অভিমানী ভালবাসা -৩

বিছানায় বসে আছে সুপ্ত। বই পড়ছে সে। নাহ!বই পড়ছে বললে ভুল হবে, বই হাতে বসে আছে। পাশেই জানালা। জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে সুপ্ত। সে যে বই পড়তে বসেছিল তা ভুলেই গিয়েছে। শীতকাল, শীত ভালই তাণ্ডব চালাচ্ছে। সপ্তাহের আর পাঁচটা দিনের মত আজ অতটা ঠাণ্ডা নেই। কিন্তু কুয়াশা আছে, বাইরের একটু দুরের বাড়ি গুলোতে জ্বালিয়ে রাখা আলো গুলো ঝাপসা দেখাচ্ছে। তবে কুয়াশার কারণে ঝাপসা দেখাচ্ছে, নাকি নিজের চোখ ঝাপসা হয়েছে তা ঠাওর করতে পারছে না সে।


বিছানায় বসে আছে সুপ্ত। বই পড়ছে সে। নাহ!বই পড়ছে বললে ভুল হবে, বই হাতে বসে আছে। পাশেই জানালা। জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে সুপ্ত। সে যে বই পড়তে বসেছিল তা ভুলেই গিয়েছে। শীতকাল, শীত ভালই তাণ্ডব চালাচ্ছে। সপ্তাহের আর পাঁচটা দিনের মত আজ অতটা ঠাণ্ডা নেই। কিন্তু কুয়াশা আছে, বাইরের একটু দুরের বাড়ি গুলোতে জ্বালিয়ে রাখা আলো গুলো ঝাপসা দেখাচ্ছে। তবে কুয়াশার কারণে ঝাপসা দেখাচ্ছে, নাকি নিজের চোখ ঝাপসা হয়েছে তা ঠাওর করতে পারছে না সে।

আজ সুপ্ত’র আঠারো তম জন্মদিন। বেশ কিছু দিন ধরে এই দিনটির অপেক্ষাই করছে সে। কয়েকদিন ব্যাকুলতাটা অতিমাত্রায় বেড়ে গিয়েছে। একজনের শুভেচ্ছা পাবার অপেক্ষা। জন্মদিনে তো কতজনেই শুভেচ্ছা জানায় অপেক্ষা বিশেষ একজনের। সে হল তন্দ্রা। গতকাল থেকেই খুব উৎসুক সে। অপেক্ষা করছিল ঘড়িতে বারোটা বাজার। সময় এগিয়ে যেতে থাকে। সুপ্ত’র মনে কালবৈশাখীর তাণ্ডবও তীব্রতর হয়। মোবাইলটি হাতে নিয়েই বসেছিল সুপ্ত। বারোটা বাজার সাথে সাথেই মোবাইলে ভাইব্রেশন। দেরি না করেই রিসিভ করলো সে। নাহ! যার অপেক্ষায় ছিল সে নয় অন্য এক বন্ধু। খুব ভাল বন্ধু। সে তার দায়িত্ব রেখেছে। সুপ্ত’র জন্মদিনে প্রথম শুভেচ্ছাটা তারই। তবে আশা ছিল প্রথম শুভেচ্ছাটা তন্দ্রা থেকেই পাবে। কিন্তু সে আশা আর পূর্ণ হল না। তবুও অপেক্ষা তন্দ্রার শুভেচ্ছা পাবার। গতকাল রাতের সিংহভাগই নির্ঘুম কাটিয়েছে সুপ্ত, তন্দ্রার একটি ফোন অথবা ম্যাসেজের অপেক্ষা। কখন যে ঘুমন্ত পুরীর লাল নীল পরীরা তার চোখ ঘুমে বেধে দিয়েছে সে জানে না।

সকালে ঘুম ভাঙ্গতেই, দিনের আলো দেখার পর পরেই তন্দ্রার কথা মনে পড়ে গেল। সাথে সাথে মোবাইল চেক করলো সে। নাহ! তন্দ্রার ম্যাসেজ দেখতে পাচ্ছে না। এত এত মানুষের ম্যাসেজের মধ্যে বোধ হয় লুকিয়ে আছে। খুব সময় নিয়েই দেখেছে। তন্দ্রার ম্যাসেজ ছিল না। আজ সারা দিনেও অনেকেই শুভেচ্ছা জানিয়েছে। ফেসবুক, মোবাইল সহ প্রায় দু-শত জন তো হবেই। কিন্তু সুপ্ত তো অপেক্ষা করছে তন্দ্রার। সারা দিন অন্যদের সাথেই কাটিয়েছে সে। তবে উদাসীন। কতগুলো বছর চলে গিয়েছে জীবন থেকে, ভাবতেই অবাক হয় সুপ্ত। যত গুলো জন্মদিনের কথাই স্মৃতির পাতায় অক্ষত আছে, তাতে আজকের দিনের মত কোন দিন নেই। কোন জন্মদিনেই এমন মন মড়া আর উদাসীন ছিল না সে।

