আলমাস একটি সিনেমা হলের নাম

২৫শে জানুয়ারী, ২০১৩ তে বহুল প্রতীক্ষিত মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর টেলিভিশন মুক্তি পেল, দিন গুনছিলাম চট্টগ্রামে কবে আসবে। আরো কিছুকাল অপেক্ষার পর যখন শুনলাম চট্টগ্রামে এসেছে টেলিভিশন, তখন আর দেরী করতে চাইলাম না। আন্দোলনে আন্দোলনে চট্টগ্রামের রাজপথ যখন উত্তপ্ত, এমন একটা সময় বউয়ের পীড়াপীড়িতে শেষমেশ গতকাল সন্ধ্যায় গিয়ে টেলিভিশন দেখে এলাম। ছবি নিয়ে কিছুই বলার নাই। এককথায় চমৎকার গল্প। ফারুকীর চলচ্চিত্র ভাষার স্বাতন্ত্র বিশ্ব চলচ্চিত্র ইতিহাসে একটা আলাদা স্থান তৈরী করে দিয়েছে বাঙলা সিনেমাকে। আজ বাঘা বাঘা চলচ্চিত্র বোদ্ধারা বাঙলাদেশে যে সিনেমা তৈরী হয়- এটা জানেন।

আমি আসলে এখানে টেলিভিশনর পোষ্টমর্টেম করতে আসিনি। ওটা চলচ্চিত্র সমালোচকের কাজ। একজন সাধারণ চলচ্চিত্রপ্রেমী হিসেব যা বলতে চাচ্ছিলাম- আলমাস” চট্টগ্রামের একটি প্রখ্যাত সিনেমা হল যা দীর্ঘদিন ধরে এখনো টিকে আছে। এবং সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ভালো মানের সিনেমা প্রদর্শন করে যাচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের মালিকানাধীন এই সিনেমা হলটি চলছে একেবারেই অব্যবস্থাপনার মধ্যে। গ্র্যান্ড সার্কেলের টিকেটের দাম- ৮০ টাকা। টাকার অঙ্কে খুব বেশি হয়ত নয়। চট্টগ্রামে ১০০/১৫০ টাকা খরচ করে সিনেমা দেখার দর্শক আছে প্রচুর।
আসুন সিনেমার টিকেট নিয়ে একটু এনালাইসিস করি:

প্রবেশ মূল্য- ১৩.০০
শীতাতপ চার্জ- ১৬.০০
মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ- ১৮.৩৯
জেনারেটর চার্জ- ৮.০০
মূসক- ৮.৩১
পৌর কর- ১.৩০
মোট– ৬৫.০০

টিকেটে উল্লেখিত মূল্যের চাইতে অতিরিক্ত টাকা কেন নেয়া হচ্ছে, প্রশ্ন করে কোন জবাব পেলাম না।

শীতাতপ চার্জ (!!!): মাথার উপর হাতে গোনা কয়েকটি ক্যাঁচর ম্যাঁচর করা ফ্যান ঝুলছে। কোন বাতাস নেই। শীতাতপ যন্ত্রের কথা বাদই দিলাম।

মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ (!!!): সিটগুলোতে বসতে গেলে মাথায় হেলমেট আর বুলেটপ্রুফ ভেস্ট লাগিয়ে বসতে হবে। নিচ থেকে ছারপোকারা টেনে ধরে না রাখলে তো মশারা প্রায় উড়িয়েই নিয়ে যাচ্ছিলো আমাকে। পাশে দেয়ালে কফ-থু থু-পানের পিকের বাহারী পেইন্টিং। সিনেমার পর্দাটা পুরোই অন্ধকার ও ঘোলা। সাউন্ড কোয়ালিটির কথা না-ই বা বললাম।

শৌচাগার (!!!): ওটাকে শৌচাগার না বলে ভাগাড় বললে বোধহয় কম বলা হবে। কি নেই সেখানে? দূর্গন্ধে সেখানে কোন সুস্থ মানুষ ৩০ সেকেন্ডের ভেতর কাজ শেষ করতে না পারলে অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকবে সেখানে। কনডম, ত্যানা, সিগারেটের প্যাকেটে জ্যাম হয়ে আছে প্যান। মনুষ্য বর্জ্য উপচে পড়ে আছে সর্বত্র। পানি আর ময়লায় চারিদিকে সয়লাব। দরজায় নেই কোন লক/সিটকিনি। রীতিমত নরক গুলজার অবস্থা।

পুরো হলের এই নোংরা পরিবেশটা কি বদলানো সম্ভব না? মানুষ হলমুখী হচ্ছে এখন। বাঙলা সিনেমার অবস্থা এখন অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এর পরেও মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের মত একটা প্রতিষ্ঠান এটি নিয়ন্ত্রণ করে। এই প্রতিষ্ঠানটি আকন্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে ধুঁকতে ধুঁকতে নিজস্ব মালিকানাধীন অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে ইতিমধ্যে। সিনেমা হলটিও বোধহয় এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই পটল তুলবে। চট্টগ্রামের চলচ্চিত্র দর্শকরা ব্যাপক হতাশা নিয়ে তবুও বারবার সিনেমা দেখতে যায় এভাবেই। কেউ কি নেই এসব দেখার?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১২ thoughts on “আলমাস একটি সিনেমা হলের নাম

