পত্রালাপঃ

অনিন্দিতা,
গতকাল সকালে শরতের অনভ্যস্থ বৃষ্টির অঝোর ধারায় স্নাত হয়েছি। যথারীতি ছিলো তোমাকে অথবা তোমার মত কারও অভাব বোধ। হ্যা, কোন এক নারীর অভাব বোধ আমাকে তাড়া করেছে, তাড়া করেছে রিনিঝিন রাগিণীর সাথে নারী ও তার হৃদয়ের গভীর এক শুণ্যতা।

তোমাকে আগেও একবার বলেছি,
ভাড়া করা বাসাটার সামনে আছে এক মস্ত উঠোন। উঠোনে বৃষ্টির জলে নিজেকে সম্পুর্ন সপে দিয়েছি, একা একা। জলের সরু ধারাগুলো সারা শরীর বেয়ে বেয়ে নিচে নামছিলো, এ এক অপার্থিব বোধ! বউ দেখে আর হাসে, পাগল বলে কিছুটা গালমন্দ করে। তাকেও ডেকেছিলাম, আসেনি। ওমন রসবোধের কোন প্রয়োজন না কি তার নেই, এগুলো পাগলের কাণ্ড। বৃষ্টি তার কাছে রীতিমত বিরক্তিকর একটা বিষয়। তাই তোমাকে কিংবা তোমার মত কাউকে প্রয়োজন।

কী!
ঈর্ষান্বিত হচ্ছো? শুধু তোমাকেই নয় কেন? হ্যা, শুধু তোমাকেই নয়, তোমার মত কেউ। আমি তো ব্যক্তির পূজা করি না, করি ব্যক্তিত্বের। শিল্পীর থেকে তার শিল্পটাই গুরুত্বপূর্ন নয় কি? সর্বোপরি শিল্পই তো শিল্পীকে “শিল্পী” করে তোলে। তোমার অভাবটা যদি অন্য কেউ এসে পূরণ করে দিতে পারে, শুধু শুধু তোমাকেই টানবো কেন? শুধু তোমাকে, তোমাকেই চাই বলাটা ভন্ডামি নয় কি? আমি তো অকপট, নিপাট প্রেমিক। শরীরের চেয়ে বোধটাই মূখ্য আমার কাছে।

অনিন্দিতা,
আজকাল লেখালেখি হচ্ছে না। সারাদিন উদ্ভট সব চিন্তা মাথার ভেতরে ঘুরপাক খাচ্ছে, মনে মনে অনেক গল্প, উপন্যাস লিখছি, উজির নাজির মেরে দিচ্ছি দস্তুর। কিন্তু যখনই লিখতে বসছি অদ্ভুত এক শূণ্যতা গ্রাস করছে আমাকে। না, একটা শব্দও আসছে না। তোমাকে আরেকবার বলেছি। তুমি কোথাও ঘুরাঘুরি করতে, বেড়াতে বলেছিলে। অথচ, প্রতিটা মূহুর্তই আমি ঘুরছি-ফিরছি। যেনো, ঘুরাঘুরি করাটাই আমার পেশা। বেস ক’দিন তো শুধু ঘুরা ঘুরিই করছি অনবরত। এই তো সেদিনও দু’রাত একটা অজপাড়া গাঁয়ে কাটিয়ে আসলাম। ছেলেগুলো বলে, কোথায় যাই। আমি বলি, মানুষের কাছে।

যাই হোক,
আশা করছি একটা না একটা কিছু হবেই, আবার লিখবো কিছু। অবশ্য না হলেও ক্ষতি নেই। এ এক আজব স্বভাব আমার, কোন কিছুতে প্রত্যাশা নেই। হতেই হবে এমন কোন কথা নেই, না হলেও চলে । প্রত্যাশার সাথে প্রাপ্তির যোগ না হলেও দিব্যি চলে যায়।

শরতের এমন দিনে ভাল থেকো অনিন্দিতা। খুব বেশি ভাল।
ইতি
উদ্ধত অর্বাচীন বালক

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৩ thoughts on “পত্রালাপঃ

  1. প্রতিবারের মত দারুণ।

    প্রতিবারের মত দারুণ।

    কী!
    ঈর্ষান্বিত হচ্ছো? শুধু তোমাকেই নয় কেন?
    হ্যা, শুধু তোমাকেই নয়, তোমার মত কেউ।
    আমি তো ব্যক্তির পূজা করি না,
    করি ব্যক্তিত্বের। শিল্পীর থেকে তার
    শিল্পটাই গুরুত্বপূর্ন নয় কি?
    সর্বোপরি শিল্পই তো শিল্পীকে “শিল্পী”
    করে তোলে। তোমার অভাবটা যদি অন্য
    কেউ এসে পূরণ করে দিতে পারে, শুধু শুধু
    তোমাকেই টানবো কেন? শুধু তোমাকে,
    তোমাকেই চাই বলাটা ভন্ডামি নয় কি?
    আমি তো অকপট, নিপাট প্রেমিক। শরীরের
    চেয়ে বোধটাই মূখ্য আমার কাছে।
    ——- আসলেই অনুভুতিটাই প্রাধান্য পায় ব্যক্তি নয়। কিন্তু ব্যক্তি বিশেষেও কিন্তু অনুভুতির তারতম্য হয়।

    এক আজব স্বভাব আমার, কোন
    কিছুতে প্রত্যাশা নেই। হতেই হবে এমন কোন
    কথা নেই, না হলেও চলে । প্রত্যাশার
    সাথে প্রাপ্তির যোগ না হলেও
    দিব্যি চলে যায়।——– আমি ঠিক এর উল্টো

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

81 − = 80