আমরা শান্তি চাই !!!! আমাদের পথই শান্তির পথ ।

শান্তি চাই! শান্তি চাই!! শান্তি চাই!!! এই কথা শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা হয়ে গেল । ৪৭এর পর থেকে ৭১ পূর্ববর্তিতে পাকিস্তানের পূর্ন স্বাধীনতা ভোগ করেছে শুধুমাত্র নাকি পশ্চিম পাকিস্তানিরা !? ফলে নিজ দেশের নাগরিক ও সংখ্যা গুরু হয়েও আমরা নাকি হয়েছিলাম ২য় শ্রেনীর নাগরিক !!? প্রথম শুরু হয়েছে আমাদের ভাষার জন্য আন্দোলন, আমরাও ছিলাম এই আন্দোলনে । এর পরে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য শুরু করে স্বাধীকার আন্দোলন । এই সময়েও আমরা বলেছি – যা হওয়ার হয়েছে এখন শান্তি চাই ।

এর পরে ২৫শে মার্চ রাত্রে নিরস্ত্র জনতার উপর নেমে আসে ইসলামিক পন্থায় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য দানবীয় আক্রমন । এর পরে মুক্তিযুদ্ধ করা ছাড়া নাকি ওদের আর কিছুই করার ছিল না । শুরু হয়ে গেল বাংলার বীর ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধ । ছিঃছিঃছিঃ ভাইয়ে ভাইয়ে যুদ্ধকে বলে মুক্তিযুদ্ধ। তখন আমরা বললাম- এসব চাই না, এখন শান্তি চাই । আমরা তো বারবার বলেছি আমরা শান্তি চাই , শুরু করলাম আমাদের শান্তি কমিটি গঠন ও তার কার্যক্রম । চারিদিকে শুধু শান্তি আর শান্তি ।

আমাদের মুক্তি যোদ্ধারা যুদ্ধ করছে বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন স্থানে । কেউ সরসরি কেউ গেরিলা ভাবে । তাদেরকে প্রতিহত করে দেশে শান্তি ও ইসলাম কায়েমের আশু প্রয়োজন দেখে দিল । ফলে এই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য শান্তি কমিটিকে সাহায্য করার জন্য তৈরি হলো আল- বদর, আল- শামস ও আল-রাজাকার বাহিনী । সকল বাহিনী মিলে দেশে প্রতিষ্ঠা করছে পবিত্র শান্তি (আল=পবিত্র) । অর্থাৎ আমরা শান্তি চাই ।

এদের কথায় কান দেয়না শালার ভারতের দালাল শ্রেনীর কিছু মানুষ যাকে অনেকেই বলেন মহান মুক্তি যুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধা । দেশ যখন স্বাধীনতার দ্বার প্রান্তে তখন তারা আবার জাতি সংঘে গিয়ে বলল – আমরা ইসলাম ধর্মের বিশ্বাসী অর্থাৎ শান্তি ধর্মের দলের সদস্য । আমরা শান্তি চাই । শালার বেইমান কাফের ভারতের চালে তা হলো না ।

দেশ স্বাধীন হলো কিছু সেনাবাহিনীর সদস্য শান্তি কামী বিদেশী প্রভুদের দ্বারা প্ররচিত হয়ে হত্যা করল জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে । শুরু হলো দেশে এক অবাধ বিশৃংখলা । শেষে পর্দার আড়াল থেকে বের হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানের মেজর জিয়া । তখন আমরা আবার বললাম আমরা শান্তি চাই । জিয়াও শান্তির ধর্মকে সামনে রেখে আমাদেরকে শান্তির ব্যবস্থা করলেন আমাদেরকে জেল থেকে মুক্ত করে । মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী আলীগের নেতাদেরকে হত্যা ও মুক্তিযোদ্ধা সেনা সদস্য দেরকে হত্যার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা করলেন । আমরা শান্তি পেলাম !! শুরু করলাম শান্তির কাজ ।

