অহিংস আন্দোলনে ভীত জামাত।

ইতিহাস কথা বলে। শহীদ জাফর মুন্সী আর ব্লগার-স্থপতি শহীদ রাজীবের হত্যার ধরণে ১৯৭১ সালে মুক্তি যুদ্ধকালীন রাজাকার,আল বদর ও আল শামসের ও পাকিস্তানী সমার্থকদের সুপষ্ট ছাপ পাওয়া যায়। ১৯৭১ থেকে ২০১৩ মাঝখানে পার হয়ে গেছে ৪২টি বছর। যুগের সাথে বদলে গেছে অনেক কিছু, বসনভূষণ, চাল চলন, আধুনিক জীবনযাত্রা, মেশিন-পত্র, এসেছে কমপিউটার,ল্যাপটপ, নোট বুক, আই ফোন, এন্ড্রয়েড ফোন, চালকবিহীন গাড়ি, সেই সাথে এসেছে নতুন নতুন মারণাস্ত্র, জীবানুস্ত্র। প্রতি দিন একটা কে পিছনে ফেলে আবিষ্কার হচ্ছে আরেকটি ।


ইতিহাস কথা বলে। শহীদ জাফর মুন্সী আর ব্লগার-স্থপতি শহীদ রাজীবের হত্যার ধরণে ১৯৭১ সালে মুক্তি যুদ্ধকালীন রাজাকার,আল বদর ও আল শামসের ও পাকিস্তানী সমার্থকদের সুপষ্ট ছাপ পাওয়া যায়। ১৯৭১ থেকে ২০১৩ মাঝখানে পার হয়ে গেছে ৪২টি বছর। যুগের সাথে বদলে গেছে অনেক কিছু, বসনভূষণ, চাল চলন, আধুনিক জীবনযাত্রা, মেশিন-পত্র, এসেছে কমপিউটার,ল্যাপটপ, নোট বুক, আই ফোন, এন্ড্রয়েড ফোন, চালকবিহীন গাড়ি, সেই সাথে এসেছে নতুন নতুন মারণাস্ত্র, জীবানুস্ত্র। প্রতি দিন একটা কে পিছনে ফেলে আবিষ্কার হচ্ছে আরেকটি ।

লক্ষনীয় যে, এতো কিছুর পরিবর্তন হলেও গত ৪২ বছরে এতটুকুও পরিবর্তন হয়নি ১৯৭১ এর যুদ্ধাপরাধীদের ও তাদের দোসরদের মনোভাব। সেই একইভাবে অত্যাচার করে মানুষ খুন। একদল হিংস্র হায়েনার মত দল বেঁধে নিরাপরাধ, নিরস্ত মানুষ কে হত্যা করা। ধরে বেঁধে জবাই করা। অমানুষিক অত্যাচার করা। হাত পায়ের রগ কেটে দেয়া।

একাত্তরে ওরা পাকিস্তানি মিলিটারীর সেবা করেছে, দেশ কে পরাধীন করে রাখার তাগিদে, নিজের মা, মাটি ও দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে আল্লাহ্‌র নামে মানুষ মেরেছে, ইসলামের নামে মানুষ মেরেছে। ৩০ লক্ষ মানুষ কে নির্বিচারে হত্যা করে ছে, নারী,শিশু, বৃদ্ধ , অসুস্হ, কাউকেই ছাড়েনি। ঘরে ঢুকে ঢুকে মেরেছে। মা- বোনদের ধর্ষণ করে তুলে দিয়েছে পাকিস্তানী আর্মিদের হাতে। দিনের পর দিন বন্দি করে গণ ধর্ষণ করেছে, এর পর তাদের নিষ্টুরতম উপায়ে বর্বরভাবে মানুষ হত্যা করেছে। সেই বর্বরতা যখন ইতিহাসের পাতায় পাতায় , স্বচক্ষে দেখা স্বজনহারান মানুষের মুখে মুখে এখনো সেই গা শিউরে ওঠা কাহিনী। ৪২ বছর পরেও শুনলে কেঁপে ওঠে বুক, হৃদয় চিরে হাহাকার বের হয়, আহারে ধর্মের নামে মানুষ এতো ভয়ঙ্কর, হিংস্র হয় কিভাবে? সেই হিংস্রতা তুলনা করাও সম্ভব না।

