ঘোলা পানিতে মাছ শিকার বন্ধ করেন

সরকার বলছে জামাতের নিবন্ধন বাদ করতে পারে ইসি। ইসি জামাত বিষয় নিয়ে বৈঠক করেছে। প্রচলিত আইনের সাংঘর্ষিক এমন বিধান জামাতের গঠন তন্ত্রে আছে। অতএব তাদের নিবন্ধন বাতিলের চেষ্টা চলছে। নিবন্ধন বাতিল করলে আসলে কী হবে? তারা দল হিসেবে তো থাকবে?থাকবে তাদের চেইন অব কমান্ড, থাকবে তাদের প্রচারণা ,প্রকাশনা,মিছিল মিটিং করার সুযোগ। থাকবে আন্দোলনের নামে , মাঠে রাজনীতির নামে , অরাজকতা করবে,ভাঙচুর করবে,মানুষ মারবে,জনমনে ত্রাস সৃষ্টি করবে। অথব ভোটে দাঁড়াতে পারবে না। তো ভোটে দাঁড়াতে না পারলে কি হবে? কিছুই হবে না। তারা ভোট দেবে তাদের সমর্থক কোন দলকে। লাভবান হবে সেই সমর্থক কোন দল। কিন্তু আমরা যারা জামাতকে নিষিদ্ধ করার জন্য আন্দোলন করছি তাদের কি হবে? আমরা পাব আর একটি হঠকারিতা। জামাত নির্বাচন না করতে পারলে কার লাভ হবে? সহজেই অনুমান করতে পারি । হয়তো নির্বাচন করতে পারবে না। এইটা সরকারের আর একটি হঠকারি সিদ্ধান্ত।

স্পষ্ট করলে এর অর্থ দাঁড়ায় জামাত নির্বাচন না করতে পারলে , বিএনপি লাভবান হবে। নির্বাচনে জামাতের জন্য কোন আসন ছাড়তে হবে না কিন্তু ভোট সবই পাবে, এই সুযোগ বিএনপি হাতছাড়া করতে চাইবে না। এতে আওয়ামীলীগের কি লাভ হলো আমার কাছে স্পষ্ট নয়। তবে অনুমান করতে পারি, এমনই একটা টুপ দিয়ে আওয়ামীলীগ বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে চায়।

জামাত হল বহুরূপীর মতো। যে কোন সময় নাম ধান,গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করে আবার হয়তো মাঠে নেমে যাবে। আমার সেই তান্ডব করে বেড়াবে। এখনই হুমকি দিয়ে যাচ্ছে তারা ক্ষমতায় যেতে পারলে এই আন্দোলনকারীদের রাস্তায় জবাই করবে। তারা যে এই কাজ করতে পারবে এই বিষয়ে আমি দ্বিমত করছিনা। একটা বর্বর ,হিংস্র দলের পক্ষে এমন করা সম্ভব। এটা লীগ তো না বুঝার কথা না। অবশ্যই লীগ বুঝতে পারে তবু কেন তারা এমন আচরন করছে?

আমরা যেমন ক্ষুদ্ধ হলেও আমেরিকা,বিশ্বব্যাংককে কিছু বলতে পারিনা। পদ্মা সেতুতে অর্থ না দেয়ার জন্য বিশ্বব্যাংককে এই দেশ থেকে তাড়িয়ে দিতে পারিনা। বিএনপির ক্ষেত্রে জামাতও এমনই এক ভুত। বিএনপি তার ঘাড় থেকে এই ভুত নামাতেও পারেনা। আবার সহ্য ও করতে পারেনা। আমি আগেও বলেছি আওয়ামীলীগের উচিত জামাতকে ছাড় না দিয়ে বিএনপিকে দেয়া। জামাতের সাথে গোপনে আঁতাত না করে বিএনপির সাথে করা। কিন্তু নির্বাচনে প্রতিদন্ধি হওয়ায় এটা হবে বলে মনে হয় না। যত বড় বড় ইস্যুই হোক ক্ষমতায় যাওয়ার মোহ তারা এক নিমিষের জন্যও ভুলতে পারেনা।

জামাত নিষিদ্ধ করার ব্যপারে সরকার বলছে জনমত গণদাবীর কথা বলা হচ্ছে। শাহবাগের এই আন্দোলনের পরেও কি এই কথার কোন ভিত্তি আছে ?সরকার কি আশা করে বিএনপি জামাত বিরোধী আন্দোলনে নামলে তবে নিষিদ্ধ করবে? নাকি এসব বলে আমাদের ভোলানোর চেষ্টা চলছে?

