প্রজন্ম অভ্যুত্থান যেন ভেসে না যায় – লক্ষ্যকে জিবনসংগ্রামের ভিত্তি দিন, জনমুখি হোন

আমার কেনো জানি মনে হচ্ছে শাহবাগ চত্বরের এত সম্ভবনাময় নতু্ন প্রজন্মের অভ্যুত্থান, যার সম্ভবনা আছে নতুন প্রজন্মের নতুন ধারার রাজনৈতিক শক্তি হিসাবে উত্থানের, তা যেন একটা খনিকের হুজুগের মতো থিতিয়ে পড়ছে জামাতি কুট কৌশলের মুখে।


আমার কেনো জানি মনে হচ্ছে শাহবাগ চত্বরের এত সম্ভবনাময় নতু্ন প্রজন্মের অভ্যুত্থান, যার সম্ভবনা আছে নতুন প্রজন্মের নতুন ধারার রাজনৈতিক শক্তি হিসাবে উত্থানের, তা যেন একটা খনিকের হুজুগের মতো থিতিয়ে পড়ছে জামাতি কুট কৌশলের মুখে।

আমার বিশ্লেষনে আসল সমস্যাটা হয়েছে যুদ্ধাপরাধিদের ফাসির দাবিটাকে একক ও বিচ্ছিন্ন ভাবে দেখা এবং দেশের বাস্তব মৌলিক সমস্যার (দুর্নিতিপরায়ন বিচারহিন শাসন) সাথে যুক্ত না করা, দৈনন্দিন জীবন সংগ্রামের সাথে যুক্ত না করা। তাতে সাধারন মানুষের কাছে ব্যাপারটা অনেকটা বায়বি্টারয়ে গিয়েছে, অথবা একটা আওয়ামি খেলাই মনে হয়েছে। আর আওয়ামি/সরকারি আপোষ বা রাজনৈতিক দুর্নিতি সন্দেহ করেই কিন্তু ব্লগাররা মাঠে নেমেছিলেন। কিন্তু তারা ছাত্রলিগকে সাথে নিয়ে, জনতার সেন্টিমেন্টের বদলে নিজেদের মধ্যবিত্ত সেন্টিমেন্টগুলোকে প্রাধ্যান্য দিয়ে, নিজেদের অপরিপক্কতায় সেই আওয়ামি রাজনিতিক ফাদেই পা দিয়েছেন।

আমাদের বুঝতে হবে যে শিক্ষিত মধ্যবিত্তের সেন্টিমেন্ট আর ভ্যাল্যুস, সারা বাংলাদেশের স্বল্প, অর্ধ শিক্ষিত বা অশিক্ষিত মানুষের সেন্টিমেন্ট বা ভ্যালুস না, এগুলো তাদের তন্ত্রিতে তেমন নাড়া দেয় না। তাদেরকে নাড়া দেয় তাদের দৈনন্দিন জীবন যুদ্ধের সাথে সম্পৃক্ত ইস্যুগুলি, অবিচারগুলি। আর তারাই এদেশের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাদের সাথে না নিয়ে এদেশের কোনো মৌলিক পরিবর্তনই সম্ভব হবে না। বরং জামাত তাদের সাথে নিয়ে নেবে আপনাদের পরাজিত করতে।

শাহবাগের প্রাথমিক কৌতুহলি জনসমাগম দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। সাধারন মানুষ বোকা না, তারা তাদের জীবন সংগ্রাম সম্পৃক্ত দাবি আদায়ের আশা না দেখলে রুটি ড়ুজির ক্ষতি কর এতে সম্পৃক্ত থাকবে না বেশিদিন। মনে রেখেন ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লব শুরু হয়েছিল একটা শুয়োরের চর্বিমাখা কার্তুজ নিয়ে – সেটা ছিল এই যুদ্ধাপরাধি বিচারের মতো অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে একটা ইঊনিফাইং ইস্যু মাত্র, আসল ক্ষোভ ছিল পরাধিনতার।

আমার বিশ্লেষনে যুদ্ধাপরাধের বিচার না হওয়া দিয়েই বাংলাদেশের বিচারহিন কুশাসনের শুরু হয়েছিল, ন্যায় আর শোষনমুক্ত সমাজের স্বাধিনতার চেতনার সমাধি হয়েছিল। স্বাধিনতার চেতনা বাস্তবতার বাইরে শুধু গানে কবিতায় বক্তৃতা বিবৃতিতেই সিমাবদ্ধ করে ফেলেছিলো স্বাধিনতার চেতনার ব্যাবসায়িরা। তারই ধারাবাহিকতায় জিয়াউর রহমান রাজাকার পুনর্বাসন করেছিলেন, স্বৈরাচার এসেছিল, গনতন্ত্র পেয়েও গন্তান্ত্রিক বংশিয় একনায়কত্ত আর চোরতন্ত্র পেয়েছি; বিচারহিন বহু মহাসাগর চুরি, সাগর-রুনি হত্যা, বিশ্বজিত হত্যা, খুন গুম, শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারি; রাজস্ব চেয়ে বেশি ঘুষের লেনদেন; পেয়েছি আরো কতো কি। এই যুদ্ধাপরাধিদের বিচার দিয়েই ন্যায় বিচারের আর সুশাসনের বাংলদেশের শুরু হতে পারে। তাই জনসম্পৃক্ততা আর বাস্তব জিবনসংগ্রাম সম্পর্কিত করতে এই আন্দোলোনের সিম্পল দাবি হতে পারে

