আন্দোলনে আমাদের অবস্থান।

আন্দোলন নিয়ে বেশ কয়েক জন দেখছি হযবরল অবস্থায় আছেন। ছাগুদের বিষয়ে প্রতিউত্তর হচ্ছে। ভাল ভাবেই তাদের আবোল তাবোল কথা মোকাবিলা করা হচ্ছে। কিন্তু আন্দোলনকারীদের মাঝেও কিছু বিভ্রান্তি তৈরী হলো, এই নিয়ে না বিরোধিতা করতে পারি, না সম্মতি দিতে পারছি।

কেউ কেউ দাবী তুলেছেন , কেন জামাতের প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করার হবে না। কেন রাজিবের খুনের বদলে শাহবাগ থেকে খুনের প্রতিজ্ঞা আসবে না। কেন কফিন ছুয়ে শপথ নেয়ার পরে কেবল কাল ব্যাজ ধরান-ই কর্মসূচি পালিত হবে।প্রশ্ন গুলোর যৌক্তিকতা নিয়ে আমার কোন দ্বিমত নাই।সম্ভব হলে এবং যত দ্রুত পারা যায় জামাতের বিরুদ্ধে একশনে নামতে হবে।


আন্দোলন নিয়ে বেশ কয়েক জন দেখছি হযবরল অবস্থায় আছেন। ছাগুদের বিষয়ে প্রতিউত্তর হচ্ছে। ভাল ভাবেই তাদের আবোল তাবোল কথা মোকাবিলা করা হচ্ছে। কিন্তু আন্দোলনকারীদের মাঝেও কিছু বিভ্রান্তি তৈরী হলো, এই নিয়ে না বিরোধিতা করতে পারি, না সম্মতি দিতে পারছি।

কেউ কেউ দাবী তুলেছেন , কেন জামাতের প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করার হবে না। কেন রাজিবের খুনের বদলে শাহবাগ থেকে খুনের প্রতিজ্ঞা আসবে না। কেন কফিন ছুয়ে শপথ নেয়ার পরে কেবল কাল ব্যাজ ধরান-ই কর্মসূচি পালিত হবে।প্রশ্ন গুলোর যৌক্তিকতা নিয়ে আমার কোন দ্বিমত নাই।সম্ভব হলে এবং যত দ্রুত পারা যায় জামাতের বিরুদ্ধে একশনে নামতে হবে।

এই দাবী গুলো করার আগে এই আন্দোলন সম্পর্কে একটা বিশ্লেষণ দরকার।এখানে কি ভাবে কাদের নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু হয়েছে এই ব্যপারটা এসে যাবে। আমরা জানি এখনো কোন দলের ইচ্ছা অনিচ্ছায় আন্দোলনটা চলছে না,আমাদের একটা সুনির্দিষ্ট দাবীকে বাস্তবায়ন করার জন্য এই আন্দোলন।

এখন আর একটা প্রশ্ন এসে যাবে, কার বিরুদ্ধে এই আন্দোলন। যুদ্ধপরাধীদের বিচার হচ্ছে, সরকার এই বিচার করছে। কিন্তু আমাদের মাঠে নামতে হলো কেন? নিশ্চয়ই বুঝতে অসবিধা হচ্ছে না যে প্রথম এই আন্দোলনটা ছিল সরকারের বিরুদ্ধে। আওয়ামীলীগ ধুরন্ধর দল,সুযোগ বুঝে তারাই আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করে আন্দোলনকারী হয়ে যায়। তাহলে প্রতিপক্ষে কে থাকে? জামাতকে তো নিষিদ্ধ করার দাবী জানিয়ে আসছি,আর এই দাবিটা অবশ্যই সরকারের কাছে? তাই সহজেই অনুমান করতে পারি এই আন্দোলনের তীর অবশ্যই সরকারের দিকে নিক্ষেপ করা।

