বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ এর “মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ “ তত্ত্ব

[ডিসক্লেইমার –এই লেখাটির খসড়া করার সময় ভাবছিলাম এই ধরনের লেখা খানিকটা provocative হয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে। তাই খুব সহজেই হয়ত এই ধরনের লেখাকে “ব্যক্তি আক্রমন” ট্যাগ দেয়া যেতে পারে। আগাম বলে রাখছি, যদি কারো মনে হয় এই লেখাটা ব্যক্তি আক্রমন হয়ে গেছে, দয়া করে যদি একটু দেখিয়ে দেন কেন এবং কোথায় ব্যক্তি আক্রমন হয়েছে, দুঃখ প্রকাশ করব ও সংশোধন করে নেবো।]

অধ্যাপক পিয়াস করিমের দুইটি প্রধান কৌশলগত সুবিধা – এক, তিনি ভালো করে গুছিয়ে অত্যন্ত সুশীল শব্দসমুহ ব্যবহার করে মান বাংলায় কথা বলেন। দুই, তিনি একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। এই দুইটি কৌশলগত সুবিধার তিনি পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’কে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তি হিসাবে ব্যাখ্যা ও প্রমান করবার জন্যে। একজন স্বাধীন মানুষ হিসাবে তিনি এটি করতেই পারেন। আমার মতো অনেকেই যারা তার ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নই, তাঁরাও তার ব্যাখ্যাকে – মতামতকে একটু চিরে দেখতেও দেখাতে পারি, সেটাও আমাদের অধিকার। আমি হয়ত অধ্যাপক পিয়াস করিমের মতো সুশীল নই, তাই লেখার প্রথম বাক্যটিই হচ্ছে তার নাম। নৈর্ব্যক্তিক করার জন্যে আমি হয়ত লিখতে পারতাম – একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্বের অধ্যাপক ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি তা করব না, আমার মনে হয় বড়শীকে বড়শী বলাই ভালো “বাঁকানো লোহা” বলার চাইতে।

যাই হক মূল কথায় আসি – গাজী টেলিভিশনের গত সপ্তাহের এক টক শো তে (এর আগেও আরও অনেক টক শোতেও একই আলোচনা শুনেছি) তিনি ব্যাখ্যা করছিলেন কেন বিএনপি কে “ঢালাও” ভাবে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি বলা ঠিক নয়, কেন রাজনৈতিক দল হিসাবে বিএনপি কে “ইগনোর” করাটা বিরাট ভুল, কেন বিএনপির শক্তিকে খাটো করে দেখাটা একটা বিরাট ভুল ইত্যাদি। এই সকল আলোচনার মধ্যে দিয়ে – আওয়ামীলীগের এক ধরনের সমালচনার দিক থাকে, কিন্তু তার চাইতেও বড়ো ও প্রধান বিষয়টি হয়ে ওঠে – বিএনপি’কে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি ও একটি গনতান্ত্রিক শক্তি হিসাবে ব্যাখ্যা করার প্রয়াস। আমার ব্যক্তিগত মতে, এটি একটি অসৎ ও বিপদজনক প্রয়াস।

মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তি হিসাবে বিএনপি’কে ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে জনাব করিমের সবচেয়ে শক্ত যুক্তি হচ্ছে – এক. মুক্তিযুদ্ধ আওয়ামীলীগ একাই করেনি, এদেশের আরও হাজার হাজার মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করেছিলো, যারা সেই সময় আওয়ামীলীগ করত না এবং দুই. বিএনপি’তে অনেক মুক্তিযোদ্ধা আছেন এবং তাঁদের কেউ কেউ অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধা।

