ দফা পেশ করলেন, যার মধ্যে একটি দফার মধ্যে ছিল ছয় দফা। এক অর্থে ছয় দফা সম্প্রসারিত হলো, যার মধ্যে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী উপাদান এবং শ্রমিক কৃষকের দাবি, পাট শিল্প জাতীয়করণের দাবি ইত্যাদি সংশ্লিষ্ট হলো। ইতোপূর্বে ঘোষিত ন্যাপের ১৪ দফা সাড়া জাগাতে না পারলেও ১১ দফা দারুণভাবে সারা জাগিয়েছিল। একই সঙ্গে এটাও বলা দরকার যে, শুধু ছয় দফা যা পারতো, ১১ দফা তার চেয়ে অনেক বেশি আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। উপরন্তু আওয়ামী লীগ ও বাম শক্তির ঐক্য (ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের দুই গ্রুপ) জনমনে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছিল। প্রবল আন্দোলনের মুখে আগরতলা মামলা প্রত্যাহার এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দিতে বাধ্য হলো সরকার। শেখ মুজিবুর রহমান তখনই হয়ে উঠলেন বাঙালি জাতির অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা।

    এরপরের ইতিহাসও সকলের জানা। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমান ও তার দল সমগ্র পাকিস্তানেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেন। ৩০০ আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন লাভ করল। তিনি হয়ে উঠলেন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের একক প্রতিনিধি।

    এই সময় মওলানা ভাসানী ও বামপন্থীরা একটা বিরাট ভুল করেছিলেন। তারা নির্বাচন বর্জন করেছিলেন। নির্বাচন বর্জনের পেছনে নকশাল আন্দোলনের তাত্ত্বিক ভ্রান্তি কাজ করেছিল। ভাসানীও দাবি তুললেন, ‘ভোটের আগে ভাত চাই।’ রণকৌশলগত স্লোগান হিসাবে খুবই ভুল ছিল ওই স্লোগান। এই ভাবে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন – যার সূত্রপাত ঘটিয়েছিল বামপন্থীরা, তারাই এই আন্দোলনের নেতৃত্ব থেকে ছিটকে পড়ল।

    তবে ইতিহাসকে যদি সঠিকভাবে পাঠ করতে হয়, তাহলে বলতেই হবে, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে বাম ও কমিউনিস্টদের অবদান ছিল বিশাল, যা বুর্জোয়া সংবাদ মাধ্যমে উপেক্ষা করে অথবা খাটো করে দেখাতে চায়। মাঠ পর্যায়ে বাম -কমিউনিস্টদের সাহসী যুদ্ধ ও জীবনদানের ঘটনা অনেক বেশি। যদিও সামগ্রিকভাবে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছিল কলকাতা কেন্দ্রীয় প্রবাসী সরকার ও আওয়ামী লীগের হাতে।

    এইবার আমার কথা বলি:
    কম্যুনিস্ট পার্টির অবদান উল্লেখ করে ২০১০ সালের ১৮ই নভেম্বর দ্য ডেইলী ইন্ডিপেন্ডেন্টে লিখা হয়,

    The Party played a vital role in the 1969 uprising and also during the nationwide upheaval that followed it including the non co operation movement of 1971. The CPB also actively participated in the nine months long armed struggle for independence of Bangladesh in 1971. A ‘Special Guerilla Force’ under the direct command of CPB- NAP -BSU fought against the Pakistani army. Communists were also took part in the
    other segments of the armed resistance fighters including the
    Freedom Fighters and the new Bangladesh Army.

