অহিংস আন্দোলন (জামাতী উস্কানীতে পা দেব না )

আবারও বলতে চাচ্ছি,আন্দোলন অহিংসা শুভ ফল বয়ে আনতে পারে। অন্তত আমাদের দেশের বাস্তবতায়। জাগরণ মঞ্চ থেকে পতাকা তোলার প্রস্তাবনা আসতে সারা দেশে পালিত হয়। তিন মিনিটের নিরবতা সংসদ থেকে ধরে গাড়ির ড্রাইভার পর্যন্ত পালন করেন। এত আস্থার পরেও কেন আল্টিমেটাম দেয়া হচ্ছেনা, এই নিয়ে ফেসবুকে অনেকে অসন্তুষ্ট।শেষ পর্যন্ত আল্টিমেটাম দেয়া হলো। ২৬মার্চের মধ্যে জামাত,শিবিরকে নিষিদ্ধ করতে হবে। মাহচুদির রহমানকে গ্রেফতার করার আল্টিমেটামের ২৪ঘন্টা শেষ হয়েছে। সে গ্রেফতার হয় নাই। এখন কি করতে হবে?


আবারও বলতে চাচ্ছি,আন্দোলন অহিংসা শুভ ফল বয়ে আনতে পারে। অন্তত আমাদের দেশের বাস্তবতায়। জাগরণ মঞ্চ থেকে পতাকা তোলার প্রস্তাবনা আসতে সারা দেশে পালিত হয়। তিন মিনিটের নিরবতা সংসদ থেকে ধরে গাড়ির ড্রাইভার পর্যন্ত পালন করেন। এত আস্থার পরেও কেন আল্টিমেটাম দেয়া হচ্ছেনা, এই নিয়ে ফেসবুকে অনেকে অসন্তুষ্ট।শেষ পর্যন্ত আল্টিমেটাম দেয়া হলো। ২৬মার্চের মধ্যে জামাত,শিবিরকে নিষিদ্ধ করতে হবে। মাহচুদির রহমানকে গ্রেফতার করার আল্টিমেটামের ২৪ঘন্টা শেষ হয়েছে। সে গ্রেফতার হয় নাই। এখন কি করতে হবে?

গত বাইশ ফেব্রুয়ারী জামাত শিবিরের,নেতৃত্বে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের উস্কে দিয়েছে। তাদের তান্ডবে,স্তম্ভিত সারাদেশ।জাতীয় পতাকা,ছিড়া,পুড়ানো,শহীদ মিনার ভাঙ্গা,জাগরণ মঞ্চে আক্রমন। কোথাও কোথাও প্রথম আলো পত্রিকা জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে।

গতরাতে শহীদ মিনারে সাধারণ জনতা যেমন ফুল দিয়েছে,তেমনি দিয়েছে রাজনৈতিক দল গুলো। বিএনপি তাদেরই মধ্যে ছিল। যে ফুলের ডালি ভেঙ্গে,আগুন ধরিয়ে দিয়েছে,এর মাঝে বিএনপির ফুলের ডালি ও ছিল। যে মানুষ রাত জেগে,যত্ন করে, মিছিল করে শহীদ মিনারে ফুলের তোড়া দিল,পর দিন তার দেয়া ফুলেই কিছু পাষণ্ড আগুন দিল, এটা কি তার মনে কিঞ্চিত আঘাত লাগে নাই? অবশ্যই লেগেছে। রোববারের হরতাল বিএনপি সমর্থন দিলেও,মির্জা ফখরুল বলেছে,ধর্মের নামে সহিংসতা তারা পছন্দ করেনা। এটা মির্জা ফখরুল বলে নাই। আমি বলব বলতে বাধ্য হয়েছে।

