অভিমানী ভালবাসা -৪

সুপ্ত আর তন্দ্রা। ভালই কাটছে তাদের দিন। আবার হয়তো ঠিক হতে যাচ্ছে তাদের সম্পর্কটি। সামান্য ভুল বোঝা বোঝির জের ধরে একে অপরের থেকে দূরে সরে গিয়েছিল তারা। এখন প্রতিদিনই কথা হয় তাদের মধ্যে। সুপ্ত যেন তার পৃথিবী ফিরে পেয়েছে। তবুও একটা অপূর্ণতা রয়েই যায়, কিসের যেন এক অপূর্ণতা!


সুপ্ত আর তন্দ্রা। ভালই কাটছে তাদের দিন। আবার হয়তো ঠিক হতে যাচ্ছে তাদের সম্পর্কটি। সামান্য ভুল বোঝা বোঝির জের ধরে একে অপরের থেকে দূরে সরে গিয়েছিল তারা। এখন প্রতিদিনই কথা হয় তাদের মধ্যে। সুপ্ত যেন তার পৃথিবী ফিরে পেয়েছে। তবুও একটা অপূর্ণতা রয়েই যায়, কিসের যেন এক অপূর্ণতা!

যখনই ঘুম থেকে উঠুক না কেন, সুপ্তর দিন শুরু হয় তন্দ্রার ম্যাসেজের মধ্য দিয়ে। প্রতিদিন কলেজে যাবার পূর্বে তন্দ্রা ম্যাসেজ দেয় সুপ্তকে। কিন্তু অন্য দিন গুলোর মত আজ দেয় নি। শুধু আজ নয় কয়েক দিন ধরেই কেমন আজব ব্যবহার করছে তন্দ্রা। সুপ্তর প্রতি অনাগ্রহী সে। ফিরে আসা তন্দ্রা ও পূর্বের তন্দ্রার মধ্যে অনেক পার্থক্য দেখতে পাচ্ছে সুপ্ত। অনেক পার্থক্য। কেমন যেন নিশ্চুপ হয়ে গিয়েছে সে। ফোনে কথা বলবার ক্ষেত্রেও অনেক সময় নিশ্চুপ থাকে দুপক্ষই। বড় কোন ঝড়ের পূর্বে যেমন নেমে আসে নিস্তব্ধতা তন্দ্রার এ নিশ্চুপতাও কি তেমনই বড় কোন ঝড়ের আভাস! ভেবে ভয় পায় সুপ্ত। তন্দ্রাকে ছাড়া সে অচল প্রায়। তন্দ্রাকে নিয়ে অভিযোগের স্তূপ ক্রমেই বিরাটাকার হতেই থাকে। তবুও তন্দ্রাকে পাশে চায় সে, বিধাতার কাছে প্রার্থনার অনেকাংশ জুড়েই থাকে তন্দ্রাকে পাশে পাবার আবেদন।

কিছু দিন ধরেই ভাবছে তন্দ্রার সাথে দেখা করতে যাবে। কেন যেন হয়ে উঠছিল না। হঠাৎ একদিন তন্দ্রা ফোন করলো
-হ্যালো…
=কোথায় তুমি?
-বাসায় কেন? কি হয়েছে? তুমি কোথায়?
=কিছু না, তুমি কি আমার সাথে এখন দেখা করতে পারবে?
-এখন! কোথায়?
=আমি শেরে-এ বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যম্পাসে আছি।
-কি হয়েছে এখন কি করে আসবো, আমি পারবো না, এভাবে হুট হাট বললেই কি আশা যায় নাকি!

ফোন কেটে দেয় তন্দ্রা। তন্দ্রাকে ফোন দেয় সুপ্ত।
=আমি কিছুই জানি না, তুমি যদি আমাকে ভালবেসে থাক অবশ্যই আসবে।

(কিছুক্ষণ আপন ভাবনায় বিভোর থেকে যাবার সিদ্ধান্ত নেয়।)

পাশে বসে থাকা বন্ধু নির্ঝর কে দিয়ে দেয় ফোন টি।
=হ্যালো, ভাইয়া আমি নির্ঝর।
-আচ্ছা, ওকে বল আমি আসছি একটু অপেক্ষা কর। তোমরা কোথায় আছো?
=তুমি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে এসে ফোন দিও। এখানেই আছি আমরা।
-ওকে।

কি করে যাবে পকেট যে একদম ফাঁকা। মান সম্মানের ব্যপার! বন্ধু উচ্ছ্বাস কে ফোন করে সুপ্ত। সব বিপদের সময়েই পাশে পায় উচ্ছ্বাসকে। এবারও বন্ধু উচ্ছ্বাসই সুপ্তকে বিপদ থেকে উত্তরোণ করলো। উচ্ছ্বাস থেকে কিছু টাকা ধার নিয়ে বেরিয়ে পরে। এ ধারই বা কয়জন দেয়!