আমেরিকায় কিছুদিন আগে ঘটে যাওয়া, অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট আন্দোলনের দিকে তাকাই তবে চিত্রটা কাছা কাছি মনে হবে।তাদের আন্দোলন ও প্রথমে এমন করে সরকার বিরোধী ই ছিল। কারন সম্পদ বৈষম্যের যে পরিসংখ্যান নিয়ে আন্দোলন হলো একে ব্যালেন্স করার দায়িত্ব তো সরকারের হাতেই। নাকি তারা আশা করেছে বিত্তশালীরা এই আন্দোলন দেখে তাদের সম্পদ সবার মাঝে বন্টন করে দিবে! এটা তো বোকা ও বিশ্বাস করবে না তাহলে আন্দোলনটা অবশ্যই সরকারের বিরুদ্ধে ছিল অথবা সরকারকে চাপে রাখার জন্য ছিল। সেখানেও এই রকম একটা খেলা হলো ওবামা শুরুতেই আন্দোলনকারীদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে পাশে দাঁড়ায়। আন্দোলন তখন গতি হারিয়ে ফেলে। আন্দোলনকারীরা বিভ্রান্ত হতে থাকে ,সরকার যদি পক্ষে এসে যায় তখন আন্দোলন কার বিরুদ্ধে এটা একটা ধাঁধায় পরিনত হয়। সরকার হলো সব সিদ্ধান্ত নেয়ার মালিক, সে সিদ্ধান্ত না নিয়ে যদি জনগনের সাথে আন্দোলনে দাঁড়ায় তার মানেটা কি ? সরকার তাবে আন্দোলনকারীদের নিয়ে কার কাছে দাবী জানিয়েছিল। এবং এর পরিণতি আমরা জানি।

আমাদের আন্দোলনটা ও একই দিকে যাচ্ছে। আন্দোলনটা শুরুর সাথে সাথেই হাওয়ার বেগ দেখে লীগ তার দলবল নিয়ে সমর্থন জানায়। আমরা বিশ্বাস করে নেই সরকার আমাদের সাথে আছে। তাহলে কার বিরুদ্ধে আমরা রাজপথে নামলাম? সরকার যদি আন্দোলনের সাথে থাকে ,সরকার যদি শাহবাগের মানুষের সাথে এসে দাঁড়ায় তাহলে দাবী কেন আদায় হচ্ছে না? আর সরকার আমাদের সাথে দাঁড়িয়ে কার কাছে আন্দোলনের দাবী জানাচ্ছে ? আমাদের আন্দোলনের কারন হলো যুদ্ধপরাধীদের লঘু শাস্তি দেয়ায় ক্ষোভ থেকে। আমি বিশ্বাস করি কসাই কাদেরের বিচার বিষয়ে সরকার আগে থাকে জানতো।বিচারের রায়ের পর,ব্লগ,ফেবুতে লীগের কিছু লোক এতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে, এবং দেশের কিছু এলাকায় রায়ে খুশি হয়ে মিষ্টি বিতরণ,এবং উৎসব করতেও দেখা গেছে। বিএনপি,লীগ সরকার সবারই চরিত্র হলো রাষ্ট্রের সব ব্যপারে হস্তক্ষেপ করা। এবং তারা সেটা করে আসছে। যদি লীগ দাবী করে তারা বিচারের ব্যপারে হস্তক্ষেপ করছে না, তবে আমি বলব তাহলে আমাদের সাথে হটকারিতার জন্য সরকার দায়ী। এখানে বাদী পক্ষে রাষ্ট্র,এই দাবী রাষ্ট্রিয় দাবী কোন ব্যক্তিগত দাবী না। যে লীগ সরকার মানুষের অনেক ব্যক্তিগত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে সে কেন এই যুদ্ধপরাধীদের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে বিচার নিশ্চিত করবে না? কেন এই ক্ষেত্রে তার এত উদাসিনতা?

সব মিলিয়ে , লীগ এবারও লটারি জিতেছে, আর বিএনপি বরাবরের মতো এবারও ট্রেন লেট করেছে।

আন্দোলন কেমন হবে এটা নির্ভর করছে আন্দোলনের শুরুতে অবস্থানের উপর,সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন হলে এর আচরণ এক রকম হবে, আর সরকারের পক্ষে থাকলে এর আচরন আরেক রকম হবে। সরকারের আছে বিশাল বাহিনী,সরকার যে কোন বিরোধী আন্দোলন দমনে সব সময়ই তা ব্যবহার করে থাকে। যেহেতু এই আন্দোলনটা সরকারের বিরুদ্ধে যায় নাই ।তাই তাহরি স্কয়ারের সাথে এই আন্দোলনের খুব বেশি মিল পাওয়া যাবে না বলেই আমার বিশ্বাস।তাই বেশির ভাগ মিলটা অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট এর সাথে, শান্ত,নিরীহ,শৃঙ্খলিত আন্দোলন। কোন সহিংসতার ডাকও তাই জাগরণ মঞ্চ থেকে আসে নি।আন্দোলনের এত সহজ সরল অবস্থা, ঝুঁকি হীন,নিরাপত্তার আবৃত আন্দোলন আগে এই দেশে কখনো হয়নি। এর প্রধান কারন সরকার এই আন্দোলনের পক্ষে সমর্থন দিয়ে আন্দোলনের তীক্ষ্ণতা ভোতা করে দিয়েছে।

