শুরু দিয়ে শেষ

অনেকদিন লেখালেখি করা হয়না| তথাকথিত কমলা খেটে দিন চলে যায়| সকাল ৯ টা থেকে রাত ৯ টা| নিজেকে মাঝে মাঝে কারখানার মেশিনের মত মনে হয়| বস বোতাম টিপে দিল, আমি চলা শুরু করলাম, আবার বোতাম টিপে দিল আমি বন্ধ হয়ে গেলাম| গোটা দুনিয়ার খবর তো দুরে থাক, নিজের বাসায় কি হচ্ছে সেই খোজ ও থাকেনা আমার| এ বলে সেই আমি যে কিনা সব বিষয়ে সবার আগে মুখ খুলত!!


অনেকদিন লেখালেখি করা হয়না| তথাকথিত কমলা খেটে দিন চলে যায়| সকাল ৯ টা থেকে রাত ৯ টা| নিজেকে মাঝে মাঝে কারখানার মেশিনের মত মনে হয়| বস বোতাম টিপে দিল, আমি চলা শুরু করলাম, আবার বোতাম টিপে দিল আমি বন্ধ হয়ে গেলাম| গোটা দুনিয়ার খবর তো দুরে থাক, নিজের বাসায় কি হচ্ছে সেই খোজ ও থাকেনা আমার| এ বলে সেই আমি যে কিনা সব বিষয়ে সবার আগে মুখ খুলত!!

প্রথম দিকে শাহবাগে যা হচ্ছে সেটা নিয়ে মাথা ঘামাই নাই| সত্য কথা বললাম ভাই, গালি দিয়েন না| পরে কিছু বন্ধু খুব বকাবকি করলো আমার কোনো খোজ নাই দেখে| সেদিন ভাবলাম যে নাহ অনেক হইসে এইবার একটু খোজ নিতেই হয়| যা দেখলাম যা শুনলাম বেশ ভালো লাগলো| নিজেদেরকে অথর্ব বলে গালি দেয়া এই আমরাই নাকি আন্দোলনে নেমেছি| কি আশ্চর্য! সব কিছু মেনে নেয়া ছা পোষা এই আমরাই নাকি ঘুরে দাড়িয়েছি| একাত্তরের চেতনা নিয়ে নাকি আরেকবার আমরা যুদ্ধে দাড়িয়েছি| কি গর্ব! কি আনন্দ! রক্ত গরম করা সব মুহূর্ত!

যত দিন যায় বিতর্ক বাড়তে থাকে| রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, বিতর্কিত ব্লগারদের নেতৃত্ত্ব ইত্যাদি| কিন্তু আমার যে বন্ধুরা দিনের পর দিন না খেয়ে না দেয়ে পরে আছে সেখানের মাটি কামড়ে ধরে তাকে আমি কি বলে বিতর্কিত করব? আমার মত মেশিনরাও কারখানা থেকে বের হয়ে যখন বৃহস্পতি আর শুক্রবার রাতটা ওখানে কাটায়, তাকে আমি কিভাবে সরে আসতে বলব? আমি নির্লিপ্ততা দেখাই এই বলে যে আমার কাছে প্রতিদিনকার জীবনের সমস্যাগুলার সমাধান অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ| আমার যে বন্ধুটা আমার নির্লিপ্ততা দেখে নিজের মুক্তিযোদ্ধা বাবার উপর রাজাকারের করা অত্যাচারের বর্ণনা দিয়ে আমাক লজ্জা দিতে চায় তাকে জবাব দিব কিভাবে আমি? শেষমেষ নির্লজ্জ এই আমাকে আর কিছুতে টলাতে না পেরে মিডিয়াতে কাজ করি বলে কেউ কেউ আমাকে খুব করে অনুরোধ করেছিল আমি যেন সত্তিকারের শাহবাগের রূপটা বাঁচিয়ে রাখতে সাহয্য করি| কিন্তু কিভবে বুঝাই যে নীতি নির্ধারক তো আর আমি না| কিভাবে বুঝাই যে সাংবাদিকতার প্রধান নীতি নিরপেক্ষতা হলেও সেটা শুধু বিদেশী মিডিয়ায় ফলো করে| শুধু ওরাই পারবে নির্ভীকভাবে দুই পক্ষের মতামত প্রকাশ করতে| বোকা রা কিছুই বুঝতে চায় না|

