সফিক ও অমিত বন্ধুত্বের দৃষ্টান্তকারী দুই জন

এই স্কুলে সফিকের আজ প্রথম দিন। বাসা থেকে কড়া নির্দেশ প্রথম সারির বেঞ্চেই বসতে হবে।তাই ক্লাসে ঢুকেই প্রথম সারির তিনটি বেঞ্চের মধ্যে একটিতে বসে পড়লো।কিছু টা বললে হয়তো ভুল হবে, অনেকটা আগেই এসে পড়েছিল সে। একটু পর ধীরে ধীরে অন্যরাও আসতে শুরু করলো। সবাই এসে নিজের বন্ধুদের সাথে দুষ্টামি করছে, কথা বলছে, হাত মেলাচ্ছে । কিন্তু সফিকের কাছে যেটা অবাক লাগলো সেটা হল সবাই ওর দিকে এমন ভাবে একটু পর পর তাকাচ্ছে যেন সে অন্য কোন গ্রহ থেকে আগত কেউ।


এই স্কুলে সফিকের আজ প্রথম দিন। বাসা থেকে কড়া নির্দেশ প্রথম সারির বেঞ্চেই বসতে হবে।তাই ক্লাসে ঢুকেই প্রথম সারির তিনটি বেঞ্চের মধ্যে একটিতে বসে পড়লো।কিছু টা বললে হয়তো ভুল হবে, অনেকটা আগেই এসে পড়েছিল সে। একটু পর ধীরে ধীরে অন্যরাও আসতে শুরু করলো। সবাই এসে নিজের বন্ধুদের সাথে দুষ্টামি করছে, কথা বলছে, হাত মেলাচ্ছে । কিন্তু সফিকের কাছে যেটা অবাক লাগলো সেটা হল সবাই ওর দিকে এমন ভাবে একটু পর পর তাকাচ্ছে যেন সে অন্য কোন গ্রহ থেকে আগত কেউ।

ক্লাস শুরু হতে আর পাঁচ মিনিট বাকি, হঠাৎ একটা ছেলে এসে তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। এমন ভাবে তার দিকে তাঁকিয়ে আছে যেন সে অনেক বড় কোন অপরাধ করে ফেলেছে। এবং তার ফলস্বরূপ শাস্তি দিতে এসেছে ঐ ছেলেটি। সফিক কিছু বলল না সেও তাকিয়ে আছে। ঐ ছেলেটি অন্য একজন কে উদ্দেশ্য করে বলল – এইটা কে রে? প্রতিউত্তরে সে জানালো যে সফিক এই স্কুলের নতুন কেউ হয়তো। প্রতি উত্তরটির সুবাদে সফিক জানতে পারলো যে ছেলেটি তার সামনে দানবের মত দাঁড়িয়ে তার নাম অমিত। অন্যদের হস্তক্ষেপে পরে তাকে বেঞ্চটি ছাড়তে হলো। শেষের সারির বেঞ্চে গিয়ে বসতে হল তাকে। যথা সময়ে শুরু হল ক্লাস। স্যার এসেই সফিককে খুঁজতে লাগলেন। সফিক শেষ বেঞ্চ হতে হাত তুলে দাঁড়ালো। গুরুগম্ভীর, বদমেজাজি স্যারের তীব্র হুংকার- বেটা বাটপার,স্কুলের প্রথমদিনেই শেষের বেঞ্চে বসেছিস! স্যারের ভৎসনা তার সাথে সহপাঠী বন্ধুদের হাসি। সব মিলিয়ে যেন কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা, তার উপর নতুন স্কুলের প্রথম দিন। কিন্তু সফিক চুপ। কিছুই বলল না সে। ক্লাস শেষ স্যার ও ক্ষান্ত হলেন,চলে গেলেন। আবার সেই দৈত্যাকার অমিত এসে হাজির তার সামনে।
-কিরে তোর নাম কি?
-সফিক, কেন?
-তুই স্যার কে কিছু বললি না যে?
-কি বলব?
-এই যে আমি তোকে বেঞ্চ থেকে উঠিয়ে ওখানে বসেছি।
-বসেছিস তো বসেছিস, এতে বলার কি আছে?
-Thanks বন্ধু।
-আরে এতে আবার Thanks এর কি আছে, বন্ধু বলছিস আবার Thanks?