নিকৃষ্ট পশুও কোন নারীর যৌনাঙ্গে লাঠি ঢুকিয়ে হত্যা করতে পারেনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের ছাদে পাওয়া এক ছাত্রীর লাশের সুরতহারের এই বিবরন দিয়েছেন এক সুইপার। মৃত মেয়েটির গায়ে ছিল না কোনো চামড়া, ছিল না মাথায় একটাও চুল, হাতে নেই কোন নোখ, যৌনাঙ্গের ভেতর দিয়ে বুক পর্যন্ত ছিলো লাঠি ঢোকানো। গা শিউরে ওই লাশটি, এক সুইপার নিয়ে গিয়েছিলেন ঢাকা মেডিকেলের মর্গে।
এটা শুধু একটি ঘটনার বিবরণ, এমন গা শিউরানো বিভৎসতার ঘটেছিলো ঘরে ঘরে। যার নেতৃত্ত্বে ছিলো আজকের জামায়াত এবং তাদের নেতারা। এ এক অমেঘ সত্য অস্বীকার করার পথ নেই। আর অস্বীকার করেও পার পাওয়া যাবে না। মজার ব্যাপার হল, এই যুদ্ধাপরাধীরা যুদ্ধপরবর্তী সময়ে নিজেদের কুকর্ম ঢাকার জন্য একটি রাজনৈতিক দল গঠন করে জামাতে ইসলামী নামে।

