আন্দোলনের স্বার্থে যে সব কাজ থেকে বিরত থাকি।

আপনি কি লিখবেন, কি পড়বেন, কি শেয়ার দিবেন,কি মন্তব্য করবেন সেটা আপনার স্বাধীনতা আছে। এই নিয়ে আমি যেমন কারো কথা শুনতে বাধ্য নই। আপনিও বাধ্য নন। কিন্তু এই আন্দোলনের বিষয় চিন্তা করে আমিও অনেক বিষয়ে চুপ থাকি। অনেক বিষয়ে সতর্ক থাকি। অনেক বিষয়ে ঢোল পিটাই। আমি কেন করি, সেটাই বলতে চাই। আপনার পছন্দ হলে করবে না হলে করবে না।


আপনি কি লিখবেন, কি পড়বেন, কি শেয়ার দিবেন,কি মন্তব্য করবেন সেটা আপনার স্বাধীনতা আছে। এই নিয়ে আমি যেমন কারো কথা শুনতে বাধ্য নই। আপনিও বাধ্য নন। কিন্তু এই আন্দোলনের বিষয় চিন্তা করে আমিও অনেক বিষয়ে চুপ থাকি। অনেক বিষয়ে সতর্ক থাকি। অনেক বিষয়ে ঢোল পিটাই। আমি কেন করি, সেটাই বলতে চাই। আপনার পছন্দ হলে করবে না হলে করবে না।

প্রজন্ম চত্তর থেকে অনেক স্লোগানই আমি শিখেছি। চার পাশ থেকে অনেক স্লোগান প্রতিদিন যোগ হচ্ছে। এর মাঝে আমি কোনটা গ্রহন করবো কোনটা করবো না এটা সিদ্ধান্ত নেবার দ্বায়িত্ব আমার। যেমন গো আজম ইহুদি। এখানে ইহুদি কে নেতিবাচক ভাবে দেখানো হলো। আবার ধর্মান্ধের মতো একটা ধর্মকে আক্রমন করা হলো। এখন এই স্লোগানের বিরোধিতা করে আমি বিস্তর লম্ব ব্লগ লিখতে পারি। স্টাটাস দিতে পারি। কিন্তু আমি চুপ থেকেছি। এই স্লোগানে আমি কোন লাইক পর্যন্ত দেই নাই। আমার মতো অনেক মানুষের নিরবতা ই হয়তো এই স্লোগানটিকে জনপ্রিয় করতে পারে নাই। এই স্লোগান আন্দোলনের যে ক্ষতি করেছে এমনও মনে করিনা। অর্থাৎ যার ইচ্ছে দিক, আমার পছন্দ হয়নি আমি দেইনি। এটা উদাহরন দেবার জন্য বললাম মাত্র।

এই উদাহরণের মতো অনেক বিষয় চারপাশে প্রতিনিয়ত ঘটছে। আমি মনে করি এই বিষয়ে নিরবতা খুবই দরকারি। যে বিষয়ে বিভেদ তৈরী হতে পারে এমন বিষয়ে বিতর্ক করে,নিজের ইনটেলেকচুয়ালিটি হয়তো প্রকাশ করা যাবে। কিন্তু প্রকারন্তরে তা আন্দোলনের ক্ষতি করবে। আর বৃহত্তর স্বার্থে এসব ব্যপারে সমর্থন দেয়া এবং বিরোধিতা করা দুইটাই ক্ষতিকর হতে পারে।

আমাদের চেনা,প্রগতিশীল অনলাইন এক্টিভিস্ট দেখছি কোন ছাড় দিতে রাজি নয়। ছাড় দেয়ার সংস্কৃতি তাদের থাকলেও হঠাৎ কেন তারা নিজেদের নিজেদের বিরোধিতার করছে আমার বোধগম্য হচ্ছে না।