২২ ফেব্রুয়ারী সন্ধায়,জামাত শিবিরের তাণ্ডবের বিরুদ্ধে মিছিল করে আওয়ামীলীগ ও প্রগতিশীল দলের কর্মীরা। কোথাও কোথাও জাগরণ মঞ্চ থেকে উঠে মিছিল করেছে। আক্রমন করা হয়েছে ইসলামী ব্যাংক সহ আরো কিছু জামাতী প্রতিষ্ঠান। আমার মতে এটা সমর্থন যোগ্য নয়।
এই হামলার কিছু ভাল দিক অবশ্যই আছে তবে দূরদর্শী চিন্তায় ভাল হয়নি। যদিও জামাত,শিবির নিজেরা উস্কানি দিয়ে এটা করতে বাধ্য করেছে। গণ জাগরণ মঞ্চের কি আছে? আছে শহীদ মিনার,আছে জাতীয় পতাকা। এই শহীদ মিনার,আর জাতীয় পতাকা তো কোন দলের নয়, কোন ধর্মের নয়। তাহলে কেন এই হামলায় আক্রান্ত হলো জাতীয় পতাকা,কেন শহীদ মিনার? তাহলে কি তারা বাংলাদেশ রাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের ইতিহাস সহ্য করতে পারছে না? এটা চরম রাষ্ট্র দ্রোহিতার সামিল। এবং যে কোন সচেতন মানুষ ক্রুদ্ধ হতে পারে। এই ক্রুদ্ধতা ভাঙচুরের জন্য দায়ী।

আমি কেন এই সহিংসতাকে সমর্থন করছিনা? এই কয়দিন জামাত শিবির যতই তান্ডব চালিয়েছে ততই মানুষ ফুসে উঠেছে, এসে জড়ো হয়েছে জাগর মঞ্চে। ক্রমেই জাগরণ মঞ্চ হয়ে উঠেছে মানুষের আশা আকাঙ্খার কেন্দ্রস্থল। ভেতরে ক্ষুদ্র দন্দ থাকলেও দেশের স্বার্থে সবাই একমত হয়েছে। একই স্লোগানে মিলিত হয়েছে এই বাংলার মানুষ। আমার কাছে মনে হয়েছে এই স্লোগানের শব্দেই তাদের অবস্থা কাহিল। এবং এই জাগরণ চত্তরকে কেন্দ্র করে জামাত,শিবির নাশকতা করতে একের পর এক মিশন নামিয়েছে। কিন্তু মানুষের অদম্য দেশ প্রেমের কাছে সবই বিফলে গেছে। কোন ট্যাবলেট এই সময় কাজে দেয়নি।

এই আন্দোলন অহিংস বলেই এখানে মানুষ জড়ো হয়েছে দলে দলে। সহিংসতা চাইলে রাজাকারদের জেল ভেঙ্গে আনতে যেত শাহবাগে। তার পর কি হবে? কিন্তু এই দিকে আমরা যাইনি। কারন দেশে আইন আছে, আমরা চেয়েছি আইনগত ভাবে এদের বিচার হোক। এমন আইন করা হোক যেখানে জনগনের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটবে। এই দেশের মানুষের সাথে জামাত শিবিরের পার্থক্য হলো, দেশের মানুষ দেশকে ভালবাসে। আর জামাত শিবির দেশকে ভালবাসা বিষয়টা চিন্তাই করতে পারেনা। এই দেশকে ভালবাসি বলেই দেশের আইনের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল।

আমরা যেহেতু দাবী গুলো সরকারের কাছে পেশ করছি। সরকারকে চাপে রাখার চেষ্টা করছি। সরকারকে আইন আনুযায়ী ব্যবস্থা নেবার জন্য চাপ দিচ্ছি। তখন সরকার বিরোধী কর্মকাণ্ড কোন ভাবেই সমর্থন যোগ্য হতে পারেনা। এবং এই ভাঙচুরের পরে জেলা উপজেলায় গড়ে উঠা জাগরণের মঞ্চের দিকে মানুষের এক ধরনের ভয়ার্ত ভাব জন্মেছে। এই ভয় জামাত শিবিরকে নয়, আওয়ামীলীগের কিছু মাথা মোটা কর্মীদের। তারা যে কোন মূহুর্তে জামাত শিবিরের উষ্কানির ফাঁদে পা দিতে পারে।