সেই মেজর জিয়াও শহীদ হয়ে তার কৃত কর্মের ফল লাভ করলেন প্রাকৃতিক নিয়ম অনুযায়ি আমরা একটু অশান্তিতেই পড়লাম আমরা বললাম শান্তি চাই । আরে জিয়া এই দেশকে নাস্তিক থেকে আস্তিক ইসলামে প্রবর্তন করেছেন দেশের সংবিধানের সুন্নতে খাতনা করে (বলুন সুবহানাল্লাহ)। সেই ইসলামী স্কলারের জন্য আমরা শান্তি চাইব না ? অবশ্যই চাইব । আমরা শান্তি চাই ।

রাস্ট্রের মাথায় বসে গেলেন এরশাদ । উনি রাস্ট্রকে ইসলামের মুরিদ বানালেন (বলুন সুবহানাল্লাহ)। আমরা আবার বললাম ইসলাম শান্তির ধর্ম তাই আমরা ইসলামই চাই এবং চাই । আমরা শান্তি চাই । এরশাদের শত্রুরা বলে হেতে নাকি লুচ্চা । আমি বলি হোক লুচ্চা সে রাস্ট্রকে ইসলামে দিক্ষিত করেছে । কাউকে মুসলিম বানালে কত সোয়াব তা জানেন ? উনি যেহেতু দেশের প্রেসিডেন্ট আর আমরা সবাই দাস দাসী ফলে দাসীদের সাথে লুচ্চামী উনার জন্য বৈধ অন্তত ইসলামের স্বার্থে । উনার সকল লুচ্চামী মাফ হয়ে গেল আমরা সব সময় কিন্তু শান্তি চাই ।

২০০১ এর ইতিহাস পার করে চলে আসলাম ২০১৩ তে । আমরা শান্তির পথ থেকে এক চুলও নড়িনি, জ্বালাও পোড়াও ভাংচুরের মধ্যে দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চলছিল । আদালতে শান্তির পক্ষে রায়ও হলো । পবিত্র কোরানে আল্লাহ ওয়াদা করেছেন – কাফেররা কোন দিনই জিতিতে পারবে না । অশান্তির দলের নাস্তিক ও অশান্তিকারী একদল তরুন হুদাহুদিই সেই ৭১ এর ইসলামের সৈনিকদেরকে শাস্তির দাবী করে বসল । ভারতের পরিচালনায় শুরু হলো তথা কথিত প্রজন্মের সৈনিকদের অহিংস আন্দোলন । কিন্তু শান্তির ধর্ম ইসলামের সৈনিকরা কি শুধু বসে বসে দেখবে ? কাভি নেহি । আমরাও নিজেরা ৫ই মে তে শাপলা চত্তরে একত্রিত হয়ে বায়তুল মোকাররমের চারিপাশে নিজের শান্তির নিদর্শন দেখালাম । কেন দেখাবনা ? আমরা তো শান্তির ধর্মে দিক্ষিত । নাস্তিক সরকার হাজার হাজার শান্তির নেতাদেরকে হত্যা করে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাধা দিল । আমরাও বসে থাকলাম না , আমরা শান্তি চাই ।

