নো ল্যান্ডস ফর দ্য ব্লগারস…

সাম্প্রতিক সময়ে ব্লগার শব্দটি মনে হয় আমাদের দেশে সবচেয়ে আলোচিত। ব্লগারদের ডাকা কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবির আন্দোলন গণজাগরণে পরিণত হয়েছে। একজন ব্লগারের জীবন কেড়ে নিয়েছে খুনী জামাত শিবির চক্র। এরই প্রেক্ষিতে উঠে এসেছে ব্লগারদের নিরাপত্তার প্রশ্নটি। সরকার বিষয়টি একেবারে এড়িয়ে যায়নি। তবে যে ধরনের লোকজনকে নিরাপত্তা দেয়ার কথা হচ্ছে তারা কেউ আদতে ব্লগারই না। একজন প্রকৃত ব্লগারকে কি আসলে কেউ নিরাপত্তা দিতে পারে? আমার মনে হয় পারে না। কারণ ব্লগার নিজেই সেই পথটা বন্ধ করে রাখেন। তাকে মেইন স্ট্রিম মিডিয়ার ব্যবসা টিকিয়ে রাখার রাজনীতিতে যেতে হয় না। তাই তিনি কথা বলে চলেন সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে। যার অনেকটা রাষ্ট্রেরও বিরুদ্ধে যায়। এমন একজনকে রাষ্ট্র কেন নিরাপত্তা দিতে আসবে? এখানে আমি ব্লগার আনিস রায়হানের কতগুলো পোস্ট হাল্কা পরিচিতিসহ তুলে দিলাম। এ থেকেই পরিষ্কার হয়ে যাবে কেন একজন ব্লগার সবখানেই অপাঙতেয়!

সহীহ্ শিবিরনামা
অনলাইন জগতে জামাত বিরোধী সবচেয়ে আলোচিত কাজ এটি। এই পোস্টটির শুরুতে আনিস রায়হান লিখেছেন- ”ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে হামলা-সহিংসতা-সংঘর্ষ নতুন কিছু নয়। তবে এক্ষেত্রে অপরাপর ছাত্র সংগঠনগুলোর সাথে শিবিরের মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। শিবির সরাসরি হত্যার মিশনে নামে। তাছাড়া এরা যাকে আঘাত করে তাকে চিরতরে পঙ্গু-অচল করে দেয়। এর মাধ্যমে তারা সংশিস্নষ্ট কর্মীটিকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেয়ার এবং অন্যদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে তাদেরকে সাবধান করে। এজন্য শিবিরের নৃশংসতার সাথে অন্য কারো তুলনা হয় না। হাতুড়ি, রড, ইট, মুগুর দিয়ে হাড় গুড়ো করে দেয়া, রিকশার স্পোক কানের ভেতর ঢুকিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মগজ বের করে আনা, হাত ও পায়ের রগ কেটে দেয়া, চোখ উপড়ে ফেলা, মেরুদণ্ড ভেঙ্গে ফেলা, কব্জি কেটে নেয়া, কিরিচ, ছোরা, কুড়াল ব্যবহার করে হত্যা করার মতো নৃশংসতা এদেশের ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে কেবল শিবিরের নামের সাথেই যুক্ত। ফিরে তাকানো যাক একবার শিবিরের বর্বরতার দিকে।”
এরপর একে একে শিবিরের সব অপরাধের খতিয়ান তুলে ধরা হয়েছে এই পোস্টে। পোস্টটি নাগরিক ব্লগের ট্যাবে ঝোলানো আছে। অদ্যাবধি আর কোনো ব্লগারের পোস্ট দিয়ে কোনো ব্লগে ট্যাব করা হয়নি। এই পোস্টটি সম্ভবত অনলাইনে সবচেয়ে বেশিবার পঠিত, শেয়ার হওয়া এবং কপি পেস্ট হওয়া পোস্ট। অনেক জায়গাতেই আমি দেখেছি এই পোস্ট কপি পেস্ট মারা হয়েছে। কিন্তু আনিস রায়হানের নামটা দেয়া হয়নি। তার বক্তব্য আবার ভিন্ন। এক জায়গায় তার মন্তব্য দেখলাম এই নিয়ে- এটা জামাত শিবিরের অপরাধের খতিয়ান। যত লোক এটা জানবে তত ভালো। নাম স্বীকার করুক বা না করুক।

