বামপন্থী মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধের বামপন্থী চেতনা – ২

একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তির প্রশ্নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আর পিকিংপন্থী বামদের মধ্যে একটা জায়গায় মিল দেখা যায়। সম্পূর্ণ বিপরীত রাজনৈতিক অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধু অথবা মাওবাদীরা কেউই ভারতকে বিশ্বাস করতে তৈরি ছিলেন না। ২৫ মার্চের রাতে বঙ্গবন্ধু পালিয়ে যেতে পারতেন। ভারতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিতে পারতেন। তিনি তা করেন নাই। ভারতে যাওয়াকে তিনি কোন অপশন হিশাবে রাখেন নাই। তিনি জানতেন ভারতে অবস্থান নিলে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ তার স্বকিয়তা স্বাধীনতা হারাবে, বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির সংগ্রাম ভারতের রাজনীতির বলি হবে। বঙ্গবন্ধু তার রাজনৈতিক জীবনের বেশিরভাগ সময়ই ভারতের প্রতি অত্যন্ত বিরূপ মনোভাব পোষন করেছেন। এই গ্রেফতার হওয়া নিয়া অনেকে তার নিন্দা করেন। আসলে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামীলীগ যদি আগে থেকে এই যুদ্ধের জন্যে প্রস্তুত থাকতো তাইলে হয়তো হাতে নানান রকম অপশন থাকতো। কিন্তু তা হয়নাই। বঙ্গবন্ধুর সামনে আর যাই হউক ভারতে যাওয়া কোন অপশন ছিলনা। অপশন মাওবাদীদের জন্যেও ছিলনা। পিকিংপন্থী হওয়ায় তাদের রাজনীতি ছিল ভারতবিরোধী, এবং ভারত সরকারও তাদের প্রতি বন্ধুসুলভ ছিলনা। ভারতে তখন নকশালরা ভারত সরকারের প্রধান শত্রু হিশাবে হাজির ছিল। বাংলাদেশের মাওবাদীদের জন্যে ভারত তাই খুব নিরাপদ জায়গা ছিলনা। পিকিংপন্থী বামদের অনেকেই তাই ভারতে না গিয়ে বাংলাদেশের মাটিতে থেকে মুক্তিযুদ্ধ চালানোর রননীতি গ্রহণ করেন। তবে রাশেদ খান মেনন, হায়দার আকবর খান রনোদের নেতৃত্বাধীন মাওবাদীদের সংগঠন ‘কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের পূর্ব বাংলা সমন্বয় কমিটি’ ভারতের মাটিতে থেকেই মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেন এবং মুজিবনগর সরকারের সাথে সমন্বয়ের চেষ্টা চালিয়ে যান। এখানে উল্লেখ্যযে ৭ মার্চ এই সমন্বয় কমিটি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধের আহবান করেছিল।