এই আন্দোলনে আমার মতের সাথে মিল আছে এমন মানুষ যেমন আছে, আমার মতের বিপরিতে এমন মানুষও আছে। আমরা একটা উদ্দেশ্যে এক সাথে মিলিত হয়েছি। সেই উদ্দেশ্যটা কে কোন ভাবেই খাট করে দেখে ব্যক্তিগত দর্শনকে দাঁড় করাতে পারিনা। হিন্দুর সাথে মুসলমান মিলেছে, সাদার সাথে কালো মিলেছে,পুঁজিবাদের সাথে সমাজতান্ত্রিক মিলেছে। আস্তিকদের সাথে নাস্তিক মিলেছে। ধনীর সাথে গরীব মিলেছে। আমাদের মাঝে অনেক বিভেদ থাকলেও আমরা তো একসাথে হতে পেরেছি। এক সাথে দীর্ঘ তেরটি দিন কাটিয়ে দিতে পেরেছি। তাহলে এখন কেন নতুন করে সমস্যা হচ্ছে?

সমাজের কিছু মানুষ আছে যারা এই আন্দোলনের পক্ষে কিংবা বিপক্ষে কোন মতামত দিচ্ছেনা। আপনি হয়তো তাদের আচরন বা তাদের এই নিশ্চুপতার বিষয়ে ভাল বুঝতে পারছেন। কিন্তু আমরা তো আর জানি না। যেমন ডা. ইউনুস। আমি বিতর্কের জন্য বলছি না,আমি ব্যক্তিগত ভাবে তাকে দেখতে পারি কি পারিনা সেটা ভিন্ন কথা। কিন্তু এই ইস্যুতে তাকে নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন দেখছিনা। আমি মনে করি এই রকম আরো সেলিব্রেটি আছে তাদের ব্যপারে নিশ্চুপ থাকা আন্দোলনের জন্য দরকার।

প্রতিদিন সংবাদ পত্রে বিএনপির নেতারা যে বিবৃত্তি দিচ্ছে। তার প্রতিউত্তর করে লেখা দিয়ে ব্লগ ভরে ফেলা যায়। দেয়া দরকারও আছে। কিন্তু গালা গাল দেয়াটা সঠিক পথ নয়। এই নেতার ব্যপারে আমি চুপ থাকার পক্ষে। সহজ কারন হলো এই যে প্রজন্ম চত্ত্বরে এত মানুষ জড়ো হয়েছে তাদের কেউ কেউ হয়তো বিএনপির কোন সংগঠন করে। আমরা কিন্তু তাদের সমর্থন পেয়েছি। এবং আশা করতে পারি তাদের দল থেকে নেতারা না আসুক কিন্তু সমর্থকরা এসে আন্দোলনে যোগ দিবে। এবং দিচ্ছে ও। তাই ব্যক্তিগত ভাবে যদি ঐ নেতাদের আক্রমন করি তবে তাদের সমর্থকদের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আর যদি আমরা ঐ ধরনের ধুরন্ধর ব্যক্তি ব্যাপারটি ইগনোর করি। অথবা পজিটিভলি তার প্রতিউত্তর করি তবে আন্দোলনের কোন প্রভাব না পরে বরং লাভ হবে।

ধর্ম ব্যপারে ও কিছু উৎসাহী দেখছি ঘোষণা দিচ্ছে এই আন্দোলন থেকে উগ্র ধার্মিকদের সাথে উগ্র প্রগতিশীলদের ও বাতিলের দাবী জানানো হোক। লক্ষ করলে দেখা যাবে কথাটা বিভেদ তৈরীর জন্য যথেষ্ট। কারন যে টাইপের মানুষই হোক সে যদি এই আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে লাইনে এসে দাঁড়ায় তাকে তাড়িয়ে কেন দিবেন। কেন তাকে বিভেদের দেয়াল তুলে এই আন্দোলনের উদ্দেশ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ দিবেন? বিপরীতও দেখা যায় কেউ উৎসাহি হয়ে রাজিবের জানাযা কেন পড়ানো হলো এই নিয়ে হৈচৈ শুরু করেছেন। এই দেখে মনে রবীন্দ্রনাথের কথা মনে পড়ে গেল” নতুন দাঁড়ি গজালে বার বার আয়নায় দেখতে ইচ্ছে করে” । তাদেরকে প্রশ্ন করি রাজিবের জানাযা হওয়ায় আপনাদের(নাস্তিকদের ) কি সমস্যা হলো? নাকি আপনারাও পরকালে বিশ্বাস করেন যে জানাযা পড়ায় রাজিবের আত্মা শান্তি পাবে না। এই প্রসঙ্গ উত্থাপন করার কোন কারন আমি খুঁজে পাইনি। যারা করেছেন সচেতন ভাবে হোক কিংবা অচেতন ভাবে হোক, কেবল বিভেদ তৈরীর জন্য করেছেন।