প্রথমত – একথা সত্যি যে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন এমন অনেকেই সেই সময় আওয়ামীলীগ করতেন না, ভিন্ন কোন দল করতেন অথবা নিরেট নির্দলীয় চেতনার মানুষেরাও মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। কিন্তু তার মানে কি এই যে মুক্তিযুদ্ধটা কোনও রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছাড়াই শুধুমাত্র কিছু দেশপ্রেমিক মানুষেরা মিলে করেছেন? নাকি তার একটি রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছিল, যারা একটি দীর্ঘ জাতীয়তাবাদী সংগ্রামের অনিবার্য পরিনতি হিসাবে মুক্তিযুদ্ধকে সংগঠিত করেছিলেন? একথা তো সত্যি যে আওয়ামীলীগই মুক্তিযুদ্ধের সেই নেতৃত্বদানকারী সংগঠন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব দল-ধর্ম-জাতি-ভাষা নির্বিশেষে সবাইকে একত্রিত করতে পেরেছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধে! আওয়ামীলীগ ছাড়াও আরও অনেক প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল – সংগঠন দলীয় ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন। অনেক নির্দলীয় মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন এবং আরও অনেক রাজনৈতিক দল ও মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন, এই তথ্যগুলি কি সেই সময়ে মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামীলীগের নেতৃত্বকে বিন্দুমাত্র লঘু করে? অধ্যাপক পিয়াস করিমের আলোচনায় এই দিকটি কখনই খুব স্পষ্ট – সিদ্ধান্তমুলক ভাবে আসে না। আওয়ামীলীগের বিভিন্ন অগনতান্ত্রিক আচরনের উল্লেখ পূর্বক মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামীলীগের ভুমিকাকে প্রশ্নবোধক করার এক অদ্ভুত প্রবনতা তার মাঝে খুবই প্রবল। এমন কি বর্তমান আওয়ামীলীগের অগণতান্ত্রিক আচরণের কারনেও কি মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আওয়ামীলীগের নেতৃত্বকে কিছুমাত্র খাটো করা যায়? একজন সমাজতাত্ত্বিক হিসাবে সমাজের ইতিহাস কি এভাবে ব্যক্তিগত ভাললাগা – না লাগার জোরে – যুক্তিতে বদলে দেয়া যায়? যায় না, বর্তমান আওয়ামীলীগ আমার পছন্দের দল না হলেও ১৯৭১ এ তাঁদের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ভুমিকার কথা অস্বীকার করাটা অসততা এবং আপনার জন্যে তা জ্ঞান পাপ।

এখন আসা যাক – বিএনপি কে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি না বলা সঠিক নয় বলে মনে করেন তিনি এই প্রসঙ্গে। বিএনপি একটি আকারে বড়ো দল এবং সেই দলে কিছু সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা আছেন, কোনও সন্দেহ নাই। কিন্তু কোনও দলে কিছু সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা থাকাটাই মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ হিসাবে সংজ্ঞায়িত হবার জন্যে যথেষ্ট? কোন একটি দল যদি মুক্তিযুদ্ধের মূল রাজনৈতিক চেতনাটিকে বিশ্বাস না করেন, চর্চা না করেন, শুধুমাত্র কয়েকজন ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধার উপস্থিতিই কি সেই দলটিকে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তি বলে শ্রেনীবদ্ধ করে? মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কি কয়েকজন ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধা নাকি এটি একটি সামগ্রিক রাজনৈতিক চেতনা? কোনো একটি দলের রাজনৈতিক মিত্ররা যদি সবাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধী শিবিরের হন, তারপরেও কি সেই দলটিকে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ বলতে হবে শুধু এই যুক্তিতে যে দলে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা আছেন? এটা শুধু সরলীকরন নয়, অত্যন্ত সুপরিকল্পিত সরলীকরন যার নেট ফল হচ্ছে – মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তি সর্ম্পক আমাদের প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করা। যার পুরো ফসলটাই যায় মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শিবিরে।