ভারতে না গিয়ে অথবা ভারতের সাহায্য না নিয়ে বাংলাদেশের মাটিতে থেকে মুক্তিযুদ্ধ করার নীতি অবশ্য শুধু মাওবাদী মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলনা। কাদের সিদ্দিকী এই কায়দায় যুদ্ধ করেছেন। রৌমারির সুবেদার আফতাব, ভালুকার আশরাফদের নেতৃত্বে বাংলাদেশের ভেতরে মুক্তিযোদ্ধাদের কিছু দল তৈরি হয় যারা দেশের মাটিতে থেকে এমনকি ভারতের সাহায্য না নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ চালিয়ে গেছেন। বামপন্থী সেক্টর কমান্ডার আবু তাহেরও এই নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি বরাবরি বাংলাদেশের মাটিতে থেকে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় বিশ্বাসী ছিলেন। বরাবরি বাংলাদেশের ভেতর থেকে তিনি যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন। সেইসাথে সুবেদার আফতাব, কাদের সিদ্দিকীসহ দেশের ভেতরকার গেরিলা বাহিনীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় রক্ষা করতেন। সুবেদার আফতাবের অস্ত্রের অভাব ছিল, কিন্তু ভারতের অস্ত্র নিয়া যুদ্ধ করতে তিনি প্রস্তুত ছিলেন না, মূলত পাকিস্তানীদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া অস্ত্রে যুদ্ধ করতেন। তাহের চিলমারীর যুদ্ধে পাকিস্তানীদের কাছ থেকে যেসব অস্ত্র দখল করেন সেই অস্ত্র সুবেদার আফতাবকে দেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তাহেরের একটি পরিস্কার ধারনা ও পরিকল্পনা ছিল। এই যুদ্ধে বাংলাদেশ ও ভারতের আলাদা এজেন্ডা আছে সেটাও তিনি জানতেন। নিয়মিত বাহিনীর বদলে সাধারণ জনগনের গেরিলা বাহিনী গড়ে তোলার দিকেই ছিল তার ঝোক। কোম্পানি ও প্লাটুনগুলার নেতৃত্বে মূলত বেছে বেছে বামপন্থী তরুনদের নিয়োগ দিতেন। তিনি জানতেন ভারত তারাতারি যুদ্ধ শেষ করতে চায়, তাই আক্রমনের জন্যে বেছেনেন পাকিস্তানীদের কামালপুর ঘাটি। তিনি জানতেন কামালপুর দখল করতে পারলে ঢাকায় প্রবেশ করা হবে সময়ের ব্যাপার মাত্র। বাংলাদেশের ভেতরে গড়ে ওঠা গেরিলাদের সাথে সমন্বয় করে মুক্তিযোদ্ধাদের একটা বড় সংখ্যা নিয়ে তিনি ঢাকায় প্রবেশ করতে চেয়েছিলেন, যাতে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী সরাসরি মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পন করতে বাধ্য হয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা বিজয় ছিল কামালপুরের যুদ্ধে বিজয়। এই যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন তাহের। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এই যুদ্ধেই আহত হয়ে তিনি তার পা হাড়ান। ১৬ ডিসেম্বর যখন নিয়াজি আত্মসমর্পন করেছেন জেনারেল আরোরার কাছে, হাসপাতালে শুয়ে তাহের তখন আফসোস করেছেন, আহত না হলে যৌথ বাহিনীর বদলে মুক্তিবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পন করতে পাকিস্তানীদের তিনি বাধ্য করতে পারতেন। কিন্তু তা হয়নাই। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে যে আজকে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হিশাবে ভারত প্রচার করে, তা ঐ আত্মসমর্পনের রাজনীতিটার জোরেই করে। এক সময়ের কমরেড সিরাজ শিকদারের সাথে তাহেরের বিচ্ছেদ ঘটেছিল সেই উনষত্তর সালেই। সিরাজ শিকদার বরিশালের পেয়ারা বাগানে পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের লাইন কি হবে তা নিয়া সেক্টর কমান্ডার তাহের আর মাওবাদী গেরিলা সিরাজ শিকদারের ফারাক ছিল অনেক, কিন্তু ভারত প্রশ্নে মিলও কম ছিলনা। ভারত প্রশ্নে এই মিল বঙ্গবন্ধুর চিন্তা এবং কাজেও পাওয়া যাবে। এই মিল কেনো পাওয়া যাবে এবং একাত্তরে পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পাশাপাশি ভারত প্রশ্নের মোকাবেলাটা কতোটা জরুরি ছিল তা নিয়া আমরা পরে আলোচনার ইচ্ছা রাখি।

