সিদ্ধান্ত নিতে ভুল হলে তার দায়ভার কার?

সব যুদ্ধেরই কিছু রণকৌশল থাকে। মিত্রেরও থাকে, শত্রুরও থাকে। যুদ্ধে তারই জয়ের
সম্ভাবনা থাকে, যে প্রতিপক্ষের রণকৌশল আগে-ভাগেই যৌক্তিক পর্যালোচনার মাধ্যমে জেনে যায় এবং সে মোতাবেক রনাঙ্গন পরিচালনা করে। প্রজন্ম চত্বরের রণকৌশল কি, ঠিক বুঝতে পারছি না।


সব যুদ্ধেরই কিছু রণকৌশল থাকে। মিত্রেরও থাকে, শত্রুরও থাকে। যুদ্ধে তারই জয়ের
সম্ভাবনা থাকে, যে প্রতিপক্ষের রণকৌশল আগে-ভাগেই যৌক্তিক পর্যালোচনার মাধ্যমে জেনে যায় এবং সে মোতাবেক রনাঙ্গন পরিচালনা করে। প্রজন্ম চত্বরের রণকৌশল কি, ঠিক বুঝতে পারছি না।

প্রজন্ম চত্বরের তরুনেরা যে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে, তাতে পর্যুদস্ত প্রতিপক্ষ জামাত এবং তাদের বি-টিম বিএনপি। প্রতি-আক্রমন এবং সম্ভবত শেষ আক্রমনের কৌশল তারা এরই মধ্যে নির্ধারন করেছে । তারা তারুন্যের এই আন্দোলনকে ‘আস্তিকের বিরুদ্ধে নাস্তিকের’ অর্থাৎ ‘ইসলামের বিরুদ্ধে কাফেরদের’ আক্রমন হিসেবেই প্রচারনা এবং প্রপাগান্ডা করছে। আর এই প্রচারনার কাজে ব্যবহার করছে দেশের বিভিন্ন ফ্রন্টকে। যেমন, হা-হাভাতে কিছু বুদ্ধিজীবী, মিডিয়া, ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিস্ট, তৃনমূলে পোষ্টারিং ও লিফলেটিং। সর্বোপরি মাইক এবং ছাতা হিসেবে ব্যবহার করছে বি-টিম বিএনপির চিহ্নিত কিছু পাকি-প্রেমীকে। অতএব, উন্মাদনায় গা ভাসালে চলবে না। বিষয়গুলো পর্যবেক্ষকের দৃষ্টি দিয়ে দেখতে হবে এবং পর্যালোচনা করে সে মোতাবেক পদক্ষেপ নিতে হবে।

আমার ধরনা, আন্দোলনের ১৭ তম দিনে প্রজন্ম চত্বর থেকে আন্দোলনের সভাপতি ডাঃ ইমরান সরকার যে আলটিমেটম এবং কর্মসূচী ঘোষনা করেছিল, তা স্ববিরোধী এবং অপরিপক্ক কিছু শব্দমালা ছাড়া কিছুই না। তবে তাঁর চুলচেরা বিশ্লেষনে আমি যাব না।

প্রজন্ম চত্বর এরই মধ্যে হা-হাভাতে বুদ্ধিজীবীদের মধ্যরাতের অশ্ব থেকে নামিয়ে পালাতে বাধ্য করেছে। মিডিয়াকেও কিছুটা পিঠটান দিতে বাধ্য করেছে। তাছাড়াও সরকারকে দিয়ে ট্রাইবুনালের রায়ের বিরুদ্ধে বাদীকেও আপিল করার সুযোগ সৃষ্টিতে আইনের একটি ধারার সংশোধন করতে বাধ্য করেছে। এগুলো নিঃসন্দেহে আন্দোলনের পজেটিভ অর্জন। কিন্তু মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচারকাজ ট্রাইবুনাল করবে আইনের মাধ্যমে। কেউ ফাসি চাইলেই ফাসি হয় না। এটা কোন আবদার না। এটা হতে হবে আইনের মাধ্যমে আদালতের রায়ে। তবে কাংখিত রায় পেতে হলে যা করা দরকার, তাহলো প্রসিকিউশনকে ঢেলে সাজানো এবং শুধুমাত্র প্রসিকিউশনই পারে আদালতকে কাংখিত রায় দেয়ার ব্যাপারে সন্তোষজনক প্রেক্ষাপট তৈরি করে দিতে, যা কাদের মোল্লার রায়ের ব্যাপারে সম্পূর্ন ব্যর্থ হয়েছে। আন্দোলনের এই পর্যায়ে ট্রাইবুনালের এই দিকগুলোর দিকে নজর দিতে পারে এবং সরকার তথা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়গুলোর ট্রাইবুনালকে ঘিরে নোংরা রাজনীতি বন্ধে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ট্রাইবুনাল বিষয়ক বাকী বিষয়গুলোর প্রতি কঠোর নজরদারী করেও প্রজন্ম চত্বর কিছুটা রিলাক্স থাকতে পারে বলে আমি মনে করি। এখন কাজ একটাই “জামাতকে নিষিদ্ধ ঘোষনা করা এবং এর দোসরদের প্রতিহত করা।”