অধ্যাপক করিমের দ্বিতীয় প্রানান্ত প্রচেষ্টা দেখা যায় – বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-কে একটি দেশ প্রেমিক গনতান্ত্রিক শক্তি হিসাবে ব্যাখ্যা করার। ব্যক্তি জিয়াউর রহমানের কারিশমাটুকুকে যদি কিছু সময়ের জন্যে একটু সরিয়ে রাখা যায়, অধ্যাপক পিয়াস করিম কি বলবেন কেন বি এন পি’কে আমরা আদৌ একটি রাজনৈতিক দল হিসাবে খুব comfortably মেনে নিতে পারি? কোন রকমের গন-আন্দোলনের পথ পরিক্রমা না করে, একজন সামরিক শাসক তার কিছু সাবেক সামরিক -বেসামরিক আমলা ফেলো এবং কিছু অধঃপতিত রাজনীতিবিদদের নিয়ে cantonment এর সুশীতল নিরাপদ ছায়ায় – টাকা ও বন্দুকের নলের জোরে যে সংগঠনটিকে গড়ে তুলেছিলেন রাতারাতি, কোন রাজনৈতিক দর্শন এই দলটির গড়ে ওঠাকে অনিবার্য করে তুলেছিল? এই সমস্ত uncomfortable প্রসঙ্গ অধ্যাপক করিম আলোচনা করেন না, তিনি বলেন – “ যে ভাবেই হোক” বিএনপি যেহেতু প্রায় অর্ধেক ভোট পায় এদেশে, তাই গনতান্ত্রিক শক্তি হিসাবে তাঁদেরকে স্বীকার করতেই হবে! দল কানা সমাজ বিশ্লেষকরা ছাড়া পৃথিবীর খুব কম সমাজতাত্ত্বিকই শুধুমাত্র ভোটের হিসাবে বিএনপির মতো স্বৈর পরিবেশে বেড়ে ওঠা একটি দলকে গনতান্ত্রিক দেশপ্রেমিক দল হিসাবে স্বীকার করবেন। তবে হ্যাঁ, আমরা অনেকেই এরশাদ বিরোধী গনতান্ত্রিক আন্দোলনের বিএনপি ও বেগম খালেদা জিয়ার ভুমিকাকে পজিটিভলি স্বীকার করি ও তার জন্যে তাকে ও তার দলকে অভিনন্দিত করি। যদিও ক্ষমতার রাজনীতির prime expectant দল হিসাবে তখন তার কাছে অন্য কোনও বিকল্প ও ছিলোনা। একমাত্র এরশাদ বিরোধী আন্দোলন ছাড়া, বিএনপির ইতিহাসে – দলীয় চর্চায় – জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে আর কোনও নজির আছে কি যা দিয়ে দলটির গনতান্ত্রিক ও দেশপ্রেমিক চরিত্রকে ব্যাখ্যা করা যায়?

অধ্যাপক করিমের শেষ মতামতটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত। তিনি বলেছেন, যে শুধুমাত্র সংসদে সিটের হিসাবে বিএনপির ও তাঁদের জোটের শক্তিকে বিচার করা ও খাটো করা বোকামি হবে। অধ্যাপক করিম, আমি আপনার সাথে সম্পূর্ণ একমত। জ্ঞান পাপীদের দ্বারা সংগঠিত অশিক্ষিত – নির্বোধ মানুষের শক্তিকে ইগনোর করা – অস্বীকার করা বা খাটো করা নিরেট বোকামি । এই বোকামিটি আওয়ামীলীগ করেছে এবং এখনও করছে। বিএনপি–জামাত–হেফাজত ও অন্যান্য মৌলবাদী দলের যে শক্তি ও পটেনশিয়াল আওয়ামীলীগ সম্ভবত তাকে আন্ডার এসটিমেট করেছে …… তাইতো দুই মেয়াদে ১০ বছর ক্ষমতায় থেকেও আওয়ামীলীগকে আজও সংগ্রাম করতে হয় জাতিকে বোঝাতে যে কে বা কারা আসলে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তি। যে কারনে আপনি জাতীয় মিডিয়াতে বলছেন – বিএনপিকে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি বলাটা একটা “ঢালাও” ও “ অন্যায়” অভিযোগ।

