দাওয়াত- দ্বীন- দুনিয়া ও তাবলীগ ।

মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন দুনিয়া সৃষ্টির পর থেকে যুগে যুগে লক্ষাধিক নবী রাসুল দুনিয়ায় প্রেরন করিয়াছেন । আর সকল নবী রাসূল পয়গাম্বর{আঃ}গন দুনিয়ায় এসে,এক আল্লাহর একত্ববাদের দাওয়াত,অর্থাৎ-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর –দাওয়াত দিয়েছেন । যে,আল্লাহ এক তার কোন শরীক নেই । এরই ধারাবাহিকতায় আল্লাহ পাক তার প্রিয় হাবীব হযরত মুহাম্মদ {সাঃ}কে দুনিয়ায় প্রেরনের মাধ্যমে,দুনিয়াতে নবী প্রেরনের ইতি টানলেন । এবং আল্লাহ পাক হুজুর পাক {সাঃ}কে দিয়ে মানব জাতির নিকট দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছালেন । আর যেহেতু দুনিয়াতে কোন নবী রাসূল {আঃ} গন এর আবির্ভাব ঘটবে না । এ জন্যই দাওয়াতের মত গুরু দায়িত্ব রাসুলে কারীম {সাঃ} তার নিজ উম্মতের উপর ন্যস্ত করে গেছেন । অন্য দিকে সয়ং মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন বলেন, ঐ ব্যক্তির কথা হইতে উত্তম কথা আর কাহার হইতে পারে,যে মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকে এবং নিজে নেক আমল করে ও বলে যে,নিশ্চয় আমি মুসলমানদের মধ্য হইতে একজন।{সূরা- হা-মীম – সিজদাহ – আয়াতঃ ৩৩} বয়ানুল কুরআন ।। আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিনের ঐ কথাটির অনুসরণ করে দেশ হতে দেশান্তরে – লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর – দাওয়াত নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন একদল মানুষ । আর তাহারাই হলেন,তাবলীগ জামাতের ভাইয়েরা। যাহারা মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকে,নিজে নেক আমল করে,ও নিজেদের পরিপূর্ণ মুসলমান হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষে জানতর মেহনত করে যাচ্ছেন । এবং রাসুলে কারীম{সাঃ}এর সুন্নতের যথাযত পাবন্দি করেন । তাদের মুখে থাকে জিকির আর অন্তরে থাকে ফিকির,যে কি করে বাজার মুখো মানুষ গুলোকে মসজিদ মুখি ও দুনিয়া মুখি মানুষ গুলোকে আখেরাত মুখি করা যায় । সেই চিন্তা ফিকির নিয়ে পুরো দুনিয়া ব্যপী মেহনত করে যাচ্ছে তাবলীগ জামাত । দুনিয়াতে দ্বীন জিন্দা রাখার জন্য দ্বীনের দাওয়াত এতটাই জরুরী,যেমন মাছের জন্য পানি যতটা জরুরী। দুনিয়াতে দাওয়াত থাকবে তো দ্বীন থাকবে, দ্বীন থাকবে তো আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন — সমস্ত মাখলুকাত সহ তামাম পৃথিবীকে ঠিকিয়ে রাখবেন। আর দ্বীন থাকবে না তো,দুনিয়া ও থাকবেনা,এই কথা যে বিশ্বাস করবে না তার ঈমান থাকবে কি ? এই দ্বীন আমাদের মাঝে এমনি এমনিই আসে নাই । আর এমনি এমনিই যদি আসতো,তা হলে রাসুলে পাক {সাঃ} মক্কা ছেড়ে মদিনায় হিজরত করতে হতো না । দ্বীনের জন্য কাফেরদের নিকট লাঞ্চিত হতে হতো না,দাঁত মোবারক শহীদ করার প্রয়োজন ছিল না ,শরীর থেকে রক্ত মোবারক ঝরাতে হতো না । যারা ভাবে ঘরে বসে একা একা এবাদত করলেই দুনিয়াতে দ্বীন জিন্দা থাকবে,তারা তো বোকার স্বর্গে বাস করছে । তাহারা দ্বীন জিন্দা রাখার চিন্তা ফিকির নিয়ে এবাদত করে না,তারা শুধু নিজেরাই জাহান্নাম থেকে বাঁচার ভয়ে এবাদত করে । আর যারা অপর ভাইকে কি করে নামাজি করে দেওয়া