অঘোর চন্দ্রর নাগরিত্ব

অনেক খুঁজেটুজে ভোটার আইডি কার্ডটা পেলো অঘোর। খুবই গুরুত্বপূর্ণ জিনিস অঘোর জানে। সরকারী কিছু করতে গেলেই লোকে কার্ডটা চায়। তুমি যে এই দেশের নাগরীক তার প্রমাণ কি? এনজিও অফিসের মঞ্জুর স্যার বলেছিল ঋণ দেয়ার সময়। অঘোর ক্যাবলা হয়ে গিয়েছিল প্রশ্ন শুনে। সকলে তাকে চেনে, এই গ্রামে তার চৌদ্দ পুরুষের বাস…কি প্রমাণ দিবে সে? কিন্তু পঁচিশ হাজার টাকা ঋণ নেয়ার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রটা তার দেখাতে হয়েছে। শ্রী অঘোর চন্দ্র বিশ্বাস, পিতা: স্বর্গীয় মলয় চন্দ্র বিশ্বাস… অঘোরের একটা ছবি আছে কার্ডে, ভীতু অপ্রস্তুত এটা মুখ, অঘোরকে প্রায় চেনাই যায় না। স্কুলঘরে ক্যাম্প বসেছিল ভোটার আইডির জন্য। সেখানে গিয়ে অঘোর একবেলা কাজ ফেলে ছবিখানা তুলে ছিল আর আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে এসেছিল। তারপর মাস দুই-আড়াই পর কার্ডটা হাতে এসেছিল। সবাই বলেছিল, কার্ডটা যত্ন করে রাখ। এরপর সব কাজে এটা লাগবে।

সত্যি সত্যি এরপর সব কাজে কার্ডটা খুব লেগেছে। সেবার ঝড়ে ঘরের চালা উড়ে গেলো। সরকার থেকে টিন দিবে। নাম সই করে টিন নিতে হলো। সঙ্গে এই কার্ডখানা দেখাতে হলো। কার্ডটা হারালে কি হতো এবার বুঝে দেখো! সরকার কি টিন দিতো? বলতো, তুমি যে এই দেশের নাগরিক তার প্রমাণ কি? সরকার তো আর অঘোরকে চিনে না। সামনেই বর্ডার, সরকার চেনে কার্ড, এই কার্ড দেখে সরকার তাকে টিন দিয়েছে। আজ সকালবেলা কার্ডটা হঠাৎ খুঁজে না পেয়ে অঘোর বউকে গালাগালি করছিল। চুতমারানি কিছু গুছায় রাখতে পারে না! কার্ডটা একটা বোচকার মধ্যে রাখা ছিল কাপড়ের ভাঁজে। অঘোর কার্ডটা হাতে নিয়ে পেটের কাছের গেঞ্জিতে ঘঁষে পরিস্কার করে।

অঘোর মানুষটা বোকাসোকা। বুদ্ধি কম হলে যা হয়, জমিজমা বন্ধক রেখে দেনার দায়ে এখন শুধু ভিটাবাড়িটুকু অবশিষ্ঠ আছে। মাথায় বুদ্ধি নেই বলেই হয়ত গায়ে খুব জোর। খুব খাটতে পারে অঘোর। পরের জমিতে বড়গা খেটে সম্ববৎসরের খোরাকি জোগায়।

হিন্দুপাড়ায় অঘোরদের ষাট-সত্তরটি ভোট। অঘোর আর তার বউয়ের দুটো ভোট চেয়ে গেছে মালেক বেপারী। মালেক জানে অঘরোদের ভোট সে পাবে না। তাই মনে মনে গাল দিয়েছে, শুয়োরের বাচ্চা! ভোট তো দিবি না জানি! কেন্দ্রেও যাবি না এটা মনে রাখিস! মালেকের মনের কথা রাতে এসে বলে গেছে তার পার্টি লোকজন।

-হিন্দুপাড়ার কেউ কেন্দ্রে গেলে লাশ পড়বে কাল!