অমিত সুন্দর একটি হাসি দিয়ে সফিকের পাশে বসলো।তাদের মাঝে কথা চলতে থাকলো।স্থাপিত হল বন্ধুত্ব। খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব।

এক বছর পার হয়ে গেল। এখনও সফিক ও অমিতের বন্ধুত্ব খুব ভাল ভাবেই চলছে। কিন্তু সফিক বিপথগামী হয়ে গেল। প্রেমের পথের একটি ভুল পথে হেটে চলছিল সে, যেই পথের শেষে শুধুই বিরহ। একটি মেয়ের ছলনার স্বীকার হয়ে নিজের জীবনকে শেষ করে দেয়ার পথে ছিল সফিক। স্কুলের নতুন আসা ছেলেটি প্রথম পরীক্ষাতেই মেধাতালিকার শীর্ষে ছিল। আর সেই ছেলেটি এখন! সফিকের প্রতিটি মুহূর্ত সম্পর্কে অবিহিত অমিত। সে এখন একজন প্রকৃত বন্ধুর ন্যায় সফিকের পাশে এসে দাঁড়ালো। তাকে আবার ভাল করতে পারলো কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস, অমিতের কি হল সেও ধীরে ধীরে পড়া লিখা থেকে দূরে সরে যেতে লাগলো।সফিক ও অমিতের মধ্যেও কিছু বিষয় নিয়ে মনমালিন্যের ফলে বন্ধুত্বটা হালকা হয়ে গেল। দূরে সরে যেতে লাগলো একে অপরের কাছ থেকে।

এসএসসি পরীক্ষার নির্বাচনী পরীক্ষার ফল দিয়েছে। অমিত,যে মেধাতালিকার প্রথম অথবা দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী ছিল সে দুই বিষয়ে ফেল করেছে। পরবর্তীতে বিবেচনার ভিত্তিতে তাকে এসএসসি পরীক্ষা দেবার অনুমতি প্রদান করা হয়। ইদানীং নাকি অমিত ধূমপানে আসক্ত, একথাও সফিকের অজানা নয়। কিন্তু বন্ধুর একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। তার উপর অমিতের সাথে ঝগড়া। তাই কিছু বলতো না সে। কিন্তু তার বিপদের সময় অমিতই তো পাশে দাঁড়িয়েছে, তাকে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে এনেছে। এখন সেই বন্ধুত্বের জন্যেই সকল রাগ ভুলে গিয়ে অমিতের জীবনে সফিকের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। সেও পিছ পা হল না। অমিতের সাথে সে যত সময় পারে তত সময় কাটানোর চেষ্টা করে। পুরাতন বন্ধুকে কাছে পেয়ে সকল রাগ ভুলে গেল সেও। তাকে নিজ বাসায় ডেকে এনে এক সাথে পড়ালেখা করে। এ নিয়ে সফিকের মা-বাবাও আর পাঁচটা মা-বাবার মত খুদ্ধ। সফিকের সহচর্যে অমিত সিগারেটকে বিদায় জানাতে সক্ষম হল, পড়ালেখার প্রতি যে বিতৃষ্ণার জন্ম হয়েছিল তাও দূর হল। নতুন উদ্যমে পড়ালেখা শুরু করলো।

আজ এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল দিল। সফিক ও অমিত দুজনেই এ+ পেয়েছে। দুজনেই খুশি। একে অপরকে অব্যক্ত ধন্যবাদ জানাচ্ছে। কারণ একে অন্যের বিপদের সময় পাশে এসে না দাঁড়ালে হয়তো কারো ফলাফলই এমন হত না। বিধাতার লিখন বলুন আর বন্ধুত্বের বন্ধনই বলুন, এ যে বন্ধুত্বেরই জয়। এইতো বন্ধুত্ব,একে অন্যের পাশে এসে দাঁড়ানো। সুসময়ে না হলে দুঃসময়ে পাশে পাওয়া। এই তো বন্ধুত্ব,শত রাগ দ্বেষ থাক না কেন হাসি মুখে বন্ধু বলে একবার ডাক দিয়ে গলা মেলালেই সব রাগ শেষ। এই তো জীবন…চলতে থাকে আপন গতিতে,কিন্তু চলার পথের সঙ্গী গুলো সেই চলার পথের শেষটা,ফলাফল টা লিখে দেয়।