প্রশ্ন আসে যে এতই নির্লিপ্ত সেই আমি কেন আজ লিখতে বসলাম? লিখতে বসলাম কারণ বিতর্কিত পরিস্থিতির কারণে আমার সেইসব বন্ধুদের এত কষ্টকে বিফলে যেতে দেখে আমি আজ সত্যি স্তব্ধ| শুরুটা তো করেছিল ওরা, তাহলে ফল খাচ্ছে কারা আজকে? শুরু তো হয়েছিল সাধারণ একদফা দাবি নিয়ে তাহলে আজ এত বিভক্তি কিভাবে আসলো? আমার বন্ধুদের কে কেন আজকে “বিরানি খাওয়া নাস্তিক” জাতীয় গলির ভাগীদ্বার হতে হচ্ছে যেখানে তারা নিয়মিত ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে| আমাকে গালি দিতে পারেন চাইলে, কিন্তু ওই অক্লান্ত পরিশ্রম করা ছেলেমেয়ে গুলার সত্যিকারের বিপ্লব যে এভাবে ধুলায় মিশিয়ে দিয়া হলো সেটার দায় কে নিবে? কোনো এক নাস্তিক ব্লগার, সরকার, মিডিয়া নাকি চরমপন্থী তথাকথিত বিপ্লবী যারা বলে “হয় শাহবাগ নয় রাজাকার”?

দায় যেই নিক, এটাত সত্য যে শাহবাগের সত্যিকার চেতনাকে হত্যা করা হয়েছে| হত্যাকারীর দলে হয়ত আপনি আমিও আছি প্রত্তক্ষ্য বা পরোক্ষভাবে| যে জাগরণ শুরু হলো সহজ সরল একটা দাবি নিয়ে সেটাকে পুজি করে আজ কত ভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে| আজ আমার দেশের পতাকা পুরানো হচ্ছে, ছেড়া হচ্ছে, আমার প্রানের শহীদ মিনার ভাঙ্গা হচ্ছে, আমার পবিত্র ঘর মসজিদে আগুন দেয়া হচ্ছে| এর দায় কি শুধু একটা মাত্র গোষ্টির? আপনার আমার কোনো দায় নাই? যারা স্বচ্ছ একটা আন্দোলনকে কলুষিত করে বির্কৃত একটা গোষ্টিকে আস্কারা দিল তাদের দায় নাই?

সবাই বিচার চায়| একটা সময় স্পষ্ট ছিল কার বিচার চাওয়া হচ্ছে| এখন অস্পষ্ট| কিন্তু আমার কাছে এখনো স্পষ্ট| আমরা নিজেদের কে ব্যবহার করার এত সুন্দর একটা সাজানো গুছানো রাস্তা দেখায় দিলাম| কাজেই সেই পতাকা চেরাতে, শহীদ মিনার ভাঙ্গতে বা মসজিদে আগুন দেয়াতে হাত তো আমাদের ও আছে| আর এই জঘন্য অপরাধের দায় নিয়ে আমি নিজের দিকে তাকাতে পারছিনা| বিচার তো আমাদেরও হওয়া উচিত যে কেন আমরা পারলাম না শাহবাগের সত্তিকারে চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখতে| কেন আমরা নিজেদের সত্তাকে বিকিয়ে দিলাম| কেন আমরা হুজুগে গা ভাসিয়ে দিলাম|