“আমাদের ধর্ম ইসলাম বিনা বিচারে কাউকে হত্যার অনুমতি দেয়নি। সে যত বড় অপরাধই হয়ে থাক না ক্যানো। রাসুলুল্লাহ (সঃ) আমাদের কে ধৈর্য্য ধরতে শিখিয়ে গেছেন, আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে শিখিয়ে গেছেন, মানুষকে ও তার মতকে সম্মান করতে শিখিয়ে গেছেন। আমরা যদি তার অনুসারি হয়ে থাকি তবে হত্যাজজ্ঞ অবশ্যই পরিত্যাজ্য। আইনের শাসন অনুযায়ী কোন অপরাধের সাক্ষ্য-প্রমানের সাপেক্ষে তার একটি বিচার হবে, সেটা আমাদের দেশের আইন হোক বা ইসলামী আইন হোক। এই আইনের শাসনের জন্যেই তো আমরা আজ শাহবাগ সহ সারা দেশে আন্দোলন করছি, নতুবা যে ঘৃন্য অপরাধ রাজাকাররা করেছে তাতে তো কথাবার্তা ছাড়াই হত্যা করা যেতো, এরা কি কখনো ভাবে মহানবী (সঃ) কে নিয়ে অনেক বিদ্রুপ হয়, কিন্তু তিনি তার নিজের জীবদ্দশায় কি করেছেন তা কি আমরা মনে রাখি? তায়েফে যখন তাকে পাথর নিক্ষেপ করা হচ্ছিলো তখন কি করেছিলেন তিনি সেটা কি আমরা মনে করতে পারি? তিনি কি পালটা পাথর ছুড়েছিলেন বা ছুড়তে নির্দেশ দিয়েছিলেন নাকি দোয়া করেছিলেন নিক্ষেপকারীদের জন্য আল্লাহর কাছে (সংগ্রহীত)।” ইসলাম সান্তির ধর্ম, তাই ইসলাম কে ঢাল করে অন্যায়ের দিন শেষ জামাত ইসলামীর। ইসলাম যা বলে তা মানলে শান্তি আসবে, আর জামাত ইসলামী যা বলে বা করে তা মানলে সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসী ছাড়া কিছুই মিলবে না। খোদ জামাতিরাও জানে তারা ইসলাম মানে না মানলে আজ দেশে তাদের কে ঘৃনার চোখে দেখা হত না।
সন্ত্রাসী জামাতের মুল শক্তি হল ছাত্র শিবির যা নিষিদ্ধ ছাত্রসংঘ। নতুন নামে পুরান মদ। এরা তাদের নৃশংস কর্মকাণ্ডের জন্য বিশেষ ভাবে কুখ্যাতি অর্জন করে, উল্লেখ্য যে হাতে পায়ের রগ কেটে ও জবাই করে মানুষ খুন করাতে এরা বিশেষ বিশেষজ্ঞ।
রাজাকাররা কি ধরণের হিংস্র, তা বলে কোন দিন শেষ করা যাবে না। একাত্তরের খুনীরা কক্ষনোই আমাদের দেশ কে নিজের মনে করেনি। আজো করে না। আর কর না বিধায় আবারো নৃশংস হত্যাকাণ্ডে মেতে উঠেছে। ধর্ম রক্ষার নামে ভাংচুর, অগ্নি-সংযোগ ও সন্ত্রাসী তাণ্ডবে দেশ কে আবার অচল করে পিছিয়ে নিতে চাই ৪২ বছর। স্বাধীনতার পরাজিত শত্রুরা ওদের অব্দমিত মনের আশা পূরণের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন লোভী রাজনীতিবিদ ও দলের ছত্রছায়ায় নিজেদের শক্তিবৃদ্ধি করেছে।
জাতির প্রানের দাবীর জোরে আজ ওরা কাঠগড়ায়। ফাঁসি দাবীতে দেশ উত্তাল। যদিও এদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ত্বের হীনস্বার্থের জন্য তা হয়নি। ইতিহাস বলে, ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করেনা। আজ ৪২ বছর পর সারাদেশ আজ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে ঐক্যবদ্ধ। আবার জেগেছে জনতা, তরুণদের ডাকে আজ লাখো মানুষ পথে, শাহবাগ চত্বরে। একাত্তরের মত আজ নারী শিশু, ছাত্র জনতা, সর্ব স্তরের মানুষ পথে, একাত্তরের ঘাতকদের সঠিক বিচারের দাবীতে সোচ্চার সাধারণ মানুষ। আইন আদালতে বন্ধী এই ভয়ঙ্কর অপরাধীদের বাঁচাতে গত কিছুদিন ধরে শিবির যে ধ্বংসযজ্ঞ দেশে চালাচ্ছে, খুন করছে নিরীহ মানুষ কে। ইসলাম কে হাতিয়ার করে, কুটচালে মানুষের একতায় ফাটল ধরাতে আবার হাতিয়ার করেছে, ইসলাম কে। আল্লাহ্‌ ও নবী (সাঃ) কে আবারো ব্লগের মাধ্যমে হেয় করে, জবাই করে মেরে ফেলল রাজীব কে। জাফর মুন্সীর সাহসী প্রতিরোধে ভীত জামাত শিবির তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলল। ঘাতকরা এই ভাবে যুগে যুগে ভয় দেখাতে চেয়েছে। কিন্তু বেশি দিন স্ফল হতে পারেনি, পারবে না আজো.
কারন যুব সমাজ জেগেছে, ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলনে, সালাম, রফিক, জব্বার বরকত সহ নাম না জানা আরো অনেক যুবকের প্রানের বিনিময়ে মাতৃভাষা অর্জন। ১৯৫২ হাত ধরে ১৯৭১ আমাদের মহান স্বাধীনতা। অকুতোভয় যুবকেরা কোন বাধা মানে না, আজো মানবে না। ভাবতেও অবাক লাগে কারা আজ জামাত করে! কারা আজ শিবির করে! সেই ছোট বেলা থেকে থেকে জামাতের মিশন চলে…কচি কচি ফুলেরর মত শিশুদের ফুলকুড়ি নামের সংগঠনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে ব্রেন ওয়াশ করে হিংসার বীজ বুনে দেয়া হয় এদের মনে। করে তোলে দেশদ্রোহী। এদের পিছনে দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা থাকে, বিপুল অর্থের মাধ্যমে,চাকরির মাধ্যমে, ব্যবসার মাধ্যমে ওরা গেড়ে বসেছে। আর বসে বসে তৈরী করছে মানবাস্ত্র-মানব বোম, নব্য রাজাকার। কি এদের পরিণতি?
ইতিহাস সাক্ষি, তাদেরও পরিনতি হবে তাদের নেতাদের মত। নিক্ষিপ্ত হবে ইতিহাসের আস্তুকুড়ে। তাদের পেছনে যে শক্তিই থাকুকনা কেন, কোন শক্তিই তাদের রেহাই দিতে পারবেনা। জনতা যখন জেগে ওঠে-অন্য কোনও শক্তি সেই শক্তির সামনে টিকতে পারেনা। আমাদের জনতা আজ এক , আর একতায় শক্তি, শক্তি অবিচলতায়। আর অবিচলতাই আমাদের আন্দোলন কে করে তুলেছে বেগবান।
শাহবাগ হয়ে সাধারণ মানুষের প্রান ভোমরা। দিনশেষে দেশপ্রেমীরা ছুটে আসছে। একটাই দাবী নিয়ে, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবীতে। অহিংস বিশাল এই আন্দোলনে ভীত জামাত শুরু করেছে একাত্তরের মত কুট কৌশল। ফাটল ধরাতে মরীয়া তারা আন্দোলনরত মানুষের মাঝে। বিবাদ লাগানো, উপহাস, অশ্লীল ভাবে উপস্থাপন করতে চাইছে জন আন্দোলন কে। ওরা নিজে ইসলাম কে হেয় করে দোষ দেবে আন্দোলনকারীদের, ওরা বোমা মারবে, জবাই করবে, ওরা ধর্ষণ করবে, ওরা চোরাগোপ্তা হামলা করবে, ওরা আজ মরীয়া নিজেদের চামড়া বাঁচাতে। দিনে দিনে ওরা আরো ভয়ংকর হয়ে উঠবে, তাই প্রতিবাদের সাথে প্রতিরোধও গড়ে তুলতে হবে। ইতিহাসের মীরজাফররা সবখানে আছে। আর ইতিহাসও বলে এই রাজাকার মীর জাফরদের পরিণতি করুণই হয়, দশের লাঠি যখন এক হয়। জনতার লাঠি আজ এক হয়েছে। নির্ভীক জনতা আজ পথে, তাই জামাতের ভয়, এই লাখো নির্ভীক মানুষ কে।
দেশের প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি জনতা চাই রাজাকারের ফাঁসি, যে শিশুটিকে মা বাবা একটু রৌদ্রের আঁচ লাগতে দেয়নি জন্মের পর, সেই শিশুটিকে নিয়ে মা বাবা এসেছেন শীত,রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে। যে বালকের স্কুল থেকে ফিরে খেলার মাঠে ছোটার কথা, সে খেলা ভুলে বাবার বা মায়ের হাত ধরে হাজির শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে। যে বালিকার খেলার কথা এক্কা দোক্কা, সে আজ প্রজন্ম মঞ্চে কচি হাতে বজ্র মুঠিতে শ্লোগানে গলা মিলিয়ে বলছে রাজাকারের ফাঁসি চাই। যারা এসি গাড়ি ছাড়া বের হননি কোথাও, তারাও আজ বসে আছেন শাহবাগ চত্বরে, খেটে খাওয়া মানুষের পাশে বসে সোচ্চার রাজাকার মুক্ত বাংলাদেশের দাবীতে। ১৯৭১ এর পর আজ আবার সব ধরণের সব বয়সের মানুষ কে এক কাতারে এনেছে। এক হয়ে রাজাকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন কে বেগবান করে তুলছেন। দশজন বাড়ির পথে গেলে বিশ জন যোগ দিচ্ছেন। শাহবাগ থামে না, শাহবাগ ঘুমাই না, শাহবাগ জেগে রয় আশিক্ষায়। দিন দিন বেড়ে ওঠা আন্দোলন কে বুকে নিয়ে শাহবাগ প্রজন্ম চত্বর ডাক দেয়, আরেকটি একাত্তরের, নতুন সূর্যের প্রত্যাশায়। রাজাকার মুক্ত দেশের প্রতীক্ষায়। ইতিহাস নতুন করে লেখার প্রত্যয়ে, ইতিহাস নতুন করে চেনাবে বিশ্ববাসী কে আমাদের রাজাকার মুক্ত বাংলাদেশ কে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৭ thoughts on “অহিংস আন্দোলনে ভীত জামাত।