ফেসবুকে অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিকর লিংক গুলো শেয়ার থেকে বিরত থাকি। যে সব বিষয় অস্পষ্ট মনে হয় তাও লাইক বা কমেন্ট থেকে বিরত থাকি। যাতে এই স্টাটাস টি খুব বেশি মানুষের নজরে না আসে।কোন ভাবেই নেতিবাচক খবর শেয়ার দেই না। যে খবর গুলো আন্দোলনকে বেগবান করতে পারে। আন্দোলনকারীদের উৎসাহিত করতে পারে। সেই খবর গুলো নিয়মিত শেয়ার দিতে থাকি।

আন্দোলনের সাথে প্রযোজ্য নয় এমন বিষয় টেনে এনে বিতর্কিত করার চেষ্টা কেবল বিরোধীরা ই করতে পারে। আপনি যদি আন্দোলনের বিরোধিতা করতে চান করতে পারেন। তবে সমর্থন দিয়ে অযথা বিভেদ তৈরী থেকে বিরত থাকবেন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২৮ thoughts on “আন্দোলনের স্বার্থে যে সব কাজ থেকে বিরত থাকি।

  1. কিছুক্ষণ আগে প্রজন্ম তরিকুল
    কিছুক্ষণ আগে প্রজন্ম তরিকুল ইসলাম শান্ত নামের এক ভাই আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন।এরপরও আমরা নিজেদের ভিতর রেষারেষি থামাব না।

  2. এই আন্দোলনে আমার মতের সাথে

    এই আন্দোলনে আমার মতের সাথে মিল আছে এমন মানুষ যেমন আছে, আমার মতের বিপরিতে এমন মানুষও আছে। আমরা একটা উদ্দেশ্যে এক সাথে মিলিত হয়েছি। সেই উদ্দেশ্যটা কে কোন ভাবেই খাট করে দেখে ব্যক্তিগত দর্শনকে দাঁড় করাতে পারিনা। হিন্দুর সাথে মুসলমান মিলেছে, সাদার সাথে কালো মিলেছে,পুঁজিবাদের সাথে সমাজতান্ত্রিক মিলেছে। আস্তিকদের সাথে নাস্তিক মিলেছে। ধনীর সাথে গরীব মিলেছে। আমাদের মাঝে অনেক বিভেদ থাকলেও আমরা তো একসাথে হতে পেরেছি। এক সাথে দীর্ঘ তেরটি দিন কাটিয়ে দিতে পেরেছি। তাহলে এখন কেন নতুন করে সমস্যা হচ্ছে?

    সহমত।

    আর বিএনপি বা এরকম দলগুলোর নেতাদের দেওয়া বাজে বক্তব্যের বিরোধিতা করাটা জরুরি। কিন্তু সেটা অবশ্যই যৌক্তিক এবং শালীন ভাষায়। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে এখন মাথা ঠাণ্ডা রাখাটা খুব জরুরী। এই এক আন্দোলন থেকে পুরা দেশ একেবারে ত্রুটিমুক্ত হয়ে যাবে এটা আশা করা ভুল। বরং ব্যাপারটা এভাবে ভাবা উচিৎ, এই আন্দোলন হোক পরিবর্তনের প্রথম ধাপ। এই কথা বলার কারন হচ্ছে, চারপাশে অনেককেই দেখছি এই আন্দোলন নিয়ে অনেক বড় বড় উচ্চাশা পোষণ করে বসে আছেন। একটা পর্যায়ে গিয়ে এরাই হতাশ হয়ে আন্দোলন নিয়ে নানান নেতিবাচক কথা বলবে। তাই আগে থেকেই উচ্চাশা পোষণ করা উচিৎ নয়। বাস্তবতা বুঝতে হবে। ৪২ বছরের আবর্জনা ১ মাসে দূর করা সম্ভব না।

