হে গণতন্ত্র প্রেমি শোনো…

হে গণতন্ত্র প্রেমি…
বাংলাদেশে যারাই রাজনীতি করবে তারা সবাই স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তি হবে, স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি আবার কি? কিন্তু গণতন্ত্র যদি বাংলাদেশের চেতনা বিরোধী শক্তিকেই ক্ষমতায় বসাতে চায় তো আর কি করার? হাতের আঙ্গুল কামড়ানো ছাড়া উপায় কি? হুজুররা প্রায়ই হুংকার দেন, পারলে গণভোট দেন, দেশের মানুষ কোরনিক শাসন চায় কি চায় না?

আমি জানি যদি এরকম কোন গণভোটের আয়োজন করা হয় যে, আপনি কোরআন ও সুন্না মোতাবেক দেশ চলুক তা চান কিনা, তাহলে কোন ইসলাম বিশ্বাসী মুসলমানের দ্বিমত হওয়ার কোন চান্স থাকবে না। তেমনি কাদের মোল্লার মত স্বাধীনতা বিরোধীর পক্ষে গণভোট চালালেও একটা বড়সড় জনমত তার পক্ষে পাওয়া যাবে। এবং গণতন্ত্র অনুযায়ী সেই মত তো উপেক্ষার নয়। ধরুন, এইদেশের মানুষ রায় দিলো, ফের পাকিস্তানের সঙ্গে একত্রিত হয়ে অভিন্ন রাষ্ট্র গঠন করার, তাহলে কি গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতার দরুণ তা আমরা মেনে নিবো? বা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্নে গণভোট দিলে আমি নিশ্চিত যে একটা বিপুল সংখ্যক জনতা বিচারের বিপক্ষেই রায় দিবে। গণহত্যা হয়েছে, মানবতাবিরোধী কাজ হয়েছে এটা নিশ্চিত জেনেও একটা বড় অংশ বিচার না হোক তার জন্য রায় দিবে।

এখন গণতন্ত্র মেনে আমরা কি এই বিচার করা থেকে পিছিয়ে আসবো? যদি একজনও মানুষ পাওয়া না যায় যে বিচার চায়, তবুও বিচারটা করতে হবে। কারণ অপরাধের দরুন অপরাধীর শাস্তি হতে হবে। এখানে সংখ্যাগরিষ্টের মতের কোন দাম নেই বা প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশ প্রশ্নে, মুক্তিযুদ্ধ প্রশ্নে কোন সংখ্যাগরিষ্টের মতের কোন দাম নেই। গণতন্ত্রে ভিন্নমত পোষণের অধিকার আছে, কিন্তু যারা আজীবন অখন্ড পাকিস্তানের সমর্থক ছিল তারাদের কি এই দেশে রাজনীতি করার কোন গণতান্ত্রিক অধিকার আছে? যারা রাজাকার আল বদরদের “রাজবন্দি” বলে অভিহত করতে পারে তাদের কি এই দেশে রাজনীতি করার কোন অধিকার আছে?

আমার ভোট আমি দিবো যাকে খুশি তাকে দিবো?
গণতন্ত্রর হাত ধরেই হিটলার ক্ষমতায় এসেছিল। গণতন্ত্রের সুযোগ নিয়েই দুনিয়ায় অনেক দৈত্যের জন্ম হয়েছে। আজ যদি গণতন্ত্রর সুযোগ নিয়ে কোন বাংলাদেশ বিরোধী শক্তি ক্ষমতায় আসতে চায় আমরা কি তা মেনে নিবো? না মানবো না! গায়ের জোরে হলেও রুখে দিতে হবে বাংলাদেশ বিরোধীদের। আজন্ম পাকিস্তানের অনুগত (স্মরণ করুন কাদের মোল্লার প্রতি পাকিস্তানের কৃতজ্ঞতা) যারা তারা স্রেফ গণতন্ত্রের দুর্বলতার ফাঁক গলে ফের জাতির পতাকা খাঁমচে ধরবে তা আমরা হতে দিবো কেন? যারা রাজাকার আল বদরকে রাজবন্দি ঘোষণা দিয়ে ক্ষমতায় গেলে মুক্ত করার স্পর্ধা দেখায় তাদের কি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি বলা যাবে? একদা ফিডম ফাইটার আজ যদি দালালদের কাতারে দাঁড়াতে লজ্জ্বিত না হয় আমরাও কি লজ্জ্বিত হবো না? আমরা কি কাদের সিদ্দিকীর ভাষায় কথা বলবো? টিভি লাইসেন্স না পাওয়া “আওয়ামী সাংবাদিক” এবিএম মুসার মত গণতন্ত্রহীনতার জন্য হায় হায় করবো? আসিফ নজরুলের মত গণতন্ত্রের জন্য চোখ টিপে পানি আনার চেষ্টা করবো? গণতন্ত্রের রায় মেনে তাহলে কেন নিজামী মুজাহিদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা দেখে আপনি কষ্ট পেতেন? আপনি গণতন্ত্র প্রেমি হলে বিজয় দিবসে নিজামী-মুজাহিদের স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘে ব্যথিত হতেন কেন? আজ তাহলে কার গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য আপনি চিন্তিত?

স্বাধীনতার স্বপক্ষশক্তি মানেই কি আওয়ামী লীগ?
বঙ্গবন্ধুকে ভালবাসলেই যে আওয়ামী লীগ করতে হবে তার কোন মানে নেই। “জয় বাংলা” শ্লোগান দিলেই নৌকায় ভোট দিতে হবে তাও কোথাও লেখা নেই। স্বাধীনতার নেতৃত্ব দিয়েছে বলেই আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরানো যাবে না, এরকম মাথার দিব্যিও দেয়নি কেউ আমাদের। হাসিনার রাজনীতি যে আমাকে পছন্দ করতেই হবে এই দস্তখত কি কোথাও দিয়ে এসেছি আমরা? না দেইনি। তবু লীগার না হয়েও আমরা এখনো লীগকে সমর্থন করে যাই। ঐ যে বললাম, এই দেশে রাজনীতি করবে একমাত্র স্বাধীনতার পক্ষশক্তি, এই বাস্তবতা যেদিন আসবে, আওয়ামী লীগকে ছুঁড়ে ফেলে দিতে একটুও দ্বিধা করবো না! কিন্তু এখন আমি ঘোর অগণতান্ত্রিক। যে জনতা বিপুল উন্নয়নের কাজ করার পরও চার সিটিতে ¯্রফে হেফাজতী প্রেমে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে, পাঁচ বছরে ডিজিটাইলিস্ট , অবকাঠামো উন্নয়ন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্নসহ উন্নয়নের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির পরও রাজাকার আল বদরের মা জননীকে ফের ক্ষমতায় বসানোর আশংকা করি তখন অগণতান্ত্রিক হতে আমাদের এত দ্বিধা কেন? আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এই দেশে স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি বলতে কিছু থাকবে কিনা? গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার চলতে পারে কেবল পক্ষশক্তি মধ্যে। ততদিন পর্যন্ত আমার অগণতান্ত্রিক হতে একটুও আপত্তি নেই। কোন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারীর কি আপত্তি আছে? অন্তত আজকের পরিস্থিতিতে? ভাবুন এবং ভাবনাটা ছড়িয়ে দিন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৯ thoughts on “হে গণতন্ত্র প্রেমি শোনো…

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

83 + = 91