যাই হোক, ধরুন আমরা বিএনপির জন্ম উৎস ভুলে গেলাম। “জন্ম হোক যথা তথা, কর্ম হোক ভালো” এই দর্শনে বিশ্বাসী হলাম। বিএনপি কে একটি রাজনৈতিক দল হিসাবে স্বীকার করে নিলাম (ব্যক্তিগত ভাবে আমার স্বীকার করা না করা দিয়ে কিছু যায় আসে না যদিও)। এখন মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তি হিসাবে নিজেদেরকে দাবী করতে হলে, বিএনপি কে চার টি কাজ করতে হবে –

১. জামাত – হেফাজত ও অন্যান্য মৌলবাদী সংগঠনের সাথে সম্পরক – জোট ছিন্ন করতে হবে।
২. একাত্তরের চেতনা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার মূলনীতি দলীয় রাজনৈতিক দর্শনে যোগ করতে হবে – মানে দলীয় সংবিধান-এ গুনগত পরিবর্তন করতে হবে।
৩. আগামি নির্বাচনী দলিলে সুস্পষ্ট ঘোষণা দিতে হবে যে – তাঁরা রাজাকার আল-বদরদের বিচার continue করবেন এবং ইতিমধ্যে হয়ে যাওয়া রায়গুলো কার্যকর করবেন।
৪. জাতীয় জীবনের সর্বত্র মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বাস্তবায়ন করবেন।

অধ্যাপক করিম কি আপনার পরবর্তী আলোচনায়, ব্যাখ্যা করবেন – এই চারটি প্রসঙ্গে সিদ্ধান্ত ব্যতিত কিভাবে আমরা একটি দলকে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তি হিসাবে মেনে নিতে পারি?

পুনশ্চ – এই লেখাটি থেকে, এই রকমের একটি ভুল সিদ্ধান্ত টানা যেতেই পারে যে এই পোস্টের লেখক হয়ত আওয়ামীলীগ এর ঘোর সমর্থক। বিশ্বাস অবিশ্বাসের তোয়াক্কা না করেই বলি, আমি আমরা অনেকে আগাগোড়াই আওয়ামীলীগের একজন ঘোরতম সমালোচক। তবুও অধ্যাপক করিমের সাথে আমার – আমাদের অনেকের পার্থক্য হচ্ছে বর্তমান আওয়ামীলীগের অগনতান্ত্রিক – ফ্যাসিবাদি আচরন, গনতন্ত্রমনা মানুষ হিসাবে আমাদেরকে ব্যথিত করে – ক্ষুব্ধ করে কিন্তু তা আমাদেরকে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক নেতৃত্ব সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়ানোতে উদ্বুদ্ধ করে না ।
জয় বাঙলা ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৯ thoughts on “বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ এর “মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ “ তত্ত্ব

  1. চমৎকার গোছান লেখা। লেখার
    চমৎকার গোছান লেখা। লেখার শেষাংশে যে চারটি প্রস্তাব দিয়েছেন সেগুলো বিএনপি অদূর ভবিষ্যতে বাস্তবায়ন করবে বলে আমি বিশ্বাস করিনা। অন্তত তাদের সাম্প্রতিক আচরণ তা বলে না। বরং উল্টোটাই হওয়ার সম্ভাবনা বেশী। গতকালকের খালেদা জিয়ার খুলনা সমাবেশে বিএনপির কর্মীদের চেয়ে জামাত-শিবিরের কর্মীর উপস্থিতি ছিল অন্তত তিনগুন বেশী। তাই এখন জামাত বিএনপির ঘাড়ে, নাকি বিএনপি জামাতের ঘাড়ে চেপে রাজনীতি করছে এটাই প্রমাণ করার দাবী রাখে। আমাদের দুর্ভাগ্য দেশে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল নেই যাকে আমরা মন থেকে সমর্থন দিতে পারি। বামদলগুলোর বিচ্ছিন্ন কিছু কর্মসূচী ছাড়া শক্তিশালী ভূমিকা দেখিনা বা জনসমর্থন নেই। শুধুমাত্র ভোটের হিসেব গননায় নিয়ে বিএনপিকে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলের একটি বলে মেনে নিতে হয়। জানিনা এর সমাধান কোথায়?

