অভিমানী ভালোবাসা

হঠাৎ মোবাইলে ভাইব্রেশন হল। কেপে উঠলো মোবাইলটা। একটা ম্যাসেজ এসেছে। সেই সাথে সুপ্ত’র হৃদয় টাও যেন কেপে উঠলো। তৎক্ষণাৎ মোবাইলটা তুলে নিলো বিছানা থেকে। কার ম্যাসেজ!না সে যার ম্যাসেজের অপেক্ষা করছিল সে নয়, অন্য এক বন্ধুর ম্যাসেজ। আগ্রহ হারিয়ে মোবাইলটা আবার বিছানায় ছুড়ে ফেলে দিল সে।


হঠাৎ মোবাইলে ভাইব্রেশন হল। কেপে উঠলো মোবাইলটা। একটা ম্যাসেজ এসেছে। সেই সাথে সুপ্ত’র হৃদয় টাও যেন কেপে উঠলো। তৎক্ষণাৎ মোবাইলটা তুলে নিলো বিছানা থেকে। কার ম্যাসেজ!না সে যার ম্যাসেজের অপেক্ষা করছিল সে নয়, অন্য এক বন্ধুর ম্যাসেজ। আগ্রহ হারিয়ে মোবাইলটা আবার বিছানায় ছুড়ে ফেলে দিল সে।

সুপ্ত, তন্দ্রা’র ম্যাসেজের অপেক্ষা করছিল। তন্দ্রা! তন্দ্রা হল সেই মেয়েটি যার জন্য ঘুম পাগল সুপ্ত রাতে পর রাত নির্ঘুম কাটিয়ে দিয়েছে। একবার ও বলে নি ঘুম পেয়েছে তার, বরং তন্দ্রা ঘুমাবার কথা বললে মন খারাপ করত। একটি মুহূর্ত তাকে ছাড়া ভাবতে পারতো না সুপ্ত। একদিন কথা বলা বন্ধ করা তো দূরের থাক ম্যাসেজের রিপ্লে দিতে দেরি হলেই হাজার চিন্তা সুপ্তর মাথায় বাসা বাঁধত। খুব ভয় পেত সুপ্ত, তন্দ্রাকে হারাবার ভয়। কিন্তু সেই সুপ্ত আজ তিন দিন হল তন্দ্রার সাথে কোন কথা বলে নি। এমনকি একটা ম্যাসেজও দেয় নি। হুম, অবাক হবার মতই কথা। সামান্য মনোমালিন্যের রেশ ধরেই তাদের মধ্যে এই অভিমান। ভালবাসা ও অভিমানের মধ্যে এখন অভিমানটাই বেশি আধিপত্য বিস্তার করে আছে দুজনের মাঝেই। তাইতো কেউই কাউকে কোন ম্যাসেজ অথবা ফোন দিচ্ছে না।

সুপ্ত যত চেষ্টা করছে তন্দ্রাকে ভুলে থাকবার তত বেশি যেন তন্দ্রাকে মনে পরছে তার। প্রতিটি কাজে, প্রতিটি কথায় যেন তন্দ্রার প্রতিবিম্ব হাজির হয়ে যাচ্ছে তার সামনে।সুপ্ত’র সব কিছু জুড়েই শুধু তন্দ্রা আর তন্দ্রা। এতক্ষণ বালিশে মুখ গুজে ছিল সে। এখন উঠেছে। উঠেই সময় দেখার জন্য মোবাইল টা হাতে নিলো। ধুর যা! মোবাইলের সময় টা ওলোট-পালোট হয়ে আছে। তাই বাধ্য হয়েই বিছানা ছাড়তে হল। এখন টেবিলের উপরে রাখা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে সময় দেখবে, সময় দেখলো। কিন্তু এতেও যে তন্দ্রার স্মৃতি!