বহু দিন পর দেখা হচ্ছে তন্দ্রা ও সুপ্তর। স্মৃতির পাতায় নতুন কোন স্মৃতি সংযোজনের অপেক্ষায় তারা। এর ব্যতিক্রম হল না। স্বপ্নময় একটি বিকাল কাঁটালো তারা। পুকুরের পাড়ে, একে অপরের পাশে বসে বিকেলের ঢলে পড়া সূর্য দেখা স্বপ্নের মতই। একে অপরের সাথে সুন্দর সময় পার করতে থাকে দুজনে। জমিয়ে রাখা সকল অভিযোগ যেন কোথায় হারিয়ে গেল। অনেক দিন পর এমন সুন্দর একটি দিন কাটলো সুপ্তর। মাঝে মাঝে নির্ঝর এসে তাদের মধুর আলাপে ব্যাঘাত ঘটিয়েছিল। আগামীকাল আবার আসার পরিকল্পনা করা হল এবার তন্দ্রা আর সুপ্তর মাঝে কেউ থাকবে না। শুধু তন্দ্রা ও সুপ্ত। সন্ধ্যার আগেই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হল তারা।

রাতে ম্যাসেজে দুজনের মাঝে কথা হয়। একসাথে কাটানো বিকেলটি নিয়ে কথা। তন্দ্রা সুপ্তকে বলে একটা জিনিস আশা করেছিল সে, কিন্তু সুপ্ত তা দেয় নি। সুপ্ত জিজ্ঞাসা করে কি সেটা, তন্দ্রা বলে “গাধা একটা, কিছু বোঝ না!” আর কিছু বলে না সে। ভাবতে থাকে সুপ্ত কি হতে পারে! পরে সুপ্ত বুঝতে পারে। শুধু রাতটি শেষ হবার অপেক্ষা।

সুপ্ত’র ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছে, গত কালের দিনের পর রাতে সুন্দর এক ঘুম। ফুরফুরে মেজাজ এখন। কিন্তু এখনও তন্দ্রার কোন ফোন অথবা ম্যাসেজ আসে নি। মনটা একটু খারাপ। আদৌ কি আজ দেখা হবে তাদের, কথা হবে! বেশ চিন্তিত সুপ্ত। তন্দ্রাকে ফোন করবে এখনই ভাবছে, কিন্তু ফোন যদি তন্দ্রার কাছে না থাকে! যদি সমস্যা হয় তার, আর ফোন দেয় না। বিষণ্ণ বসে আছে, শীতের মিষ্টি রোদে গা ভেজাচ্ছে। তন্দ্রার এক বান্ধবীকে ফোন করলো সে, নাহ! তন্দ্রা কলেজেই আছে। তবে একটাও ম্যাসেজ দিচ্ছে না কেন! তন্দ্রাকে ফোন করে সুপ্ত। ফোনটি কেটে দেয় সে। আসলেই তন্দ্রা অনেক বদলে গিয়েছে ভাবতে থাকে সুপ্ত।

আবার আধা ঘণ্টা পরে ফোন দেয় সুপ্ত, তন্দ্রা জানায় সে ব্যস্ত ছিল। তন্দ্রার কি এমন ব্যস্ততা যে সুপ্তর ফোন ধরতে পারে নি সে। মন খারাপ করতে চায় না সুপ্ত। আজ যে আবার দেখা হবে ওদের। তাই কথা অন্য দিক ঘুরিয়ে নেয়। ঠিক সময়ে চলে যায় সুপ্ত, কিন্তু তন্দ্রার খবর নেই! প্রায় ঘণ্টা খানেক অপেক্ষা। তন্দ্রার খবর নেই। সে ব্যস্ত, বান্ধবীদের সাথে আড্ডা দিতে ব্যস্ত। তবে কি তন্দ্রার কাছে এখন কোন গুরুত্ব নেই সুপ্তর? মন খারাপ হয় যায় আর বেশি। অভিযোগের হিসেবের খাতায় আরও একটি যুক্ত হয়।