যায়,বা আল্লাহর সাথে সম্পর্ক গড়ে দেওয়া যায় । সেই চিন্তা ফিকির না করে,চাচা আপন প্রান বাঁচা ‘র = মতো এবাদত করে তাদের এবাদত আল্লাহ পাকের নিকট কতটা গ্রহণ যোগ্যতা পাবে,তা একমাত্র মহান আল্লাহ পাকেই ভাল জানেন । দ্বীনের জন্য দাওয়াত কতটা জরুরী তা সচ্ছ আয়নার মতো আমাদের সামনে পরিষ্কার । সাহাবা কেরাম{রাযিঃ}গনের রাসুল{সাঃ}পরবর্তী জীবনের দিকে তাকালেই আমরা স্পষ্ট দেখতে পায় । যে তাহারা রাসূল{সাঃ}এর সহিত দীর্ঘ ১০/১৫ বছর জানতর মেহনত করে দ্বীন শিক্ষা করেছেন ও ঈমান মজবুত করেছেন । আর ঈমান মজবুত হওয়ার পর রাসূল {সাঃ}এর জীবনাবসনের পর তারা আর মক্কা মদিনায় বসে থাকে নি । লক্ষাধিক সাহাবায়ে কেরাম গনের মধ্যে মাত্র ১০,০০০/ দশ হাজারের মত সাহাবী গনের কবর রয়েছে মক্কা মদিনায়,আর বাকি সাহাবা গন দ্বীনের দাওয়াত নিয়ে হিজরত করেছেন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে । এছাড়া ও সাহাবাদের পরবর্তী সময়ে ভারত বর্ষে দ্বীনের দাওয়াত নিয়ে আমাদের পূর্ববর্তী গনের নিকট এসেছেন, ইয়ামেন থেকে – হযরত শাহ জালাল {রাহঃ] ও হযরত শাহ পরান {রাহঃ}সহ ৩৬০ জন আউলিয়ায়ে গন,যাহাদের মাধ্যমে আমরা আজ দ্বীন পেয়েছি । আলহাদুলিল্লাহ…। দাওয়াত সম্পর্কে {সূরা-আলি ইমরানের -১০৪,নং আয়াতে= মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন বলেন… তোমাদের মধ্যে হইতে একটি জামাত এমন হওয়া জরুরী ,যাহারা মঙ্গলের দিকে আহবান করিবে –সৎ কাজে আদেশ করিবে ও অসৎ কাজে নিষেধ করিবে ,তাহারাই পূর্ণ কামিয়াব হইবে ।। আর এই জামাতটিই হলো তাবলীগ জামাত, এতে বিন্দু মাত্র সন্দেহের কোন অবকাশ নেই । কেননা দুনিয়া ব্যপী একটিই মাত্র জামাত রয়েছে, যে জামাতটি দুনিয়ার লোভ লালসাকে বিসর্জন দিয়ে এক আল্লাহর একত্ববাদ ও আখেরাতের উপর পূর্ণ ঈমান নিয়ে,আল্লাহর দেওয়া জান,আল্লাহর দেওয়া মাল,আল্লাহর দেওয়া সময় নিয়ে –আল্লাহর রাস্তায় বের হয়ে,জান মালের সহিহ ব্যবহার শিক্ষা করার জন্য –নিঃস্বার্থ ভাবে জানতর মেহনত করে যাচ্ছে । একমাত্র মহান আল্লাহ পাকের অসীম খাজানার দিকে তাকিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন মানুষের দোয়ারে দোয়ারে,পথে ঘাটে,মাঠে ময়দানে,পৃথিবীর এক প্রান্তে হইতে অপর প্রান্তে । তাদের একটিই মাত্র লক্ষ্য কি করে দুনিয়ার প্রতিটি মানুষ নামাজি হয়ে যায়, প্রতিটি ঘরে ঘরে কি ভাবে দ্বীন পৌঁছে যায়, প্রতিটি মানুষ কি করে আল্লাহ ওয়ালা দ্বীনদার,ঈমানদার বনে যায় । যেমন পূর্বের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়,যে হযরত ঈসা {আঃ}পর আল্লাহ পাক পাঁচশো থেকে সাড়ে পাঁচশো বছর,অর্থাৎ আখেরী নবী হযরত মুহাম্মদ{সাঃ}এর আবির্ভাব পূর্ব মধ্যকার সময়ে আল্লাহ পাক কোন নবী রাসুল দুনিয়ায় প্রেরন না করার ফলে,দুনিয়াতে দাওয়াতের কাজ ছিল না। আর দ্বীন-ই -দাওয়াতের কাজ দুনিয়াতে না থাকার কারনে কি ভয়ানক জাহিলাতের যুগের সৃষ্টি হয়েছিল । তা শুধু মুসলমান নয়,দুনিয়ার সকল ধর্মের মানুষেই কম বেশি জানেন । আর এমন করুন জাহিলাতের যুগে,আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন দুনিয়ায় প্রেরন করেন-তাহার প্রিয় হাবীব উম্মতের কান্ডারী হযরত মুহাম্মদ{সাঃ}কে । প্রিয় নবী {সাঃ} দুনিয়ায় এসে