শিবির ধোয়া তুলসী পাতা!
তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট। ১০ বছরে শিবির গ্রেপ্তারের একটা তালিকা। এই পোস্টে তিনি লিখেছেন- ”যখনই কোনো শিবির কর্মী গ্রেপ্তার হয় তখনই তারা দাবি করে যে, ঐ কর্মী তাদের নয়। তারা বলে যে, তাদের দলে কোনো সন্ত্রাসী নেই। তারা সবাই ধোয়া তুলসী পাতা। কিন্তু ইতিহাস এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা বলে ভিন্ন কথা। বিগত ১০ বছরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অপরাধে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রড়্গাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্র শিবিরের নেতা-কর্মী্র সংখ্যা হাজারেরও ওপরে। হত্যা, গুম, রাহাজানি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, নারী নিপীড়ন, অবৈধ অস্ত্র বহন, বিস্ফোরক দ্রব্য এবং বোমা বানানোর সরঞ্জাম উদ্ধারসহ এমন কোনো সন্ত্রাসী তৎপরতা নেই যার সঙ্গে শিবিরের নেতাকর্মীদের যোগসাজশ নেই। রাষ্ট্র কর্তৃক শিবির পাকড়াওয়ের ইতিহাসই বলে দিচ্ছে শিবির কি ধোয়া তুলসী পাতা নাকি এদেশে সন্ত্রাসের অন্যতম হোতা। এখানে বিগত ১০ বছরের একটা ছোট্ট হিসেব দিতে চাই।”

রাজশাহীর যত শিবির ক্যাডার
এই পোস্টটা ঠিক এরকম- ”রফিকুল ইসলাম খান। বর্তমানে ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমির। ইতোপূর্বে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সভাপতি এবং পরবর্তীতে শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি। ’৮৮ সালে জুলাইয়ের ১ম সপ্তাহে আরো প্রায় শতাধিক শিবির ক্যাডারের সঙ্গে রাবির আমির আলী হল ছাত্র সংসদের জিএস ও জাসদ ছাত্রলীগ নেতা প্রিন্সসহ ২০-২৫ জনের ওপর হামলার সময় এবং এর ক’দিন বাদেই ১৭ জুলাই ভোরে রাবির এস এম হলে ঢুকে জাসদ ছাত্রলীগের আইয়ুব আলী, বাদল এবং হল সংসদের ভিপি নওশাদের হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়ার সময় তাকে হামলার পুরোভাগে দেখা যায়। প্রায় ৪ বছর বাদে আবার তাকে এ্যাকশনে দেখা যায় ’৯২-এর ১৭ মার্চে। রাবির ইতিহাসে ’৯২-এর এই হামলাই ছিল সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হামলা।”
এভাবে নাম ধরে ধরে সুনির্দিষ্টভাবে ঘটনা উল্লেখ করে শিবির নেতাদের অপকর্মের খতিয়ান তুলে ধরা হয়েছে এই পোস্টে। এরকম সাহসী কাজ বাংলা অনলাইন জগতে আর পাওয়া যাবে না।

শিবিরের কিলিং মিশন – বেঁচে যাওয়া দুইজন
এই লেখাটিতে শিবিরের দুটি নৃশংস-ভয়ঙ্কর কিলিং মিশনের মধ্য থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া দুজন ছাত্রনেতার ভাষ্য থেকে ঘটনা দুটির পূর্ণ বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। লেখাটি পড়লে অনেকেই কেঁদে ফেলবেন। কঠিন মনের মানুষও কিছুক্ষণের জন্য বাক হারিয়ে ফেলবেন। শুধু যদি জামাত শিবিরের আছর তার ওপর না থাকে।