বাজারে সন্ধ্যার পর কথাটা চাউর হওয়ার পর হিন্দুপাড়ায় থমথমে অবস্থা শুরু হয়ে যায়। হিন্দুদের নেতা গোছের প্রদ্বীপ বাবু বললেন, কাম নাই ভোট দিতে। বাকীটা তোমাগো ইচ্ছা। আমি যামু না এইটা নিশ্চিত…।

মালেক বেপারীর প্রতিপক্ষ আবদুল হাই শিকদার হিন্দুপাড়ায় এবার আসেই নাই। সে জানে এই ভোট তারা বংশ পরম্পরায় পেয়ে আসছে এবং পাবে। সে বরং মনোযোগ দিয়েছে অন্যদিকে। ভোটের আগে আগে সে ওমরা করে এসেছে। এসেই বলেছে গ্রামের মসজিদটা পাকা হবে। মাদ্রাসা বানাবে। ইসলামের খেদমতে যা যা করার সবই করবে সে। আবদুল হাই শিকদার পোস্টার ছেপেছে নামাজরত অবস্থার ছবি দিয়ে। মালেক বেপারী আগেই ঢাকায় ইসলাম রক্ষা করতে গিয়ে পুলিশের লাঠি পেটা খেয়ে জনগণের মন জয় করেছে। কাজেই আবদুল হাই শিকদারের জন্য নির্বাচনটা খুব কঠিন এবার। অঘোরদের নিয়ে আপাতত তার চিন্তা না করলেও চলবে। সে শুনেছেন মালেক হিন্দুদের হুমকি দিচ্ছে ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য। পরিস্থিতি যা তাতে সরাসরি আবদুল হাই হিন্দুদের পক্ষে গিয়ে দাঁড়াবে না। তাতে ভোটের আগের রাতে তাকে হিন্দুপ্রেমী বলে মালেক প্রচারণা চালাতে পারে। সে তাই তার অনুগত একজনকে দিয়ে হিন্দুপাড়ায় বলে আসতে বলল, চিন্তার কোন কারণ নাই। ভোটের সকালে কারা বাঁধা দিতে আসে সেটা সে দেখবে। অঘোররা যেন নির্ভয়ে ভোট দিতে যায়…।

সকালবেলা অঘোরকে পুকুরে দুটো ডুব দিয়ে এসে মাথায় তেল মারতে দেখে ওর বউ বিজয়া বিরক্ত হয়ে বলল, সাত-সকালে কই যাও?

অঘোরও সমান বিরক্ত হয়ে বলল, ক্যান, ভোট দিতে যাবি না?

বিজয়া তার নির্বোধ স্বামীর দিকে একটুক্ষণ চেয়ে রইল। স্বামীর হাবভাব দেখে তার রাগ হতে লাগলো।

-ভোট দেয়া লাগবো না। চুপ কইরা ঘরে বইয়া থাকো! বিজয়া কঠর হয় স্বামীর উপর।

অঘোর চিরুণী দিয়ে মাথা আচড়ায়। ছোট্ট আয়নায় নিজেকে দেখে। পিছনে বিজয়া বিরক্তি নিয়ে চেয়ে থাকে তার দিকে। অঘোর গ্রাহ্য করে না। ভোট ব্যাপারটা তার কাছে খুব উৎসব মনে হয়।

কেন্দ্র পড়েছে স্কুলঘরে। অঘোর হিন্দুপাড়ার প্রবেশ মুখে এসে থমকে দাঁড়ায়। টেবিল চেয়ার নিয়ে গাছের নিচে বসে আছে মালেকের লোকজন। অঘোরকে দেখে ওরা বলল, কই যাও, ক্ষেতের কামে গেলে এইখান দিয়া নাইমা যাও…। অঘোর মাথা চুলকে ম্লাণ হাসে। তার হাতের মুঠিতে জাতীয় পরিচয়পত্র। শার্টের পকেটে সেটা লুকিয়ে ফেলে।

-ঐ অঘোর, মাসিগো কবি, আজ ঘরের বাইরে যাওনের কাম নাই। গন্ডগোল হইব খুব…।

একজন খুব অসহিঞু হয়ে আঙ্গুল উঁচিয়ে অঘোরকে বলল, ঐ যা বাইত যা! এইখানে এখন তোর কাম নাই…

অঘোর অপ্রস্তুত হাসে। যে ছেলেটা চোখের দিকে আঙ্গুল উঁচিয়ে কথা বলল এখন কয়েক বছর আগেও ‘অঘোরদা’ বলে সম্বধন করতো। ওর বড় ভাইয়ের সঙ্গে ক্লাশ ফাইভ পর্যন্ত অঘোর প্রাইমেরিতে পড়েছে। অপমানে অঘোরের মুখটা কালো হয়ে গেলো।

