আজ কাদের মোল্লার রায়; ডেট ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ২০১৩

কারাগারে আর অন্য দিনের মতই নতুন একটা দিন শুরু হতে যাচ্ছে । আকাশ ফর্সা হতে শুরু করেছে । কাদের মোল্লার ঘুম ভেঙ্গেছে আগেই । সেলের ভেতর অস্বস্তিকর লাগে প্রায়শই কাদেরের । খিদে লেগেছে কি ? বিস্কিটের প্যাকেট খুলল সে । তাকিয়ে রইল নোনতা বিস্কিটের দিকে । ঢং ঢং ঘণ্টা বাজল । কারারক্ষীদের ডিউটি শিফট হবে এখন । সেল গুলো খুলে দেয়ার পর দৈনন্দিন মুখরতায় কারাগার চঞ্চল ।


কারাগারে আর অন্য দিনের মতই নতুন একটা দিন শুরু হতে যাচ্ছে । আকাশ ফর্সা হতে শুরু করেছে । কাদের মোল্লার ঘুম ভেঙ্গেছে আগেই । সেলের ভেতর অস্বস্তিকর লাগে প্রায়শই কাদেরের । খিদে লেগেছে কি ? বিস্কিটের প্যাকেট খুলল সে । তাকিয়ে রইল নোনতা বিস্কিটের দিকে । ঢং ঢং ঘণ্টা বাজল । কারারক্ষীদের ডিউটি শিফট হবে এখন । সেল গুলো খুলে দেয়ার পর দৈনন্দিন মুখরতায় কারাগার চঞ্চল ।

কাদের মোল্লা এখন প্রায় সময় কি করা উচিত বা কি চিন্তা করা উচিত বুঝে উঠতে পারেনা । ডাক্তারের নিষেধ দুশ্চিন্তা করা যাবে না। কিন্তু দুঃসহ দুঃস্বপ্নের মতো ফাঁসির রশির ছবি তার চিন্তা ভাবনায় সারাক্ষণ ঝুলতে থাকে। বাজে চিন্তা বাদ দেবার খাতিরে সে বিস্কিটে মনোযোগ দেয়। ভাবে ‘এই নোনতা বিস্কিট গুলো ভালই মজা।’ সাথে সাথেই আবার ভাবে , মজা ?? ফাঁসির দণ্ডাদেশ হয়ে যাবার পর তার শেষ ইচ্ছা কি কারা কতৃপক্ষ জানতে চাইলে সে কি বলবে তাই তো এখনো ঠিক করা হয়নি । শেষ কি ইচ্ছা করলে ভাল হয় ? নয়-ছয় , আগডুম বাগডুম শেষ ইচ্ছা ভাবতে শুরু করার ৫ সেকেন্ডের মাথায় তার কল্পনা পুনরায় সেই ফাঁসির দড়ি দখল করে । কাদের মোল্লা মন খারাপ করে দুটা বিস্কিট মুখে পুরে দেয় । বিস্বাদ লাগে মজার বিস্কিট । চিবুতে থাকে সে ।

করিডরে চিৎকার কে যেন কি বলছে ! একঘেয়ে উচু গলায় সেল গুলোর সামনে থেমে থেমে কি যেন পড়ে শোনায় কেউ । কান পাতে সে। স্যান্ডেল পরা পায়ের শব্দ এগিয়ে আসতে থাকে। কয়েদীর পোশাক পরা এক রাইটার’ সেলের গরাদে ধাক্কা দিয়ে ঘোষণা করে ‘কাদের মোল্লাআআ ; আজকা কোর্ট আছেএএ , ট্রাইব্যুনালের রায় আজকা।’ কল্পনাতীত আতংক গ্রাস করে কাদেরকে। তখনই সে টের পায় তার মুখ ভর্তি হয়ে আছে বালুতে। বালির জন্য সে জিহ্বা নড়াতে পারছেনা। গলা শুকিয়ে কাঠ। প্রচণ্ড ভাবে কাশি শুরু হয় তার। একটু ধাতস্থ হবার পর বুঝতে পারে তা বালু নয় বিস্কিট ছিল।