এরশাদ বিরোধী আন্দোলন থেকে,জ্বালানী মন্ত্রনালয় ঘেরাও পর্যন্ত যত আন্দোলন হয়েছে। সব কটা আন্দোলনে ই পুলিশ লেলিয়ে দিয়েছে সরকার। চলেছে গুলি, মরেছে সাধারণ আন্দোলনকারীরা। সরকার সহিংস হলেও আন্দোলন ছিল দুর্বার।কিন্তু এই আন্দোলন অতীতের আন্দোলন থেকে একেবারেই ভিন্ন। তাই বাধা বিপত্তি মুক্ত,আন্দোলন তেজ স্লোগানেই তৃপ্তি পাচ্ছে। সরকার বা বিরোধী দলের নিশ্চুপতার কারনে এই আন্দোলন হয়ে উঠেছে অনেকটা শান্তিপ্রিয় প্রার্থনার মতো।তাই আন্দোলনের যোগ দিয়েছে লাখ লাখ নারী পুরুষ,শিশু,বৃদ্ধ সহ সমাজে সব পেশার মানুষ। আন্দোলন কর্মীরা সহিষ্ণুতা,ধৈর্য,শ্রদ্ধা,ভালবাসা দিয়ে মানুষের মন জয় করতে পেরেছে বলে প্রজন্ম চত্তরে এসে হাজির হয়েছে এত বিশাল মানুষ। তাদের দেয়া কর্মসূচি গুলো এতই সুন্দর,আর অভিনব যে সারা দেশে এক সাথে স্বতস্ফূর্ত ভাবে পালিত হচ্ছে । এ এক অভিনব দৃশ্য। তাই মোমের আলোয় কণ্ঠ দৃপ্ত হয়েছে, ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, রাজাকারের ফাঁসি চাই। শিবির জামাত রাজাকার, ফাঁসি তাদের এক বিচার।

এখন এই পরিপ্রেক্ষিতে যারা আশা করেন এই আন্দোলন থেকে লাঠি বাঁশ নিয়ে চার দিকে ছড়িয়ে পরবে, দাবী আদায়ের জন্য বিপক্ষে (ট্রেইন্ড জঙ্গিদের) বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবে তারা একটু বেশিই অগ্রসর হয়ে আছেন বাস্তবতা থেকে। জামাত শিবিরের বিরুদ্ধে সব বয়সের,সব পেশার মানুষকে মাঠে নামার পর খুব বেশি সময় আন্দোলন পায় নি।তার কারন হতে পারে আন্দোলনটা কোন একক নেতৃত্বে হচ্ছে না। বা কোন দল গত কোন আদর্শও নাই। তাই এই আন্দোলনে মানুষের মনোবল থাকলেও আন্দোলনের ভেতর থেকে সংগ্রাম করার মতো চর্চা আন্দোলনকারীদের নেই। কারন তাদের বেশির ভাগই কোন রাজনৈতিক কর্মী না, তারা কোন দীর্ঘ দিন সংগ্রামের অংশ হিসেবেও এখানে আসে নাই।

এই কথার যৌক্তিকতা মিলবে শিবিরের ঝটিকা মিছিল দেখলেই।তার সুপরিকল্পিত ভাবে তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে নেমেছে। এই লড়াই তাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।(যদিও কোন কাজ হবে না,আমরা তাদের নিশ্চিহ্ন করে ছাড়ব)।এই দিকে আন্দোলনের অংশগ্রহনকারীরা অনেকেই প্রতিপক্ষে মোকাবেলা করার বিষয়টাতে সচেতন না। হতে পারে এই আন্দোলনকারীদের মাঝে কেউ কেউ জামাতের প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত। তারা হয়তো বুঝতে পারছে জামাতের প্রতিষ্ঠানে কাজ করা ঘৃণ্য ব্যপার। কিন্তু তাৎক্ষনিক ভাবে তো সবাই ছেড়ে আসতে পারছেনা। যার ইসলামী ব্যাংকে আগে থাকে একাউন্ট আছে, এমন মানুষ নিশ্চয়ই আছে। সে তো এই মূহুর্তে তার জামানতের টাকার ব্যাংক ভাঙচুর করতে পারছেনা। তার ছোট ভাই হয়তো শিবির করে তাকে তো আর লাঠি মাথা ফাটাতে পারছেনা। তাই প্রতিক্রিয়াটা খুব দ্রুত আশা করা মনে হয় যৌক্তিক নয়। হয়তো ব্যক্তিগত ভাবে এমন আরো কিছু উদাহরণও দিতে পারব। তা হয়তো প্রয়োজন নেই।