মহান আল্লাহ পাকের হুকুমে শুরু করলেন– লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর = দাওয়াত ।। অবশেষে এই দাওয়াতের মাধ্যমেই দুনিয়াতে পুনরায় দ্বীন জিন্দা হয় । আলহামদুলিল্লাহ্‌….। মক্কা মদিনায় অবসান ঘটে জাহিলাত যুগের । যেহেতু হুজুর পাক{সাঃ}কে দুনিয়ায় প্রেরনের মাধ্যমে আল্লাহ পাক নূবুয়েতের দরজা বন্ধ করে দিলেন । সুতরাং দুনিয়ায় দ্বীনের দাওয়াত নিয়ে আর কোন নবী রাসুল আসবেনা । এমতাবস্তায় দ্বীনের দাওয়াতের মতো মহান দায়িত্ব আজ উম্মতে মুহাম্মদির উপর অর্পিত । আর এই জন্যই উম্মতে মুহাম্মদি সকল নবী{আঃ}গনের উম্মতের চেয়ে সবচে সন্মানী । মহান আল্লাহ পাক ঐ কাজের দায়িত্ব যে আমাদের উপর,অর্থাৎ উম্মতে মুহাম্মদীর উপর অর্পণ করবেন এর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন,হযরত মূসা{আঃ}ও হযরত জাকারিয়া{আঃ}কে । আর এই খবরে,হযরত মূসা {আঃ} ও হযরত জাকারিয়া {আঃ}আল্লাহ পাকের নিকট উম্মতে মুহাম্মদীকে নিজেদের অনুকূলে দান করার জন্য আর্জি করেন । কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তাদের জানিয়ে দেন,এই উম্মত মুহাম্মদ{সাঃ}এর জন্য রাখা হয়েছে । আমরা আজ কতই না দামি ! অথচ! যে দাওয়াতের কাজের জন্য আল্লাহ পাক আমাদেরকে সকল নবী{আঃ}গনের উম্মতের চেয়ে দামি করেছেন । সেই দাওয়াত থেকে আমরা আজ কতই না পিছিয়ে ! আশ্চর্যের বিষয়,মুসলমানদের জন্য এরই চে দুর্ভাগ্যের কারন আর কি হতে পারে ? । আসুন দ্বীন ও দুনিয়ার স্বার্থে,আপন ঈমান আখলাক ও আমল ঠিক করার জন্যে,দুনিয়ায় দ্বীন প্রতিষ্ঠা রাখার লক্ষে,দুনিয়াকে পিছনে ফেলে আখেরাতকে সামনে এনে = লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর = দাওয়াত নিয়ে আল্লাহর রাস্তায় বের হয়ে পড়ি । বিপথগামী মানুষ গুলোকে আল্লাহর দিকে ডাকি,যে যত বেশী দ্বীনের দাওয়ার দিবে, আল্লাহ পাক তাহার ঈমানকে তত বেশী মজবুত করে দিবেন …. ইনশাআল্লাহ । এসো ভাই জীবন সাজাই কোরআনের আলোকে, শরীর সাজাই রাসুলে কারীম {সাঃ} এর সুন্নতের পাবন্দি করে । এবং মেনে চলি –আল্লাহ পাকের আদেশ- নিষেধ গুলো । হায়াতের জিন্দিগী পার করি ঈমানী হালতে….আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে দ্বীনের উপর অটুট থাকার তৌফিক দান করুন …আমীন ।।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৬ thoughts on “দাওয়াত- দ্বীন- দুনিয়া ও তাবলীগ ।

  1. আমি মনে করছিলাম ক্লাস সিক্সের
    আমি মনে করছিলাম ক্লাস সিক্সের ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বই পড়ছি। ভাইরে, ধর্মের দাওয়াত দেওয়ার জায়গার অভাবতো নাই। আমরা এখানে দ্বীন-দুনিয়ার কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছি। শুধু শুধু ধর্মটাকে আর পঁচাইয়েন না। দয়া করে অন্য বিষয় নিয়ে লিখেন।

  2. ধর্ম নিয়ে বিতর্ক করার কিছু
    ধর্ম নিয়ে বিতর্ক করার কিছু নাই। যার যার ধর্ম নিয়ে সে সে ঠকই আছে। কিন্তু একদল মানুষ আছে যারা ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করে, ফাইজলামি করে, রাজনীতি করে, ধর্মকে সমালোচনার মধ্যে ফেলে। এটা ঠিক না। ধর্ম ছাড়া অন্য কিছু লেইখেন ভাই।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

2 + 1 =