শাপলা চত্ত্বরের এর বদলা নিতে সকল সিটি কর্পোরেশনে আমরা নাস্তিক ও অশান্তিকর সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নাস্তিকদেরকে হারিয়ে দিলাম (বলুন সুবাহানাল্লাহ ) । শুরু করেদিলাম আমাদের সরকার ও নাস্তিক বিরোধী আন্দোলন । বিশাল বাজেটের মাধ্যমে ও বহু হেপা করে সারা পৃথিবীর মোড়ল হিসাবে পরিচিত আমেরিকা ও জাতিসংঘকে নিজেদের দলে আনলাম । মনে মনে ভাবলাম আল্লাহ আমাদের সহায় হয়েছেন (কিন্তু তখন বুঝিনি আল্লাহ আমাদের ঈমান পরীক্ষা করছেন) । ভোট বন্ধ করতে হবে কিন্তু কোন কিছুতেই কাজ হচ্ছে না দেখে কিছু ভোট কেন্দ্র গুলিরে পোড়ানো শুরু করলাম । যাতে ভোট না হয় তাই কাফেরদের স্কুল মানেই হারাম অতএব সেই হারাম নষ্ট করা হালাল কাজে মনোযোগ দিলাম । এর পরে চিন্তা করলাম কারা ভোট কেন্দ্রে যেতে পারে । প্রথমেই মাথায় এল শালার কাফের নাস্তিক মালাউন হিন্দুদের কথা । এই মালাউনদের সাথেই শুরু করলাম আমাদের শান্তি বাস্তবায়নের কর্মসূচী । গনিমতের মাল ১০০% হালাল- এটা কে না জানে । ব্যাস যার যতটুকু দরকার তা নিয়ে এনে নিজেদের ঘরে তুলে হালাল বানালাম । হিন্দুদের কিছু মাল আছিল (অনেক আগে থেকেই এদের দেখলেই আমার ইয়ে হতো) এদেরকেও নিজেদের সুন্নাতে খাতনা দ্বারা কিছুটা পবিত্র বানানোর জন্য (আল ) কার্যক্রম চালালাম । অনেক শালি হালাল বা পবিত্র হতে চায় , তারা পালিয়ে গেল । “এদের হৃদয়ে সীসা দিয়ে বন্ধ করা আছে” – এটা মনে করে ছেড়ে দিলাম । এর পরেই শালার কিছু নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্দেষীরা আমাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দাবী দিয়ে চিৎকার করা শুরু করে দিল । মোদ্দা কথা এরা শান্তি চায় না , শুধু চিৎকার চেচামেচি করে অন্যের শান্তি বিঘ্নিত করে । এরা ইসলাম বিদ্দেশী । নাস্তিক সরকারও নাকি আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কঠোর হবে !!!? কেন রে বাবা !! ইসলামের বিরুদ্ধে গিয়ে ক্ষমতায় থাকতে পারবি ? শুধু অশান্তি করবি , আমরা কিন্তু শান্তি চাই ।

যাক আজ আমাদের নেত্রী তাড়াতাড়ি আমাদের আমেরিকা ও ইউদের কথায় তাড়াতাড়ি সংবাদ সম্মলেন করে সেই শান্তির কথাই বললেন । উনারা শান্তির প্রতিক , অর্থাৎ উনারাও আমাদের দলের । শুধু শান্তি চায় অন্য কিছুই তারা চায় না । তারা নিজেদের ও অন্যের শান্তির জন্য কাজ করছেন । বিদেশী প্রভুরাও তাদেরকে শুধু শান্তির জন্য বলছে । অর্থাৎ চারিদিকেই এখন শুধু শান্তির বানী । সবাই শুধু শান্তি শান্তি আর শান্তি চায় । শাস্তির ভয়ে আমরাও একটু ভীত আছি (নাউযুবিল্লাহ , আল্লাহ ঈমান পরীক্ষা করছেন) তাই আমরাও এখন সাদা পতাকা হাতে নিয়ে শান্তির জন্য মিছিল মিটিং করব । আমাদের আদর্শই তো শান্তির আদর্শ । আমাদের ধর্মও শান্তির ধর্ম । যারা এই অশান্তি ছড়াবে তারা অমুসলিম । তারা কাফের , মুনাফেক । তাই সব কিছু বাদ দিয়ে আমাদের শান্তির পথে আসেন আখেরে ও দুনিয়াতেও শান্তি পাবেন (বলুন আলহামদুলিল্লাহ) আমিন।