সেই দিনটির কথা মনে পড়ে গেল তার। সেই দিনটি, যে দিন প্রথম তন্দ্রার হাত ধরে রাস্তায় হেঁটেছিল সে। সেই দিনই তন্দ্রা এই টেবিল ঘড়িটি দিয়েছে। হাটার সময় তন্দ্রার হাতে যখন হাতটা লেগেছিল, অন্য রকম এক অনুভূতির সম্মুখীন হয়েছিল সে। এ এক অন্য রকম অনুভূতি। হাতটি ধরে হেটে চলার তীব্র ইচ্ছা, সেই সাথে কেউ দেখে ফেলার কিঞ্চিত ভয়, দুয়ে মিলে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি। শেষ পর্যন্ত এখানে তন্দ্রার প্রতি সুপ্ত’র তীব্র ভালবাসারই জয় হল। হাতটি ধরে ফেলল সে।তন্দ্রাও ভুল করে নি সেবেলা। সেও শক্ত করে ধরে ফেলল সুপ্তর হাতটি। হেটে চলল একে অপরের হাতটি ধরে। সময় যেন তীব্র গতিতে চলছিল তখন, একটু পরেই তারা তাদের গন্তব্যে পৌঁছে গেল। সুপ্ত বলেছিল – কি ব্যপার এত তাড়াতাড়ি কি করে পৌঁছে গেলাম আজ! সাথে সাথেই তন্দ্রা’র হাসি। এ যে সে হাসি নয়, অনবরত হেসে যাওয়া। হাসতে হাসতে সুপ্তর শরীরে গড়িয়ে পরা। সুপ্ত ঈষৎ বিব্রত হয়েছিল, তবুও তন্দ্রার হাসি সেটাই তার কাছে অনেক। আসলে প্রিয় মানুষটির সব কিছুতেই ভাল লাগে। পরে তন্দ্রা তাকে জানালো যে তাদের আসতে পঁচিশ মিনিটি লেগেছে। যেখানে দশ মিনিটের বেশি লাগার কথা নয়, সেখানে পঁচিশ মিনিট! তন্দ্রার সাথে থাকাকালীন সময় গুলো কেন যে এত তাড়াতাড়ি চলে যায় বুঝে না।

এই যা আবার ও তন্দ্রা! ধুর, সব কিছুতেই যে কেন তন্দ্রার স্মৃতি। সময় কাটছে না, বিকেল পাঁচটায় বের হবে সুপ্ত। তিনটায় শুয়েছিল, উদ্দেশ্য ছিল ঘুমিয়ে সময় পার করা। কিন্তু ঘুম যেন অমবশ্যার চাঁদ দেখাই দেয় না।এতক্ষণ শুয়ে থাকার পর ও সময় পার হল না। মাত্র চারটা বাজে। আরও এক ঘণ্টা। ঘড়িটির দিকে তাকিয়ে আছে সুপ্ত। ঘড়িটির দুপাশে ছবি রাখার দুইটি ফ্রেম সংযুক্ত আছে। এতে তন্দ্রার ছবি ছিল, কিন্তু সেটাও রাগের মাথা গতকাল ছিরে ফেলে দিয়েছে সে।আর ছিঁড়বেই না কেন বলুন। যার জন্য নিজেকে এতটা বদলে দিয়েছে সুপ্ত, সেই যদি বলে “আমি এখন আর তোমাকে ভালবাসি না” তাহলে কেমন লাগে বলুন। গত সপ্তাহেই তো মানিক মিয়া এভিনিউ হয়ে জিয়া উদ্যান হাতে হাত রেখে হেঁটেছে তারা।কি হল এরই মধ্যে!

