একুশ নিয়ে ঐকিক নিয়ম

অনেকেই মনে করেন একুশে ফেব্রুয়ারিতে শহীদ মিনারে এতো ফুল দিয়ে কি লাভ।তার চেয়ে টাকা দিয়ে ভাষা শহীদদের পরিবারকে সহায়তা করলেই বরং ভাল হয়।তারা আরো অনেক কথাই বলেন!শহীদ পরিবারকে সাহায্য করার ধারনা নিঃসন্দেহে মহতী কিন্তু ফুল দিয়ে কি হবে এই ভাবনাটা নিতান্ত অপ্রয়োজনীয়।একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের জন্য একটি শোকের দিন এবং একই সাথে বিজয়ের।নিজের ভাষায় কথা বলার অধিকার আদায়ের চেয়ে বড় বিজয় আর কি হতে পারে?


অনেকেই মনে করেন একুশে ফেব্রুয়ারিতে শহীদ মিনারে এতো ফুল দিয়ে কি লাভ।তার চেয়ে টাকা দিয়ে ভাষা শহীদদের পরিবারকে সহায়তা করলেই বরং ভাল হয়।তারা আরো অনেক কথাই বলেন!শহীদ পরিবারকে সাহায্য করার ধারনা নিঃসন্দেহে মহতী কিন্তু ফুল দিয়ে কি হবে এই ভাবনাটা নিতান্ত অপ্রয়োজনীয়।একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের জন্য একটি শোকের দিন এবং একই সাথে বিজয়ের।নিজের ভাষায় কথা বলার অধিকার আদায়ের চেয়ে বড় বিজয় আর কি হতে পারে?