সুবিধা পাচ্ছে হিযবুত তাহরীর!
নিষিদ্ধ হিযুরা কিভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে তা নিয়ে একটা অনুসন্ধানী কাজ। রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় হিযবুত তাহরীরের সদস্যরা কিভাবে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে, কিভাবে নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালানোর পরিকল্পনা করছে, কিভাবে তাদের সহায়তা করছে জামায়াত, অর্থের প্রাচুর্য ও কতিপয় রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় নিষিদ্ধ এ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা দিন দিন কিভাবে বেপরোয়া হয়ে উঠছে তা এই পোস্টে সুন্দরভাবে দেখিয়ে দেয়া হয়েছে।

হিযবুত তাহরির : নিষিদ্ধ জঙ্গি জামিনে মুক্ত!
এই পোস্ট পড়লে আপনার চোখ কপালে উঠে যাবে। কোনো নিষিদ্ধ দলের সদস্যদের যদি এই শাস্তি হয় তাহলে আপনি আমি আর জামাত নিষিদ্ধের দাবি করতে যাবো না। এই পোস্টে আনিস রায়হান লিখেছেন, ”হিযবুত তাহরিরের কোনো কর্মী আটক হলে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ এর ৮, ৯, ১২ ও ১৩ ধারায় মামলা করে। এই চারটি ধারার মধ্যে ১২ নম্বর ধারাটি অপরাধ প্রমাণের বা নির্ণয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। ১৩ নম্বর ধারাটি প্রমাণ করা সময় ও সুযোগ সাপেক্ষ। তাই হিযবুত তাহরির কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রধানত ৮ ও ৯ নম্বর ধারাতেই বিচার হওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু ৮ ও ৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী অপরাধ প্রমাণিত হলেও সর্বোচ্চ সাজা হবে ছয় মাস বা দুই বছর। ৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী সভা আহবান ও বক্তব্য দেয়ার বিরুদ্ধে ব্যভস্থা নেয়া হচ্ছে। এ ধরনের কাজগুলো করে নেতৃস্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা। এদের জন্য সাজা নির্দিষ্ট করা হয়েছে মাত্র দুই বছর। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের নেতার সাজা যদি হয় সর্বোচ্চ দুই বছর তাহলে দেশের অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, বিষয়টা ভাবনার দাবি রাখে।”

রামুতে ধর্মান্ধ মুসলিমদের নগ্ন হামলা
এটা ছিল একটা আপডেট পোস্ট। এই পোস্টের মাধ্যমেই তখন আমরা অনেকে আনিস রায়হান ও চিন্তিত সৈকতের মাধ্যমে রামুর ঘটনার খবর পাচ্ছিলাম।

ড. হুমায়ুন আজাদের কবর ভাঙার প্রস্তুতি চলছে
২২ জুন, ২০১২ তারিখে হুমায়ুন আজাদের কবর ভেঙে ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল মৌলবাদীরা। এই পোস্টের মাধ্যমে প্রথম ঘটনাটি দেশবাসিকে জানান আনিস রায়হান। এর আগে কোথাও এ নিয়ে কোনো নিউজ হয়নি। এটা ছিল আপডেট পোস্ট। অনন্য আজাদের সঙ্গে প্রতি মুহূর্তে কথা বলে এই পোস্টটিতে আপডেট দেয়া হচ্ছিল। এই পোস্টের মাধ্যমেই এহেন জঘণ্য ঘটনার বিপক্ষে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়।

