ধর্মব্যাবসায়ীদের বলছিঃথাবার প্রতিটি রক্তকণার শোধ নেব।

ব্লগার রাজিব হায়দার(থাবা বাবা) খুন হয়েছে নৃশংসভাবে। আর তার খুন নিয়ে রাজনীতি শুরু করছে পিশাচরা। কিছু লোক বলছে রাজিব ছিল নাস্তিক, সেই সাথে ইসলামবিদ্বেষী। সাথে কেউ কেউ তার ব্লগের লিংক দিয়ে তাকে ইসলামবিদ্বেষী প্রমাণ করার মহান দায়িত্বটাও নিষ্ঠার সাথে পালন করেছে। আর আমরা অনেকে সেই ব্লগ পড়ে রাজিব যে ইসলামবিদ্বেষী তা মেনে নেওয়ার মহান দায়িত্ব পালন করছি। কিন্তু কি কেউ কি ভেবে দেখেছেন এসব করে আমরা আমাদের মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ছি? কারো ধর্ম নিয়ে বাজে কথা বললে তার খারাপ লাগতেই পারে, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু রাজিবেরও তো বাকস্বাধীনতা ছিল। সে যা ভাল মনে করত তাই বলত, এতে তোরা এত পাগল হস ক্যান? তোদের ঈমান যদি মজবুতই থাকে তাহলে তোরা রাজিবদের ভয় পাস ক্যান? তোদেরকে রাজিবের বিচার করার ম্যান্ডেট দিয়েছে কে? আরে, মহানবি (স)-কে যখন আবু জেহেল ও তার দলবল শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারে সহ্যের চরম সীমায় নিয়ে গিয়েছিল তখনও তো তিনি আবু জেহেল ও তার দলকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করেননি। আর রাজিব তো শুধু লেখালেখি করেছিল। এই তোদের ঈমানী জোর? এই তোদের ধর্ম পালনের নমুনা? দোহাই লাগে তোরা আর ধর্মের দোহাই দিয়ে ধর্মকে কলংকিত করিস না, ধর্মটা প্রত্যেকেরই একান্তই ব্যাক্তিগত ব্যাপার। একজন মানুষ সেটা পালন করবে কি করবে না এটা তার নিজস্ব চিন্তা। যারা ধর্মের দোহাই দিয়ে বলছে রাজিব মরছে খুশি হইছি, ধিক তাদের, শত ধিক। রাজিব স্বপ্ন দেখেছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে, সেটাই তার অপরাধ। ওর মাংস খুবলে খুবলে খেয়েছে নরপিশাচগুলো। ওরা ভেবেছিল আন্দোলন এতে স্তিমিত হয়ে যাবে। ভুলরে, ভুল, তোরা ভুল ভেবেছিস। তোরা বোকার স্বর্গে বাস করছিস। এই খুন বাঙালিকে আরো বিদ্রোহী করে তুলেছে, বাঙালি এখন তোদেরকে আগের চেয়েও শত সহস্র গুণ বেশি ঘৃণা করে। বাঙালি এবার এর শেষ না দেখে ঘরে যাবে না। নিদ্রাহীন চোখে বাঙালি এখন থেকে পাহাড়া দেবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে। বাঙালী তোদের হাতে আর কোন জীবন তুলে দেবে না। জাগোবাঙালী, জাগো। জয় বাংলা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “ধর্মব্যাবসায়ীদের বলছিঃথাবার প্রতিটি রক্তকণার শোধ নেব।

  1. একটা সহজ প্রশ্ন করা যেতে
    একটা সহজ প্রশ্ন করা যেতে পারে। এই আন্দোলনে অনেক ধার্মিক মানুষ আছে। তাকেও যদি হত্যা করা হতো এই সমালোচকেরা একই ভাবে তার দোষ খুঁজে বের করতে চেষ্টা করতো। তাই তাদের এই ফালতু সমালোচনা পাত্তা দেবার কিছু দেখি না।

    এইসব চক্রান্ত যে কাজে আসেনা এটা প্রমাণ হল শাহবাগেই। এত মানুষ তার জানাযায় শরিক হলো ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

73 + = 75