আজকেই রায় হবে? আজকেই ফাঁসি রায়? এমন ভয় সে বহুদিন পায়নি। দেশ স্বাধীন হবার পর ভয়ে ভয়ে ছিল বেশ ক’বছর। পরবর্তিতে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ভয় কেটে যায়। কসাই কাদের ধর্মে্র লেবাস দৃঢ় করেন। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও জিয়ার কল্যাণে রাজনীতিতে আবার আসে জামাত। পরে গোলাম আযমকে নাগরিকত্বও দেন বেগম জিয়া। যুদ্ধাপরাধী বা রাজাকার বিষয়ে দালাল আইন বাতিলের মাধ্যমে সহযোগিতা। বি এন পির কাছে কৃতজ্ঞতার শেষ নাই।

কাদের নিজেও কি কম কষ্ট করছে ? তার কি ইচ্ছা করত না ঘাদানিক এর সৈনিক দের ঘাড় ধড় আলাদা করে সিলিং ফ্যানে ঝুলাতে? ইচ্ছা কি করতনা শহীদ মিনার/স্মৃতি সৌধ ভেঙ্গে দিতে অথবা মুক্তিযোদ্ধাদের গনকবর দিতে ? কিন্তু কসাই নিজের মুল চেহারা আড়াল কি করেনি। তবে রগ কাটা ব্যাপারটা তার খুব ভালো লাগে। আলবদর আলবদর ফিল আছে।

শিবির করেটা কি? রায় হয়ে যাবে এখন? ইদানিং মেজাজ ধরে রাখতে পারেনা কাদের। ওইদিন কাঠগড়া থেকে নামার সময় মুখ ফসকে বেরিয়ে যায় ‘বাংলাদেশ হইছে বলে এত সাহস বাড়ছে’ এই বেফাঁস কথা মুহূর্তে অনলাইনে,খবরে,পত্রিকায় ছড়িয়ে পড়ে। ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেছে ভাবলেশহীন মুখ করে রাখতে। কিন্তু কাঁহাতক পারা যায়।মানুষ এতো বছরেও ভোলেনি।

আতঙ্কিত কাদের ভাবলেশহীন থাকার চেষ্টা করে। কিন্তু এজলাসে উঠানোর সময় কাকুতিমিনতি করে উঠে। কিছু একটা বলার অনুমতি চায়। আদালত পাত্তা দেয় না। রায় পাঠ শেষের পর কাঠগড়ায় দাড়িয়ে রায় শুনে কাদেরের বিশ্বাসই হচ্ছিলনা তার ফাঁসি হয় নাই, যাবজ্জীবন সাজা অনলি। তবে ঠিক কি কারনে ফাঁসি হয়নি তা কাদের নিজেও জানেনা। আদালত থেকে বেরিয়েই ‘V’ চিহ্ন দেখাল। আহ ফাঁসি থেকে বাঁচা গেল।

সেল এ পৌঁছে কল্পনায় সরকারের রদবদল, যাবজ্জীবন বাতিল,কারামুক্তি নিয়ে ভাবতে থাকে। ফাঁসির রশি নিয়ে ভয়টা আর নেই। এবার একবার বের হতে পারলে, কাকে কি শাস্তি দিবে ভেবে উত্তেজনা বোধ করে সে। রাতে জেলের একমাত্র বিনোদন বিটিভির খবর দেখে আবার গলা শুকাতে লাগলো তার। সাধারন জনগণ এ রায়ে সন্তুষ্ট না। রাতে ঘুমই হলনা।সকালে পত্রিকা হাতে পেয়ে সেই পুরনো আতংক তাকে আবার ঘিরে ধরে। সাথে আছে হতাশা। সাধারন তরুন ব্লগারদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার একটা ইভেন্ট সাধারন মানুষের মিলন মেলায় পরিনত হয়েছে পুরো শাহবাগ এলাকা। সবার দাবী একটাই। কাদের মোল্লার ফাঁসি।একই দাবিতে সোচ্চার চট্টগ্রাম, সিলেত,রাজশাহী,রংপুর। জনতার এই রূপ ভালো চেনে কাদের । একাত্তরে, বায়ান্নতে এভাবেই একাত্ম হয়েছিল বাঙালি। কাদের চোখে অন্ধকার দেখতে থাকে। এত অন্ধকারেও ফাঁসির দড়িটা স্পষ্ট চোখের সামনে ঝুলে থাকে

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “আজ কাদের মোল্লার রায়; ডেট ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ২০১৩

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

76 − 71 =