৭১ বিস্মৃত ছবিঅলা
এরকম কাজ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। ৭১ এর আলোকচিত্রীদের খবর এর আগে কেউ কোথাও লেখেনি। এই লেখায় ৭১ এর আলোকচিত্রীদের প্রায় সবার নাম এসেছে। এই পোস্টটা শুরু হয়েছে এভাবে- ”৭১ কী? বললেই চোখে ভাসবে কতগুলো ছবি। শোষণ, নির্যাতন, অসহযোগ, আগরতলা ষড়যন্ত্র, ছয় দফা, বঙ্গবন্ধু, ’৭০-এর নির্বাচন, ৭ মার্চ, ২৬ মার্চ, গণহত্যা, সম্ভ্রমহানি, আগুন, লুটপাট, রাজাকার, মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধ, বীরত্ব, আত্মত্যাগ আর বিজয় এমন কিছু খণ্ড খণ্ড ছবি। এসব ছবি দীর্ঘ সময়ের। তবু আমাদের কাছে এগুলো মুক্তিযুদ্ধ সংশ্লিষ্ট কাজ হিসেবেই পরিচিত। মুক্তির জন্য যারা অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছিল তারা সবাই ছিল মুক্তিযোদ্ধা। তাদের বাইরেও অনেকে ছিলেন। যারা শরণার্থীদের সাহায্য করেছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়েছেন, খেতে দিয়েছেন, ভোর হলে ডেকে দিয়েছেন। এদের সবাইকে আজ আমরা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মানি। কিন্তু শুধু কি এই? যুদ্ধের এই ডামাডোলের মধ্যে শুধু ক্যামেরা হাতে বেরিয়ে পড়েছিল কিছু মানুষ। ছুটে বেড়িয়েছেন রণাঙ্গনে, ক্যান্টনমেন্টে, লুকিয়ে লুকিয়ে অনুসরণ করেছেন হানাদার ও তার দোসরদের। ধরে রাখতে চেয়েছেন একখণ্ড ইতিহাস। জীবন বাজি রেখে তোলা তাদের সেইসব ছবি দিয়ে আজ আমরা ’৭১-কে দেখি, স্মরণ করি। আজ যখন বারংবার প্রশ্নবিদ্ধ ইতিহাসের পাতা তখন এই ছবিগুলোই একমাত্র অকাট্য প্রমাণ। যাদের ত্যাগে এসব দলিল আমরা হাতে পেয়েছি, যাদের ত্যাগে আজো ’৭১ জীবন্ত, তাদের আমরা কতটুকু জানি। কতটুকু স্মরণ করি। কতটুকু মূল্যায়ন করতে পেরেছি সেই কৃতী সৈনিকদের?”
বিস্মৃতির অতল থেকে ৭১-এর কৃতী সেইসব ছবিঅলাদের খুঁজে বের করেছেন আনিস রায়হান

নির্যাতনই যেন তার নিয়তি
এটাও একটা অনুসন্ধানী লেখা। যৌনকর্মীদের অধিকার, দুঃখ, কষ্ট, বঞ্চনা, বাস্তব অবস্থা নিয়ে এর চেয়ে ভালো কোনো লেখা আছে বলে মনে হয় না।

বিশ্বব্যাংকের চাপে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ :: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কৌশলপত্রের থাবা
জগন্নাথের আন্দোলনকে গতিশীল করতে এই পোস্টটি লিখেছেন তিনি। এই পোস্টে তিনি লিখেছেন- ”সরকার অধিকার বাস্তবায়নের পথে না গিয়ে শিক্ষা খাতের বাণিজ্যিকীকরণের পথে হাঁটছে। সরকারিকরণের আওতায় নতুন আসা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে কেস স্টাডি হিসেবে নিয়েছে তারা। কৌশলপত্রের নীতি অনুযায়ী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের কাছ থেকে অতিরিক্ত সেমিস্টার ফি আদায়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রত্যেক ছাত্রকে এখন থেকে প্রতি সেমিস্টারে ২০ হাজার টাকা করে পড়ালেখার খরচ বাবদ বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দিতে হবে। এই নতুন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা আন্দোলন শুরু করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে আপাতত সেই আন্দোলন ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।”