( এসব বলে কিছুই কোন দিন হয়নি হবেও না । এই কয়েক মাসে যাদের বাবা পুড়েছে , ছেলে পুড়েছে, মেয়ে পুড়েছে, মা পূড়েছে , যাদের বাড়ি ঘর লুট হয়েছে, আগুনে পুড়েছ, যাদের সম্ভ্রম হানি হয়েছে তারা কি এখন এই ধরনের শান্তি চাচ্ছেন !!!?????? আপনারাও কি এইরকম শান্তি চাচ্ছেন ????? এভাবে শান্তির ফরমূলা আর কতদিন ? আমাদেরকে শাস্তি না দিয়ে কি আদোও শান্তি আনা সম্ভব ? যদি আনেনও তা কতক্ষন স্থায়ী হবে ? অপরাধীর শাস্তি ছাড়া কি শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব ? )

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১২ thoughts on “আমরা শান্তি চাই !!!! আমাদের পথই শান্তির পথ ।

  1. শান্তির অপর নাম ককটে, পেট্রোল
    শান্তির অপর নাম ককটে, পেট্রোল বোমা, আগুন দিয়ে বাস পুড়িয়ে মানুষ মারা। তাই এইগুলো যত করা যাবে ততই শান্তি প্রতিষ্টা হবে …… 😀

    1. একলা পথের পথিক ভাই, মন হীন
      একলা পথের পথিক ভাই, মন হীন দানব কিভাবে হব ? আমি যে মানুষের জীন বহন করছি । এক্ষেত্রে আমার ডিজাইনেই ভুল হয়েছে । তবুও ধন্যবাদ ।

  2. আমার বাপ-ভাইকে আমার সামনে
    আমার বাপ-ভাইকে আমার সামনে জবাই করে আর বেয়নেট দিয়ে খুচায়ে মেরে ফেললেও আমি শান্তি চাই :মাথাঠুকি: আমার মা আর বোনকে আমার সামনে অকল্পনীয় নির্যাতন করে ছিঁড়েখুড়ে খেলেও আমি শান্তি চাই… :মাথাঠুকি: আমার দেশের মানুষকে বাসের ভেতর জীবন্ত গ্রিল বানালেও আমি শান্তি চাই :মাথাঠুকি: আল্লাহু আকবর বলে আমার ভিন্ন ধর্মালম্বি বাল্যকালের প্রানের বন্ধুকে জবাই করলেও আমি শান্তি চাই… :মাথাঠুকি: আমার দেশটাকে জ্বালিয়েপুড়িয়ে ছাই করে দিলেও আমি শান্তি চাই… :মাথাঠুকি: কেননা আমার শেকড় এই দেশে না। আমার শেকড়ের উৎপত্তি পাকসাঁর জমিন সাদবাদে… :মাথাঠুকি: আমার স্লোগান হইল…

    হাত মে বিড়ি, মু মে পান,
    লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান’।

    ইষ্টিশনে স্বাগতম মূর্খ চাষা ভাই… :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: প্রানে প্রান মেলাবই… :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :ফুল:

  3. জিয়াও শান্তির ধর্মকে সামনে

    জিয়াও শান্তির ধর্মকে সামনে রেখে আমাদেরকে শান্তির ব্যবস্থা করলেন আমাদেরকে জেল থেকে মুক্ত করে । মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী আলীগের নেতাদেরকে হত্যা ও মুক্তিযোদ্ধা সেনা সদস্য দেরকে হত্যার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা করলেন । আমরা শান্তি পেলাম !! শুরু করলাম শান্তির কাজ।

    যেই শান্তি এখনো চলমান রয়েছে। তবে বেশীদিন আর আমাদের এই শান্তিতে(!!) থাকতে হবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছি…।
    আর দাদাভাই আপনাকে ইষ্টিশনে স্বাগতম… :গোলাপ: :ফুল: :গোলাপ: :ফুল: :গোলাপ:

    1. দিদিভাই, আনাদের পিছনে পিছনেই
      দিদিভাই, আনাদের পিছনে পিছনেই চলে এলাম । সাদরে গ্রহনের জন্য ধন্যবাদ ।

      তবে বেশীদিন আর আমাদের এই শান্তিতে(!!) থাকতে হবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছি…।

      সেই আশাতেই আছি । জানিনা ফল কি হবে ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

13 − 9 =