যারা এখনো বেশী অগ্রসর হয়ে অন্যকে দোষারূপ করছেন তাদের বলব আরো অপেক্ষা করেন। সমাজে আন্দোলনের ক্রিয়াটি হজম হতে কিছুটা সময় লাগবেই। তাই আন্দোলনের সুবিধার্থে একে এই ধরনের কথা বলে বিভ্রান্ত না করলেই মঙ্গল।

কোন একটা আদর্শের ভিত্তিতে,দীর্ঘ দিন সংগ্রাম করে যে দল গড়ে উঠে। তাদের যে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হয়,তাদের কাজ করার যে দক্ষতা অর্জন হয়। তার ভিত্তিতেই পরবর্তীতে শক্তিশালী আন্দোলন তৈরী হয়। যেহেতু আমাদের আন্দোলনের চরিত্রটা এমন নয় । এই আন্দোলন যেহেতু এভাবে তৈরী হয় নাই তাই কিছুটা দুর্বলতা তো থাকতেই পারে। এই আন্দোলনে তাই প্রত্যাশা ভিন্ন রকমের,এতে হতাশ হওয়ার কিছু দেখি না।আন্দোলন যথেষ্ট আশার আলো দেখিয়েছে, আমার মতো অর্জনও অনেক হয়েছে (প্রজন্ম চত্ত্বরের অর্জননামে একটা লেখা দিয়েছিলাম)

কিন্তু যারা ধৈর্য চ্যুত হচ্ছেন,দ্রুতই এর ফলাফল পাওয়ার জন্য ব্যস্ত হচ্ছেন। তাদের বলি এই আন্দোলনে জনগনের সমর্থন আদায় করার কাজটা খুবই দক্ষতার সাথে করতে পেরেছে। এখন যদি একশনে যেতে হয় তবে কোন দলের(একক অথবা যৌথ) নেতৃত্বে একশন দল গঠিত হতে পারে। কিন্তু এটাও মাথায় রাখতে হবে, আমাদের দেশের দলগুলোর নেতৃত্বের উপর আমরা কতটুকু ভরসা করতে পারি ? আর নিজেদের মাঝে নেতৃত্বের অবিশ্বাস তো থাকবেই।

এসব সমস্যায় না গিয়ে বিকল্প হিসেবে চিন্তা করলে হয়তো আন্দোলন সঠিক পথেই এগুতে পারে। আমি বলব আন্দোলন সঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছে।আমাদের কাজ হলো যত বেশি মানুষকে অবস্থানে সম্পৃক্ত করতে পারি। যত বেশি দিন অবস্থান করতে পারি। তার উপর একটা চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। দেশী মিডিয়া এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়া এই নিউজ গুলো প্রচার করার সরকার এক ধরনের চাপে থাকবে। এবং দাবী গুলো আইনগত ভাবে প্রতিষ্ঠিত সরকারকেই আরো বেশি চাপে রাখতে হবে।

আন্দোলন থেকে কয়েক শত শিবির কর্মী হয়তো হত্যা করা সম্ভব কিন্তু এটাই সমাধান নয়। তাদের মূল থেকে উৎপাটন করতে না পারলে শিবির তৈরীর কারখানা বন্ধ না করতে পারলে কোন ভাল ফল পাব না।অর্থনীতিবিদ আবুল বরাকাত অনেক আগে থেকেই এই বিষয়ে চিৎকার করছেন। কিন্তু সরকার গা করছে না। এখন সময় তাদের সমুলে ধ্বংস করে দেয়া। এগিয়ে আসতে হবে বড়বড় ব্যবসায়ীদের,প্রতিষ্ঠানের মালিকদের যাদের টাকায় চলছে তাদের ব্যাংক। যাদের সহযোগিতায় চলছে জামাতের প্রতিষ্ঠান। সব খানেই বয়কট করার কোন বিকল্প নাই।এই আন্দোলন চলছে চলবে।