আমরা আরেকটা পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে দাড়িয়ে আছি| আজ যদি আমরা হেরে যাই আর কোনদিন সত্যিকারের নিরপেক্ষ বাঙালি মাথা তুলে দাড়াতে পারবেনা| একাত্তরের সেই চেতনা চিরতরে মারা যাবে| কেবলমাত্র বইয়ের পাতার কিছু বুলি হয়ে রয়ে যাবে আমাদের সত্যিকারের পরিচয় সেই বাহান্ন, সেই একাত্তর| আমি মনে করি এখনো সময় আছে ঘুরে দাড়ানোর| এখনো সময় আছে পতাকা ছেড়ার রক্ত ধুয়ে ফেলে বজ্রমুষ্টি তুলে ধরার| শুরু দিয়ে শেষ করার|

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১১ thoughts on “শুরু দিয়ে শেষ

  1. ভালো লিখেছেন। অদ্ভুত এক সময়ের
    ভালো লিখেছেন। অদ্ভুত এক সময়ের মাঝ দিয়ে যাচ্ছি আমরা। এই হয়ত হতাশায় ভেঙে চুরমার হই। পর মুহুর্তেই উজ্জীবিত হই তারুন্যের উচ্ছলতা দেখে। তবে আমি সবসময় আশাবাদী মানুষ। আশা করি আমরা একটা রাজাকার মুক্ত দেশ আমাদের পরের প্রজন্মকে উপহার দিতে পারব। বাংলার তরুন প্রজন্মের ইতিহাস হেরে যাওয়ার ইতিহাস নয়। ইস্টিশনে আপনাকে স্বাগতম। :ফুল:

    1. ধন্যবাদ আতিক ভাইয়া| আশাবাদী
      ধন্যবাদ আতিক ভাইয়া| আশাবাদী হতে হতে আবার নিরাশা জেকে ধরছে ভাইয়া| এখন শুধু একটাই দোয়া আমার দেশ আর দেশের মানুষ যেন ভালো থাকে| আর কিছু চাওয়ার নাই আমার|

  2. আপনার অনুভুতিটা আমারো
    আপনার অনুভুতিটা আমারো অনুভুতি। আসল সমস্যাটা ছিল যুদ্ধাপরাধিদের ফাসির দাবিটাকে একক ও বিচ্ছিন্ন ভাবে দেখা এবং দেশের বাস্তব মৌলিক সমস্যার (দুর্নিতিপরায়ন বিচারহিন শাসন) সাথে যুক্ত না করা, দৈনন্দিন জীবন সংগ্রামের সাথে যুক্ত না করা। তাতে সাধারন মানুষের কাছে ব্যাপারটা একটা আওয়ামি খেলাই মনে হয়েছে। আর আওয়ামি/সরকারি আপোষ বা রাজনৈতিক দুর্নিতি সন্দেহ করেই কিন্তু ব্লগাররা মাঠে নেমেছিলেন। কিন্তু তারা ছাত্রলিগকে সাথে নিয়ে, জন্নিতার বদলে নিজেদের মধ্যবিত্ত সেন্টিমেন্টগুলোকে প্সেরাধ্যান্য দিয়ে সেই আওয়ামি রাজনিতিক ফাদেই পা দিলেন।

    আমার কাছে যুদ্ধাপরাধের বিচার না হওয়া দিয়েই বাংলাদেশের বিচারহিন কুশাসনের শুরু হয়েছিল। তাই এই যুদ্ধাপরাধিদের বিচার দিয়েই ন্যায় বিচারের আর সুশাসনের বাংলদেশের শুরু হতে পারে। তাই জনসম্পৃক্ততা আর বাস্তব জিবনসংগ্রাম সম্পর্কিত করতে এই আন্দোলোনের দাবি হতে পারতো “যুদ্ধাপরাধি আর দুর্নিতিমুক্ত বাংলাদেশ চাই”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 27 = 31