    1. সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে এখন মাথা

      সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে এখন মাথা ঠাণ্ডা রাখাটা খুব জরুরী। এই এক আন্দোলন থেকে পুরা দেশ একেবারে ত্রুটিমুক্ত হয়ে যাবে এটা আশা করা ভুল। বরং ব্যাপারটা এভাবে ভাবা উচিৎ, এই আন্দোলন হোক পরিবর্তনের প্রথম ধাপ। এই কথা বলার কারন হচ্ছে, চারপাশে অনেককেই দেখছি এই আন্দোলন নিয়ে অনেক বড় বড় উচ্চাশা পোষণ করে বসে আছেন। একটা পর্যায়ে গিয়ে এরাই হতাশ হয়ে আন্দোলন নিয়ে নানান নেতিবাচক কথা বলবে। তাই আগে থেকেই উচ্চাশা পোষণ করা উচিৎ নয়। বাস্তবতা বুঝতে হবে। ৪২ বছরের আবর্জনা ১ মাসে দূর করা সম্ভব না।

      একেবারে মনের কথা বলেছেন। কিছু মানুষ শাহবাগ থেকে কেন আল্টিমেটাম দেয় না তার জন্য অস্থির হয়ে উঠেছেন।তাদের আরো ধৈর্যশীল হওয়া প্রয়োজন।

  3. আমাদের চেনা,প্রগতিশীল অনলাইন

    আমাদের চেনা,প্রগতিশীল অনলাইন এক্টিভিস্ট দেখছি কোন ছাড় দিতে রাজি নয়। ছাড় দেয়ার সংস্কৃতি তাদের থাকলেও হঠাৎ কেন তারা নিজেদের নিজেদের বিরোধিতার করছে আমার বোধগম্য হচ্ছে না।

    ভাইরে খুব সহজ।তা হচ্ছে লাইম লাইটে আসার খায়েস।তারা ভাবতেছে এতদিন ধরে লেখালেখি করলাম আর এখন সামনে আসতে পারতেছি না এই দেখেই মাথা খারাপ।যদিও তারা প্রথম দিন বুঝতে পারে নাই এইভাবে মানুষ আসবে।

    খুব কাজের একটা পোষ্ট দিছেন।তবে এইটা বিদ্রোহী সেলিব্রেটিরা বুঝলে হয়। তবে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আমরা সাহায্য করতে পারি বিতর্কিত পোষ্ট লাইক বা শেয়ার থেকে বিরত থেকে,সহমত।

    1. মিডিয়া আন্দোলনে যেমন
      মিডিয়া আন্দোলনে যেমন সহযোগিতা করছে। তাদের কারনে নতুন কিছু সমস্যাও হতে পারে। আশা করবো মিডিয়া কিছু মানুষকে লাইম লাইনে এনে বাকিদের উপেক্ষা করে আন্দোলনে বিভেদ তৈরী থেকে বিরত থাকবে।

  4. সময়পযোগী পোস্ট। আন্দোলনের
    সময়পযোগী পোস্ট। আন্দোলনের স্বার্থে আমাদের সবাইকে মুখে তালা লাগানো উচিত। কিন্তু আন্দোলনটা কি নিয়ে এটাও মনে রাখা উচিত। জামায়াত-শিবির ও যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন থেকে অনেকেই অন্য ধরণের স্বপ্ন দেখছেন। তাদের এই স্বপ্নের কারণে আমাদের মুল লক্ষ্য যেন ক্ষতিগ্রস্থ না হয়। সেটা যেমন আন্দোলকারীদের জন্য প্রযোজ্য, ঠিক তেমনি সরকার সমর্থিত গ্রুপগুলোর জন্যও প্রযোজ্য।