বিজয়া অঘোরকে ফিরে আসতে দেখে চেয়ে থাকলো। কিছু আর জিজ্ঞেস করলো না। সারাদিন অঘোর আর কোথাও গেলো না।

রাতে শুতে যাবার সময় অঘোরের মনে পড়ল জাতীয় পরিচয়পত্রটা শার্টের পকেটে রয়ে গেছে। শার্টটা আলনায় ঝোলানো। সকালবেলা মনে করে কার্ডটা যত্ন করে রেখে দিতে হবে। ভোট তো শেষ। অঘোর খানিকক্ষণ ভোট নিয়ে ভাবলো। বিষ্ণু এসেছিল সন্ধ্যাবেলা। বাজারে নাকি তাকে দেখে শুনিয়ে শুনিয়ে গালাগালি করেছে মজিদ মেম্বারের ছেলের দলবল। বলেছে, মালুগুলিরে আর এই দেশে রাখুম না! ঐগুলিরে ইন্ডিয়ায় পাঠায় দিমু!

-ধুর ব্যাটা, তর লগে মশকরা করছে অরা! অঘোর বিষ্ণুকে বুঝিয়েছে।

-মশকরা না। আমি অগো চোখ-মুখ দেখছি।

অঘোর হাসে। তুই ডরাইছত দেহি! কইলেই হইল আর কি? মেম্বারের পোলায় তো সেদিনও আমারেও ঠাট্টা কইরা কইতাছিল, মামু, তোমাগো আওয়ামী লীগ তো এইবার ফেইল করবো! ইন্ডিয়ার ভিসা নিবা কিনা কও? এইসব ঠাট্টা বুজলি।

বিষ্ণু মাথা নাড়ে। চুপ করে থাকে কিছুক্ষণ। তারপর ফিসফিস করে বলে, ইন্ডিয়া যামুগা ঠিক করছি!

বিষ্ণুর দুই ভাই আগে থেকেই ইন্ডিয়া থাকে। গত বছর বুড়ো বাপ-মা চলে গেলো। বিষ্ণুই বউ ছেলেমেয়ে নিয়ে বাপ-দাদার ভিটিতে আছে। দুই বছর আগে যেবার বিষ্ণু বাবা-মা দেশে ছিল, শেষবার দূর্গাপূজাটা হয়েছিল ওদের বাড়িতে। সেবার পূজার আগে মূর্তি ভেঙ্গে ফেলেছিল কুত্তার বাচ্চারা। বাবা খুব আঘাত পেয়েছিল এই ঘটনায়। ছোট ছেলে বিষ্ণুকে তিনি সেবারই সঙ্গে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। বিষ্ণু যেতে চায়নি। অঘোরকে ও বলেছিল, ইন্ডিয়ায় গিয়া কি করুম ক তো? কাউরে চিনি না। জানি না…।

সেই বিষ্ণুর এখন যেতে খুব উৎসাহ। অঘোরকে বলে, যাবি?

অঘোরের কাছে প্রশ্নটা এমনই অবাস্তব যে সে প্রথমটায় বিরক্ত হয়। তার কেউ ইন্ডিয়া থাকে না। হিন্দুদের ইন্ডিয়ায় কেউ না কেউ থাকে, অঘোরদের কেউ থাকে না। সে কোথায় যাবে? দেশ ফেলে বিদেশে গিয়ে বাস করবে? এই গ্রাম ফেলে সে একদিনও কোথাও থাকতে পারবে না।

কিন্তু বিষ্ণু সত্যি সত্যি চলে গেলে অঘোরের খুব খারাপ লাগবে। ছোটবেলা থেকে দুজনের বন্ধুত্ব। সেই বন্ধু যদি চিরদিনের জন্য কোথাও চলে যায় কেমন লাগে? অঘোর ভাবলো, কাল সকালবেলা সে বিষ্ণুকে খুব করে বুঝাবে এসব পাগলামী না করতে। সে কিসের ভয় পাচ্ছে শুধু শুধু! কাল সকালে সে তার মাথার দিব্যি দিবে দেশ না ছাড়ার জন্য…। অঘোর ইন্ডিয়ার কথা ভাবে। তার কাছে অচেনা দুর্বোদ্ধ মনে হয়। এই গ্রাম ফেলে সে কোথায় যাবে? ভাবতেই তার কেমন লাগে। মনটা টনটন করে উঠে ব্যথায়। অঘোর ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ে।

