রাহাত ভাই এর বিয়ে

আজ পুরাতন পোস্ট ঘাটতে গিয়ে চোখে পড়লো। খুব মজা পেলাম। তাই আবার দিচ্ছি, এবং আজকে ইস্টিশনের থেকে সাময়িক বিদায় নিচ্ছি। সবাই দোয়া রাখবেন।
উৎসর্গ:-রাহাত মুস্তাফিজ
{{রাহাত ভাই,প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি এমন পোস্টের জন্য।}}


আজ পুরাতন পোস্ট ঘাটতে গিয়ে চোখে পড়লো। খুব মজা পেলাম। তাই আবার দিচ্ছি, এবং আজকে ইস্টিশনের থেকে সাময়িক বিদায় নিচ্ছি। সবাই দোয়া রাখবেন।
উৎসর্গ:-রাহাত মুস্তাফিজ
{{রাহাত ভাই,প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি এমন পোস্টের জন্য।}}

অনেক জল্পনা কল্পনা শেষে আজ সেই বহু প্রতীক্ষিত দিনে পৌঁছলাম। আজ রাহাত ভাই এর বিয়ে। হ্যাঁ আমাদের রাহাত ভাই আজ বিয়ে করছে, কিন্তু যতক্ষণ না কাজী সাহেব রাহাত ভাই কে দিয়ে কবুল না বলাবেন ততক্ষণ আমার শান্তি নেই। সময়ের সাথে সাথে হৃৎস্পন্দন বেড়েই চলছে। তার অবশ্য যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ আছে। বিয়ের প্রতি তীব্র এলার্জী বিশিষ্ট রাহাত ভাই বিয়ে করছে তো, তাই খুব কষ্টে বিশ্বাস করতে হচ্ছে।

রাহাত ভাই, আমাদের আজকের যে অবস্থান, আমরা আজ যে অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছি তার সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব আমি রাহাত ভাইকেই দেব। তিনি না থাকলে আমরা মাঝি বিহীন নৌকার মত ভেসে বেড়াতাম। পাড়ে পৌছবার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকা সর্তেও পাড়ের দেখা পেতাম না। স্রোতের টানে ভেসে বেড়াতাম। আজ থেকে বহু বছর আগের কথা, আমি তখন খুবই ছোট। আমার মনে নেই কথা গুলো। মা’র মুখে প্রায়ই শুনিতো তাই বলছি। আমাদের একান্ন বর্তী পরিবার। পরিবারের সদস্য সংখ্যা প্রায় বিশ জন। কিন্তু উপার্জন কারী মাত্র একজন। তিনি হলেন রাহাত ভাই এর বাবা। অর্থাৎ আমার বড় চাচা। আমার দাদা মারা যাবার পর তিনিই পরিবারের সকল দ্বায়িত্ব নিয়েছেন। কিন্তু তার হঠাৎ মৃত্যুতে, ঝড়ের কবলে পড়া একটা পাল ছেড়া নৌকার যে অবস্থা হয় বিশ সদস্যের এই পরিবার টির যেন ঠিক তেমনই অবস্থা হয়েছিল। আমার বাবার মাসিক আয় তখনও এমন হয়নি যে পুরো পরিবারের ভার বহন করতে পারবে। আসলে আমাদের পরিবারে খুব ছোট বয়সে বিয়ে করার একটা পুরনো রীতি আছে। তাই ইনকাম যেমনই থাকুক আমার বাবার বিয়েও হয়েছিল ছোট বেলায়। শুধু আমার বাবার বেলায় নয় বড় চাচার বেলায় ও এমই ঘটেছে। আমার বয়স তখন দুই যখন বড় চাচার পরলোক গমন হয়। কিন্তু রাহাত ভাই তখন স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্র। আমার বাবার বন্ধুর মতই ছিল সে। পরিবারে তখন আর্থিক অনটন। খুবই অর্থাভাবের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে দিন গুলো। রাহাত ভাই ছোট্ট একটা চাকরি নিলো। দৈনিক পাঁচ ঘণ্টার চাকরি। এখান থেকেই বংশ পরিক্রমায় চলে আসা রীতি গুলোর ইতি ঘটলো। এর আগে এত কম বয়সে আমাদের পরিবারের কেউ চাকরি করে নি।