  1. জনাব এম আর খানের ‘ওরে আমার
    জনাব এম আর খানের ‘ওরে আমার ইতিহাস’ তারপর কান্নার ইমোটা বুঝলাম না। উনি কি লেখিকার বলা ইতিহাসে কিছু ভুল পেয়েছেন? নাকি ‘ওদের’ সেই পুরোনো টেকনিক, ‘এখন আমাদের ইতিহাস/ফিতিহাস নিয়ে না ভেবে…কিভাবে দেশ গড়তে হবে তা-ই নিয়ে ভাবতে হবে?’
    আজ আমরা আমাদের ‘Young Barristers’ Forum’এর নামে শাহবাগে সংহতি প্রকাশ করতে যাচ্ছি। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি সংঘটনের নাম ছাড়া কারো নাম প্রচার করা যাবেনা।

  2. দেশকে রাজাকারমুক্ত করতে অজ
    দেশকে রাজাকারমুক্ত করতে অজ আমরা সোচ্ছার।যারা ইসলামকে ইচ্ছামত ব্যাবহার করে সেই জামআতকে আমি রাজনিতীতে দেখতে চাই না।আর এটাও সত্যি যে রাজীব যেমন ব্লগ লিখেছে তাও আর কখন ও কোন কখনো দেখতে চাই না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 2 = 3