প্রাণবন্ত উচ্ছ্বল কিশোরীদের পাশে দাঁড়ান
ভিকারুননিসার আন্দোলনকে গতিশীল করতে এই পোস্টটি লেখেন তিনি। অনেক আবেগ নিয়ে লেখা এই পোস্টটি ভিকারুননিসা নিয়ে সে সময়কার অন্যতম আলোচিত একটা লেখা।

‘গুম’ আসছে…
এই পোস্টে লেখা আছে- ”মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ থেকে রাষ্ট্র এখন অনেক দূরে। নাগরিকের নিরাপত্তা এখন তার নিজের দায়িত্বে। উপনিবেশের নেটিভদের মতোই মুক্তিকামীরা এখন সন্ত্রাসী- জীবন বাজি রেখে পথ চলতে হয় তাদের। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্র প্রথম আনে ক্রসফায়ার, তারপর বেশ কিছুদিন চলল গণপিটুনি, এখন চলছে গুম। গুমের এই প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ যদি সফল হয় তাহলে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? ক্রসফায়ারে তবু লাশ পাওয়া যায়। রাষ্ট্রের জবাবদিহিতার প্রশ্নটি সামনে আনা যায়। যদিও তারা তা থোড়াই কেয়ার করে। কিন্তু গুম হলে, আসলে মানুষটি কোথায়- এটা ভাবতে ভাবতেই চলে যায় অনেকগুলো দিন। গুম যেন অন্ধকারের থাবা। কি হচ্ছে, না হচ্ছে কোনো কিছুই অনুমান করা যায় না। থানায় গেলে মামলা নেয় না। রাষ্ট্র বলে দেয়, দেখেন পালিয়ে বিদেশ চলে গেছে। খুব বেশি কিছু আর করার থাকে না।”
গুম কি জিনিস, তা নিয়ে সচেতনতা তৈরি করা, সামাজিক আন্দোলনের তাগিদ দেয়ার উদ্দেশ্যেই এই পোস্টটি লেখা হয়েছে।

তবে তার সবচেয়ে বেশি কাজ তেল গ্যাস জাতীয় সম্পদ নিয়ে। এই বিষয়ে তাকে একজন বিশেষজ্ঞ বলা চলে। নানা ইস্যুর ডামাডোলে চাপা পড়ে যাচ্ছে গ্যাস পাচারের খবর, রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র : ধ্বংস হয়ে যাবে সুন্দরবন, মাননীয় অর্থমন্ত্রী, বাপেক্স কি বন্ধ করে দিতে চান?, বিদ্যুতের দাম বাড়ছে! মানুষ বাঁচবে তো? জনবিরোধী সব সিদ্ধান্তের বেলায় ‘হাকিম নড়ে, হুকুম নড়ে না’জলবায়ু তহবিল ঘিরে বিশ্বব্যাংকের ষড়যন্ত্র, ৩০ হাজার কোটি টাকার ব্যান্ডউইথ ভিওআইপিতে! বিদেশি কোম্পানিগুলো নিয়ে গেছে আমাদের ১৬ হাজার কোটি টাকা, এরকম আরো অসংখ্য লেখা আছে তার।