বাবার উপার্জন ও রাহাত ভাই এর সামান্য উপার্জনে কোণ মতে চলছিল সংসার। রাহাত ভাই আবার চাকরির পর দুইটা টিউশন নিত। যদিও পড়ালেখার গুরুত্ব তখনও এত বিস্তার লাভ করে নি, আমাদের পরিবার পড়া লিখার প্রতি ছিল অনেক সচেতন। এটাই বংশ পরিক্রমায় পাওয়া একটা গুণ। রাহাত ভাই এর ছোট দুই ভাই, মেঝ চাচার দুই মেয়ে। সকলেই স্কুল পড়ুয়া। ও হ্যাঁ মেঝ চাচার কথা তো বলা হয়নি। সে বহু আগেই সকল দ্বায়িত্ব ফাকি দিয়ে চলে গিয়েছে না ফেরার দেশে। একান্নবর্তী এর পরিবারের সকল খরচ তার উপর চাচাতো ভাই বোনদের শিক্ষার ব্যয় ভার বহন করে নিজের পড়া লিখা করাটা অনেক কষ্ট হয়ে পড়েছে রাহাত ভাই এর জন্য। তিনি অন্যদের কথা চিন্তা করে, আমাদের একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ দেবার জন্য নিজের পড়া লিখা করার স্বপ্ন জলাঞ্জলি দিলেন। আরোও কঠোর পরিশ্রম করলেন তিনি। যদিও আমার বাবাও কম কিছু করেন নি তবুও আমি সমস্ত কর্তৃত্ব রাহাত ভাইকেই দেব। কারণ দায়িত্বটা আমার বাবারই ছিল। তার ব্যর্থতার জন্যই রাহাত ভাই এর এই ত্যাগ স্বীকার করতে হল।

পরিবারের জন্য করতে করতে সেটাই যেন রাহাত ভাই এর নিত্যদিনের অভ্যাস হয়ে পড়েছে। কখনও নিজের কথা ভাবার সময়ই পাননি তিনি। এখন আমি দশম শ্রেণীর ছাত্র। রাহাত ভাই এখনও বিয়ে করেননি। রাহাত ভাই এবং আমার বাবার পরিশ্রমের ফলে আমাদের পরিবারের অর্থাভাব আরোও অনেক আগেই দূর হয়েছে। তবুও তিনি আজ পর্যন্ত বিয়ে করেন নি। আমাদের পরিবার থেকে অনেক চাপ দিয়েছে বিয়ের জন্য। কিন্তু রাহাত ভাই এর এক কথা-এখনও সময় হয়নি। আসলে পরিবারের কথা এতটাই ভাবে নিজেকে নিয়ে কখনও ভেবেছেন কিনা বলতে পারি না। প্রতি ঈদে আমারা নতুন জামা পড়ে নামাজ পড়তে যাই কিন্তু রাহাত ভাই তার সাত বছর পুরনো সেই পাঞ্জাবি।

বলতে বলতে ক্লান্ত হয়েগিছে আমাদের পরিবার, কেউ আর পরে বলে নি। সবাই ভেবেই নিয়েছিল রাহাত ভাই এর হয়তো বিয়েতে এলার্জি আছে। কিন্তু আমি বিয়ে কি জিনিস বুঝে উঠার পর থেকে রাহাত ভাইকে অসম্ভব যন্ত্রণা দিয়েছি। সারা দিন এক কথা রাহাত ভাই কবে বিয়ে করবেন? রাহাত ভাই খুবই বন্ধু সুলভ। বয়সে এত বড় হওয়া সত্যেও অনেক মজা করি তার সাথে।আমাকে সে সব বলে, যা অন্য কেউ জানতো না। প্রথমে একটি মেয়ে কে হারাবার জন্য বিয়ের প্রতি অনীহা আসে রাহাত ভাই এর। পরবর্তীতে তা অভ্যাসে পরিণত হয়।

–একটু দাঁড়াবে কি, এখনই নামবে বৃষ্টি

— এখানে দাঁড়াবো কি করে বলো দুরন্ত
বাতাসে কালবৈশাখীর ঝড়ো বৃষ্টির
ঝাপটা যে এখানেও আসবে… গতিময় সেই
ঝড়ো হাওয়া যে আমায় নিয়ে যাবে তোমার থেকে বহু ক্রোশ দুরে……

–এভাবেই তো এক কাল বৈশাখীর ঝড়ো হাওয়ায় পেয়েছিলাম তোমায়,আমি জানি একটি কেন শত শত কালবৈশাখী ঝড় ও তোমাকে আমার থেকে আলাদা করতে পারবে না। আমার এ মন যে ঐ কাল বৈশাখীর ঝড় হাওয়ার চেয়ে দুরন্ত। যেখানেই নিয়ে যাক না কেন আমি সেখানেই অবস্থান করব শুধু তোমারই জন্য ……

–হাহা তোমার সাথে সাথে থাকতে থাকতে তো আমিও কবি কবি হয়ে যাচ্ছি!!!