আবার ভাব্রেশন, ম্যসেজ এসেছে। না এবার তন্দ্রার ম্যসেজই। দুই দিন পর ম্যসেজ দিল- “তুমি কি আমার উপর রাগ করে আছো?” কিন্তু সুপ্ত এখন আর রিপ্লে দিবে না। তন্দ্রা কেন বলেছিল তাকে এখন আর ভালবাসে না সে। অভিমানের এবারও জয় হল।

তন্দ্রাকে নিয়ে এত ভাবনা কেন সুপ্ত’র? সুপ্ত তো সেই দিন ফোন কেটে দেয়ার পরই প্রতিজ্ঞা করেছিল, তন্দ্রাকে নিয়ে আর ভাববে না। কিন্তু এখন যে আরও বেশি ভাবছে সে।একবার তন্দ্রার কাছে ছুটে যেতে ইচ্ছে করেছে,কিন্তু পরোক্ষনেই অভিমানের বোনা জালে আটকা পড়ে যাচ্ছে মনটা। ইচ্ছার বিরুদ্ধে মস্তিষ্কের তীব্র হস্তক্ষেপে মন থেকে তন্দ্রাকে ছুড়ে ফেলার এক ব্যর্থ প্রয়াস সুপ্তর।কিছু অভিমানের মাঝে দূরে থেকেও কাছে থাকা এটাই তো ভালবাসা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩৭ thoughts on “অভিমানী ভালোবাসা

  1. “অভিমানী ভালোবাসা” শিরোনাম
    “অভিমানী ভালোবাসা” শিরোনাম হইলে মনে হয় ভাল হইত।
    আর গল্পটা পড়ে মনে পড়ল Shakespeare এর বিখ্যাত কথা
    “Love looks not with the eyes, but with the mind.
    But love is blind and lovers cannot see the pretty follies that themselves commit””

  2. কল্পনার বাইরে তুমি , বাস্তবতা

    কল্পনার বাইরে তুমি , বাস্তবতা আমার
    কখনো কাছে এসে হাত ছুয়ে , দূরে সরে যায়
    স্বপ্ন দেখিনি আমি , নিশ্চুপ ভোরের আড়ালে
    গল্প লিখিনি আমি , সূর্যস্তের শেষ ক্ষণে – ফুয়াদ.

  3. ভাল লিখেছিস। আগের থেকে ভাল।
    ভাল লিখেছিস। আগের থেকে ভাল। নামটা ভাল লাগেনি, রাগ করিস না। বাজারী নাম হয়ে গেছে। এক পয়সার ভালবাসার মত । যাই হোক, শুভকামনা :ফুল: :ফুল: :ফুল: :ফুল: :ফুল:

    1. গল্পের নাম নাকি গল্পের
      গল্পের নাম নাকি গল্পের চরিত্রের নাম? আরে ব্যপার না ভাই ভাল না হলে তো বলবেন ই তা না হলে ভুল শুধরাবো কি করে !

      মন্তব্যের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ

    1. ধন্যবাদ। ভুল গুলো ধরিয়ে দিয়ে
      ধন্যবাদ। ভুল গুলো ধরিয়ে দিয়ে দিক নির্দেশনা দিলে ভবিষতে আরোও ভাল লেখার চেষ্টা করতে পারতাম। তাই দয়া করে ভুল গুলো ধরিয়ে দিন

      1. আপাতত একটি ভুল ধরিয়ে দেই।
        আপাতত একটি ভুল ধরিয়ে দেই।

        হঠাৎ মোবাইলে ভাইব্রেশন হল। কেপে উঠলো মোবাইলটা। একটা ম্যাসেজ এসেছে।

        তিনটা লাইন দেওয়ার দরকার ছিল না।

        হঠাৎ মোবাইলে ভাইব্রেশন হল। কেপে উঠলো মোবাইলটা।

        দুটো লাইন একই অর্থ বহন করে। একটি লাইন লিখলেই হতো। যেমন “মোবাইলটি হঠাৎ কেঁপে উঠলো।

  4. 22টা শেয়ার ১৬ টা লাইক কিন্তু
    22টা শেয়ার ১৬ টা লাইক কিন্তু দেখা যাচ্ছে না কোথায় শেয়ার করা হয়েছে। ইস্টিশন মাস্টার সাহেব এটা দেখার ব্যবস্থা করলে অনেক ভাল হত।