গ্যাস চুক্তি নিয়ে বিএনপি : ধরি মাছ না ছুঁই পানি
এই পোস্টটিতে বিএনপির চরিত্র উন্মোচন করেছেন সাহসিকতার সাথে। লিখেছেন- ”সরকারের মেয়াদ আড়াই বছর গত হবার পর নানা ইস্যুতে আন্দোলনে সোচ্চার প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। সরকারের গদি যে কোনো ইস্যুতে টলায়মান করতে এখন তারা বদ্ধপরিকর। খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ, আওয়ামী নেতাদের সন্ত্রাস ও দলীয়করণ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, শেয়ারবাজার ধস, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, তারেক রহমানের মামলা প্রত্যাহার ও সংবিধান সংশোধনসহ নানা ইস্যুতে ইতোমধ্যে হরতালের মতো কঠিন কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত জামায়াত নেতাদের মুক্তি, সংবিধানে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস কথাটি প্রতিস্থাপন এবং নারী ও শিক্ষানীতি বাতিলের হরতালেও সমর্থন দিয়েছে তারা। কিন্তু এতসব ইস্যুতে কঠোর কর্মসূচিতে গেলেও গ্যাস উত্তোলনের জন্য সরকার যখন চুক্তির উদ্যোগ নেয় বিএনপিকে তখন এ নিয়ে সোচ্চার হতে দেখা যায়নি।”

আনিস রায়হান পেশায় সাংবাদিক। ‘সাপ্তাহিক’ ম্যাগাজিনে কাজ করেন। তবে সাংবাদিকতার চেয়েও ব্লগে তার আগ্রহ বেশি। এটা স্পষ্ট হয় তার ব্লগপোস্টগুলোর দিকে তাকালেই। সংবাদপত্রের অনেক প্রতিবেদনই তিনি ব্লগে দেন। অনেকক্ষেত্রে তা পত্রিকার ভাষায় না। ব্লগের পাঠকদের রুচি অনুযায়ী অনেক লেখার পুনর্বিন্যাস করেন। আর শুধু ব্লগপোস্ট হিসেবে যা লিখেছেন তার সংখ্যাও অনেক। সাংবাদিকতার চাকরি শেষে, নিজের ব্যক্তিগত জীবনে সময় দিয়ে ব্লগে তিনি এত লেখা লেখেন, এটা বিষ্ময়কর। তবে একারণেই বোধহয় ব্লগ জগতে তার মন্তব্য সবচাইতে কম। তার অনেক পোস্ট আছে যেখানে পাঠকদের অসংখ্য মন্তব্য কিন্তু তিনি নিজে একটি মন্তব্যেরও জবাব দেননি। আমার মনে হয় এ কারণেই এই মানুষটা এতসব অসাধারণ লেখা লিখেও অনেকটা আড়ালে রয়ে গেছেন। তবে আমাদের আড়ালে থাকলেও তার শত্রুরা ঠিকই তাকে চেনে। বিদ্যুৎখাত নিয়ে সরকারের তৎপরতা, নানা খাতের দুর্নীতি, দলীয় দাপট, ক্রসফায়ার-গুমের মতো রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, বিশেষ করে জামাত শিবির হিজু ও মৌলবাদ বিরোধী লেখার জন্য তার শত্রুর শেষ নেই। নিজে কমিউনিজম প্রত্যাশী হলেও বাম দলগুলোর নানা ভূমিকার কঠোর সমালোচক। এসব করে করে এই মানুষটা শুধু শত্রুই বানিয়েছেন। আর হয়ে উঠেছেন প্রকৃত একজন ব্লগার। এখন ব্লগারদের নিরাপত্তার প্রশ্নটা সামনে এলেও আমার মনে হয় না আনিস রায়হানকে রাষ্ট্র এতটা আদর করবে। আমরা এখনো এত সভ্য হতে পারিনি। নো ল্যান্ডস ফর দ্য ব্লগারস…

নাগরিকব্লগে আনিস রায়হান-এর পোস্টসমূহ

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২৮ thoughts on “নো ল্যান্ডস ফর দ্য ব্লগারস…

  1. চমতকার লেখা। লেখাটা আসলেই
    চমতকার লেখা। লেখাটা আসলেই স্টিকি করার মতন। এই লেখাটা বাংলা ব্লগের ইতিহাসের একটা অংশ হয়ে থাকবে ব্লে আমার বিশ্বাস।