    এখন একটা জিনিস লক্ষ্য করা যায়যে, ইতিহাস সবসময় বিজয়ীদের মহান করে তুলে। পরস্পরকে ধাক্কা দিয়ে দৌড়ে যে এগিয়ে যাবে তাকেই দেয়া হবে মুকুট আর বাকিরা থেকে যাবে অন্ধকারে। হিটলার যদি রাশিয়ার কাছে পরাজিত না হত তবে ইতিহাস হিটলারকে মহামানব বলেই দাবী করে বসতো। কিন্তু চাক্ষুস ইতিহাস অগ্রাহ্য করার ক্ষমতা কোনো সময়ের নেই। তেমনি নানা কারণে বামপন্থীরা আজ কূট আলোচনার গঞ্জনা সইতে হচ্ছে। কিন্তু অন্তত যারা মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে একটুকু জ্ঞান রাখেন তারা বলতে পারবেন, বামপন্থীদের কি ভূমিকা ছিলো যুদ্ধে। অত্যধিক চেতনা তাই পরিত্যাজ্য। সর্বোপরি, উই হ্যাভ টু রেস্পেক্ট দ্য রিয়েল হিস্টোরি অব আওয়ার গ্লোরিয়াস ফ্রিডম ওয়্যার। অ্যান্ড অল ইন্ডিভিজ্যুয়াল শ্যুড কাম ফরোয়ার্ড টু হ্যাং দ্য ওয়্যার ক্রিমিনাল।

    1. ইলেকট্রন,
      তুমিতো মিয়া ফাটায়

      ইলেকট্রন,
      তুমিতো মিয়া ফাটায় দিছো … অসংখ্য ধন্যবাদ তোমাকে !
      এই চমৎকার পোস্টটি এবং এর পরের পোস্টটি স্টিকি করার আবেদন রইলো ।
      আর তুমি আরেকটু ঘসা মাজা করে আস্ত একটা পোস্ট দিতে পারো ।
      ইস্টশনে গত কয়েক দিনে কিছু ভালো লেখা পেলাম । এইতো চাই ।

      1. ইলেক্ট্রন ধন্যবাদ। মূল
        ইলেক্ট্রন ধন্যবাদ। মূল পোষ্টের সাথে আপনার কমেন্টও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। আমি আরও একটু যোগ করতে চাই। স্বাধীন বাংলাদেশের কথা প্রথম বলতে শুরু করে ছাত্রসমাজ তথা প্রারথমিক ভাবে ছাত্রলীগ। এই ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাতেই ১৯৭০ সালের জুনে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। উল্লেখ্য, চিটাগাং এর ছাত্রনেতা এবং নিউক্লিয়াসের প্রভাবশালী সংগঠন ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদ স্বপন চৌধুরী উত্থাপিত সেই প্রস্তাবটা কিন্তু শুধু স্বাধীন বাংলাদেশ ছিল না। তাঁর প্রস্তাব ছিল “স্বাধীন সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ”। এই নিউক্লিয়াসের প্রভাবেই ১৯৬৯ এর গণ অভ্যুত্থানের পরে জেল থেকে মুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু সরাসরি সমাজতন্ত্রের পক্ষে সভা সমাবেশে বক্তৃতা দিতে শুরু করেন, আর ১১ দফাকে সমর্থন প্রকারান্তরে সমাজতন্ত্রকেই সমর্থন করা যা আপনি উপরে উল্লেখ করেছেন।

        স্বাধীনতার যে ইশতেহার পাঠ করা হয় বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতিতে (যা পাঠ করেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সিরাজ) সেই ইশতেহারেও বলা আছে স্বাধীন সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশের কথা। মূলত সবাধিন্তার পরে আন্তর্জাতিক চক্রান্ত এবং শেখ মণির ভুমিকার কারণেই বঙ্গবন্ধু সমাজতন্ত্র থেকে দূরে সরে আসেন।

      2. ইলেক্ট্রনের প্রতিমন্তব্য
        ইলেক্ট্রনের প্রতিমন্তব্য স্বগুনে আলাদা পোস্ট হিসাবে প্রকাশিত হওয়ার দাবীদার। যুগপৎভাবে জটিল, কঠিন ও ফাটাফাটি।