যদি এমন কোন মিশন নেয়া হয় ,যে জামাত শিবিরের কোন প্রতিষ্ঠানকে এই দেশে রাখা হবে না। এবং এই কাজ বাস্তবায়ন আমরাই করবো। এমন ঘোষণা দিয়ে রাজ পথে নামতে রাজি আছে। কিন্তু এই ঝটিকা হামলার সাথে একমত নই। এই হামলায় কি ফল হয়েছে? ইসলামী ব্যাংক কি কার্যক্রম বন্ধ করেছে? জামাতি প্রতিষ্ঠান কি তার ব্যাবসা বন্ধ করেছে? কোন হাসপাতাল কি বন্ধ হয়েছে? কিন্তু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের অবস্থা চিন্তা করুন।

সব শেষ,শাহবাগের জাগরণ মঞ্চের নীতি নির্ধারকদের মেধাবী সিদ্ধান্তকে সম্মান করি। এই পর্যন্ত যত গুলো কর্মসূচি দেয়া হয়েছে, যত গুলা আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে। যতগুলো বক্তব্য দেয়া হয়েছে। সব গুলোর সাথেই পূর্ণ সহমত জ্ঞাপন করি। এবং আশা করছি ঢাকার বাইরের জাগরণ মঞ্চের কর্মীরা শাহবাগ জাগরণ মঞ্চের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কোন রকম উস্কানিতে পা দিবেন না।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৮ thoughts on “অহিংস আন্দোলন (জামাতী উস্কানীতে পা দেব না )

  1. ডাইনোসর্‌,
    আমিও ভাংচুরের

    ডাইনোসর্‌,
    আমিও ভাংচুরের চাইতে বয়কট বেশি প্রেফার করি। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    1. পত্রিকার খবরে প্রায়ই দেখছি।

      পত্রিকার খবরে প্রায়ই দেখছি। প্রতিদিন শয়ে শয়ে একাউন্ট ক্লোজ করছে। এর দুইটা কারন। এক জামাত শিবিরকে ঘৃনা, আর এই ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয়। এমনিতেই তাদের কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হবে। আর শাহবাগের দাবী হলো জামাতী প্রতিষ্ঠান গুলাকে জাতীয়করণ করে নেয়া। আমি এখানে পূর্ণ সমর্থন(বিএনপির মতো) দেই

  2. জমাত-শিবিরের সাথে সম্মুখ সমরে
    জমাত-শিবিরের সাথে সম্মুখ সমরে যাওয়ার আদৌ কোন প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করিনা,তার ছেয়ে বরং আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে দাবী আদায়ে বাধ্য করতে হবে |

    1. জামাতের সাথে সমরে যাওয়ার
      জামাতের সাথে সমরে যাওয়ার সুযোগ কই? সামনে পেলে তো সমরে যাবেন? তারা তো লুকায় ধর্মের আঁচলের নীচে। ক্ষতিগ্রস্থ হয় সাধারণ মানুষ।

  3. জামাত শিবিরকে রাজনৈতিক ভাবে
    জামাত শিবিরকে রাজনৈতিক ভাবে নির্মুল করাই হবে টেকসই চিরস্থায়ি ব্যাবস্থা। যেমন ভাবে বাংলাদেশ থেকে নিশ্চিন্ন হয়ে গেছে মুসলিম লিগ, পিডিপি আর নেজামে ইসলামের মত পাকিস্থানপন্থি দলগুলি।

    ফ্যসিজম দিয়ে ফ্যসিজম, বা অন্য কোনো কিছুকেই দমানো যায় না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

63 + = 65