হিন্দুপাড়ায় আগুন লেগেছিল শেষ রাতে। পুরো পাড়া পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। দুই-চার গ্রামের মানুষ ভিড় করে এসে দেখছে। সাংবাদিক এসেছে, পুলিশ এসেছে। শুনেছে একজন সরকারী লোকও আসবেন কাল পরশু।

বিজয়া কাঁদছিল পোড়া ভিটায় উপুড় হয়ে শুয়ে। যা ছিল সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এখন গাছতলায় গিয়ে দাঁড়ানো ছাড়া কোন গতি নেই। এসবই সে বিলাপ করে করে বলছিল। একটু দূরে অঘোর চুপ করে বসেছিল। একজন সাংবাদিক তাকে জিজ্ঞেস করছিল সে কাউকে চিনেছে কিনা। অঘোর দুদিকে মাথা নাড়লো। তার খুব ক্লান্ত লাগছিল। শেষ রাত থেকে আগুন নেভাতে অনেক দৌড়ঝাপ করেছে। এখন শরীর নুয়ে আসছে ক্লান্তিতে। অঘোরের খুব ঘুম পাচ্ছে। কোথাও সে একটু শুতে পারতো। কিন্তু কোথায় শুবে সে। চারদিকে পোড়া ছাই থেকে ধোঁয়া উঠছে। হঠাৎই অচেনা লাগছে জায়গাটা তার। চিরচেনা বসতবাটিকে জীবনে এই প্রথম তার অচেনা লাগছে। এ সে কোথায় এসেছে? একি স্বপ্ন? না বাস্তব?

সাতদিনের মাথায় অঘোর শুনতে পেলো সরকারী কিছু সাহায্য আসছে। ক্ষতিগ্রস্থদের নাম লিখিয়ে আসতে বলল প্রদ্বীপ বাবু। বিষ্ণু এসে স্বশব্দে থুতু ফেললো। সাহায্যর মাইরে বাপ! এই দেশেই আর থাকুম না! আমরা কি ভিক্ষারি নাকি!
অঘোরের এত মানগম্যি নেই। সে বিষ্ণুর চেয়ে দরিদ্র। লাইন ধরে রিলিফ সে অনেক নিয়েছে। কিন্তু তার কার্ডটা তো আগুনে পুড়ে গেছে! ফের যদি কেউ কার্ড দেখতে চায়? অঘোর যে এ দেশের নাগরিক তার প্রমাণ কি? সেই এনজিও কর্তাটির মত যদি এবারও কেউ বলে, তুমি যে এদেশের নাগরিক তার প্রমাণ কি বাবু?

অঘোর অন্যমনস্ক হয়ে যায়। কার্ডটা তো পুড়ে গেছে, সে কি আর তাহলে নাগরিক আছে? অঘোরের ঘোর সন্দেহ হয়, যতদিন যায় সন্দেহটা তার ঘনিভূত হতে থাকে…। তার কানে বাজে, তুমি যে এদেশের নাগরিক তার প্রমাণ কি বাবু?

অঘোর জানে প্রমাণ নেই। আগুনে পুড়ে সব ছাই হয়ে গেছে…।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২৯ thoughts on “অঘোর চন্দ্রর নাগরিত্ব

  1. চমৎকার লিখেছেন ভাই।

    চমৎকার লিখেছেন ভাই। :থাম্বসআপ: :bow:

    সাতদিনের মাথায় অঘোর শুনতে পেলো সরকারী কিছু সাহায্য আসছে। ক্ষতিগ্রস্থদের নাম লিখিয়ে আসতে বলল প্রদ্বীপ বাবু। বিষ্ণু এসে স্বশব্দে থুতু ফেললো। সাহায্যর মাইরে বাপ! এই দেশেই আর থাকুম না! আমরা কি ভিক্ষারি নাকি!
    অঘোরের এত মানগম্যি নেই। সে বিষ্ণুর চেয়ে দরিদ্র। লাইন ধরে রিলিফ সে অনেক নিয়েছে। কিন্তু তার কার্ডটা তো আগুনে পুড়ে গেছে! ফের যদি কেউ কার্ড দেখতে চায়? অঘোর যে এ দেশের নাগরিক তার প্রমাণ কি? সেই এনজিও কর্তাটির মত যদি এবারও কেউ বলে, তুমি যে এদেশের নাগরিক তার প্রমাণ কি বাবু?
    অঘোর অন্যমনস্ক হয়ে যায়। কার্ডটা তো পুড়ে গেছে, সে কি আর তাহলে নাগরিক আছে? অঘোরের ঘোর সন্দেহ হয়, যতদিন যায় সন্দেহটা তার ঘনিভূত হতে থাকে…। তার কানে বাজে, তুমি যে এদেশের নাগরিক তার প্রমাণ কি বাবু?
    অঘোর জানে প্রমাণ নেই। আগুনে পুড়ে সব ছাই হয়ে গেছে…।