    2. দারুন। আপনার মুন্তব্যের কারনে
      দারুন। আপনার মুন্তব্যের কারনে তো একপর্বেই বহুপর্বের আলোচনা হয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আশা করি আমরা একটা ভালো ডকুমেন্টেশন দাঁড় করাতে পারবো।

    3. মডারেশন প্যানেল আমার বদলে
      মডারেশন প্যানেল আমার বদলে আপনাকে নির্বাচিত করলে কেন আমি বেশি খুশি হতাম, এই মন্তব্যই তার উদারহরণ… :bow: :bow: :bow:

        1. অবশ্যই, ভুল থাকতেই পারে,
          অবশ্যই, ভুল থাকতেই পারে, কিন্তু সেটা ততক্ষন পর্যন্ত ভুল প্রমাণিত হচ্ছে না যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি ভুল শুধুরিয়ে দিচ্ছেন বা সঠিক তথ্য উপস্থাপন করছেন। @ ব্রহ্মপুত্র ভাই

    4. ইলেকট্রন ভাই। আমি পুরাপুরি
      ইলেকট্রন ভাই। আমি পুরাপুরি বাকরুদ্ধ কি লিখছেন ভাই। পুরাই কাপায়া দিসেন। :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow:

    5. ভাই ইলেকট্রন, ২০১০ সালের the
      ভাই ইলেকট্রন, ২০১০ সালের the daily inpendent এর লেখাটার নাম ও লিংক দিলে খুব খুশি হতাম। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  10. ভালো লাগলো। ……………
    ভালো লাগলো। …………… আমি এখানে একটু যোগ করতে চাই।

    একবার দেখে নেয়া যাক, মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান বা পূর্ব বাংলায় সক্রিয় বাম রাজনৈতিক দল বা সংগঠনগুলো মুক্তিযুদ্ধকে কিভাবে মূল্যায়ন করেছিল –

    ১) কমিউনিস্ট পার্টি : মুজিবনগর সরকারের সমর্থক

    ২) ন্যাপ (মোজাফ্ফর) : মুজিবনগর সরকারের সমর্থক

    ৩) ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া) : মুজিবনগর সরকারের সমর্থক

    ৪) পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল)-তোয়াহা : বাংলাদেশের মাটিতে থেকে মুক্তিযুদ্ধ, ভারতের সমর্থনে নয়

    ৫) পূর্ব বাংলার শ্রমিক আন্দোলন (সিরাজ শিকদার) : পাকিস্তানী বাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ কিন্তু ভারতীয় দালাল মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে লড়াই

    ৬) পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল)- আব্দুল হক : মুক্তিযুদ্ধের নামে পূর্ব পাকিস্তানে ভারতীয় আগ্রাসন – অতএব মুক্তিবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই

    ৭) পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল)- মতিন-আলাউদ্দিন : চারু মজুমদারের লাইন সঠিক, তাই বিপ্লবের স্তর হবে সমাজতান্ত্রিক

    ৮) কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের সমন্বয় কমিটি (জাফর-মেনন-হায়দার-রনো) : মাওলানা ভাসানীকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করে কোলকাতায় মুক্তি সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি গঠন ও মুজিবনগর সরকারের নিকট অস্ত্রের আবেদন

    ৯) পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (দেবেন-বাসার-আফতাব) : মাওলানা ভাসানীকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করে কোলকাতায় “মুক্তি সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি” গঠন ও মুজিবনগর সরকারের নিকট অস্ত্রের আবেদন

    ১০) কমিউনিস্ট সংহতি কেন্দ্র (অমল সেন – নজরুল) : মাওলানা ভাসানীকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করে কোলকাতায় “মুক্তি সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি” গঠন ও মুজিবনগর সরকারের নিকট অস্ত্রের আবেদন

    ১১) কমিউনিস্ট কর্মী সংঘ (সাইফুর-মারুফ-দাউদ) : মাওলানা ভাসানীকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করে কোলকাতায় “মুক্তি সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি” গঠন ও মুজিবনগর সরকারের নিকট অস্ত্রের আবেদন