  2. লেখাটা স্টিকি করা হোউক। দুলাল
    লেখাটা স্টিকি করা হোউক। দুলাল ভাইয়ের সাথে একমত। সরকারী নিরাপত্তা হয়তো স্ট্যাটাস বাড়ায়, তবে নিরাপত্তা কতটা বাড়ায় আমার সন্দেহ আছে। আমাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমাদের নিতে হবে। হুমায়ুন আহমেদের একটা লেখা আছে এ ব্যাপারে…সম্ভবত তাঁর ‘কাঠপেন্সিল’ বইটাতে। বিবাহবিচ্ছেদ পরবর্তী একাকীত্ব জীবনে তিনি একবার সরকারী নিরাপত্তা পেয়েছিলেন। তাঁর প্রাণ হয়েচিল ওষ্ঠাগত। নিজের খাওয়া দাওয়ার ঠিক নাই, কিন্ত পুলিশ ভাই খেল কিনা তা দেখতে হত! শেষে পুলিশ ভাই নিজেই উনার কাছ থেকে টাকা নিয়ে বাজার করে রান্না করে দুজনে মিলে খেতেন [সব পুলিশ তো আর একরকম হবে না]আমরা ব্লগাররা অধিকাংশই তরুন। পায়ে হেঁটে, রিক্সায়, বাসে চলি। চিন্তা করুন, আমি বাসে ঝুলছি আর আমার সাথে একটা পুলিশ বাসে ঝুলছে। ঐ ব্যাটা বিরক্ত হয়ে আমাকেই মেরে ফেলতে পারে। আনিস ভাইসহ আমাদের সবার নিজের নিরাপত্তা নিজেকেই দেখতে হবে। আর চাক্ষুষ অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, পুলিশের নিরাপত্তাটা শুনতে যতটা ইন্টেরেস্টিং শোনায় বাস্তবে ততটাই বিরক্তিকর। [এই মন্তব্যটা আগেই দিয়েছিলাম মনে হয় ‘ইষ্টশনে প্রবেশ’ করা হয়নি বলে মডারেশনে গেছে]।

  3. স্টিকি রায়হানের লেখা একসময়
    স্টিকি রায়হানের লেখা একসময় খুজে খুজে পড়তাম।আমার অবাক লাগে অন্য জায়গায়।ইদানীংকার ব্লগ-ফেসবুকে অনেক রথী-মহারথীদেরই দ্যাখা যায় তারা বাস্তব জীবনে কখনই নিজের পরিচয়টা দেয় না,কোন জায়গায় গিয়ে সাহস করে বলে না যা আমিই অমুক।এমনকি আজকের শাহবাগে উপস্থিত থাকলেও নিজের পরিচয় দেয় না।যদিও তারা মারমার কাটকাট ল্যাখা প্রসব করে।সেদিক থেকে আনিস রায়হান একেবারেই আলাদা।আনিস রায়হানকে সেলুট।দুলাল ভাইকেও ধন্যবাদ এমন একটা সামারী দেবার জন্যে।

  4. (No subject)
    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    1. আনিস ভাইকে তার সহীহ
      আনিস ভাইকে তার সহীহ শিবিরনামাকে আরো সুন্দরভাবে সাজিয়ে, আরো আপডেট দিয়ে নতুন কোন সুন্দর নামে ‘ইস্টিশন’-এ দৃষ্টিগোছর জায়গায় ঝুলানোর ব্যবস্থা করার জন্য আনিস ভাই ও ইস্টিশন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

  5. লেখাটা স্টিকি করা হোউক। এরপর
    লেখাটা স্টিকি করা হোউক। এরপর না জানি আনিস ভাইকে টার্গেট করে । এটা ফেবুতে শেয়ার করা প্রয়োজন :থাম্বসআপ:

  6. শত ফার্মের মুরগীর মাঝে একতা
    শত ফার্মের মুরগীর মাঝে একতা দেশি মুরগী থাকলে যা হ​য় বাংলাদেশে ব্লগারদের সেই অবস্থা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 87 = 89