  2. এই গল্পের প্রতিটি শব্দ
    এই গল্পের প্রতিটি শব্দ সমসাময়িক বাস্তবতাকে উপস্থাপন করছে… তবুও কারো ভেতরে না ঢুকলে কিছুই করার নেই।

    অভিনন্দন “সুষুপ্ত পাঠক”! চমৎকারভাবে বাস্তবতা তুলে ধরার জন্য…

    “অঘোর যে এ দেশের নাগরিক তার প্রমাণ কী? তার কার্ডটা তো আগুনে পুড়ে গেছে!”
    :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া:

  3. পানি এনে দিলেন। ভেতরে কোথায়
    পানি এনে দিলেন। ভেতরে কোথায় একটু মুষড়ে গেলো। আর যা সবচেয়ে বেশি করে লেগেছে তা হল তীব্র লজ্জাবোধ।
    ক্ষমতা থাকলে একে স্টিকী করে দিতাম।

    1. একলা মানুষ কি আর করব একলা পড়া
      একলা মানুষ কি আর করব একলা পড়া ছাড়া :মাথাঠুকি: কিন্তু আপনি পাশে থাকলে অবশ্যই আপনাকে পড়ে শুনাতাম …… :চোখমারা:

  4. সাতদিনের মাথায় অঘোর শুনতে
    সাতদিনের মাথায় অঘোর শুনতে পেলো সরকারী কিছু সাহায্য আসছে। ক্ষতিগ্রস্থদের নাম লিখিয়ে আসতে বলল প্রদীপ বাবু। বিষ্ণু এসে সশব্দে থুতু ফেললো। সাহায্যর মাইরে বাপ! এই দেশেই আর থাকুম না! আমরা কি ভিখারী নাকি! অঘোরের এত মানগন্যি নেই। সে বিষ্ণুর চেয়ে দরিদ্র। লাইন ধরে রিলিফ সে অনেক নিয়েছে। কিন্তু তার কার্ডটা তো আগুনে পুড়ে গেছে! ফের যদি কেউ কার্ড দেখতে চায়? অঘোর যে এ দেশের নাগরিক তার প্রমাণ কি? সেই এনজিও কর্তাটির মত যদি এবারও কেউ বলে, তুমি যে এদেশের নাগরিক তার প্রমাণ কি বাবু?
    =================================
    এতটা অসাধারণ গল্প কতদিন পড়িনি কে জানে? এটা কী গল্প? হয় তো… হয়তো নয়…

  5. অঘোর অন্যমনস্ক হয়ে যায়।

    অঘোর অন্যমনস্ক হয়ে যায়। কার্ডটা তো পুড়ে গেছে, সে কি আর তাহলে নাগরিক আছে? অঘোরের ঘোর সন্দেহ হয়, যতদিন যায় সন্দেহটা তার ঘনিভূত হতে থাকে.. তার কানে বাজে, তুমি যে এদেশের নাগরিক তার প্রমাণ কি বাবু? অঘোর জানে প্রমাণ নেই। আগুনে পুড়ে সব ছাই হয়ে গেছে..

    — অসাধারণ গল্প! সর‍্যি দেরীতে পড়ার জন্যে!! একদম ভিতর থেকে আসা এই দুঃখগাঁথা একদম গভীরেই আঘাত করে। এমন একটি গল্পকে এক্সপ্রেসে রেখে সবাইকে পড়ার সুযোগ কর দেয়ার জন্যে মাষ্টার সাবেরে ধন্যবাদ :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ:
    আর সুষুপ্ত পাঠক-ভাই আপনাকে :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    1. @তারিক লিংকন, পড়েছেন জেনে ভাল
      @তারিক লিংকন, পড়েছেন জেনে ভাল লাগছে। অঘোররা যেন তার মুসলমান প্রতিবেশীর মত নির্ভয়ে বাস করতে পারে এই দেশে। সেই অসাম্প্রদায়িক দেশ আমরা দেখতে চাই।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 2