    1. একলা নই। সপরিবারেই বিড়ম্বনার
      একলা নই। সপরিবারেই বিড়ম্বনার শিকার হলাম। আপনেরে শিকার করতে হলে ইভনিং শো দেখার সময় থেকে অপেক্ষা করতে করতে ম্যাটিনি শোও মিস করতাম।

  1. সময় এসেছে আমাদের সিনেমা
    সময় এসেছে আমাদের সিনেমা হলগুলোর ব্যবস্থাপনার দিকে নজর দেওয়ার। কোলকাতায় দর্শক সিনেমা হলে গিয়ে প্রচুর সিনেমা দেখে। কেন দেখে? সেটা নিজে গিয়ে উপলব্ধি করেছি। মাত্র ১২০ রুপিতে হলিউডের একেবারে সাম্প্রতিক মুভি একেবারে ক্লাস ওয়ান মুভি থিয়েটারে দেখে বুঝেছি কেন ওরা হলে গিয়ে মুভি দেখে। আমাদের চলচ্চিত্র একটা নতুন মাত্রা পাচ্ছে। এখনই সময় অবকাঠামোর দিকে নজর দেওয়ার। লেখাটার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

    1. পড়ার জন্য ধন্যবাদ আতিক ভাই।
      পড়ার জন্য ধন্যবাদ আতিক ভাই। আসলেই সিনেমা হলের পরিবেশ দ্রুত পরিবর্তন করতে না পারলে বাঙলা চলচ্চিত্র দর্শক হারাবে।

  2. ১। সিনেমাটা দেখার ইচ্ছে আছে।
    ১। সিনেমাটা দেখার ইচ্ছে আছে।

    ২।সিনেমা শিল্পের দুরবস্থার জন্য হল গুলাও দায়ী। মানুষের জীবন মান পরিবর্তীত হয়েছে কিন্তু হলের পরিবেশ এখনো পরিবর্তন করতে পারেনি।

    ৩।আপনার কেোন খুঁজ খবর পাচ্ছি না কেন।

    ৪। পুরুষ মানুষ দুই প্রকার………… যার যা বোঝার বুইজ্জালন।

    1. ডাইনোসর:
      * সিনেমাটা

      ডাইনোসর:
      * সিনেমাটা অতিস্বত্ত্বর দেখে ফেলুন। মিস্কইরেন না।
      * হলগুলো এখন সিনেমা দেখা সংক্রান্ত ব্যাপার ছাড়া আরো বত্রিশ হাজার কাজে ব্যবহৃত হয়। রাতে দিনে বিবিধ তার ব্যবহার।
      * আমার খোঁজ খবর এই ঘরেই পাবেন। বাসা চেঞ্জ করলাম তো, তাই। আগের বাসায় হয়ত পুরনো প্রতিবেশীদের সাথে হাই-হ্যালো হবে, কিন্তু থাকবো না।
      * ওই দুই প্রকারের ২য় প্রকারের আরো ২টা বিভাজন আছে- সকর্মক আর অকর্মক। আমি হইলাম আকাইম্মা; তাই বোধহয় সময় বাইর করতে গলদঘর্ম হতে হচ্ছে এখনো.. 😉

  3. সিনেমা হলের মালিক আর দর্শকরা
    সিনেমা হলের মালিক আর দর্শকরা শুধু নাক চিটকায় বাংলাদেশে ভাল সিনেমা তৈরী করা হয় না। যে দেশে মানসম্পন্ন সিমেমা প্রদর্শণের হলের অভাবে দর্শক সিনেমা হলে যায় না, সেদেশে ভাল সিনেমা বানাইলেও দর্শক ক্যামনে যাবে? হলের মালিকদের ধরে এনে চটকানো উচিত।

    আপনি স্বপরিবারে একা একা ‘টেলিভিসন’ দেখে আসলেন! আমরা কি দোষ করলাম।

    1. হল মালিক আর সেই শ্রেণীর
      হল মালিক আর সেই শ্রেণীর দর্শকদের নাকে ঝামা ঘষে দেয়া উচিৎ। নইলে তাদের ওই নাক এইসব সিনেমা হলের ফ্লোরে খৎ দেয়া হলে তারা বুঝতে পারবে কেন দর্শক হলে আসতে চায়না।

      আমি স্বপরিবারে দেখতে এসেছিলাম, সিপিতে ঘোষণা শুনে- সবাই নাকি একযোগে দেখতে আসছে; কিন্তু এসে দেখি কোথায় কি? আমি আর আমার পরিবার ছাড়া আর কেউই নাই। কি আর করা, দেখে চলে গেলাম।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

15 + = 23