থাবা বাবা ( রাজীব হায়দার) কী ধর্মের জন্য ” বলি ” হল নাকি আন্দোলনের জন্য?

প্রথমেই আসি ধর্মের প্রসঙ্গে। আমরা যারা ফেসবুক ও ব্লগে থাবা বাবাকে চিনি তারা সকলেই জানি থাবা বাবার সবচেয়ে বেশি লেখা ধর্ম নিয়ে। বিশেষ করে ধর্মকে ব্যঙ্গ করে। এখন কথা হচ্ছে ধর্মকে ব্যঙ্গ করে বা নাস্তিকতার জন্য তার উপর এই নির্মম আঘাত কী আসল? আমি বলব না। এই আঘাত তার নাস্তিকতা বা ধর্মের সমালোচনার জন্য আসে নি। কারণ যদি আসত তাহলে অনেক আগেই এই আঘাত আসতে পারত তাহলে কথা আসে এই আঘাত এখন আসল কেন?

http://img26.imageshack.us/img26/4994/kobid95175700511f33e199.jpg


প্রথমেই আসি ধর্মের প্রসঙ্গে। আমরা যারা ফেসবুক ও ব্লগে থাবা বাবাকে চিনি তারা সকলেই জানি থাবা বাবার সবচেয়ে বেশি লেখা ধর্ম নিয়ে। বিশেষ করে ধর্মকে ব্যঙ্গ করে। এখন কথা হচ্ছে ধর্মকে ব্যঙ্গ করে বা নাস্তিকতার জন্য তার উপর এই নির্মম আঘাত কী আসল? আমি বলব না। এই আঘাত তার নাস্তিকতা বা ধর্মের সমালোচনার জন্য আসে নি। কারণ যদি আসত তাহলে অনেক আগেই এই আঘাত আসতে পারত তাহলে কথা আসে এই আঘাত এখন আসল কেন?

http://img26.imageshack.us/img26/4994/kobid95175700511f33e199.jpg

যুদ্ধাপরাধী ফাঁসির জন্য যখন আন্দোলন শুরু হয় তখন থেকেই জামাত-শিবির এই আন্দোলনকে ব্যর্থ করার জন্য বিভিন্ন গুজব ও প্রপাগান্ডা চালিয়ে আসছে। প্রথম দিকে এই আন্দোলনকে নাস্তিক ও বামদের আন্দোলন বলে আসছিল। কিন্তু জনগণের অংশগ্রহণের জন্য তাদের এই প্রপাগান্ডা ব্যর্থ হয়। তারপর তারা এই আন্দোলনকে নাটক, সরকারের গেম ইত্যাদি বলে আসছে। জামাত-শিবিরের এমন মিথ্যাচার ও প্রপাগান্ডার সাথে যুক্ত হয়েছিল আমাদের দেশ এর মতন টিস্যুপেপারের মতন পত্রিকাগুলো। আন্দোলনে জনগণের সম্পৃক্ততা দেখে জামাত-শিবির ভয় পেয়েছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তারউপর আন্দোলনে জামাত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবী উঠেছে। তারপর থেকেই তারা এই আন্দোলনকে বানচাল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে থাকে। কয়দিন আগেই পুলিশের কাছে তাদের এক কর্মী স্বীকার করল যে; সারা দেশ থেকে ঢাকা শহরে কর্মী আনা হচ্ছে জনপ্রতি দুইশ টাকা দিয়ে। উদ্দেশ একটাই যুদ্ধাপরীধী বিচার বানচাল ও শাহবাগ আন্দোলন বানচাল। এখন কথা হল কেন থাবা বাবাকে বেছে নেওয়া হল। আরো অন্য ব্লগার তো রয়েছিল। অনেক বড় বড় ব্লগার তো জড়িত এই আন্দোলনের সঙ্গে। তাহলে কেন এই থাবা বাবা?