ভারতের সাথে সুসম্পর্ক রক্ষা করেছে মূলত মস্কোপন্থী হিশাবে পরিচিত বামপন্থীরা। এদের মধ্যে রয়েছে সিপিবি, ন্যাপ(মুজাফফর) এবং ছাত্র ইউনিয়ন। ভারতের সাথে তখন সোভিয়েত ইউনিয়নের সুসম্পর্ক। ভারতের মস্কোপন্থী সিপিআইএর সাথে কংগ্রেস সরকারের খাতির ছিল। সোভিয়েত লবি এবং সিপিআইএর সাথে খাতিরের বরাতে বাংলাদেশের মস্কোপন্থী হিশাবে পরিচিত বামরা ভারতের মাটিতে থেকে রাজনৈতিক, কুটনৈতিক এবং সামরিক সবধরণের তৎপরতা চালাতে সক্ষম হন। শুরু থেকেই তারা ছিলেন মুজিবনগর সরকারের সমর্থক। উনষত্তরের গন অভ্যুত্থানের সময় থেকেই তারা আওয়ামীলীগের সাথে ঐক্য করে বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রাম পরিচালনা করার চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। সোভিয়েত ইউনিয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায় করে নেয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে সিপিবি। একাত্তরের ফেব্রুয়ারী মাস থেকেই বামপন্থীদের আন্তর্জাতিক ছাত্র সংগঠন আইইউএসএর মাধ্যমে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক প্রচারনা চালাতে শুরু করে ছাত্র ইউনিয়ন। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে সোভিয়েত সহযোগিতা নিয়ে আওয়ামীলীগের সাথে ঐক্য গড়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়াই ছিল মস্কোপন্থীদের কৌশল। আওয়ামীলীগের ভেতরে তাদের ছিল তাজউদ্দীনের মতো মিত্র। কিন্তু তারপরও বামপন্থী বলেই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ তাদের জন্যে সহজ ছিলনা। কারন আওয়ামীলীগের ভেতরের (বিশেষ করে শেখ মনির নেতৃত্বাধিন) একটা অংশ প্রচন্ড বামফোবিয়ায় ভুগতো। আওয়ামীলীগের এই অংশেরই পরবর্তিতে বিজয় হয়েছে। খন্দকার মোস্তাক একদিকে মার্কিন লবি মেইনটেইন করে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে পাকিস্তানের সাথে আপোস রফায় যাওয়ার চেষ্টা করেছেন আরেকদিকে তার সহযোগীদের সচেষ্ট রেখেছেন মুক্তি বাহিনীর প্রশিক্ষন শিবিরে বামপন্থীদের স্ক্রিনিং করার জন্যে। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আওয়ামীলীগের বাছ বিচারের কারনে অনেকে বাদ পরে যেতেন। তাই সিপিবি, ন্যাপ, ছাত্র ইউনিয়নের কর্মীরা শুরুতে মূল ধারার মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিয়ে যুদ্ধ শুরু করলেও পরে আলাদা গেরিলা বাহিনী তৈরি করে। ২০ হাজার সদস্যের এই গেরিলা বাহিনী খুব সম্ভবত মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গেরিলা বাহিনী ছিল। এই গেরিলা বাহিনীর একটা কূটনৈতিক গুরুত্ব ছিল যে এর উপস্থিতির কারনে তৎকালিন সোভিয়েত পন্থী সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলার সমর্থন সহযোগিতা আদায় করা সহজ হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের শেষদিকে ঢাকার আশেপাশের অঞ্চলের দখল নেয়ার ক্ষেত্রে এই বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। ১৪-১৬ ডিসেম্বর ঢাকার নিয়ন্ত্রন গ্রহণ করার ক্ষেত্রেও এই বাহিনী এগিয়ে ছিল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শুরু এবং শেষের দুইটি আইকোনিক ছবি নিচে সংযোজন করলাম। প্রথম ছবিটি ২০ মার্চ ছাত্র ইউনিয়নের গণবাহিনীর কাঠের বন্দুক কাধে ঢাকায় শো ডাউনের ছবি। দ্বিতীয়টি ১৭ ডিসেম্বর শহীদ মিনারে ছাত্র ইউনিয়ন-সিপিবি-ন্যাপএর গেরিলা বাহিনীর অস্ত্র উচিয়ে শপথ গ্রহণের ছবি।