    সুন্দর ও সময়যোগী পোস্টের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

    1. জামায়াত-শিবির ও

      জামায়াত-শিবির ও যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন থেকে অনেকেই অন্য ধরণের স্বপ্ন দেখছেন। তাদের এই স্বপ্নের কারণে আমাদের মুল লক্ষ্য যেন ক্ষতিগ্রস্থ না হয়। সেটা যেমন আন্দোলকারীদের জন্য প্রযোজ্য, ঠিক তেমনি সরকার সমর্থিত গ্রুপগুলোর জন্যও প্রযোজ্য

      এই হলো মূল কথা।

  5. কাল রাতে ১১টায় দেখলাম প্রজন্ম
    কাল রাতে ১১টায় দেখলাম প্রজন্ম স্কয়ারে দুইপাতার একটা লিফলেট বেলানো হচ্ছে। ভেতরে বদরুদ্দিন উমরের একটা লেখা যাতে আওয়ামী লীগ জামতের সাথে আপোষ করেছিল, জামাতকে মহিলা আসন দিয়েছিল, সিমলা চুক্তি ইত্যাদি ইত্যাদি বর্ণনা। আর বিনা পয়সায় পেয়ে আমরাও তা গোগ্রাসে পড়ছি। আমার কথা হল বদরুদ্দিন উমররা কি চান? এসব প্রচার কি আমাদের মধ্যে বিভেদ ধরানোর জন্য না??? যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসী আমরা কোন রাজনৈতিক সরকারকে দিয়ে বাস্তবায়ন করবো… আমি নিশ্চিত প্রবল আওয়ামী ও জামাত বিরোধী ব্যক্তিও আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কারো উপর ভরসা করতে পারে না। তাহলে কেন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ও ক্ষমতাশালী দলটিকে এ আন্দোলন থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা উনারা করছেন। আমি নিশ্চিত এ ধরণের লিফলেট বিএনপির কোনো কর্মী শাহবাগে এসে বিলোলে মার খেত। জামাতবিরোধী হলে কিংবা যুদ্ধাপরাধীর শাস্তি চাইলে কেন উনারা এ কাজ করছেন, আমার বোধগম্য না।

    1. ইমরানুল কবির @
      আপনার

      ইমরানুল কবির @
      আপনার পর্যবেক্ষনের সাথে একমত। কিন্তু বিশ্লেষণের সাথে কিছুটা দ্বিমত আছে আমার। এখানে বদরুদ্দিন ওমর চাইলেও এই আন্দোলনে কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। ভাঙ্গন তো দূরের কথা। আর দ্বিতীয়ত হচ্ছে। আমাদের আন্দোলনের স্বার্থে চার পাশের সবার দিকেও সতর্ক থাকা দরকার। এমন কি আওয়ামীলীগের প্রতিও সতর্ক থাকাটা জরুরি বলে মনে করি। এই প্রচারণা যদি এই সতর্কতার অংশ হতে পারে। তবে এই নিয়ে উদ্বেগের কিছু দেখি না।