এমনই কথা বলতে বলতে সময় কাটতো তাদের। পরবর্তীতে সেই মেয়ের জোর পূর্বক বিয়ে হয়ে যায়। তার পর থেকেই বিয়ের প্রতি অনীহা রাহাত ভাই এর।এর পর থেকে আরও বেশি চাপ দিতে থাকি রাহাত ভাইকে বিয়ের জন্য। যদিও রাহাত ভাই এর বিয়ে জাতীয় দাবি হয় উঠেছিল কেউ বলার সাহস পেত না। রাআদ ভাই সে যদি রাহাত ভাইকে বিয়ে করতে বলতো তাহলেই হল। শুরু হত রাহাত ভাই এর রেডিও। – তোর বিয়ে করার খুব সখ জাগছে না? আমি করলেই তো লাইন ক্লিয়ার। আমি তো বলেছিই তুই করে ফেল বিয়ে।
আমি ছোট তাই আমাকে বলতে পারতো না এই কথা। বরং আমিই বলতাম আমার বিয়ে করার বয়স হয়ে গেল আর আপনি বিয়ে করছেন না। এটা কি হয়?
রাহাত ভাই মিট মিটিয়ে হাসতো। শেষ পর্যন্ত আমার জ্বালায় থাকতে না পেরে রাজি হলের বিয়ের জন্য। আজ রাহাত ভাই এর বিয়ে। কনে পক্ষের বাড়িতে আমরা। তবুও বারবার মনে হচ্ছে এই বুঝি রাহাত ভাই বলে উঠে – “বিয়ে করবো না”।

{{{{গল্পটি কাল্পনিক, তবে রাহাত ভাই এখনও বিয়ে করে নাই। তবে এখন রাহাত ভাই যদি আমার জ্বালায় বিয়তে বসে আরকি!!!}}}}

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১২ thoughts on “রাহাত ভাই এর বিয়ে

  1. জয়, রাহাত ভাইয়ের এর মত
    জয়, রাহাত ভাইয়ের এর মত ফুলটাইম জেন্টেলম্যান কে নিয়া তুমি এমন করতে পার না :দেখুমনা: । তোমার আসলে ওই পাতে দই দেও অবস্থা :ভালুবাশি: । কে মানা করছে তোমাকে। এক্সাম দাও :জ্ঞান: তুমার বিয়া দিয়া দিচ্ছি। শেরওয়ানীর টাকা আমি দিমু। এছাড়া আতিক ভাই, রাহাত ভাই, তারিক ভাই, ডন, কবিতা, অরফি, মাশিয়াত খান, রাইন, সফিক ভাই, সোমেশ্বরী, খাজা বাবা, রায়ান ভাই, রণরাজ ভাই, শাহিন ভাই, কারাগার ভাই, ডানা ভাই, বৈশাখী ভাই, সাব্বির, ইলেকট্রন সবাই তোমাকে সাহায্য করবে বলে আশাকরি। দুলাল ভাই তোমার এই পাকনামিতে কোন সাহায্য করবে কিনা জানিনা তবে আতিক বললে না করবে না মনে হয়।
    অতএব নো চিন্তা আমরা আছি তোমার সাথে :আমিওআছি: :আমিওআছি: :আমিওআছি: ।

    1. আগে তো আফনেরা তার পরে তো
      আগে তো আফনেরা তার পরে তো আমি।
      চিন্তা করসি বিয়া সাধী করমু না। (এইডা শুইনা কারো মাথায় বাজ পড়লে কইলাম আমি দায়ী না)

      কিরণ দা পরিক্ষা শেষ হোক আমার এর পরই বিয়া করেন মিয়া ভাই , বহুত দিন জম্পেস খাওয়া দাওয়া হয় না।

    2. সহমত কিরণ দা।
      জয় বিয়া ডা

      সহমত কিরণ দা।

      জয় বিয়া ডা এইবার কইরাই ফেলাও বড়-রা যখন করতাচে না তখন ছোট থেকেই শুরু হোক।আর আমার জানা মতে ইস্টিশন পরিবারে তুমিই সব থেকে ছুডো :বুকেআয়বাবুল: তাই তোমাকে দিয়েই শুরু হোক।

      যদিও আমাদের ইস্টিশন পরিবারে বিবাহ্ যোগ্য অনেকে আছে(যেমন-শ্রদ্ধেয় তারিক ভাই, রাহাত ভাই, জুয়েল দা[একলা পথের পথিক],কিরণ দা আরও অনেকে) তবুও তোমাকে দিয়েই শুরু হোক……. :হাহাপগে:

    1. মাশিয়াত,
      আমার অনাগত হবু বউ

      মাশিয়াত,
      আমার অনাগত হবু বউ যেদিন বলবে, রাহাত, আজ তোমার বিয়ে । চলো বিয়ে করে ফেলি – সেদিন নিশ্চয়ই দাওয়াত পাবে । 😀 :ভেংচি: :লইজ্জালাগে: :নৃত্য: :পার্টি: :হাসি:

  2. রাহাত ভাই যদি সত্যি বিয়েটা
    রাহাত ভাই যদি সত্যি বিয়েটা করে তাহলে দাওয়াত দিতে হবেনা দায়িত্ব গুনে চলে আসবো ।। আমাদের বড় ভাইয়ের বিয়া দায়িত্ব বলে একটা কথা আছে না 😀 ।। শালী / তালতো বয়নের ব্যাপার না হয় আমি সামলে নেবো আর কি :লইজ্জালাগে: দায়িত্ব বলে একটা কথা আছে না :চোখমারা:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

37 − 27 =