সংসদে সরকার দল সংখ্যাগরিষ্ঠ,মাঠে আছে আন্দোলন এই সুযোগ যদি সরকার হাতছাড়া করে তবে আর কোন দিন এমন সুযোগ আসবে কিনা বলা যাচ্ছে না।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৮ thoughts on “আন্দোলনে আমাদের অবস্থান।

  1. প্রথম কথা হচ্ছে আপনাকে এর আগে
    প্রথম কথা হচ্ছে আপনাকে এর আগে এত বড় পোষ্ট দিতে কখনই দেখি নাই।কয়েকটা জায়গায় ভিন্নমত আছে।কিন্তু মূল ম্যাসেজ যেটা দিতে চেয়েছেন তার সাথে সম্পুর্ন একমত।তবে এই আন্দোলনে বিরোধি শক্তি নাই,এটা বলা যাবে না,অবশ্যই আছে এবং সেটা জামাত শিবির।সুতরাং সরকার সমর্থন দিলে এটাকে পজিটিভলি নিতে হবে।আপনারে আগেই বলছিলাম আওয়ামীলীগ রাজনীতির মাঠের,রাজপথের পুরোন সদস্য।আর সে কারনেই তাদেরকে বিশবাস করা যায় না,বড়জোর আশা করা যায়।তাই চাপ প্রয়োগ করতে হবে,তীব্র চাপ।

    আবার কথা আছে।মনে করেন শেখ হাসিনা কিভাবে দাবী করে?আমরা দাবী করব,তারা বাস্তবায়ন করবে।আমরা জামাতকে নিষিদ্ধ করতে চাইছি,তারা করবে।পুলিশকে আরো হার্ডলাইনে যাইতে হবে।পোষ্ট সুন্দর হইছে।

    1. আপনার বক্তব্যের সাথেও আমি

      আপনার বক্তব্যের সাথেও আমি সহমত। তবে বিরুদ্ধ মতামত অবশ্যই জানাবেন। আমি নিজেকে শুদ্ধ করার সুযোগ পাব।

      এবার প্রসঙ্গে আসি। কিন্তু আমাদের নানা রকম সহযোগিতা করছে , এটা সত্য। কিন্তু সরকার যদি আন্তরিক হয়ে এই মেয়াদের মধ্যে তাদের নিষিদ্ধ না করে, তার পরে কি হতে পারে নিশ্চয় অনুমান করতে পারছেন। এই এত স্বপ্ন,এত ক্ষোভ সব ভেস্তে যাবে। তাই বলতে চাচ্ছি, রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে নয়,সরকারের উচিত দেশের স্বার্থেই তাদের নিষিদ্ধ করা। অন্তত এই নিষিদ্ধ করা বা রাজাকারদের বিচার করার এসব ঝুলিয়ে যদি ভোটের ফায়দা আদায় করতে চায়,আমি তার বিরোধিতা করছি।

  2. আরেকটা জিনিস খেয়াল করেছেন
    আরেকটা জিনিস খেয়াল করেছেন কিনা।সরকার কিন্তু এর মধ্যেই বল ঠেলাঠেলি শুরু করে দিছে।গতকাল প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন ‘সরকার জামাতকে নিষিদ্ধ করলে আমরা নিবন্ধন বাতিল করব’।আর আজ আইন্মন্ত্রী বলেছেন ‘প্রচলিত আইনেই নিবন্ধন বাতিল করতে পারে ইসি’।খুব খেয়াল কইরা ভাইলোগ।

    1. আমারও মতামত প্রজন্ম চত্বর

      আমারও মতামত প্রজন্ম চত্বর থেকে সরকারের উপর আল্টিমেটাম দেওয়া উচিত, কবে নাগাদ জামাতকে নিষিদ্ধ করবে এটা জানতে চেয়ে।

      আতিক ভাই, আমার মতামত হলো এই আল্টিমেটাম দেয়ার জন্য আরো কিছুদিন অপেক্ষা করা ভাল।

  3. লেখাটা খুব মনযোগ দিয়ে পড়লাম।
    লেখাটা খুব মনযোগ দিয়ে পড়লাম। চমতকার লিখেছেন। আমারও মতামত প্রজন্ম চত্বর থেকে সরকারের উপর আল্টিমেটাম দেওয়া উচিত, কবে নাগাদ জামাতকে নিষিদ্ধ করবে এটা জানতে চেয়ে।