আপনাদের আগেই মনে রাখতে হবে; জামাত-শিবির কিন্তু কাঁচা কাম করে না। এদের প্রতিটি হত্যা ও ঘটনায় সুক্ষ পরিকল্পনা থাকে। এই হত্যাও তার বাহিরে নয়। এই হত্যাও তারা সুপরিকল্পিতভাবেই ঘটিয়েছে। তারা ব্লগারদের মধ্যে বেছে নিল থাবা বাবাকে। যিনি এই আন্দোলনের সাথে যুক্ত। এই আন্দোলনের পক্ষে অনলাইনে যুদ্ধ করে যাচ্ছিলেন। আগেই বলেছি তার অসংখ্য লেখা আছে ধর্ম নিয়ে। স্বভাবতই তাকে আঘাত করার পর অনলাইনে সংবাদটি ছড়িয়ে পড়বে, পত্রিকায় তার নাম আসবে, শাহবাগ থেকে তার পক্ষে কথা বলা হবে ঠিক তখনই তার লেখাগুলো অনলাইনে ছড়িয়ে দেবে ছাগুরা। লক্ষ্য করলে দেখবেন; থাবা বাবার হত্যার পর থেকেই বিভিন্ন পেইজ ও ছাগু আইডিতে থাবা বাবা নাস্তিক বলে গালাগালি ও সাথে তার লেখা গুলোর লিংক শেয়ার করা হচ্ছে। এই কাজ করার ফলে কিছু অসহায় ধর্মপ্রাণ মানুষ লেখাগুলো দেখে ব্যথিত হচ্ছে এবং মানুষিক ভাবে থাবা বাবার বিপক্ষে চলে যাচ্ছে। অনেকে তো দেখলাম কমেন্ট করতে- “ যেই এই কাজ করেছে তাকে ধন্যবাদ কারণ এর এমনই হওয়া উচিত ছিল”।

যারা এমন কথা বলছেন তাদেরকে চলছি; আপনি একবার ভাবুন তো আপনার কোন লেখা যদি অন্য কারোর ভালো না লাগে বা অন্য কাউকে আঘাত করে এর মানে কী এই; ঐ লোকটা আপনাকে হত্যার করার বৈধতা রাখে? কারো লেখা ভাল না লাগলে জাস্ট ইউনোর করেন। তার আইডিতে বা তার লেখায় যাওয়ার দরকার নেই। কিন্তু আপনি যদি লেখার জবাব লেখায় দিতে না পেরে শারীরিক আঘাতে দেন এবং এর পক্ষে সাফাই গান তাহলে আপনাকে কাপুরুষই বলতে হচ্ছে। আপনি তাকে তার মতাদর্শের জন্য হত্যা করায় খুশি হলেন কিন্তু কয়দিন পর যে আপনার মতাদর্শের জন্য আপনি খুন হবেন না তার গেরান্টি কী?

বর্তমানে থাবা বাবার লেখা গুলোকে সামনে এনে চলমান আন্দোলনে বিভেদ সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। তারা বার বার প্রমাণ করতে চাচ্ছে এটা নাস্তিকদের আন্দোলন এটা ইসলামের শত্রুদের আন্দোলন। তাই আমাদের সর্তক থাকতে হবে এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে জামাত-শিবির যেন কোন ফায়দা নিতে না পারে। আন্দোলনের কারণে থাবা বাবাকে জবাই হতে হল তাই আমাদের সকলেই নৈতিক দায়িত্ব এই আন্দোলনকে সফল করার জন্য ঝাপিয়ে পরা। আন্দোলন যদি স্বার্থক হয় তাহলেই হয়তো থাবা বাবা প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মতন কোন কাজ হবে।

আমাদের একটা কথা মনে রাখতে হবে থাবা বাবা সবসময় জামাত-শিবিরের বিরুদ্ধে ছিলেন, ছিলেন সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধেও। তাই তো রাজাকারের ফাঁসি ও জামাত-শিবির নিষিদ্ধে দাবীতে রাজপথে নেমেছিলেন তিনি। তাই তার ব্যক্তিগত ধর্মীয় আদর্শকে বড় করে না দেখে দেশের প্রতি তার ভালবাসা ও দৃষ্টিভঙ্গিটিতেই বড় করে দেখুন। কারণ থাবা বাবা একটু শিবির মুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যেই আমার, আপানার মতন রাজ পথে নেমেছিল। তাই এই দায় আমরা কেউ এড়াতে পারি না।