    ইস্টিশনে আপনাকে নিয়মিত চাই সারওয়ার ভাই। আপনার লেখার হাত আসলেই চমৎকার। কিছু কিছু বানানে টাইপিং মিসটেক আছে। যেটা লিখতে লিখতে ঠিক হয়ে যাবে।

    1. আতিক ভাই, অদূর বা সুদূর কোন
      আতিক ভাই, অদূর বা সুদূর কোন ভবিষ্যৎ কালেই এদের দ্বারা এমন কিছু করা সম্ভব না!!
      আদর্শিক ভাবে এতটা দেওলিয়া হওয়ার পরও যে মানুষের একটা অংশ তাদের ভোট দেয় এইটাইত অবাক করা বিষয়…

  2. চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনী।
    চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনী। তেমনি বিএনপিও শুনবে না আপনার প্রস্তাব। আর এতো হেজিটেট করতেছেন কেন? আপনি যা সত্য তাই লিখেছেন, নিজের মতো করে লিখেছেন। তাতে আপনাকে কে কি ভাবলো তাতে কি আসে যায়? যা লিখেছেন প্রায় সবই আমারও মনের কথা। তাই বলে আমি আওয়ামীলীগ সমর্থক নই। ভালো লিখেছেন, অনেক ভালো। ধন্যবাদ। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  3. আফসুসের বিষয় এটাই যে, বিএনপির
    আফসুসের বিষয় এটাই যে, বিএনপির প্রতিষ্টাতা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এই কথাটা যতটা না গর্বের উদ্রেক করে তার চাইতে বেশি ঘৃনার উদ্রেক ঘটে যখনি প্রতীয়মান হয় এই দলটি স্বাধীনতা বিরোধী তথা রাজাকারের পৃষ্টপোষক ।

    আতিক ভাইর কথায় সহমত পোষন করে আমিও বলতে চাই, আপনি যে চারটি প্রস্তাব দিয়েছেন সেগুলো বিএনপি অদূর ভবিষ্যতে বাস্তবায়ন করবে বলে আমি বিশ্বাস করিনা। অন্তত তাদের সাম্প্রতিক আচরণ তা বলে না। বরং উল্টোটাই হওয়ার সম্ভাবনা বেশী।বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সভা সেমিনারে দলটির সভানেত্রীর দেয়া বক্তব্য তাই প্রমাণ করে ।

  4. গনতন্ত্রণের সমস্যা হচ্ছে,
    গনতন্ত্রণের সমস্যা হচ্ছে, “এটি দেখে মাথার সংখ্যা। দেখে না মাথার ভেতর কিছু আছে কি’না?”

    তাই বিম্পির মত দলও প্রায় অর্ধেক ভোট পায়।

    1. চমৎকার কমেন্ট ! ইস্টিশন
      চমৎকার কমেন্ট ! ইস্টিশন মাস্টারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

  5. সবার সাথেই একমত। বিএনপি
    সবার সাথেই একমত। বিএনপি প্রধান যে মূলাটা ঝুলায় সেটা হল ধর্মের মূলা। খুবই সেনসিটিভ মূলা। এইতো গত পরশু গুলাপি আপা কত সুন্দর করে জনসভায় বলে দিছেন, শাহবাগী নাস্তিক ব্লগার। আবার তার জনসভায় তিন ভাগের দুই ভাগই শিবির।

    হবেই তো! দিনে দুইবার করে ময়নাপাখি, লইট্যা মাছ আর তেঁতুলের লাবড়া তরকারী খাইলে এমনই হয়।

  6. কোন রাজনৈতিক দর্শন এই দলটির

    কোন রাজনৈতিক দর্শন এই দলটির গড়ে ওঠাকে অনিবার্য করে তুলেছিল? – See more at: http://www.istishon.com/node/4964#sthash.50WkDA1w.dpuf