(((অনেক আগে থেকেই ইচ্ছা ছিল আমাদের সফিক ভাই ও অমিত লাবণ্য ভাই এর নাম আমার গল্পে ব্যবহারের, আজ করে ফেললাম।আশা করি সফিক ভাই দেখবেন, কিন্তু অমিত ভাই দেখবেন কি না জানি না)))

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩৬ thoughts on “সফিক ও অমিত বন্ধুত্বের দৃষ্টান্তকারী দুই জন

  1. ভালোই। তবে সব গল্পের শিরোনামে
    ভালোই। তবে সব গল্পের শিরোনামে গল্পের চরিত্রের নাম কেন দিতে হবে বুঝলাম না। একটু ভিন্নতা আনা যায় না?

    1. শিরোনাম দেয়াতে আমি অনেক কাচা।
      শিরোনাম দেয়াতে আমি অনেক কাচা। ভাই দিয়ে দেন।

      আর মাস্টার মশাই এত দিন পর পোস্ট দিলাম ভুল গুলো ধরিয়ে দিবেন না এটা হয়??

    2. সহমত। আর গল্পের শিরোনামেই যদি
      সহমত। আর গল্পের শিরোনামেই যদি গল্পের পুরো ধারণা দিয়ে দেয়া হয়, তবে পাঠকের গল্প পড়ার আগ্রহ খানিকটা হলেও কমে যায়। শিরোনামটা এমন হওয়া উচিত, গল্পের সাথে সম্পৃক্ত কিন্তু পড়ে গল্প সম্পর্কে কোন ধারণা নেয়া যায় না।

  2. ভালো লাগছে । শিরোনাম নিয়ে
    ভালো লাগছে । শিরোনাম নিয়ে আমিও বিপদে থাকি
    তবে এই গল্পের সাথে মিলে গেছে , খারাপ লাগে নাই

  3. সিম্পল বাস্তব ভিত্তিক গল্প।
    সিম্পল বাস্তব ভিত্তিক গল্প। ভালো লাগছে। তবে এইটা কিন্তু আমার জীবনের সাথে মিললো না! কারণ, আমি কোনো সরাসরি বন্ধু রাখিনা। ক্ষুদ্র জীবনে কাউকে মায়ায় বাঁধতে চাইনা বলেই হয়তো বন্ধুত্ব করিনা কারো সাথে। :আমারকুনোদোষনাই:

      1. মাই নেম ইজ দেশী পোলা

        মাই নেম ইজ দেশী পোলা ইলেকট্রন; টানে সবাইকে,বাঁধনে জড়ায় না।

        :কেউরেকইসনা: :ভেংচি: :চশমুদ্দিন: :হাহাপগে: 😀

      2. ভাই, আমারে দেশি পোলা বানাইয়া
        ভাই, আমারে দেশি পোলা বানাইয়া দিলেন কেন? আমি কাউরে টানিও না, মায়াতেও জড়াই না। :আমারকুনোদোষনাই:

  4. সফিক অমিত বন্ধুর ইতিকথা
    সফিক অমিত বন্ধুর ইতিকথা টাইপের রচনা মনে হলো…
    গল্পে টুইস্ট থাকে…
    রহস্য, প্রাঞ্জলতা, আলো আধারির খেলা আনুপুস্থিত…
    শুধু ধারাবিবরনী বিদ্যমান..
    দুরন্ত জয় এর চেয়ে ভালো গল্প লেখে…

  5. খুব বেশী নিস্তরঙ্গ বর্ণনা মনে
    খুব বেশী নিস্তরঙ্গ বর্ণনা মনে হয়েছে। শব্দের ব্যবহার পুরোন ধাঁচের। মানুষের জীবনের সবচেয়ে বর্ণিল অংশ হচ্ছে ছাত্রজীবন। এ নিয়ে আরো সুন্দর করে লেখা যেত। শুভেচ্ছা রইলো।

  6. দেরি করে হলেও নজরে পড়েছে! আর
    দেরি করে হলেও নজরে পড়েছে! আর নজরে ফেলার জন্যই তো শিরোনামে চরিত্রের নাম উল্লেখ- তাই নয় কি জয়?
    “সফিক” নামটা যে আমার কপি রাইটেড- এই তথ্যটা সবাইকে জানিয়ে দেবার জন্য ধন্যবাদ!