থাবা বাবার লাস্ট পোস্ট-

কোথায় কিভাবে বর্জন করতে হবে তার রুপরেখা নির্ধারন করাটা খুব জরুরী। কারন আমাদে দৈনন্দিন জীবনে কোথায় নেই তারা… একতা বাদ দিয়ে অন্যটাতে যাব, সেখানেও তাদের সেবাই নিতে হবে! আজকে যে ইন্টারনেট সেবা নিয়ে আমরা অনলাইনে আন্দোলন করছি তার মধ্যেও তো জামাতি অংশ আছে… তার মানে কি সর্ষেতে ভূত নাকি আমরা পয়সা দিয়ে নেটের বাইটস কিনছি বলে সেটা সিদ্ধ!

একটু চিন্তা করা দরকার… একটা সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন খুব জরুরি! কারন জামাতি প্রতিষ্ঠান বলে যাদের বয়কট করবো, তার মালিকানা রাতারাতি বদলে যেতে পারে… সিম্পল শেয়ার আদান প্রদানেই মালিকানা বদলে যাবে!

তবে আমার জায়গা থেকে একতা জিনিস আমি বলতে পারি, পরিচিত জামাত সংশ্লিষ্ট পন্য ও প্রতিষ্ঠান যার যার জায়গা থেকে বর্জন করুন, যেমন তাদের মূল কাগজ সংগ্রাম বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-কোচিং ও তাদের সাংস্কৃতিক সংগঠন!
http://www.kalerkantho.com/?view=details&type=gold&data=news&pub_no=1154&cat_id=1&menu_id=13&news_type_id=1&index=1&archiev=yes&arch_date=15-02-2013

থাবা বাবা আমাদের ক্ষমা কর। আমাদের ব্যর্থতার কারণেই তোমাকে আজ “বলি” হতে হল। আমাদের দূর্বলতাই কথাই শুধু বলে যাচ্ছে তোমার ঐ নিথর দেহ। অনেক অভিমান নেয়ে দেহটি পড়ে ছিল রাস্তায়। আমরা তোমাকে বাঁচাতে পারলাম না। তবে কথা দিচ্ছি তোমার আমার সকলের স্বপ্ন পূরণ করেই আমরা ঘরে ফিরব। রাজপথ ছাড়ছি না।

জয় বাঙলা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২১ thoughts on “থাবা বাবা ( রাজীব হায়দার) কী ধর্মের জন্য ” বলি ” হল নাকি আন্দোলনের জন্য?

  1. থাবা বাবাকে মেরে ফেলা
    থাবা বাবাকে মেরে ফেলা জামায়াত-শিবিরের অনেক সুপরিকল্পিত প্রকল্প। তাকে মেরে আন্দোলন বানচাল করার জন্য অনলাইন এক্টিভিস্টদের মধ্যে আতংক ছড়ানো যাতে আন্দোলনকারীরা ভয়ে আন্দোলন ছেড়ে দিয়ে ঘরে ঢুকে যায়। তারা অনেক বড় ভুল করেছে। আন্দোলনকে তারা আরো উস্কে দিল। অনলাইন এক্টিভিস্টরা এত ভীতুর ডিম না। আমরা জেনে শুনেই আন্দোলনে নেমেছি, আমরা জানি কোন হায়েনাদের বিরুদ্ধে আমাদের এই আন্দোলন। থাবা বাবা আমাদের বর্তমানের আন্দোলনের সহকর্মী। এই আন্দোলনের কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। এখানে আস্তিক-নাস্তিক দ্বন্দ মুখ্য বিষয় নয়। আশাকরি কেউ বিভ্রান্ত না হয়ে আমাদের সহযোদ্ধা থাবা বাবার অসমাপ্ত কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আজ থেকে দ্বিগুন উৎসাহে আমরা আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়ব। সকল যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি ও জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ না করা পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না।

    আন্দোলনের স্বার্থে সবাইকে এই পোস্টটি শেয়ার দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

    1. দুলাল ভাই, আপনার কমেন্টের
      দুলাল ভাই, আপনার কমেন্টের সাথে সম্পূর্ণ একমত।

      আমরা ভয় পেতে শিখি নি আমরা ভয় পাই নি। আমার জামাত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করেই তারপর ঘরে ফিরব।