সুপ্ত’র জন্মদিনের কথা হয়তো ভুলে গিয়েছে তন্দ্রা। নাহ তন্দ্রা ভুলেনি অভিমান করে আছে হয়তো, পরক্ষণেই ভাবে সুপ্ত। এক দ্বিধায় ভুগছে সে। এ নিয়ে ভাবতে ভাবতেই বই পড়া হচ্ছে না তার। কতই না পরিকল্পনা করা হত এই দিনটি নিয়ে। আবার কত পরিকল্পনা বাতিল করা হত। তন্দ্রা সবসময়েই বলতো আজকে দিনটি সুপ্ত’র সাথে একাই কাটাতে চায় সে। শুধু তন্দ্রা ও সুপ্ত, অন্য কেউ নয়। তন্দ্রার স্মৃতিগুলো তার চোখ ঝাপসা করে দিচ্ছে। তাইতো এমন কুয়াশাচ্ছন্ন মনে হচ্ছে সবই।

সুপ্ত’র মোবাইলে একটি ম্যাসেজ এসেছে। হয়তো কেউ উইশ করেছে হয়তোবা, আগ্রহহীন ভাবেই মোবাইল টা তুলে নিলো সুপ্ত। সুপ্ত’র মুখের কোনে হাসি। সে যেন অমাবস্যার চাঁদ হাতে পেয়েছে। হ্যাঁ, তন্দ্রা ম্যাসেজ দিয়েছে। অবশেষে তন্দ্রা শুভেচ্ছা জানিয়েছে! সুপ্ত খুবই খুশি। আজ হয়তো দুজনের অভিমানই ভাঙ্গবে। তন্দ্রাকে এতটা পরিমাণ ভালবাসে তা আজ উপলব্ধি করলো সে। তন্দ্রার জন্য ভালবাসাটাই সুপ্ত’র অন্ধের যষ্টি। তন্দ্রাকে ম্যাসেজ দিতে দেরি করলো না সে। তন্দ্রার সাথে একটু কথা বলতে চায় সুপ্ত। তন্দ্রা ফিরতি ম্যাসেজে জানায় তার কোন সমস্যা নেই। সুপ্ত সাথে সাথেই ফোন করে তন্দ্রাকে।

সাথে সাথেই ফোন রিসিভ করে তন্দ্রা। কেউ কোন কথা বলে না। কয়েক মিনিট নীরবে কেটে গেল। এই নীরবতা আর সহ্য হচ্ছে না সুপ্ত’র। তার দম বন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম। সুপ্তই কথা শুরু করলো।
-কেমন আছো?
-ভাল,তুমি?
-ভাল আছি।

আবার নীরবতা। কি বলবে বুঝে উঠতে পারছে না সুপ্ত। এবার তন্দ্রা বলল-

-কিছু বলছো না যে?
-কি বলবো?
-কিছু বলার নেই! তাহলে রাখি।

অপ্রস্তুত সুপ্ত তাড়াতাড়ি উত্তর দেয়-

-না, না। ফোন রেখো না।
-তাহলে বল কি বলবা।
-খুব ব্যস্ত বুঝি?
-হুম ব্যস্ত।
-ওহ! কেমন আছো?
-এক কথা কয়বার বল?
-আগে বলেছি বুঝি মনে নেই, সরি।
-আজ তো জন্মদিন অনেক মজাতেই কাটিয়েছো।
-কোথায় আর মজা করলাম!
-কেন তোমার গার্ল ফ্রেন্ডরা আসে নি বুঝি পার্টিতে?
-নাহ আসে নি।

একটু রাগান্বিত স্বরে উত্তর দেয় সুপ্ত, তন্দ্রা রাগ না করে বলে-

-তাই বুঝি মন খারাপ আপনার?
-হুম।

কিছুক্ষণ নীরব থাকে দুজনেই, এবার নীরবতা ভাঙ্গে সুপ্ত-

-একটা প্রশ্নের উত্তর দিবে?
-দেখা যাক, জিজ্ঞাসা কর।
-তুমি কি ভুলে গিয়েছিলো আজ যে আমার জন্মদিন?
-তুমি বলতো আমার জন্মদিন কবে?