    ১২) বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (হাতিয়ার) – নাসিম অলি : মাওলানা ভাসানীকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করে কোলকাতায় “মুক্তি সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি” গঠন ও মুজিবনগর সরকারের নিকট অস্ত্রের আবেদন

    ১৩) ন্যাপ (ভাসানী) : মাওলানা ভাসানীকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করে কোলকাতায় “মুক্তি সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি” গঠন ও মুজিবনগর সরকারের নিকট অস্ত্রের আবেদন

    ১৪) পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (অচিন্ত্য-দীলিপ) : “মুক্তি সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি”র সমর্থক

    ১৫) পূর্ব বাংলার ছাত্র ইউনিয়ন (মাহাবুব উল্লাহ) : “মুক্তি সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি”র সমর্থক

    ১৬) পূর্ব বাংলার বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন (হায়দার আকবর খান রনো) : পূর্ব বাংলার মাটিতে থেকে মুক্তিযুদ্ধ

    উপরের তালিকাটা একজন কট্টর আওয়ামীলীগার হিসেবে পরিচিত এমআর আখতার মুকুলের করা। তিনি তাঁর আমি বিজয় দেখেছি গ্রন্থে আরও বিশ্লেষণসহ মুক্তিযুদ্ধে বামদের ভূমিকা সম্পর্কে বলেছেন। তাহলে অনলাইন আওয়ামী পীর আউলিয়াদের “মুক্তিযুদ্ধ মানে দুই কুকুরের কামড়া কামড়ি” ফতোয়ার ভিত্তি কোথায়? তাঁরা কি স্পেসিফিক ভাবে বলতে পারবে কোন কোন দল এই ধারণায় বিশ্বাসী ছিল? পারবে না। অথচ, এই সব পীর আউলিয়াদের মুরিদরা এখন বাম বলতেই মুক্তিযুদ্ধকে দুই কুকুরের কামড়া কামড়ি হিসেবে আখ্যায়িত করা দল বোঝে এবং ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চার মতো সেটাই প্রচার করে।

  11. অসাধারন । যেভাবে সবাই ইতিহাস
    অসাধারন । যেভাবে সবাই ইতিহাস আলোচনা করে যাচ্ছেন তা আসলেই প্রশংসনীয় । দেখা যাক আপনারা কতটুকু বিকৃত ইতিহাস পুর্নগঠন করতে সক্ষম হোন ।

  12. ইতিহাসের একটি আবৃত অধ্যায়ের
    ইতিহাসের একটি আবৃত অধ্যায়ের উপর হতে কালো পর্দা ধীরে ধীরে উঠে যাচ্ছে। তবে এ কথাও স্বীকার্য যে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় চীনের পাকিস্তানপন্থী মনোভাব এক্ষেত্রে বড় ভুমিকা রেখেছে। কিছু কট্টর চীনপন্থি কুলাঙ্গারদের মধ্যে যে পাকিস্থানপন্থী মানসিকতা সে সময় ছিল না তা কিন্তু বলা যায় না। আপনার লেখাটির প্রতি আকর্ষন বোধ করছি। পরবর্তী কিস্তির অপেক্ষায় রইলাম।

  13. পারভেজ ভাই। বাকিটুকু জানতে
    পারভেজ ভাই। বাকিটুকু জানতে চাই। আমি মাঝে মাঝে সংবিধান পরি। ১৯৭২ এর সংবিধান এ ৪টি মূলনীতি ছিল।
    ১ জাতীয়তাবাদ
    ২ সমাজতন্ত্র
    ৩ গণতন্ত্র
    ৪ ধর্মনিরপেক্ষতা
    তবে পোস্টটা খুবই ভালো হইসে। :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল:

  14. পরবত‍র্ী লেখার অপেক্ষায় রইলাম
    :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: পরবত‍র্ী লেখার অপেক্ষায় রইলাম :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 58 = 62