  2. পোস্টের সাথে সহমত। থাবা বাবার
    পোস্টের সাথে সহমত। থাবা বাবার মৃত্যু এই আন্দোলনকে আরো উস্কে দিলো। এইবার আর ফাসি না, বরং জবাই করা হোক এই দাবী জানাচ্ছি।

  3. সম্পূর্ণ সহমত।কিন্তু আমার মনে
    সম্পূর্ণ সহমত।কিন্তু আমার মনে হয় না জনগন দ্বিধা বিভক্ত হবে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে।তারাই হবে যারা আগে থেকেই দ্বি্ধা বিভক্ত ছিল।

    ইস্টিশন মাস্টারকে পোষ্টটা স্টিকি করার অনুরোধ জানালাম।

  4. এই নিয়ে ফেবুতে কিছু বিভ্রান্ত
    এই নিয়ে ফেবুতে কিছু বিভ্রান্ত প্রচারণা চালাচ্ছে ছাগুরা। এর বিরুদ্ধে আমাদের আরো সক্রিয় প্রতিরোধে নামতে হবে। যারা কেবল অফিসের কারনে পথে আসতে পারছেননা, তারা দয়া করে আর একটু বেশি সময় দিয়ে এদের মোকাবেলা করেন।

  5. জামাত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করেই
    জামাত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করেই আমরা ঘরে ফিরব। তাই জনগণকে আরো বেশি সহনশীল ও ধৈর্য ধরে থাকতে হবে। আমাদের মধ্যে বিভেদ কোন ভাবেই কাম্য নয়। আজ রাজিব খুন হল, কাল আমি আপনি একেক করে সবাই তাদের নজরে পড়ব। তাই আর সময় নেই বিভেদ করার আমারা আমাদের সকল শক্তি নিয়ে জামাত-শিবিরের মোকাবেলা করতে চাই।…………….. আশা করি আন্দোলন আরো বেগবান হবে।

  6. শালার পুতেগো মনে
    :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: শালার পুতেগো মনে চায়>>>….>>>.<<<<<>>>

  7. চমৎকার বিশ্লেষণ। মডুকে
    চমৎকার বিশ্লেষণ। মডুকে ধন্যবাদ পোস্টটি স্টিকি করার জন্য। আমাদেরকে খুব সতর্কভাবে পা ফেলতে হবে। একটু ভুল করলেই শিবির সেই সুযোগটা নিয়ে ভুল করবে না।

  8. ব্লগার থাবাকে কেন হত্যা করা
    ব্লগার থাবাকে কেন হত্যা করা হয়েছে এটুকু বুঝার মতন মানসিক পরিপক্কতা আশা করছি আমাদের প্রজন্মের আছে। তাই শিবিরের এই চক্রান্ত আমাদের বিভ্রান্ত করতে পারবে না। কোন বিভ্রান্তির জালে এই প্রজনমকে আটকে রাখতে পারবে না জামাত শিবির। জয় আমাদের হবেই, এই স্থা বুকে রেখেই আন্দোলনের সাথেই আছি।

  9. একটা ছোট্ট সমীকরণ দিয়ে
    একটা ছোট্ট সমীকরণ দিয়ে বলিঃ
    রাজিব এর নাস্তিকতা + রাজিবের শাহ্‌বাগে যাওয়া = রাজিব এর মৃত্যু!!
    রাজিব এর নাস্তিকতা = জীবিত এক Fundamental Atheist!
    [ এইখানে ধরে নিলাম রাজিব উগ্র ধর্ম- বিদ্বেষী ছিল]
    সুতরাং, সমীকরণে দেখা যাচ্ছে শাহ্‌বাগে যাওয়াটাই তাঁর মৃত্যুর কারণ!! নাস্তিক ফরহাদ মাজহার কে তারা খুন করে নাই! কারণ সে শাহ্‌বাগের চেতনা ধারন করেন না। অর্থাৎ, সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত রাজীব শাহ্‌বাগে যাওয়ার জন্যেই শহীদ হইছেন!

    বিস্তারিতঃ “নাস্তিকতা নাকি প্রতিবাদী রাজীবের মৃত্যু তাকে শহীদের মর্যাদা দিল?”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 5 = 3