  5. আগের চাইতে অনেক উন্নতি।
    আগের চাইতে অনেক উন্নতি। চালিয়ে যাও জয়। লেগে থাকো। :থাম্বসআপ:

    তবে পূজার দাওয়াত মাফ নাই। :ক্ষেপছি:

  6. জয় গল্প লেখার কিছু নিয়ম কানুন
    জয় গল্প লেখার কিছু নিয়ম কানুন আছে … সেটা তো মানতে হবে ভাইয়া ।
    আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অনেক কিছু ঘটে কিন্তু সব ঘটনাই গল্প হয় না ।
    গল্প একটা সৃজনশীল কর্ম । জীবনের একটি খন্দিত ঘটনা সুন্দর করে লিখে
    দিলে গল্প হয়না … কিছু বুঝলি ? এই ছেলে মন খারাপ হলো ? তোর ভালোর
    জন্য বললাম । এখন হয়তো বাহবা পাচ্ছিস পরে তোর কাছেই মনে হবে বাজে
    সময় নষ্ট করেছি । তুই প্রথমে রবীন্দ্রনাথের সব গল্প পড়ে শেষ কর । ছোট গল্পের
    রাজা বাদশা হ লো রবীন্দ্রনাথ । ইতিহাসের সেরা গল্প লেখকদের মধ্যে তিনি একজন ।
    ভালো থাকিস । আর এই ধরণের লেখা ব্যক্তিগত কথা কাব্য বিভাগের লেখা । আমার
    তেমনি মনে হয়েছে । শেষ করবো এই বলে যে, তোর এই লেখাটি চমৎকার ঝরঝরে লেখা
    পড়তে একটুও ক্লান্ত হইনি । তারমানে তোর লেখার হাত তৈরি হচ্ছে । এখন দরকার গভীর চিন্তা, দর্শন, অভিজ্ঞতার সমন্বয় ।

    1. ধন্যবাদ বস।
      এমনই এক মন্তব্যের

      ধন্যবাদ বস।
      এমনই এক মন্তব্যের অপেক্ষায় ছিলাম। আমি নিজেও কনফিউশন এ ছিলাম যে এটা কি গল্প কিনা।
      আসলে আমি খুব কম বই পরি তাই গল্প সম্পর্কে সুনর্দিষ্ট ধারণা নেই। আমাকে আরও শিখতে হবে।

      ধন্যবাদ আবারও।

  7. ভালো লিখেছো,জয়…
    গল্পটিতে

    ভালো লিখেছো,জয়…
    গল্পটিতে দু’জন কিশোর-কিশোরী’র মিষ্টি ভালোলাগা’র পরশ বেশ ভালোভাবেই ছিলো।
    ভালো লেগেছে, কিন্তু কিছু শব্দের বানান ভুল ছিলো।
    এটা পরবর্তী সময়ে খেয়াল করো।
    তবে ছোট গল্পে কাহিনী’র বিস্তার আরো বড়ো থাকে, তাতে একটা পরিপুর্ণতা থাকে।
    যেটা এখানে ছিলো না।
    যার কারণে এই গল্প থেকে কোন সুক্ষ মেসেজ পাওয়ার কোন অবকাশ নেই।
    এই ব্যাপারে খুব সচেতন হতে হবে এরপর থেকে।
    কারণ, এই গল্পে তোমার অর্জন হলো~ তোমার সুন্দর লেখার হাত, ঝরঝরে বক্তব্য।
    তার মানে তুমি চাইলে লিখতে পারবে।
    কিন্তু, এটা পরিপুর্ণ নয়।
    তাই তোমাকে অনেক ছোট গল্প পড়ার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষ্ণ করছি।
    যত বেশি পড়বে, ততই বুঝতে পারবে…
    :রকঅন: :রকঅন: :রকঅন:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + 3 =