বামপন্থীদের আলাদা আলাদা গেরিলা বাহিনীর উপস্থিতি আওয়ামীলীগের একটা অংশ মেনে নিতে তৈরি ছিলনা। মূলত বামপন্থীদের ঠেকাতেই তারা মুজিব বাহিনী (বিএলএফ) গঠন করে। এসময় মুজিবনগর সরকারপন্থীদের মধ্যেই অন্তর্কোন্দল এবং দ্বন্দ তুঙ্গে ওঠে। ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হিশাবে নভেম্বর মাসে ছাত্র লীগ এবং ছাত্র ইউনিয়ন একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে। তবে ঐক্য প্রচেষ্টা বিবৃতি পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকে। আজকে এই ২০১৩ সালে এসে পেছনের এইসব ইতিহাস নতুন করে দেখা নেয়া বিভিন্ন কারনে জরুরি হয়ে উঠেছে।

দ্বিতীয় পর্বটি শেষ করছি বেতিয়ারা শহীদদের স্মরণ করে। ১৯৭১ সালের ১১ নভেম্বর চৌদ্দগ্রামের বেতিয়ারা অঞ্চলে ছাত্র ইউনিয়ন-সিপিবি-ন্যাপ যৌথ গেরিলা বাহিনীর ৯ জন মুক্তিযোদ্ধা পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সাথে সম্মুখ সমরে নিহত হন। দিনটি বেতিয়ারা শহীদ দিবস হিশাবে আজো পালিত হয়ে আসছে।

(চলবে)

বামপন্থী মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধের বামপন্থী চেতনা – ১

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৪ thoughts on “বামপন্থী মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধের বামপন্থী চেতনা – ২

  1. চলতে থাকুক। আমি একটি ভিন্ন
    চলতে থাকুক। আমি একটি ভিন্ন ঘটনা উল্লেখ করছি।

    রাজ্জাক সাহেব তখন আমার পাশের বেডে থাকেন। কথাচ্ছলে একদিন রাজ্জাক ভাইয়ের একটি প্রশ্ন শুনে আমি হতবাক হয়ে যাই। তিনি একদিন কথাবার্তার ফাঁকে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ” আচ্ছা একটা তথ্য আজ আমাকে কনফার্ম করেন তো, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার কোন পরিকল্পনা কি আপনাদের ছিল?”
    আমি তা পুরোপুরি অস্বীকার করলে রাজ্জাক ভাই বললেন:
    কিন্তু এ ব্যপারে আমাদের কাছে কন্সট্যান্ট গোয়েন্দা রিপোর্ট ছিল। রাজআজাক সাহেব আরো বলেন, আমাদের কাছে এরকম রিপোর্ট ছিল যে,-বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার জন্য সিরাজ সিকদার বিশেষ গেরিলা স্কোয়াড গঠন করেছেন।
    __রইসউদ্দিন আরিফ

    রাজ্জাক সাহেব এবং আরিফ সাহেবের কথাটা কেন গুরুত্ব পূর্ণ নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা “র” ই এই রিপোর্ট দিয়েছিল।এবং এই প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধু সিরাজ সিকদারকে ধরতে মরিয়া হয়ে উঠে। বামদের বিষয়ে চক্রান্ত করার জন্য “র” এখনো দেশের ভেতরে কাজ করে যাচ্ছে।

  2. সত্যিকারের ইতিহাস উন্মোচিত
    সত্যিকারের ইতিহাস উন্মোচিত হোক। আবারও আপনার এই প্রচেষ্টার প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

    আওয়ামীদের মধ্যে বাম ফোবিয়া আজ থেকে নয়, সেই শুরু থেকেই। বামদের অর্জনকে কখনই তারা মুল্যায়ন করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবেনা। ইতিহাসকে বিকৃত করার মাধ্যমে কতদিন প্রকৃত সত্য লুকিয়ে রাখা যায়? …. এভাবেই একদিন মানুষের কাছে ইতিহাস নিজেই স্বাক্ষ্য দেবে বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামে কার কতটুকু সংশ্লিষ্টতা ছিল।

