প্রজন্মের আন্দোলন আর কিছু সুশীল-কুশীল চিন্তা

ধর্মনিরপেক্ষতা,জাতীয়তাবাদ,গনতন্ত্র,সমাজতন্ত্র – এই চারটি শব্দের সাথে আমার পরিচয় ক্লাস নাইনে সামাজিক বিজ্ঞান বইতে।তখন শুধু মাত্র ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দটার অর্থই আমি বুঝেছিলাম নিজে নিজেই।যার অর্থ আমার কাছে প্রতিটি ধর্মের পারস্পরিক সহ অবস্থান।বলতে দ্বিধা নাই বাকী শব্দগুলোর অর্থ আমার মাথার উপর দিয়ে গেল,স্যাররাও বোঝাবার চেষ্টা করল না।অথচ যতই বয়স বাড়তে থাকল অবাক হয়ে দেখতে থাকলাম এই শব্দটার অর্থ একেকজন একেকরকম করে আসছে একেকভাবে যেমনটা যার প্রয়োজন,চলছে কুতসিত রাজনীতি,রক্তের হোলি খেলা।ব্যাবহৃত হচ্ছে লাভের গুড় ছিনিয়ে নেবার হাতিয়ার হিসেবে।


ধর্মনিরপেক্ষতা,জাতীয়তাবাদ,গনতন্ত্র,সমাজতন্ত্র – এই চারটি শব্দের সাথে আমার পরিচয় ক্লাস নাইনে সামাজিক বিজ্ঞান বইতে।তখন শুধু মাত্র ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দটার অর্থই আমি বুঝেছিলাম নিজে নিজেই।যার অর্থ আমার কাছে প্রতিটি ধর্মের পারস্পরিক সহ অবস্থান।বলতে দ্বিধা নাই বাকী শব্দগুলোর অর্থ আমার মাথার উপর দিয়ে গেল,স্যাররাও বোঝাবার চেষ্টা করল না।অথচ যতই বয়স বাড়তে থাকল অবাক হয়ে দেখতে থাকলাম এই শব্দটার অর্থ একেকজন একেকরকম করে আসছে একেকভাবে যেমনটা যার প্রয়োজন,চলছে কুতসিত রাজনীতি,রক্তের হোলি খেলা।ব্যাবহৃত হচ্ছে লাভের গুড় ছিনিয়ে নেবার হাতিয়ার হিসেবে।

এরপরের ইতিহাস সবার জানা।কালের বিবর্তনে বাংলাদেশের সংবিধানে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ শব্দটির আসা যাওয়া হয়েছে কয়েকবার।সর্বশেষ এটাকে যোগ করা হয়েছে,বাদ দেয়া হয়নি ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’।এইটা নিয়েও জল ঘোলা হয়েছে।সেই তর্কে না যেয়ে যদি চিন্তা করি কিন্তু বলতেই হবে সাংবিধানিক ভাবেই কিন্তু তাহলে ‘গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ মুসলিম রাস্ট্র হিসেবে স্বীকৃত।যদি তাই হয় তাহলে সেই রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ‘জিহাদ’ কতটুকু জায়েজ?যারা জিহাদের দোহাই দিয়ে মানুষ জবাইয়ের রাজনীতি করতেছে তারা আসলে কারা?তাদের উদ্দেশ্য কি ইসলাম প্রতিষ্ঠা?’নারী নেতৃত্ব হারাম’ এই কথা স্পষ্টভাবে বলা থাকা সত্ত্বেও যারা কিনা সেই নারীর আনুগত্যই মেনে নিচ্ছে,আচলের তলায় মুখ লুকাচ্ছে তাদের উদ্দেশ্যই বা কি?খুব জানতে ইচ্ছা হয়।

একাত্তরের ঘটনাপ্রবাহের সাথে ২০১৩ সালের অদ্ভুত মিল।তখনকার মত এবারও প্রথম আঘাতটা এসেছে সরকারী বাহিনীর উপর।এরপর শিক্ষিত শ্রেণীর উপর।এরপর?সাধারনের উপর আসবে,যেখানে আপনি, আমি কেউ নিরাপদ নই – কেউ না।আস্তিক নাস্তিক কচলাকচলির আগে একটু দয়া করে খেয়াল করুন ঐ সব তথাকথিত ইসলামের লেবাসধারীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিচ্ছেন কিনা,প্লিজ।

বিরুদ্ধ মত হলেই কি মেরে ফেলতে হবে?জবাই করতে হবে?একজন মানুষের লেখনীকে কি লেখা দিয়েই আক্রমন করা যেত না?মেরে ফেলে কি তার মত আরো যারা একই দর্শন নিয়ে চলে তাদের দমিয়ে রাখা যাবে?সম্ভব?সবাই জানে সম্ভব না।ইতিহাস একেউ কোনদিন পারে নি।আমি কমিউনিজম পছন্দ করি না।তার মানে কি তারা আমাকে মেরে ফেলার অধিকার রাখে?আমাকে মেরে ফেললে তখন কি আমার খুনীদেরও পিঠ চাপড়ে দিবেন,আমার সাথে আপনার বিরুদ্ধ মতের জন্যে?