দেড় ঘণ্টা পর আসে তন্দ্রা। তন্দ্রার হাসিমাখা মুখ দেখেই সকল অভিযোগ যেন কোথায় পালিয়ে গেল। সাথে নির্ঝরকে দেখতে পেয়ে কিছুটা অবাক হয়, তাদের তো একা যাবার কথা ছিল! নাহ! নির্ঝর তন্দ্রাকে এগিয়ে দিতে এসেছে। যাবার সময় নির্ঝর সুপ্তকে বলে যায় – “কি ভাইয়া খালি গল্প করলেই হবে?” তৎক্ষণাৎ বুঝতে পারে না সুপ্ত। রিক্সা নিয়ে গত কালের সেই জায়গায় যাবে তারা। রিক্সা নেয়া হল। একসাথে দুজন একই রিক্সায় বসা। বহু দিনের ইচ্ছা ছিল তন্দ্রার, সুপ্তর সাথে রিক্সায় ঘুরে বেড়াবে সে। রিক্সায় কথা বলার ফাকে তন্দ্রার গালে এক উষ্ম ঠোটের স্পর্শ দিল সুপ্ত। তন্দ্রার মুখে মৃদু হাসি। সুপ্ত – কি এটাই চেয়েছিলে তো? মাথা নেরে সায় দেয় তন্দ্রা। গতকালের সেই জায়গায় আবার স্মরণীয় কিছু সময় পার করে তারা। বিদায়ের সময় এক আলিঙ্গন। এ প্রথম আলিঙ্গন তাদের। সুপ্ত কিছুটা অবাক হয়েছিল, রক্ষণশীল স্বভাবের তন্দ্রার মধ্যে হটাৎ এ ব্যাপক পরিবর্তনের জন্য। ফিরে আসার পথে কিছু সময় এক সাথে আসে তারা। রিক্সায় জিজ্ঞাসা করে কি হয়েছে, তার কেন এ পরিবর্তন। কথায় বুঝতে পারে এ তার বন্ধু নির্ঝর এর প্রভাব। শুধু একটা কথাই বলে তন্দ্রাকে “কারো জন্যে ভালবাসা হল পাশে বসে, একসাথে বসে কিছু মধুর সময় কাটানো। কারো কাছে ভালবাসা মানে শুধু শারীরিক সম্পর্ক ও চুম্বন”। সুপ্ত’র চিন্তা ভাবনা অন্য রকম, এই যে তন্দ্রার পাশে বসে কিছু মধুর সময় কাটিয়েছে এটাই অনেক কিছু তার কাছে।

কিছু দিন পর…

তন্দ্রার প্রতি অভিযোগ গুলো কেমন যেন বার বার মাথায় ঘুরতে শুরু করেছে সুপ্তর। সুপ্তর এক কথা তন্দ্রার কাছে কি সুপ্ত’র আর কোন গুরুত্ব নেই! কেন এতটা দূরে সরে যাচ্ছে তন্দ্রা। মাঝখানের দুটি দিন তো খুব ভালই কাটিয়েছে, তবে এখন কেন আবার এমন করছে।সুপ্ত আর পারে না। অভিযোগ গুলো তন্দ্রা কে জানায় সে। নাহ তন্দ্রার কোন ভাবনা নেই এদিকে। আবার দেখা করে সব ভুল বোঝা বোঝির অবসান করতে চায় সুপ্ত। তন্দ্রাকে কিছুতেই দূরে সরে যেতে দিতে চায় না সে। সে দিনই জানায় দেখা করবে সে। এবার একা যেতে সাহস হচ্ছিল না, বন্ধু উচ্ছ্বাসকে সাথে নেয় সে।