  3. অনেক তথ্য জানলাম। বিগত
    অনেক তথ্য জানলাম। বিগত কিছুদিন ধরে অনলাইনে কিছু আওয়ামী মৌলবাদীদের দ্বারা যেভাবে বাম রাজনীতিকে কলুষিত করা হচ্ছিলো সেটার বিপরীতে আপনার এই সিরিজ দারুন একটা প্রতিবাদ। আশা করি অনেকেরই বিভ্রান্তি কাটবে।

  4. যথেষ্ট আগ্রহ নিয়ে আপনার এই
    যথেষ্ট আগ্রহ নিয়ে আপনার এই সিরিজ পড়ছি… আশা করি আরও অনেক সত্য উন্মোচিত হবে এই সিরিজে। পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম…

  5. চমৎকার একটা লেখা। ভালো লাগ্ল
    চমৎকার একটা লেখা। ভালো লাগ্ল পড়ে। বাকিটুকুর আপেখায় রইলাম। :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :তালিয়া: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:
    একটু তাজা নিঃশ্বাস

    কাগজ কলম হাতে নিয়ে বসে আছেন কবি!
    চেতনার ক্যানভাস থেকে দিবেন শুধু একটু রং।
    ঝলছে যাবে, বদলে যাবে সব চিত্রপট,
    মুছে যাবে, ধুয়ে যাবে, জমে থাকা ধুলোর আস্তরন।
    কবিতা পাবে মুক্তি, দীর্ঘ বন্দিশালা থেকে।
    কাঁদবে কবিতা, যেমন কাঁদে বন্দিরা মুক্তির পর।
    হঠাৎ ক্যানভাসটা আবার ঘোলা হয়ে যায়,
    ধুলোর দল আকড়ে ধরতে চায় মুক্ত কবিতাকে!
    কবি চান বাধা দিতে, তবু পারেন না।
    পারবেন কি করে? নষ্ট কাগজ আর-
    কালিহীন কলম দিয়ে যে মুক্তি পাবেনা কবিতা।

  6. আপনার লেখা পড়ে কট্টর
    আপনার লেখা পড়ে কট্টর আওয়ামীদের ইতোমধ্যে ব্যাপক গাত্রদাহ শুরু হয়ে গেছে ! আপনি অমুক তমুক তথ্য ভুল দিয়েছেন বলে ঘ্যান ঘ্যান করছে । কিন্তু মজার ব্যাপার হলো যখনি বলি, কমেন্টে বিতর্ক করো । তখনি চুপসে যায় ।

  7. ভাই, একবার মুজিব বাহিনী (BLF)
    ভাই, একবার মুজিব বাহিনী (BLF) নিয়ে কিছু লিখিয়েন। এসব নিয়ে জানার আগ্রহ আছে। রাজকূটে একবার পড়েছিলাম। বিএলএফ কমিউনিস্ট বিরোধী হলেও এর কিছু নেতা পরবর্তীতে কেন যে জাসদ গড়ে তুলেছিল বুঝিনা!?

    1. বিএলএফকে কমিউনিস্ট বিরোধী
      বিএলএফকে কমিউনিস্ট বিরোধী হিসেবেই গড়ে তুলতে চেয়েছিল কিন্তু সেটা ইন্ডিয়ার জন্য বুমেরাং হয়েছে। কারণ বিএলএফ এর রিক্রুটদের মধ্যে আশি ভাগই বামপন্থার সমর্থক ছিল। আর এরাই পরবর্তীতে জাসদ গঠন করেছে।

    2. যথারীতি ভালো লিখেছেন। পরের
      যথারীতি ভালো লিখেছেন। পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম। :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 4 = 2