থাবার ইসলামকে নিয়ে কটাক্ষ করে দেয়া পোষ্টগুলোতে ক্যাচাল কম করি নাই।কিন্তু তার মাঝে জাতীয়তাবোধের কোন কমতি দেখি নাই।আর এটাই কাল হয়েছে তার জন্যে নিঃসন্দেহে।কেননা আরো অনেক নাস্তিকই গায়ে বাতাস লাগিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে,শুধুমাত্র সুশীল আচরনের জন্যে।আর এটা কেবল শুরু।এরপর একের পর এক লাশ পড়বে।জামাত টিকে থাকতে এখন দিবে মরনছোবল,ধর্মকে ব্যাবহার করে।ইসলামের লেবাস পড়ে রক্তে রন্জিত করবে রাজপথ।কারন ওরা জানে যে তরূন প্রজন্ম জেগে উঠেছে আজ দেশ আর বিদেশের প্রতিটি কোনায় তাদের দমিয়ে রাখা সহজ তো নয়ই বরং অসম্ভব,যেমনটা হয়েছিল একাত্তর।আর তাই সচেতন হতে হবে নিজেকে,সচেতন করতে হবে প্রতিটি মানুষকে।এখনই সময় ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ , ‘ধর্মহীনতা’ আর ‘জাতীয়তাবোধ’ কে আলাদা আলাদা করে উপলব্ধি করার।

বিচার চাই থাবার হত্যাকারীদের।বিচার চাই তাদের পৃষ্টপোষকদের।আইনের আওতায় আনা হোক থাবাকে নিয়ে দেয়া সেই পোষ্টদাতাকে,সোনা ব্লগের এডমিনকে/দেরকে।

এই ব্যাপারটা নিয়ে আর কোন কথা বলব না।শুধু উল্লেখ করে যাই হুমায়ূন আজাদের একটি উক্তি দিয়ে ঃ ‘সত্য একবার বলতে হয়।সত্য বারবার বললে মিথার মত শোনায়।মিথ্যা বারবার বলতে হয়।মিথ্যা বারবার বললে সত্যের মত শোনায়’।

জয় হোক তারুন্যের,জয় হোক প্রজন্মের।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১২ thoughts on “প্রজন্মের আন্দোলন আর কিছু সুশীল-কুশীল চিন্তা

  1. শিবিরের হিংস্রতা সেই ৭১ এর
    শিবিরের হিংস্রতা সেই ৭১ এর মতই আছে। তাই তাদের প্রতি কোন দয়ামায়া নেই। যেখানেই শিবির সেখানেই প্রতিরোধ । জামাত-শিবির মুক্ত দেশ গড়ে দেশকে আবার কলঙ্ক মুক্ত করার এটাই সময় ।

    1. প্রজন্মের আন্দোলন নিয়ে হু
      প্রজন্মের আন্দোলন নিয়ে হু আজাদ কি বলতেন বেচে থাকলে সেটা জানার আমার খুব ইচ্ছা হয়।হয়ত এমন কিছু বলতেন আমরা রাগে ফেটে পড়তাম,বুঝতে পারতাম অনেক দিন পর।

  2. চমৎকার লিখেছেন। আপনি এখন একজন
    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:
    চমৎকার লিখেছেন। আপনি এখন একজন পরিপক্ক লেখক হয়ে গেছেন। লেখাগুলো শেয়ার দেন না কেন? ফেবুতে শেয়ার না দিলে লেখা কিন্তু কম পড়া হয়। শেয়ার দিলাম।

  3. চমৎকার লিখেছেন। ইসলামের নামে
    চমৎকার লিখেছেন। ইসলামের নামে ওরা ক্ষমতার জন্য ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এটা সবার কাছে অতীতের ন্যায় পানির মত পরিস্কার। ইসলাম শান্তির ধর্ম হলেও ওরা এটাকে ওদের ক্ষমতা যাহির করার জন্য আশান্তির ধর্ম বানিয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + 3 =