তন্দ্রাকে সব বলে, অভিযোগের পাহাড় এনে হাজির করে তন্দ্রার সামনে। সুপ্ত চায় না এ সামান্য কিছুর রেশ ধরে তাদের মাঝে আবার দূরত্বের সৃষ্টি হোক। নাহ! তন্দ্রা কিছুই বুঝবার চেষ্টা করে না। প্রথমে একটু রাগ করলেও পরে ঠাণ্ডা মাথায় বোঝানোর চেষ্টা করে সুপ্ত। সে তন্দ্রাকে বলে তার সম্পর্কেও যদি কোন অভিযোগ থাকে তবে যেন তা বলে। হঠাৎ এক সময় তন্দ্রা বলে ওঠে – আমার লাইফে তুমি বেশি ইন্টার-ফেয়ার কর। বিস্মিত হয় সুপ্ত। এটা কি বলে সে, তবে কি তন্দ্রার উপর কোন অধিকার নেই তার। তন্দ্রা তো এমন ছিল না। এমন কথা কোন দিন বলে নি আগে। তন্দ্রার এ ব্যাপক পরিবর্তন কেন তবে? এর আগে এক বন্ধুর কথায় সুপ্তর সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল সে, পরবর্তীতে আবার ক্ষমা চায় সে। সুপ্ত তন্দ্রার উপর রাগ রাখতে পারে না তাই ক্ষমা করে দিয়েছিল। এবারও কি তবে কোন বন্ধুর প্রভাব? সরাসরি বলেই ফেলল- তোমার কোন বন্ধুর কথায় কি তুমি এমন করছো। অথবা আমাকে কি আর তোমার ভাল লাগে না, অন্য কেউ এসেছে তোমার জীবনে! যদিও উত্তর ছিল “নাহ”, সুপ্তর বুঝতে বাকি রয় না এটা তন্দ্রা তার কোন বন্ধুর প্রভাবেই এমন করেছে। সুপ্ত আবার বোঝাবার চেষ্টা করে। কিন্তু তন্দ্রা দেশের প্রধান বিরোধী দলের মতন কোন আলোচনায় যেতে না চেয়ে বিদায় জানালো।

সুপ্ত বুঝতে পারলো গোবর পদ্মফুল যেমন, তেমনই তার ভালবাসা তন্দ্রার কাছে। ভালবাসার অযোগ্য এক মেয়েকে সে ভালবেসেছে সে। অন্যের কথায় চলা বিরোধী দলীয় নেত্রী ও তন্দ্রা দুজনকেই প্রচুর ঘৃণা করতে শুরু করেছে সে। কারণ এদের নিজেদের ব্যক্তিত্ব নেই, অন্যের কথায় এরা নিজেকেও অবিশ্বাস করে বসে। যে কিনা তার এ ভালবাসার মূল্য বোঝে নি সে ভালবাসার অযোগ্য।

প্রথম পর্ব – https://istishon.blog/node/5100

দ্বিতীয় পর্ব – https://istishon.blog/node/5924

তৃতীয় পর্ব – https://istishon.blog/node/6174

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৮ thoughts on “অভিমানী ভালবাসা -৪

  1. জয় আগের পর্বগুলো লিঙ্ক আকারে
    জয় আগের পর্বগুলো লিঙ্ক আকারে দিয়ে দিলে সুবিধা হয় তাহলে এক সাথে পড়ার স্বাদ নিতে পারতাম। মনেকদিন পর পর পোষ্ট হচ্ছে তায় মনে থাকেনা ……লিখা ভাল হচ্ছে বলার কিচ্ছু নাই

    1. ওকে ইডিট করে দিয়ে দিচ্ছি।
      ওকে ইডিট করে দিয়ে দিচ্ছি। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। পড়েন নি হয়তো না হলে ভাল বলতেন না। আমি ইচ্ছাকৃত কিছু ভুল করি যাতে যারা পড়ে কমেন্ট করেছে তারা ভুল ধরতে পারবে এবং বলবে। আমি বুঝতে পারবো যে তারা পড়েছে।

      😉

        1. আপনাদের জন্যেই আপু আর আপনার
          আপনাদের জন্যেই আপু আর আপনার মন্তব্যের অপেক্ষায়। যদিও আমি আজকের টায় লেখার পরিপক্কতার থেকে থিম টির উপর গুরুত্ব দিয়েছি।

  2. ভালোই । কিন্তু কিছু একই
    ভালোই । কিন্তু কিছু একই অর্থপূর্ণ বাক্য বার বার ব্যবহার করো যেটা একবার ব্যবহার করলেই হয়।
    আর কিছু বানান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

46 + = 55