বিচার নিয়ে প্রহসন করে আওয়ামীলীগ ধরা খেয়েছে। জামাত নিষিদ্ধ করার ব্যপারে যদি কোন চাতুরির আশ্রয় নেয় তার পরিনাম ও ভাল হবে না। যখন তরুনরা জাগে তখন বৃদ্ধদের সকল ধুরন্ধর বুদ্ধি মাঠে মারা যায়। শক্তি ছাড়া বুদ্ধির কোন কাজ নেই। তাই সাবধান করে দিচ্ছি ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের ধান্দা বাদ দেন।জেএমবির মতো জামাতকে ও নিষিদ্ধ করেন। তাদের অর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয়করণ করে নেন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৫ thoughts on “ঘোলা পানিতে মাছ শিকার বন্ধ করেন

  1. আপনার পোষ্টটার কিছু কিছু দিক
    আপনার পোষ্টটার কিছু কিছু দিক খুব কনফিউজিং লাগলো আমার কাছে।যেমন মনে করেন এই অংশটুকু

    জামাত নির্বাচন না করতে পারলে কার লাভ হবে? সহজেই অনুমান করতে পারি । হয়তো নির্বাচন করতে পারবে না। এইটা সরকারের আর একটি হঠকারি সিদ্ধান্ত।

    বা এই অংশটা দ্যাখেন

    তো ভোটে দাঁড়াতে না পারলে কি হবে? কিছুই হবে না। তারা ভোট দেবে তাদের সমর্থক কোন দলকে। লাভবান হবে সেই সমর্থক কোন দল। কিন্তু আমরা যারা জামাতকে নিষিদ্ধ করার জন্য আন্দোলন করছি তাদের কি হবে? আমরা পাব আর একটি হঠকারিতা।

    এই অংশটা দেখে যে কারোই মনে হবে আপনি জামাত নিষিদ্ধের পক্ষে না।কিন্তু আসলে তা নয় সেটা আমি জানি।যেমন শেষে এসে আর সবার জন্যই আপনার অবস্থানটা ক্লিয়ার করেছেন।

    জামাত নিষিদ্ধ করার ব্যপারে সরকার বলছে জনমত গণদাবীর কথা বলা হচ্ছে। শাহবাগের এই আন্দোলনের পরেও কি এই কথার কোন ভিত্তি আছে ?সরকার কি আশা করে বিএনপি জামাত বিরোধী আন্দোলনে নামলে তবে নিষিদ্ধ করবে? নাকি এসব বলে আমাদের ভোলানোর চেষ্টা চলছে?

    ভাই সময়টা আওয়ামীলীগের বিরোধিতার নয়,দাবী আদায়ের।বিরোধিতা করতে যেয়ে যেন জামাতের হাতে সুযোগ তুলে না দেই সেটাও দ্যাখা দরকার।জামাতের রাজনীতি নিষীদ্ধ করলে তারা আবার ফিরে আসবে,এটা সন্দেহের কোন কারন নাই।তবু বিশাল একটা ধাক্কা খাবে এটা ঠিক,সাথে যদি ফাসী নিশ্চিত করা যায়।আর ভুলে গেলে চলবে না এটা একমাত্র আওয়ামীলীগই করতে পারবে,অন্য কেউ নয়।

    1. কোন কিছুই ভুলে যাইনি। আপনিই

      কোন কিছুই ভুলে যাইনি। আপনিই বলেন যদি ইসিকে দিয়ে নির্বাচন করতে না দেয় তাহলে কি আসলেই কিছু হবে? এটা আমাদের সাথে একধরনের প্রতারনা না?