      1. আমিও তা বিশ্বাস করি এবং করতে
        আমিও তা বিশ্বাস করি এবং করতে চাই। আমি জানি উনি সারা জীবন তত্ত্ব নিয়েই কাটিয়েছেন, তাই আন্দোলনে প্রভাব বিস্তার করতে পারার ক্ষমতা তার কম। তবে পারা এক জিনিষ, আর পারতে চাওয়া আরেক জিনিষ। আমি উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন করেছি, তবে আপনার ব্যাখ্যা হল এর মাধ্যমে সবার দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা যেতে পারেএমন কি আওয়ামীলীগের প্রতিও সতর্ক থাকাটা জরুরি বলে মনে করি। এই প্রচারণা যদি এই সতর্কতার অংশ হতে পারে। তবে আপনার কথা কিছুটা স্ববিরোধী বলে মনে হচ্ছে। একদিকে আপনি বলছেন আন্দোলনের স্বার্থে এসব কথা বলে আন্দোলনকে দুর্বল করা হতে পারে, অন্যদিকে আপনি বলছে এই প্রচারণা সতর্কতার অংশ হতে পারে। একদিকে আপনাকে খুবই ‘উদ্বিগ্ন’ মনে হল, অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে বড় দলটির বিরুদ্ধে প্রচারণাতে আপনি কোনো উদবেগের কারণ দেখছেন না! আপনার লেখাটা আরেকবার পড়ে নিতে অনুরোধ করছি।

        1. আরেকটা কথা। ধরুন আপনি মনে
          আরেকটা কথা। ধরুন আপনি মনে করছেন ড: ইউনুসকে নিয়ে কোন কথা বলার দরকার নেই! কিন্ত আমার মনে হতে পারে, এটা সতর্কতার অংশ কারণ অনেকেই তাকে ভাল মনে করলেও এই আন্দোলনে তার চরিত্র উম্মোচিত হয়েছে। আমরা কেউওই পরিপুর্ণভাবে নির্ভুল নই কিন্ত আমাদের লক্ষ্য নিষ্কলুষ, তাই শুধু আপনার শঙ্কাই শঙ্কা আর আমার শঙ্কা অমুলক এতটা কনফিডেন্ট না হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে করি। [হয়তো আমি ভুল তবে আপনাকে আঘাত করার জন্য আমি এসব বলিনি, কিছু মনে নেবেন না]

          1. ইউনুস ইস্যু উত্থাপন না করলেও
            ইউনুস ইস্যু উত্থাপন না করলেও আন্দোলনের কিছু যায় আসে না। তাই এই প্রসঙ্গ টেনে ইউনুস ভক্তদের সাথে ঝগড়া করার পক্ষে নই।

            কিন্তু যাদের বিরুদ্ধে কথা না বলে চুপ করে থাকলে আন্দোলনে ক্ষতি হয়। এমন বিষয়ে চুপ থাকার পক্ষে আমি নই।

        2. একদিকে আপনাকে খুবই ‘উদ্বিগ্ন’

          একদিকে আপনাকে খুবই ‘উদ্বিগ্ন’ মনে হল, অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে বড় দলটির বিরুদ্ধে প্রচারণাতে আপনি কোনো উদবেগের কারণ দেখছেন না!

          আপনার কথা বুঝতে পেরেছি। কিন্তু আপনি আমার কথা বুঝতে পারেন নি। প্রসঙ্গ ক্রমেই বলতে বাধ্য হচ্ছি যে আওয়ামীলীগের এক নেতা বক্তৃতা দিয়েছে , এই আন্দোলন শেখ হাসিনার ডাকে হয়েছে। এখন যদি চুপ থাকেন,তাহলে আন্দোলনের চরিত্রই হারিয়ে যায়। আবার কথা বললে লীগের বিপক্ষে যায়। এখন আওয়ামীলীগের বিপক্ষে সতর্ক থাকা মানে এই নয় যে আন্দোলনের বিরোধিতা করা।

          আপনার লেখাটা আরেকবার পড়ে নিতে অনুরোধ করছি।

          আশা করবো এই ধরনের আঁতলামী থেকে বিরত থাকবেন।

          1. বাহ! আওয়ামী লীগের কোনো এক
            বাহ! আওয়ামী লীগের কোনো এক ‘অজানা’নেতার রেফেরেন্সে আন্দোলনের ক্ষতি হয়ে গেল। এতদিন তো এই দাবী শুনিনি। আপনিতো অনেক ধৈর্যশীল দাবী করছিলেন আপনাকে বরং বলছি সবাইকে নিজের বুদ্ধিমত্তার উপর ছেড়ে দিন। সবাইকে উপদেশ বিতরন করে আপনি নিজেকে নিজেই বড় ‘আঁতেল’দাবী করেছেন। আপনার কথা অত্যন্ত আপত্তিকর।