“যুদ্ধাপরাধি আর দুর্নিতিমুক্ত বাংলাদেশ চাই”

আমার মনে হয় না যুদ্ধাপরাধি আর দুর্নিতিবাজ ছাড়া আর কেউ এই দাবিতে দ্বিমত হবেন না, আর এ দাবি নিরন্তর জিবনসংগ্রামে পর্যুদস্ত, সব দুর্নিতির আর অবিচারের ভিক্টিম সাধারন জনতার তন্ত্রিতেও গভিরভাবেই নাড়া দেবে। আপনারা বিবেচনা করে দেখতে পারেন।

আন্দোলোনের এই মুখ্য লক্ষ্য পুনরনির্ধারনের সাজেশন ছাড়াও, জামাতের কুট কৌশল মোকাবেলায় আপনাদের বিবেচনার জন্য আরো কিছু স্ট্রেটেজি ও কৌশল সাজস্ট করছি।

১ ঈসলাম থেকে জামাত আর জামাত থেকে তার যুদ্ধাপরাধি নেতাদের আলাদা করার কৌশল আর কর্মপ্নথা উদ্ভাবন করুন, শত্রুর দুর্গ ধ্বসিয়ে দিন।

  • মওদুদিবাদ বা জামাতিদের বিরুদ্ধবাদি আলেমদের, ইসলামিক নেতাদের মঞ্চে নিয়ে আসুন, তাদের মুখ থেকেই জন্তা শুনুক, সারা দেশ শুনুক মিডিয়ার মাধ্যমে – জামাতিদের ভ্রান্ত ইসলামের কথা। নামাজের সময় হলে তাদের ইমামতিতে নামাজ পড়ুন।
  • শুধু ফাসির দাবির শ্লোগান না দিয়ে এর সাথে সাবস্টেন্স যোগ করুন – একে একে যুদ্ধাপরাধিদের বিরুদ্ধে আনা সুনির্দিষ্ট অপরাধগুলি মঞ্চ থেকে জানান স্ক্রিনে দেখান, তার সাথে আনুন তৎকালিন সংবাদপত্র আর মিডিয়া আর্কাইভ থেকে সংগ্রহ করা ছবি, ডকুমেন্ট আর অন্যান্য প্রমানাদি।

২ শাহবাগ মঞ্চ আর অন্যসব প্রজন্ম মঞ্চের সমাবেশে সময় হলে যারা ইচ্ছুক তাদের সবাইকে জামাতে নামাজ পড়তে এবং অন্যসব ধর্মিয় উপাসনা করতে উৎসাহ দিন। এর মিডিয়া কাভারেজে সারাদেশ দেখবে জামাতের নাস্তিকতা আর ধর্মহিনতার মিথ্যাচার কতখানি ভিত্তিহিন।

৩ একই ভাবে, রিসার্চ করে করে বড় বড় সব দুর্নিতির আর মারাত্মক বিচারহিন অপরাধের বিস্তারিত জনতাকে জানান।

আপনারা যেই মিডিয়া কাভারেজ পাচ্ছেন তাই আপনাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র, একে কাজে লাগান।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “প্রজন্ম অভ্যুত্থান যেন ভেসে না যায় – লক্ষ্যকে জিবনসংগ্রামের ভিত্তি দিন, জনমুখি হোন

  1. সহমত। আসলে যারা এই আন্দোলনের
    সহমত। আসলে যারা এই আন্দোলনের নেতৃত্বে আছেন তারা যদি বর্তমান ইস্যুর সাথে পাবলিক ইস্যু গুলোও যোগ করতেন তাহলে এই মুভমেন্ট সবার কাছেই গ্রহণযোগ্যতা পেত এবং জামাত শিবির মানুষের ধর্মীয় আবেগ নিয়ে খেলতে পারত না। আর সেই সাথে এই মুভমেন্ট থেকে নতুন শক্তির উদ্ভব হত।

  2. সহমত। আসলে যারা এই আন্দোলনের
    সহমত। আসলে যারা এই আন্দোলনের নেতৃত্বে আছেন তারা যদি বর্তমান ইস্যুর সাথে পাবলিক ইস্যু গুলোও যোগ করতেন তাহলে এই মুভমেন্ট সবার কাছেই গ্রহণযোগ্যতা পেত এবং জামাত শিবির মানুষের ধর্মীয় আবেগ নিয়ে খেলতে পারত না। আর সেই সাথে এই মুভমেন্ট থেকে নতুন শক্তির উদ্ভব হত।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

24 − 19 =