এখন আসা যাক এই দিনে এই প্রভাতফেরী,এই খালি পায়ে হেঁটে যাওয়া,ফুল দেয়া এগুলো কেন গুরুত্বপূর্ন।প্রথমেই বলা দরকার মানুষের আবেগের সাথে অন্য কিছুর তুলনা না করাই ভাল।লাখো মানুষ এই ভোরে উঠে শহীদ মিনারে যায় ফুল দিতে,সেখানে ভাষা সৈনিকদের প্রতি যে ভালবাসা,যে সম্মান থাকে সেই সম্মান আর কোনভাবে দেখানো সম্ভব নয়।এখানে ধরি একটি গোলাপের দাম ৫ টাকা,সুতরাং এক কোটি গোলাপের দাম কত টাকা এজাতীয় অঙ্ক কষা নিতান্ত আতলামি ছাড়া আর কিছু না।মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে যে ভালবাসা দেখায় তা টাকা দিয়ে কিনা যায় না।
আমরা জাতি হিসাবে সংগ্রামী এবং সমালোচনাপ্রিয়।সব জিনিসেই আমরা ফাঁক খুজি।আর যেহেতু পৃথিবীর কোন জিনিসই নিখুত না সেহেতু ফাক তো পাওয়া যাবেই।কিন্তু যে বিষয়ের ইতিবাচক দিক বেশি তার খুঁত না খোজাই ভাল।
আবার বলে নেই একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের জন্যে শোকের দিন।সুতরাং এই দিনে উৎসব আমি সমর্থন করি না।কিন্তু শহীদদের সম্মান দেখানোর জন্যে প্রভাতফেরী,শহীদ মিনারে ফুল দেয়া এগুলোর মাঝে আমি কোন দোষ দেখি না।কারো প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য হয়তো আরো অনেক পদ্ধতিই আছে।কিন্তু আমরা বাঙালি,আমাদের নিজস্বতা আছে।আমরা স্বাধীন,আমরা আমাদের মতো করেই সম্মান দেখাবো,এটাই স্বাভাবিক।
এই দিনে ফুল কিনতে গিয়ে একজন মানুষের পকেট থেকে হয়তো ২০টা টাকা বের হয়ে যাবে কিন্তু এই ফুল নিয়ে যখন খালি পায়ে শহীদ মিনারে হেটে যাবে,তখন তার মনে মাতৃভাষা,মাতৃভূমি,সর্বোপরি সকল শহীদদের প্রতি যে ভালবাসা,সম্মান ও মমত্ববোধ জেগে উঠবে তার আর কোনভাবেই জাগানো সম্ভব নয়।শহীদ পরিবারকে সাহায্য করতে চাইলে এই ফুলের টাকার বাইরেও করা যায়।যারা এইটা নিয়ে সমালোচনা করে মুখে ফেনা তুলছেন তারা তারা শহীদ পরিবারের জন্য কে কি করেছেন জানতে মুনচায়!আর যারা শহীদ পরিবারকে সাহায্য করতে চায় তারা কি একুশে ফেব্রুয়ারির দিন ফুল কেনার পাচ দশ টাকা শহীদ মিনারের বেদীতে ছুড়ে ফেলে আসবে?তাইলে শহীদদের অনেক সম্মান দেখানো হবে।মাতৃভাষা এনে দেয়ার জন্যে সবাই তাদেরকে পাচ দশ টাকা করে দিচ্ছে এইটা তাদের জন্যে অনেক সম্মানের হবে?যারা টাকা দিয়ে সাহায্যের কথা বলেন তারা দয়া করে কিভাবে দিতে হবে তাও বলে দিবেন।তাহলে আমরা সামনের দিনগুলোতে ফুল দেয়ার পরও শহীদ পরিবারকে সাহায্য করব।আমরা ফুল দিয়ে,আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেরুয়ারি গান গেয়ে,প্রভাতফেরি করে তাদের সম্মান জানানোর পাশাপাশি তাদের পরিবারের জন্য যা করার দরকার তা করবো। দয়া করে ফুল দিলে এতো টাকা নষ্ট হয়,জলে যায় এইসব হিসাব আমাদের কাছে আইসা কপচাবেন না।
ফুল দিয়া হইব কি,এই প্রশ্নের জবাবে আরেকটি কথা বলতে চাই।আমি মনে করি একুশে ফেব্রুয়ারি আবহমান কাল ধরে যেভাবে চলে আসছে সেভাবেই চলা উচিত।সকালের প্রভাতফেরী,একুশের গান শুধু লোক দেখানো অনুষ্টান না,বরং এটা আমাদের জাতীয়তাবোধ,ভাষাপ্রেম ও দেশপ্রেমের প্রতীক।শুধু ঘরে বসে বসে শহীদদের কথা স্বরণ করলে আমাদের নতুন প্রজন্ম একুশে ফেব্রুয়ারি চিনবে কি করে?কিভাবে তারা জানবে ”আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো” গানের গুরুত্ব।বই পড়ে ইতিহাস হয়তো জানা যায়,সম্মান দেখানো যায় না।আজকে যাদের কাছে ফুলটুল দেয়া অপ্রয়োজনীয় অপচয় মনে হচ্ছে কালকে তাদের কাছে শহীদ মিনার অপ্রয়োজনীয় মনে হবে!কি দরকার শহীদ মিনারের,ঘরে বসে স্বরণ করে কিছু টাকা শহীদ পরিবারকে দিয়া দিলেই তো হয়!!তাহলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের অনুপ্রেরনা পাবে কোথা থেকে?কোথা থেকে তাদের দেশপ্রেম জাগ্রত হবে?অনেকেই বলবেন,ফুল দিলেই দেশপ্রেম জাগ্রত হবে?আমি বলবো বাহির থেকে দেখলে শুধু ফুলই মনে হবে।গভীর চোখ দিয়ে দেখুন,প্রতিটা ফুলের,প্রতিটি পাপড়ীর মধ্যে যে আবেগ আর ভালবাসা লুকাইয়িত আছে তা দেশের জন্যেই,মাতৃভাষার জন্যেই।
কি করা উচিত আর কি করা উচিত না সে ব্যাপারে প্রত্যেকেরই নিজস্ব দর্শন থাকে।আমাদের এমন একটা দিন আছে যা সারাবিশ্বে পালিত হয়।সারা পৃথিবীর মানুষ তাকিয়ে দেখে আমাদের ভাষাপ্রেম,শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা।আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার করা হয় আমাদের প্রভাতফেরী,কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের কথা।এর কারন আমরা এই দিনটাকে গুরুত্ব সহকারে পালন করি।আমরাই যদি গুরুত্ব না দিয়ে ঘরে বসে পাচ টাকা বাক্সে দিয়ে মুড়ি খাই তাহলে মাতৃভাষার গুরুত্ব কে আর বুঝবে।দেশের ব্যাপারে সকলের দর্শন এক হওয়া উচিত আর তা হল দেশপ্রেমের দর্শন।যারা ফুল দিতে যায় তারাও শহীদ পরিবারকে সাহায্য করতে চায়।কিন্তু সেটা একুশে ফেব্রুয়ারির শহীদদের সম্মান প্রদর্শন না করে,আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন না করে নয়।
আমার ব্যাক্তিগত একটা উপলব্ধি আছে,আমরা যদি ফুলটুল না দিয়ে,প্রভাতফেরী না করে ঘরে বসে একুশে উদযাপন করা শুরু করি তাহলে আজ থেকে একুশ বছর পরে একুশে ফেব্রুয়ারি শুধু ফেসবুকের স্ট্যাটাসে এবং টিভির সংবাদেই সীমাবদ্ধ থাকবে।বাঙ্গালি হিসেবে এটা দেখতে চাই না।

মহান একুশে ফেব্রুয়ারি,অমর হোক সফল হোক।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “একুশ নিয়ে ঐকিক নিয়ম

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 6 = 3