          2. এই বিষয়ে কথা বলতে আমার ইচ্ছা
            এই বিষয়ে কথা বলতে আমার ইচ্ছা হচ্ছেনা। কিন্তু ব্লগে রেফারেন্স না দিলে আপনি হয়তো মানবেন না। আসলে কোন অজানা লোকে বললে আমিও চিন্তা করতাম না। কিন্তু নাসিম বললে তো চিন্তা করতেই হয় তাইনা। http://www.natunbarta.com/politics/2013/02/16/11780/1b28bf2718ecb99d8e0542c407f626ef

          3. কোনো এক নাম না জানা আওয়ামীলীগ
            কোনো এক নাম না জানা আওয়ামীলীগ নেতার বক্তিতার কথা আপনার কাছেই জানতে পারলাম। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বলে আপনি আন্দোলন শক্তিশালী করতে চান! আপনি অন্যদের উপদেশ বিতরণ করে কি বলা যাবে কি বলা যাবেনা ঠিক করে নিজেই ‘আঁতেল’হওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করেছেন। আপনার আপাতঃ সহনশীলতার পেছনে আসল রুপ প্রকাশ পেয়ে গেছে। আপনি তো দেখছি একটা বিশাল ব্যাপার আপনাকে কিছুই বলা যাবেনা। আপনার মধ্যে ভদ্রতার অভাব প্রকট কারণ আপনার লেখা পড়ে দেখতে বলায় আপনি আমাকে আতলামী থেকে বিরত থাকতে বলছেন। আপনি হয়তো জানেন না আমার পেশাটাই আতলামীর। আমি আতলামী করেই জীবন ধারণ করি।

          4. ইমরানুল কবির @
            উপরে কোট করা

            ইমরানুল কবির @

            উপরে কোট করা অংশের জন্য আপনাকে আঁতেল বলা হয়েছে।যেখানে আপনি আমার লেখাটা আবার আমাকেই পড়তে বলেছেন।অন্য কোন কারনে নয়।

            আর আমি সাধ্য মতো আপনার বক্তব্যের উত্তর করার চেষ্টা করেছি।

            এই ব্লগের অনেক লেখাতেও পাবেন, আওয়ামীলীগ নিয়ে এক ধরনের সংকা অনেকের মাঝেই আছে। আমি এই সংকার ব্যপারে সতর্ক থাকতে বলেছি।

          5. এই আন্দোলনে আমার মতের সাথে

            এই আন্দোলনে আমার মতের সাথে মিল আছে এমন মানুষ যেমন আছে, আমার মতের বিপরিতে এমন মানুষও আছে। আমরা একটা উদ্দেশ্যে এক সাথে মিলিত হয়েছি। সেই উদ্দেশ্যটা কে কোন ভাবেই খাট করে দেখে ব্যক্তিগত দর্শনকে দাঁড় করাতে পারিনা।

            আমাদের মাঝে অনেক বিভেদ থাকলেও আমরা তো একসাথে হতে পেরেছি। এক সাথে দীর্ঘ তেরটি দিন কাটিয়ে দিতে পেরেছি। তাহলে এখন কেন নতুন করে সমস্যা হচ্ছে?

            এ কারণেই পড়ে দেখতে বলেছি। আপনি বলেছিলেন যেহেতু আমাদের উদ্দেশ্য এক সেহেতু কমন ইন্টেরেস্টের কারণে চুপ থাকা শ্রেয়। কিন্ত খোদ শাহবাগে বসে যখন আমাদের সবচেয়ে বড় সহযোগী দলের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা হয় আমার কাছে তা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা মনে হয়েছে এবং আন্দোলনের জন্য ক্ষতিকর মনে হয়েছে। আমার মনে হয়েছে, আপনার মুল প্রবন্ধের সাথে মিল রেখে আপনি বলতে পারতেন এই মুহুর্তে এধরণের কাজ করা অনুচিত হয়েছে। আমিই সঠিক তা দাবী করিনা, কিন্ত এটা আমার মত।