প্রতিবারের মত এবারও তের আর চৌদ্দ তারিখের মাঝে গড়মিল বাধিয়ে ফেলে সুপ্ত।

-তোমার তো অনেক গুলো গার্লফ্রেন্ড আছে তাই তুমি ভুলে যাও। আমার তো আর নেই তাই ভুলি না।
-আমাকে এখনও বয়ফ্রেন্ড মনে কর?
-জানি না।
-না ভুললে সারা দিন উইশ করলে না যে।
-ইচ্ছে করেই করিনি। ভাবছিলাম করবো কি না! আমার উইশের জন্য তো আর কারো দিন থেমে থাকবে না। বরং উইশ করলে খারাপ হতে পারে। আর কিছু বলবা?
-নাহ। ভাল থেকো।
-হুম তুমিও ভাল থেক।

অবশেষে তন্দ্রার সাথে কথা হল সুপ্ত’র। অনেক দিন পর কথা হল তাদের। সুপ্ত’র বিশ্বাস ছিল তন্দ্রা আজকের দিনে অভিমান ভলে ঠিকই উইশ করবে তাকে। সে যে এখনও সুপ্তকে ভালবাসে বুঝতে পারলো সুপ্ত। সুপ্ত’র এত দিনের বিশ্বাসের জয় হল। তন্দ্রা ওকে ভুলে নি। হ্যাঁ, ভুলে নি। তন্দ্রার কাছে সুপ্ত এখনও গুরুত্বপূর্ণ একজন।

প্রথম পর্ব – https://istishon.blog/node/5100

দ্বীতিয় পর্ব – https://istishon.blog/node5924

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২৩ thoughts on “অভিমানী ভালবাসা -৩

  1. আগেরবারের চেয়ে এটা খারাপ ছিলো
    আগেরবারের চেয়ে এটা খারাপ ছিলো একটা গল্প হিসেবে। তবে মন খারাপ করার কিছু নেই- তোমার একটাই মেডিসিন। আরো অনেক বেশি পড়তে হবে। হাল ছেড়োনা বন্ধু বরং কলম চালাও জোরে :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

  2. শেষ থেকে শুরু করি – তোর লেখা
    শেষ থেকে শুরু করি – তোর লেখা পড়ে এফডিসির বাংলা সিনেমার কথা মনে পড়লো । ওই যে সিনেমার শেষ দৃশ্যে হিরো জেল থেকে ছাড়া পায় । বাইরে নায়িকা ফুলের মালা হাতে দাঁড়িয়ে থাকে … তারপর তাহারা সুখে শান্তিতে বসবাস করিতে লাগিল টাইপ ।

    গল্পে সময় সেন্স ছিলোনা । এক সময় থেকে আরেক সময়ে যেতে কিছু বর্ণনা থাকা জরুরী । যেমন –

    সকালে ঘুম ভাঙ্গতেই, দিনের আলো দেখার পর পরেই তন্দ্রার কথা মনে পড়ে গেল। সাথে সাথে মোবাইল চেক করলো সে। নাহ! তন্দ্রার ম্যাসেজ দেখতে পাচ্ছে না। এত এত মানুষের ম্যাসেজের মধ্যে বোধ হয় লুকিয়ে আছে। খুব সময় নিয়েই দেখেছে। তন্দ্রার ম্যাসেজ ছিল না। আজ সারা দিনেও অনেকেই শুভেচ্ছা জানিয়েছে। ফেসবুক, মোবাইল সহ প্রায় দু-শত জন তো হবেই। কিন্তু সুপ্ত তো অপেক্ষা করছে তন্দ্রার। সারা দিন অন্যদের সাথেই কাটিয়েছে সে। – See more at: https://istishon.blog/node/6174#sthash.EsW21bGD.dpuf

    এইখানে ভালো করে খেয়াল করে দ্যাখ মেসেজ দেখছে … তারপর আজ সারা দিনেও … ঘুম ভাঙার পর মেসেজ দেখা এবং সারাদিন এই দুই সময় গুলিয়ে গেছে । সময় বিভাজন খুব খেয়াল করে করতে হবে ।

  3. পাশেই জানালা। জানালা দিয়ে

    পাশেই জানালা। জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে সুপ্ত।
    হয়তো কেউ উইশ করেছে হয়তোবা
    অবশেষে তন্দ্রার সাথে কথা হল সুপ্ত’র। অনেক দিন পর কথা হল তাদের

    এই লাইনগুলো আবার পড়ো। ভুল দেখতে পারবে। আর যদি এটাই তোমার নিজস্ব স্টাইল হয়ে থাকে তাহলে ভুল না।

      1. পাশের জানালা দিয়ে বাইরে
        পাশের জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে সুপ্ত।
        হয়তো কেউ উইশ করেছে ; এটুকু লিখলেই হতো।
        অবশেষে অনেকদিন পর তন্দ্রার সাথে কথা হল সুপ্তর।
        বাক্য গঠন খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার লেখার ক্ষেত্রে।
        পড়তে থাকো। পড়া থেকেই বাক্য গঠন শিখে যাবে।

        1. হুম কিছুটা ভুল বুঝেছি আসলে
          হুম কিছুটা ভুল বুঝেছি আসলে রিভিউ দেই নি লিখবার পর্।

          তাই এই ভুল ধন্যবাদ। অবশেষে লিখেছি আবার অনেকদিন পর লিখেছি এই তো। এমন ভুল করলাম হাসি পাচ্ছে।

          মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ আপু। আর নতুন বছরের শুভেচ্ছা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

59 − 54 =