হতাশা

বায়ান্ন এর ভাষা আন্দোলনের পর আমরা অনেকগুলো বসন্ত পার করে এসেছি।আজকের এই বসন্তটি যাচ্ছে নিজেদের চেতনায় ষোল-আনা উজ্জীবিত হয়ে।এতদিন আমরা শুনেছি এগুলো নাকি বেহায়াপনা।নারী নিয়ে কু-কীর্তি।ত্যানারা আবার শরিয়া শাসনের নামে দেশে নারীদের পর্দানশীন করে রাখতে চায়।এতে বেহায়াপনা দূর হবে আর আমরা নাকি সংযত আচরণ করব।তা তারা যদি নিজেদের সংযত রাখতে না পারে তাহলে,তারা তালা লাগানো আন্ডারওয়ার পরে রাস্তায় বের হোক।পুরুষকেও বোরখা পরানো উচিৎ।নাহলে,নারী-পুরুষের এক সত্ত্বা হল কিভাবে???


বায়ান্ন এর ভাষা আন্দোলনের পর আমরা অনেকগুলো বসন্ত পার করে এসেছি।আজকের এই বসন্তটি যাচ্ছে নিজেদের চেতনায় ষোল-আনা উজ্জীবিত হয়ে।এতদিন আমরা শুনেছি এগুলো নাকি বেহায়াপনা।নারী নিয়ে কু-কীর্তি।ত্যানারা আবার শরিয়া শাসনের নামে দেশে নারীদের পর্দানশীন করে রাখতে চায়।এতে বেহায়াপনা দূর হবে আর আমরা নাকি সংযত আচরণ করব।তা তারা যদি নিজেদের সংযত রাখতে না পারে তাহলে,তারা তালা লাগানো আন্ডারওয়ার পরে রাস্তায় বের হোক।পুরুষকেও বোরখা পরানো উচিৎ।নাহলে,নারী-পুরুষের এক সত্ত্বা হল কিভাবে???

আমার দেশের যুব সমাজকে দেখি তাদের ফ্রাস্টেশনের সময় তারা চিপা গললিতে যায়,ষ্টেশন যায়।কেন??লোয়ার ম্যান্টলিটি বলে???নাহ,আমার সমাজ তার ফ্রাষ্টেশন বন্ধ করার অনুমতি দেয় নি বলে।এক মহাপুরুষ বব মার্লে বলেছিলেন,”যে দেশে একটি মদের বার নেই,সে দেশের তরুণ সমাজ নিজের ভাব-আদর্শকে ঝালাই করবে কিভাবে,দ্বিমত পোষণ করা শিখবে কি করে”???????

আমার সমাজ ব্যবস্থা-তো আমাকে একটা প্রেমেও অনুমতি দেয় নাহ।প্রেম কিছুটা জায়েজ হবে যদি নিজ ধর্মের মধ্যে খুঁজি লও।প্রেম করতে হইলে আবার এস্টাব্লিসমেন্ট এর ও একটা ব্যাপার আসে।মেয়েদের বেলায় তো আরও খারাপ অবস্থা।তাদের তো মায়ের ইচ্ছা অনুযায়ী চুলের বেণী বাঁধতে হয়,বাপের ইচ্ছা অনুযায়ী স্কুল-কলেজ-ভার্সিটি পড়তে হয়।তা এর পরেও যে প্রেম থামে নাই,এটা কি বাঙ্গালীর ক্রেডিট নাহ??????তারপরেও আমরা আমাদের মেয়েরা স্বাধীন,স্বাধীন ভাবে চিন্তা করছে কিভাবে?????

এই বসন্তে কোথায় প্রেমিকার পাশে পাঞ্জাবী পড়ে দাঁড়িয়ে সেও লাল পাড়ের অথবা হলুদ রাঙ্গা শাড়ী পড়ে এসে পাশে বসবে,ফুল দেওয়ার পর আলাপ করবো তা নাহ।আমি প্রেমহীন সংগ্রামী বিপ্লবীতে পরিণত হচ্ছি।কোথায় এই বয়সে রাজপথে সবার সামনে নিজেদের প্রেমের অস্তিত্ব তার কোমর ধরে
পীঠে হাত রেখে একটা গাড় চুমু খাব তা নাহ।আমার সমাজ অনেকগুলো লম্পট উপহার দেবে না তো,কি দিবে????

একটা ঘটনা বলি:-
চট্টগ্রামের বড়তাকীয়া মাদ্রাসার এক শিক্ষক ডিসি হিলের দিকে যখন আসেন টং এর দোকানে বসে একটা বেনসন খান।তিনি চান দেশে ইসলামের শাসন প্রতিষ্ঠা হোক।আমি তাকে বললাম,”হুজুর আমদের বিধর্মীদের কি হবে”????হুজুর আরও একখানা লম্বা টান দিলেন।তারে বলিলাম,আপনার শরিয়া শাসন আপনারে তো সামান্য একটা সিগারেট খাওয়ার জন্য হালীশহর থেকে ডিসি হিল আনসে।তা ঊহা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে তো আপনি আর…(বিশ্বাস না হলে ডিসি হিল এ টং এর দোকানে সাতটা-আটটা করে আসেন,সন্ধ্যায়)।
হুজুর এবার দিলেন দীর্ঘশ্বাস এর টান।

শরিয়া না গণতন্ত্র না বাম,বুজি নাহ।এমন সমাজ ব্যবস্থা চাই যেখানে সারা বছর ছেলে-মেয়ে,বাবা-মা,ভাই-বোন,বৃদ্ধদেরও মধ্যে বিরাজিত থাকবে।বলতে হবে বসন্ত আমার জীবনে প্রতিদিন।না হলে আমরা রাজপথে কেন?????শৃঙ্খলা তো জেলখানার ভিতরেও আছে।রাস্তায় ও থাকা দরকার।নিজের ভদ্রতার পরিচয় নিজেকে দিতে জানতে হবে।তা নাহলে,”প্রেমহীন যুব সমাজ,মানবহীন পশুর সমান”।

এই বসন্তে তোমার হাত ধরে
চুমু খাব রাজপথে…

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “হতাশা

  1. এমন সমাজ ব্যবস্থা চাই যেখানে

    এমন সমাজ ব্যবস্থা চাই যেখানে সারা বছর ছেলে-মেয়ে,বাবা-মা,ভাই-বোন,বৃদ্ধদেরও মধ্যে বিরাজিত থাকবে।বলতে হবে বসন্ত আমার জীবনে প্রতিদিন।না হলে আমরা রাজপথে কেন?????শৃঙ্খলা তো জেলখানার ভিতরেও আছে।

    এই শেষ কথা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 44 = 48