    – এটাই সার কথা এবং এই কথাটি জাতীয় পার্টীর বেলায় ও খাটে । পিয়াস করিমের মতো কিছু বুদ্ধি বেপারী মিডিয়ার দরকার হয় । কারণ, আপাত অপশন বিহীন দ্বি দলীয় ব্যবস্থায় অপেক্ষমান ক্ষমতার অংশীদার প্রধান বিরোধী শক্তির প্রতিনিধি হিসেবে এদের বাজারদর মন্দ নয় ।
    – সুখপাঠ্য লেখা । ধন্যবাদ !

    1. শুধু সুখপাঠ্য বললে ভুল হবে
      শুধু সুখপাঠ্য বললে ভুল হবে রাহাত ভাই, চমৎকার বিশ্লেষণধর্মী একটা লিখা!!
      অফিসে সারাদিন পড়ব পড়ব করে পোস্ট টা একাধিক বার খুলে রেখেও ২ প্যারার বেশী শেষ করতে পারি নাই!! চমৎকার গোছানো একটা লিখনি!!!
      :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :bow: :bow: :bow: :bow:

  7. আমি চক্ষের সামনে দেখতে
    আমি চক্ষের সামনে দেখতে পাইতেছি পিয়াস করিম স্কাই ব্লু শার্ট পৈড়া তার গাঠঠু গাঠুঠু দুইটা হাত নাড়াইয়া মিষ্টি ভয়েসে আধো আধো করে কথা গুলো বলছে। :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট:

  8. শালার জামাত শিবিরের সাথে হাত
    শালার জামাত শিবিরের সাথে হাত মেলানোতে কত গালি খেতে হচ্ছে। :কানতেছি:
    দুঃখের ব্যাপার অধ্যাপক পিয়াস করিমের মতো আমিও একজন বিএনপি সমর্থক। এজন্য অনেক গালাগাল খেতে হচ্ছে। অনেক আওয়ামী লীগ সমর্থক বন্ধুবান্ধবের কঠিন যুক্তিতে আমি ধরাশায়ী হচ্ছি। কিন্তু তারপরও কেন যেন মন থেকে আওয়ামী লীগ কে সমর্থন দিতে পারি না। এর ব্যাখ্যা আমার কাছে নেই।
    ক্ষমতার শেষ সময়ে এসে রাজাকারের বিচার করাটা আমার কাছে আওয়ামী লিগের একটা চমৎকার রাজনৈতিক চাল। কিভাবে? দেশের সব মানুষ চায় এই শয়তানগুলোর ফাঁসি হোক। আওয়ামী লীগ সে ব্যাবস্থা করেছে। আমরা সেজন্য আওয়ামী লিগের কাছে কৃতজ্ঞ। এমনিতেই দেশে ইবলিশের অভাব নাই। দুই একটা যা শয়তান কমে তাতেই লাভ।
    কিন্তু সমস্যা হল, আওয়ামী লিগের কাছে এই রায় কার্যকর করার মতো সময় নাই। হয়তো ইচ্ছাও নাই। কেন?
    কারণ দেশের আমজনতা এটাও জানে বিএনপি রাজাকারদের বিচারের রায় কার্যকর করা তো দূরে থাক, উল্টো রাজাকারদের “দেশপ্রেমিক” উপাধি দিয়েও বসতে পারে।
    তাহলে?
    তাহলে কিছুই করার নাই। রাজাকারের দলকে সাথে নিয়ে বিএনপি কে ক্ষমতায় যেতে দেয়া যাবে না। এক্ষেত্রে আমি লীগ না দল সাপোর্টার সেটা কোন বিষয় না। অনেক কষ্টে হারামজাদাদের বাগে পাওয়া গেছে। এবার আর ছাড়া যাবে না।
    আওয়ামী লীগ বুদ্ধির খেলা খেলেছে। বুদ্ধির খেলায় হারলেও ক্ষতি নেই।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 77 = 79