    লেখাটা স্টিকি করা যায় কিনা ইস্টিশন মাস্টার ভেবে দেখতে পারেন।

  4. লেখাটি চমৎকার । তবে বোঝার
    লেখাটি চমৎকার । তবে বোঝার বিষয় হল সরকার যে অবস্থান নিয়েছে তা ভোট আদায়ের রাজনীতি হলেও আমাদের দাবী আদায়ের জন্য এই সরকার কে ক্ষমতায় আনা ছাড়া আর কোন পথ খোলা নেই । সে দিক বিবেচনা করলে সরকার যদি দাবী আন্তরিক ভাবে মেনে নেয় তবে ভোট আদায়ের রাজনীতিকে স্বাগত জানাতে আপত্তি নেই

    1. সে দিক বিবেচনা করলে সরকার যদি

      সে দিক বিবেচনা করলে সরকার যদি দাবী আন্তরিক ভাবে মেনে নেয় তবে ভোট আদায়ের রাজনীতিকে স্বাগত জানাতে আপত্তি নেই

      :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

      তবে সরকার যদি জনগণের আবেগ নিয়ে খেলে তাহলে কিন্তু খবর আছে।

    2. এখানে আমি একমত নই। সরকার যদি
      এখানে আমি একমত নই। সরকার যদি জনগনের চিন্তা না করে ভোটের চিন্তায় এই বিচার এবং জামাত শিবির নিষিদ্ধকরণ বিলম্ব করে। তবে মেনে নিতে পারব না। এই দাবী গুলো আদায় করতে পারলে সামনের নির্বাচনে এমনিতেই তারা ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা আছে। আর যদি ভিন্ন কিছু করার চেষ্টা করে, নিশ্চয় এই তরুন গণ জোয়ার একে এভাবেই ছেড়ে দিবে না।

  5. এই আন্দোলনে একটা মজার দিক
    এই আন্দোলনে একটা মজার দিক আছে। এই আন্দোলনে যেমন আবেগপ্রবণ ছাত্র, মুক্তিযোদ্ধা বা তাঁর সন্তান, পেশাজীবিদের সমর্থন আছে, তেমনি সমাজের একটা অংশ যারা আপাদ-মস্তক দুর্নীতি হত্যা-দস্যুতায় অন্যায়ে জড়িত তারা ও যুক্ত হতে চাইছে। কারণ তারা ভাবছে এই একটা ভাল কাজের সাথে যুক্ত হয়ে যদি নিজের গুনাহ কিছু কমানো যায়। এই আন্দোলনে ঢুকে পড়ে নিজের চামড়া বাঁচিয়ে সহজেই আদর্শবাদী হওয়া যায়, কারণ এই আন্দোলনের টার্গেট ‘আপাতত’ সীমিত যেমন কাদের মোল্লা আর অন্যান্য যুদ্ধাপরাধী। তবে তার জন্য আমি বলিনা যে আমাদের অন্যান্য বিষয়গুলো এখনই যুক্ত করতে হবে। আপাতত যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসী আর জামাতের নিষিদ্ধতা নিশ্চিত করে অন্যান্য ইস্যুগুলোও আমাদের এড্রেস করতে হবে। তখন দেখা যাবে সরকারগুলোর প্রকৃত বিরোধিতা আর কে কতটা আদর্শবাদী।

    1. আপনার কথায় যুক্তি আছে। কিন্তু
      আপনার কথায় যুক্তি আছে। কিন্তু এটাও মানতে হবে, ঠগ বাছতে দিয়ে গ্রাম উজার না হয়। সমাজ তো রাতারাতি পরিবর্তন হয়ে যাবে না। আর আন্দোলন করে সমাজ পরিবর্তন করা যায় না। তাই এখনই অন্য কোন ইস্যুতে মতামত তৈরী আপাতত প্রয়োজন বলে মনে করিনা।

      1. এই জন্যেই বলেছি এই মুহুর্তে
        এই জন্যেই বলেছি এই মুহুর্তে না। আগে যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসী আর জামাত-শিবির নিষিদ্ধ হোক। বাকীটা আমার অবজার্ভেশন। ধন্যবাদ।

  6. চমৎকার লেখা। সূক্ষ্মভাবে
    চমৎকার লেখা। সূক্ষ্মভাবে অনেকগুলো বিষয় তুলে ধরেছেন। পুরো লেখাটা জুড়েই যত্নের ছাপ লক্ষ করেছি। আপনাকেও ধন্যবাদ এবং লেখা স্টিকি করার জন্য মডুকেও ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

72 − 65 =