    গল্পের বিষয়বস্তু বা ধারা বর্ণনা নিয়ে অনেকেই বলেছেন। আমি আর কিছু না-ই বললাম… সাজেশনগুলো খেয়াল রাখলে সামনে ভালো লেখা আসবে নিশ্চয়ই!

    সব শেষে আমাকে নিয়ে একটা গল্প লেখার জন্য কৃতজ্ঞ! আর শেষ লাইনটা…
    “…সফিক ভাই দেখবেন, কিন্তু অমিত ভাই দেখবেন কি না জানি না…”
    কিছু বলার নাই… :দীর্ঘশ্বাস:

    (লেখাটার লিঙ্ক অমিত লাবণ্যকে শেয়ার করে দিচ্ছি… এর বেশি আর কি-ই বা করতে পারি আমি?)

  7. এই গল্পে চরিত্রের কথোপকথন আছে
    এই গল্পে চরিত্রের কথোপকথন আছে আবার লেখকের বর্ণনাও আছে। প্রথম দিকে থ্রিল নিয়ে এগোলেও পরের দিকে বেশ দ্রুত গেছে। শিক্ষামূলক গল্প। :গোলাপ:

    1. রাইট জোর করেই মিলাবার চেষ্টা
      রাইট জোর করেই মিলাবার চেষ্টা করেছি।
      এক বন্ধুর অনুরোধে। ও একটা সর্ট স্টোরি ক্যপচার করতে চায়। এর জন্যেই লেখা।

      আর বন্ধু নামক শব্দের উপর বিস্বাশ উঠে গিয়েছে । তাই এটা মন থেকে লিখি নি

  8. আমার অবশ্য খারাপ লাগেনি। তবে
    আমার অবশ্য খারাপ লাগেনি। তবে জয় এর চেয়েও ভালো লিখতে পারে :ভাবতেছি: :আমারকুনোদোষনাই: … চরিত্রগুলোকে আরেকটু গতিশীল করা যেত… গোলাপসহ শুভকামনা রইল… :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :ধইন্যাপাতা: :বুখেআয়বাবুল:

    1. আমি কিন্তু খারাপ বলিনি। আমারও
      আমি কিন্তু খারাপ বলিনি। আমারও একই মত।
      “জয় এর চেয়েও ভালো লিখতে পারে। চরিত্রগুলোকে আরেকটু গতিশীল করা যেত।”

    2. হুম হতাশ করার জন্য দুক্ষিত
      হুম হতাশ করার জন্য দুক্ষিত !!!

      ভাল কিছু লেখার চেষ্টা অব্যহত থাকবে।

      https://istishon.blog/node/5100 এটা পড়ে দেখতে পারেন। আশা করি এটা ভাল লাগবে

  9. সাধারণ বাস্তবভিত্তিক গল্প
    সাধারণ বাস্তবভিত্তিক গল্প যদিও অনেকের মত হয়তো আমিও শিরোনামের দৃষ্টান্ত কথাটার যথার্থতা পেলাম না (হয়তো আমার ভুল)
    তবুও ভালোই লেগেছে তবে একটু তাড়াহুড়োর ছাপ আছে….
    আশা করি সামনে এই লেখা ছাপিয়ে যাবেন :বুখেআয়বাবুল:

  10. সবাইকে মন্তব্যের জন্য
    সবাইকে মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। অনেক নতুন মুখ দেখতে পেলাম ।

    যারা আমার ভুল গুলো ধরিয়ে দিয়েছেন তাদের আরও বেশি ধন্যবাদ। ভবিষতে লেখার ক্ষেত্রে অনেক দিক নির্দেশনা পাব এর থেকে।

    https://istishon.blog/node/5100 আর এটাতে লিখার ক্ষেত্রে আপনাদের এই কথা গুলো খেয়াল রেখে ভুল শুধরাবার চেষ্টা করেছি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 + = 12