            দ্বিতীয়তঃ, নাসিম সাহেব বললেই কি সব তাঁর হয়ে গেল? যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসীর বিনিময়ে সব ক্রেডিট নাসিম নিক, যেই নিক, আমার দরকার ফাঁসী।

            তৃতীয়ত, ক্ষমতায় আছে আওয়ামী লীগ। তারা আমাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে আমাদের দাবী মেনে নিয়েছে, তাহলে আমি কেন শুধু শুধু তার সাথে ‘শঙ্কা’বশতঃ ঝগড়া লাগাবো। [‘নিরাপত্তা’ শব্দটা কিন্ত ব্যপক…হাল্কা ভাবে আমি নিই না]।
            আর কিছু বলতে চাই না। আপনি যত ইচ্ছা যুক্তি দেন, কিন্ত দয়া করে ব্যক্তিগত আক্রমণ করবেন না। তাতে প্রতি আক্রমণ এসে পড়ে, তাতে সভ্য মানূষ হিসেবে নিজের উপর আমার নিজেরই পরে রাগ হয়। আপনাকে ব্যথা দিয়ে আমি সমব্যথী।

            আমি শেষ করি এই বলে-
            লক্ষ মোমের প্রজ্জলিত শিখায় আমাদের দৃপ্ত অঙ্গীকার
            লক্ষ যুক্তিতে লক্ষ বিশ্লেষনে হবে আরো শানিত!

  6. বিশিষ্ট ব্যক্তিদের একাত্ত্বতা
    বিশিষ্ট ব্যক্তিদের একাত্ত্বতা জনগণ আশা করবে এটাই স্বাভাবিক কারণ এরা আর্ন্তজাতির ব্যক্তিত্ব। আর আমাদের ইউনুস তো শান্তির নোবেল বিজয়ী যার একটা কথায় অনেক কিছু হওয়া সম্ভব। তিনি রামু ইস্যুতে চুপ ছিলেন, সিডর থেকে শুরু করে যত ঝড় আসল আমরা তাকে সাথে পাই নি। বর্তমানে একটা নবগনজাগরণ হল তাতেও ড.ইউনুস কাকুকে সাথে পাই নি।

    তবে আন্দোলনের স্বার্থে সবাই একজোট হয়ে থাকতে হবে এর কোন বিপক্ল নাই। এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কোন কোন আবাল টিভি চ্যানেলে খোমা দেখিয়ে ফায়দা নিচ্ছে এগুলো নিয়েও কথা হচ্ছে। এসব কিছু বাদ দিয়ে দেশের স্বার্থে আন্দোলনের স্বার্থে আমাদের এক থাকতে হবে। রাজাকার ফাঁসি চাই এটাই মূল লক্ষ্য

    1. লালু কসাই @
      ইউনুস ইস্যুটা কেন

      লালু কসাই @
      ইউনুস ইস্যুটা কেন আনার পক্ষে নই তা উপরে কমেন্টে পরিষ্কার করেছি। ইউনুস সাহেবের মতো আরো কিছু ব্যক্তি আছে যারা দলগত আন্দোলনে কখনোই সাথে থাকেনি,এবং ভবিষ্যৎ এ ও থাকবে না। তাদের আশা আমরা করিও না।

  7. আমাদের চুপ থাকা যেন আন্দোলনের
    আমাদের চুপ থাকা যেন আন্দোলনের গতি রুদ্ধ করে না দেয় সেটা নিশ্চিত করা জরুরী । আর কোন মৃত্যু কাম্য নয় ।
    তবে আন্দোলনের স্বার্থে সবাই একজোট হয়ে থাকতে হবে এর কোন বিকল্প নেই । মতভেদ থাকলেও এখন কাঁদা ছেটাবার সময় নয় ।

    শুভ কামনা রইল ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

3 + 6 =