উন্মাদনায় গা ভাসালে চলবে না। বিষয়গুলো গভীর পর্যবেক্ষন করতে হবে এবং পর্যালোচনা করে সে মোতাবেক পদক্ষেপ নিতে হবে। তরুন মানেই টগবগে রক্ত, দুর্বার আন্দোলন, আপোষহীন কট্ট্রর অবস্থান … এইগুলোর পাশাপাশি অনভিজ্ঞতার ব্যাপারটাও ধার্তব্যের মধ্যে পড়ে বলে অনেকে ভাবতেই পারেন। তবে এই তারুন্য বাংলার আকাশে যে ইতিহাসের নতুন প্রেক্ষাপট তৈরি করেছেন, তা এক কথায় অভাবনীয় এবং অতুলনীয়। তথাপি, সাবধানতার খাতিরে বলা যেতে পারে যে, এই তারুন্য যেন কোন ভাবেই কোন নির্দিষ্ট ইজমের কাছে অসহায় বন্দীত্ব মেনে না নেয়। তবে সবার সহযোগীতা নিয়েই এগুনোর মনমানষীকতা থাকতে হবে। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং সেক্ষেত্রে বন্ধু বেছে নিতেও প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে হবে। মনে রাখা উচিত, যুদ্ধের ময়দানে ট্রিগার টিপতে হয় ঠিক নির্দিষ্ট সেকেন্ডেই। ব্যর্থ হলে তার দায়ভারও তাকে নিতে হয়।

শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে প্রথম দিন থেকে অদ্যাবধী বাংলার আপামর জনসাধারনের স্বতঃস্ফূর্ত একাত্বতা প্রকাশের ঢল নামতে দেখেছি। অদ্যাবধি যা দেখিনি তাহলো, এই স্বতঃস্ফুর্ত একাত্বতায় মহাজোট সরকারপন্থী বা জামাত বিরোধী কোন ইসলামী দলকে চত্বরে আসতে। অথচ এই ধরনের একাধিক দলকে আমরা সংবাদ সম্মেলন করে জামাতের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে দেখেছি অনেকবার। এছাড়াও দেখিনি বাংলার প্রত্যান্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সরকারী, আধাসরকারী এবং বেসরকারী মাদ্রাসাগুলোর ছাত্রছাত্রীদের প্রজন্ম চত্বরের সাথে একাত্বতা ঘোষনা করতে। কোথাও কিছু ভুল হয়ে যাচ্ছে কি? মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধীদের বিচার চাইতে বায়তুল মোকাররমের খতিবের অসুবিধা কোথায়? বাংলাদেশ ইসলামী ফাউন্ডেশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অসুবিধা কোথায়? অন্যান্য ধর্মাবলম্বিদের বিভিন্ন সংগঠনকে দেখিনি কেন? আমার দৃষ্টি এবং পর্যালোচনায়, এই ব্যর্থতার দায় “প্রজন্ম চত্বর” এর নেতৃত্বের।

এব্যাপারে প্রজন্ম চত্বরের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৮ thoughts on “সিদ্ধান্ত নিতে ভুল হলে তার দায়ভার কার?

  1. এসময় আমাদের সবারই খুব সতর্ক
    এসময় আমাদের সবারই খুব সতর্ক পদক্ষেপ ফেলতে হবে। আন্দোলনের মূল লক্ষ্য থাকা উচিৎ সরকারকে চাপে রেখে দাবী গুলো যথাসম্ভব আদায় কপ্রে নেওয়া। আর পাশাপাশি জামাতি প্রোপাগান্ডাকে কৌশলে প্রতিহত করা। সবচে বড় কথা, আমাদের যাদের চাওয়া এক তাদের একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করে যাওয়া।

  2. এই ব্যর্থতার দায় “প্রজন্ম

    এই ব্যর্থতার দায় “প্রজন্ম চত্বর” এর নেতৃত্বের

    সম্পূর্ণ সহমত| কিন্তু এই বিষয় গুলা সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে না| এবং ধীরে ধীরে মনে হচ্ছে প্রজন্ম চত্তর ব্যর্থতার দিকেই আগাচ্ছে :মাথাঠুকি:

  3. আপনার সাথে সুম্পূর্ন সহমত,
    আপনার সাথে সুম্পূর্ন সহমত, নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের এক পটভুমি তৈরি হয়েছে শাহাবাগে,নেতৃত্বের অপরিপক্কতায় এ যেন ভেস্তে না যায়। যুদ্ধাপরাধিদের বিচার বিচারহিন দুর্নিতিগ্রস্থ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রথম পদক্ষেপ, কারন এই বিচারহিনতা দিয়েই শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের বিচারহিনতার ট্রাডিশন।

    তবে সিদ্ধান্তহিনতা বা ভুল দিকনির্দেশনায় আন্দোলোন ভেস্তে গেলে তার দায় বর্তাবে আমাদের সবার উপর।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

74 − = 71