      আর ভুলে গেলে চলবে না এটা একমাত্র আওয়ামীলীগই করতে পারবে,অন্য কেউ নয়।

      এই ভরসায় বসে থাকলে এই আন্দোলন কেন?

      1. ভরসায় বসে থাকার মত কোন নজির
        ভরসায় বসে থাকার মত কোন নজির আওয়ামীলীগ রাখে নাই বলেই এই আন্দোলন।যা রেখেছে তা হচ্ছে দিনের শেষে সামান্য একটু আশার আলো।

  2. ভাই আপনার লেখার কয়েকটি লাইন
    ভাই আপনার লেখার কয়েকটি লাইন বুঝিনাই যেমন:
    ১.

    স্পষ্ট করলে এর অর্থ দাঁড়ায় জামাত নির্বাচন না করতে পারলে , বিএনপি লাভবান হবে। নির্বাচনে জামাতের জন্য কোন আসন ছাড়তে হবে না কিন্তু ভোট সবই পাবে, এই সুযোগ বিএনপি হাতছাড়া করতে চাইবে না। এতে আওয়ামীলীগের কি লাভ হলো আমার কাছে স্পষ্ট নয়। তবে অনুমান করতে পারি, এমনই একটা টুপ দিয়ে আওয়ামীলীগ বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে চায়।

    ২.

    জেএমবির মতো জামাতকে ও নিষিদ্ধ করেন। তাদের অর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয়করণ করে নেন।

    ভাই জামায়াতকে নিষিদ্ধ করলে তাদের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয়করণের কথা আসে কিভাবে
    বুঝলাম না। :-SS :-SS :-SS :-SS

  3. নিবন্ধন বাতিল করলে আসলে কী

    নিবন্ধন বাতিল করলে আসলে কী হবে?

    নিবন্ধন বাতিল করলে অনেক লাভ আছে। প্রথমত এরা এখন মিছিল-মিটিং করছে এটা বন্ধ হবে। জামায়াত-শিবিরকে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করার প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে এদের নিবন্ধন বাতিল করতে হবে। নিবন্ধন বাতিল হলে দলের ব্যানারে রাজনীতি করার অধিকার হারাবে। তখন সরকার এদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের অপরাধে সকল কার্যক্রম বন্ধ করার পদক্ষেপ নিতে পারবে। এখন কথা হচ্ছে সরকার আসলে কতটুকু আন্তিরক। এখানেও যদি সরকার রাজনীতি করার চেষ্টা করে তাহলে বলব- আওয়ামীলিগসহ রাজনৈতিক দলগুলো যেমন ১/১১ থেকে শিক্ষা নেয়নি, ঠিক তেমনি শাহাবাগসহ সমগ্র বাংলাদেশের গণজাগরণ থেকে শিক্ষা নিতে পারেনি। আর এই গণজাগরণ ঘটতে কোন রাজনৈতিক দলের ব্যানারের দরকার নাই। টাকা-পঁয়সারও দরকার নাই। তাই সোজা চোখে দেখলে এটি হটকারী সিদ্ধান্ত না।

    আপনার অন্যান্য কথাগুলোর সাথে আমি সহমত। তবে আমাদেরকে জামায়াত-শিবিরসহ সকল ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বন্ধ করার দাবীতে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। আর বিএনপি’র অস্থিত্ব বিএনপি ইতিমধ্যে নষ্ট করে ফেলেছে। আজকে কেউ গলা উচু করে নিজেকে বিএনপি বা ছাত্রদলের কর্মী হিসাবে পরিচয় দিতে পারেনা। ভবিষ্যতে বিএনপি’র ভোট ভাড়ার কোন সম্ভবনাই আমি দেখি না। শাহবাগের এই গণজাগরণ সমগ্র দেশকে নাড়া দিয়েছে। আওয়ামীলীগ যদি এখনও জনগণ নিয়ে রাজনীতি করে তাহলে এই গণজাগরণ থেকেই বিকল্প শক্তি দাঁড়াবে। তখন শেখ হাসিনার আমও যাবে, ছালাও যাবে। আশাকরি, আওয়ামীলীগ বিচক্ষণতার পরিচয় দেবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

64 − 54 =